মাছ বিক্রয়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা আড়তের উদ্দেশ্যে যাত্রা || পঞ্চম পর্ব
হাই বন্ধুরা!
কেমন আছেন সবাই? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাই-বোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজকে আমি আবারো আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি চুয়াডাঙ্গায় মাছ বিক্রয় করতে যাওয়ার আরেকটি পর্ব নিয়ে। আশা করবো এই পর্ব পড়ার মধ্য দিয়ে আপনারা আরো অনেক কিছু জানার সুযোগ পাবেন। তাহলে চলুন বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি।
Infinix Hot 11s
আমাদের মাছের গাড়ি সে সকাল থেকে রওনা হয়েছে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে। সকাল ভোর থেকে পুকুরে মাছ ধরা জেলেদের সাথে নিজেরও কাজে অংশগ্রহণ এরপর মাছের গাড়িতে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা। দীর্ঘ হাট বোয়ালিয়া রাস্তা পার হয়ে অনেকগুলো গ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলছিল। আমাদের উদ্দেশ্য হাট বোয়ালিয়া থেকে ভালাইপুর পর্যন্ত এসেই মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গার হাই রোডে উঠবো। এ পর্বে আমরা এসে উপস্থিত হয়েছি ভালাইপুরের অতি নিকটে। যেখানে কয়রাডাঙ্গা নামক স্থান। এই গ্রামটা সুদীর্ঘ এবং মেইন রোডের সাথে লাগোয়া। এ হাইরোড দিয়ে বা চলাচল করে থাকে। তবে গ্রামীণ পর্যায়ের রাস্তা তাই বেশি উন্নত নয়। তবে এই এলাকার কৃষি কাজকর্মগুলো বেশ উন্নত। আমাদের এলাকার মত এখানে কোন পুকুরের চিহ্ন নাই। কারণ এদিকে উঁচা এলাকা। আমরা জানি প্রচণ্ড গরমের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গরম রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গার এই এলাকাগুলো। তাই এই এলাকার মানুষ বেশিরভাগ কৃষি কাজ করে থাকেন। তবে আমি যতটা জানতে পেরেছি এবং এই এলাকায় চলাচল করে জেনেছি এলাকাটা পান চাষে বিখ্যাত এবং কলা চাষে বিখ্যাত। অন্যান্য সকল ফসল হয়ে থাকে কিন্তু কিছু কিছু ফসলের জমি রয়েছে যেখানে ফসল প্রচন্ড রোদ গরমে নষ্ট হয়ে যায় এজন্য চাষিরা পান এবং কলা চাষের প্রতি বেশি উৎসাহিত হয়েছেন। কারণ পান চাষ করতে হলে পানের বরজ ঘেরাও করা থাকে যার জন্য নষ্ট হয় না। আর রাস্তার পাশ দিয়ে চলার মুহূর্তে আমরা বেশিরভাগ পানের বড় যে লক্ষ্য করলাম। বাজারগুলোতে লক্ষ্য করে দেখলাম অনেক দোকান গড়ে উঠেছে আর সে সমস্ত জায়গায় সকাল করে অনেক মানুষ এসে উপস্থিত হয়েছে পান নিয়ে। আসমান খালির বড় পানের আড়তে বিক্রয়ের জন্য অথবা চুয়াডাঙ্গার বড় পানের আড়তে বিক্রয়ের জন্য তারা ডালা ভর্তি পান সাজিয়ে রাস্তার পাশে উপস্থিত বাসের উদ্দেশ্যে অথবা অন্যান্য গাড়ির উদ্দেশ্যে।
Infinix Hot 11s
