বামুন্দি বাজার থেকে দা ঝালাই করার অনুভূতি
হাই বন্ধুরা!
কেমন আছেন সবাই? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাই-বোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজকে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি বামুন্দি বাজারে বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে উপস্থিত হওয়ার বেশি অনুভূতি নিয়ে, তার মধ্য থেকে বাঁশ কাঁটা দা ঝালাই করার অনুভূতি শেয়ার করব। আশা করবো এই পোস্ট পড়ে আপনারা বেশ কিছু জানার সুযোগ পাবেন।
Infinix Hot 11s
বামুন্দি বাজারটা আমাদের কাছে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রয়োজনে। যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখনই আমরা যেন উপস্থিত হই এই বাজারে। মাঝেমধ্যে সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিন যাওয়া হয়ে যায়। ঠিক তেমনি কিছুদিন আগে হঠাৎ করে প্রয়োজন হল বাঁশ কাটার দা ঝালাই করার। আপনারা জানেন সব সময় কম বেশি পুকুরের কাজ করতে হয় নিজেদের। আর এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা প্রয়োজন। ঠিক তেমনি আমার সবচেয়ে প্রিয় একটি কাটারি দা ছিল, যেটার নিচের অংশ পাইপ জোড়া দেওয়া বের হয়ে গেছিল। সেটা ঝালাই করতে হবে। এদিকে সবজি গাছে বিষ দেওয়া মেশিনের বেশ কিছু জিনিস কিনতে হবে। ঠিক এভাবেই আরো অনেক কিছুর জন্য বামুন্দিবাজারে উপস্থিত হতে হলো আমার। আর প্রথমেই বামুন্দি বাজারে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত হলাম তেল পাম্পের। কারণ বাজারের এ পাশে সে পাশে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গেলে কখন কি তেল পুড়ে যায় তার নেই ভরসা। আর মোটরসাইকেলের তেল থাকলে সব সময় শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো যায়। তাই মোটরসাইকেলটা রেখে তেল পাম্পের ওখানে কয়েকটা ফটো ধারণ করলাম। প্রতিনিয়ত তেল পাম্প থেকে তেল দেওয়ার জন্য অনেকের সাথে বেশ পরিচয় হয়ে গেছে এখানে।
এরপর সোজা চলে আসলাম তেল পাম্পের ফুলবাগানের দিকে। ফুলবাগানের কাছে এসে বেশকিছু ফুলের ফটো ধারণ করলাম। এখানে মিনি টগর থেকে শুরু করে রঙ্গন ফুল কাঠগোলা ফুল গোলাপ ফুল সহ আরো অনেক ফুলের গাছ রয়েছে। আমার বেশ ভালো লাগে এই তেল পাম্পের ফুল গাছের ফুল গুলো দেখলে। তবে মাঝেমধ্যে গাড়ি থামানো হয় না বলে ফটো ধারণ করা হয় না। তবুও সেদিন কেন জানি ইচ্ছে হলো ফাঁকা জায়গায় থেমে কয়েকটা প্রতারণ করলাম।
এরপর চলে আসলাম দা ঝালায় করার জন্য একটি ওয়েল্ডিং মেশিনের কাছে। এ ঘরে এসে দেখলাম প্রথমে কাজ করা মিস্ত্রিরা নেই। এরপর বেশ কিছুটা সময় ধরে বাজারে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা শেষ করলাম। প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা শেষ করে আবারো এই দোকানে চলে আসলাম দা ঝালাই করার জন্য। এরপর সেখানে দা ঝালাই করার জন্য দিলাম। আমি মনে করেছিলাম হয়তো ঝালাই করতে ১০০ টাকা নিতে পারে। প্রথমে যদি কাজ সম্পন্ন করতে পারতাম তাহলে কোন বিষয় ছিল না কিন্তু বাজার শেষে আমার কাছেও টাকা ছিল খুবি অল্প। তাই একটু চিন্তায় পড়ে গেছিলাম না জানি কত টাকা বিল হয়। কিন্তু দেখা গেল ঝালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে আমি যখন প্রশ্ন করলাম ভাই কত দিতে হবে। উনি বললেন মাত্র কুড়ি টাকা। আরে এর আগে তো আমি মরকা বাজারে কেমন কাজ করে নিয়েছি ৮০ টাকা নিয়েছিল। তাও আবার ঝালাই করতে হবে, আবার আলাদা মেশিন দিয়ে চেছে সাইজ করে দিতে হবে।
যাইহোক আমি খেয়াল করে দেখলাম প্রচন্ড গরম হয়েছে ঝালাই করার জন্য। তাই ঝালাইয়ের কাজ করতে যতটা সময় লেগেছে না তার চেয়ে বেশি সময় লাগলো ঠান্ডা করতে। এরপর ওখানে বেশ কিছু কথা হলো। উনারা বলল আপনি যদি একটু আগে সুন্দর করে বলতেন তাহলে আমার আর নাট সিস্টেম করে এমন ভাবে ঝালাই করতাম ভবিষ্যতে আর ভাঙতো না। এতে খরচ আসতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমি এর আগেও বেশ কিছু এমন দোকানে বিভিন্ন জিনিসের জন্য গেছি কিন্তু এতটা অল্প দামে তারা কাজ করে দেয় এবং সুন্দরভাবে মনের মত। তাদের কাজ দেখে যেন মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তবে যাই হোক এই কাটারি দা আমার সব সময়, বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে আসে। পুকুরপাড়ে বাঁশ কোঞ্চির যাবতীয় কাজগুলো এই দায়ের মাধ্যমে করা হয়। অবশেষে দা যখন ঠান্ডা হলো তখন আবারো বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। আর এভাবেই বামুন্দিবাজারে বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে উপস্থিত হয়ে দা ঝালায় করে নিয়েছিলাম।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পোস্ট বিবরণ
| ব্লগার | sumon09 |
|---|---|
| ডিভাইস | Infinix Hot 11s |
| লোকেশন | বামুন্দি বাজার |
| ক্যামেরা | 50mp |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন ভ্রমণ বিষয়ক পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকবেন সবাই। সকলের জন্য শুভকামনা রইল,আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.