এলাকার চাষীরা খুব সুন্দর ভাবে পানের বরজ গুলো ঘেরাও করে থাকে। দেখে মনে হয় যেন পাটখড়ির বেড়া দিয়ে নির্মিত কোন কিছু। কারণ জায়গায় জায়গায় এভাবে দীর্ঘ এরিয়া জুড়ে পানের বরজ। আর বর্তমান পানের যেমন চাহিদা তেমনি দাম। সামান্য গাছের পাতা ৫ টাকা পিস তিন টাকা পিস। ভাবতে যেন অবাক লাগে। আর এই ফানের পাতা এই এলাকায় অধিক পরিমাণ উৎপাদন হয়ে থাকে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হয়। পানের বড় যে প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম করা লাগে তবুও সে পরিশ্রম বৃথা যায়না বলেই এই এলাকার মানুষ পান চাষ এবং কলা চাষকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়াও আমি লক্ষ্য করে দেখেছি কলাবাগানের মধ্যে ঝাল গাছ লাগানো রয়েছে। এটা যেন তাদের জন্য এক্সট্রা সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা। তবে এই এলাকার দিকে লক্ষ্য করে দেখলাম জনবসতি খুবই কম। মাঠের যতদূর পর্যন্ত চোখ যায় ততদুর লক্ষ্য করে দেখি বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি। আর এদিকে সকালের সূর্য বেশ পূর্ব দিগন্ত থেকে মুখের বাম দিকে সরাসরি হিট দিতে থাকলো।
Infinix Hot 11s
আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে দেখতে পারলাম সেই বাঁকা রাস্তার ব্রিজটা। সম্ভবত ২০১৫-১৬ সালের দিকে চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জে মাছ বিক্রয় করতে যাওয়ার মুহূর্তে এই চিকন ব্রিজের পাশে একটা দুর্ঘটনা দেখেছিলাম। আর তখন থেকে আমি গাড়িওয়ালাদের খুব সাবধানে এই জায়গাটা পার হতে বলি। কারণ এই জায়গাটা এমন ভাবে রাস্তা ব্রিটিশ আমাদের পাওটা পথ রাস্তায় পরিণত করেছে আর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে সেই মাথাভাঙ্গা নদীর কিছু অংশ। রাস্তাটার আকৃতি কিছুটা এস এর মত, আর তার মাঝখানে রয়েছে ব্রিজ। তবে এই দিন লক্ষ্য করে দেখলাম এখানে নতুন করে বিরিজ তৈরি করা হচ্ছে এবং ব্রিজের কাজ অনেকটা হয়ে গেছে ব্রিজটা অনেক দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ করে বড় করে তৈরি করা হয়েছে। কারণ এই এলাকার জন্য বেশ বিপদজনক একটা ব্রিজ ছিল এখানে। এমনটাও শুনেছি প্রায় এই জায়গাতে গাড়ি আলারা এক্সিডেন্ট এর সম্মুখীন হয়ে থাকতো।
Infinix Hot 11s
আরো সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম, অতি নিকটে ভালাইপুর মোড়। চার কিলো পথ অতিক্রম করলেই উঠে পড়বে ভালাইপুর। আর সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছাতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। ততক্ষণে আবারো আড়ত থেকে ফোন আসতে থাকলো আমার কাছে এবং ড্রাইভার এর কাছে। আমরা দুজনাই ফোন ধরে তাদেরকে বললাম আমাদের গাড়ি ভালাইপুর এর কাছে চলে এসেছে, আপনারা একটু ধৈর্য ধরেন। কারণ অন্যান্য মাছের গাড়ি থেকে যদি মাছ বিক্রয় শুরু করে দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে মাছের দাম অনেকটা কমে গেছে। দূর থেকে নিয়ে যাওয়া মাছ কিছুটা সময়ের জন্য থামিয়ে রাখলে অনেক মাছ মারা যাবে। তাই তারাও যেভাবে খোঁজ রাখছিলেন আমরাও সেভাবে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। ইতোমধ্যে পথে অনেক মাছ কেনা মানুষের সাথে দেখা হল। অনেক কিছু জেলে রয়েছে যারা আড়ত থেকে মাছ কিনে এবং বাজার বিক্রয় করেন।
Infinix Hot 11s
আর এভাবেই কয়রাডাঙ্গা থেকে ভালাইপুর পর্যন্ত এলাকার কৃষি ব্যবস্থা, এলাকা দেখতে কেমন, এলাকা কতটা উন্নত। এই এলাকায় কি চাষ করা হয় এ সমস্ত বিষয়গুলো দেখতে থাকলাম এবং ড্রাইভারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করছে থাকি। আর তারি মাঝখান থেকে আড়ত থেকে যেমন ফোন আসতে থাকে আমাদের কাছে এদিকে বাড়ি থেকেও ফোন করতে থাকে কতদূর পৌঁছালাম। মাঝেমধ্যে আমিও গ্রামের মধ্যে থাকা মাছগুলোকে লক্ষ্য করে দেখতে থাকলাম। আর এভাবেই গাড়ির উপর বসে থেকে বিরক্তকর মুহূর্ত আবার টেনশন কখন আড়তে পৌঁছাব সবকিছুই যেন নীরবে সহ্য করতে থাকলাম। এর সাথে সাথে ড্রাইভার এর বেশ কিছু অভিজ্ঞতা আমার সাথে শেয়ার করতে থাকলো। হঠাৎ পথের মধ্যে লক্ষ্য করে দেখি ভালাইপুরে পৌঁছাতে এখনো চার কিলো দূর। ডাইভার বললেন গ্রামীণ রাস্তা,আঁকাবাঁকা রাস্তা, এদিকে আমি ড্রামের উপর বসে রয়েছি তাই ড্রাইভার এর একটু ভেবেচিন্তে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তাই এত দেরি হচ্ছে।যদি শহরের সোজা রাস্তা হত তাহলে এতক্ষণ কখন পৌঁছে যেতাম। ডাইভারের এই সমস্ত কথা শুনে আমিও সান্তনা মনে করে নীরব থাকলাম। আমাদের গাড়ি চলতে থাকলো।
Infinix Hot 11s
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পোস্ট বিবরণ
| বিষয় | মাছ বিক্রয় |
|---|---|
| ব্লগার | sumon09 |
| ডিভাইস | Infinix Hot 11s-50mp |
| লোকেশন | What3words |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন ভ্রমণ বিষয়ক পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকবেন সবাই। সকলের জন্য শুভকামনা রইল,আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার মাছ বিক্রি করতে যাওয়ার মুহূর্ত আমাদের মাঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন দেখে। বেশ অনেক কিছু জানতে পারলাম এই পোস্ট পড়ার মধ্য দিয়ে। আমিও শুনেছি ওই এলাকায় অনেক পান হয়। পানের বরজ মেলা ওখানে।
বাজারে পৌঁছে যাওয়ার পর আরো কিছু জানা যাবে
দারুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে আপনার যাত্রা পথটি আমাদের চোখের সামনে তুলে আনলেন। পড়তে পড়তে যেন আপনার যাত্রাপথের শরিক হয়ে গেছিলাম মনে হচ্ছিল। চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার রাস্তার ছবিগুলিও ভীষণ ভালো লাগলো। তবে আরো বাকি অংশ পড়বার অপেক্ষায় রইলাম। দুর্দান্তভাবে সাবলীল গদ্যের মাধ্যমে সম্পূর্ণ লেখাটি উপস্থাপনা করেছেন। সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলেন।
আশা করব আগামী পর্ব দেখবেন
আমিও আপনার সাথে একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার পথে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে ফেললাম। বড় বড় পানের বোরজ দেখলাম, কলা বাগান দেখলাম, আর যত দূর চোখ গেল সবজির চাষ দেখলাম। গ্রামগঞ্জের এই পৃথিবী যেন অতুলনীয়৷
এতো টেনশন মাথায় নিয়ে কিভাবে বাকি পথ গেলেন তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।
আশা করবো শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন
আমাদের এলাকার অধিকাংশ লোকই দেখা যায় যে পাঙ্গাস মাছ তেলাপিয়া মাছ এবং অন্যান্য মাছগুলো নিয়ে আলমডাঙ্গা আড়তে যায় কারণ ওখানে মাছের চাহিদা বেশ ভালো। যায় হোক আপনার অনুভূতিটা উপলব্ধি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে নিজের কাছে।
হ্যাঁ আলমডাঙ্গা অথবা চুয়াডাঙ্গা আড়তগুলোতে দাম ভালো পাওয়া যায়।