ছাত্র-ছাত্রীদের ইচ্ছে পূরণ || প্রিয় লাজুক খ্যাঁকের জন্য ১০%
আজ - বৃহস্পতিবার
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদের কে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি কচি কচি ছোট্ট ছোট্ট ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো লাগার কিছু মুহূর্ত তুলে ধরার জন্য। তাই চলুন এক নজরে আমাদের বিদ্যালয়ের ফুলবাগানের বিশেষ কিছু অনুভূতি শেয়ার করি।
'আমার বাংলা ব্লগ' কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট |
|---|
এসে গেছে নতুন বছর। তার সাথে বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে নতুন অনেক ছাত্রছাত্রী। আর এই ধারণা ছিল আমার আর মুস্তাফিজুরের মনে যে নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে নতুন বছরে তাই তাদের সামনে সুন্দরভাবে স্কুলটাকে প্রেজেন্টেশন করব শীতকালীন ফুল দিয়ে। আমি আর মোস্তাফিজুর দীর্ঘ দিনের খাটাখাটনির ফলে সুন্দর করে সাজাতে পেরেছি স্কুল গার্ডেন। যাকে বলা হয় মনোরম পরিবেশ। সৃষ্টি করতে পেরেছি সুন্দর একটা মনোরম পরিবেশ ফুলে ফুলে রাঙিয়ে। আর সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় এই যে আমার মোবাইলে বিদ্যালয়ের যাদের এন্ড্রয়েড মোবাইল রয়েছে সবার চেয়ে সুন্দর ফটোগ্রাফি হয়ে থাকে। তাই ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকমন্ডলী এমন কি অভিভাবকেরাও আমার মোবাইলে ছবি ওঠার জন্য মাঝেমধ্যে বায়না ধরে থাকে। কিছুদিন আগে আমি যখন স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম রোদের আশায়। ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু ছাত্র-ছাত্রী আমার পাশে এসে উপস্থিত হলো এবং বায়না ধরল স্যার আমাদের ফটোগ্রাফি করতে হবে ফুলের সাথে। কারণ তারা জানে তারা যেটাই বলে না কেন আমি তাদের ছোট্ট মনের আশা গুলো পূরণ করার চেষ্টা করে থাকি। আর মোবাইলে সামান্য ফটোগ্রাফি সেটা তো আমার কাছে কোন বিষয় নয়। এখানে যে সমস্ত ছেলেমেয়েগুলো দেখছেন তারা সবাই জানে আমি আর মোস্তাফিজুর অনলাইনে ফটোগুলোকে নিয়ে কাজ করে থাকি। তাই তারা সেভাবেই আমার কাছে বলতে থাকলো স্যার আপনাদের সাথে যারা কাজ করে তাদেরকে এই ফটোগুলো দেখাতে পারবেন। তাহলে বুঝতে পারছেন বন্ধুরা আপনাদের কেউ আমার ছাত্র-ছাত্রীরা মন থেকে ভালোবাসে। তারা আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে চায় ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়ে। যাইহোক চেষ্টা করলাম সুন্দর করে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী দের ফটোগ্রাফি করার। সামনে যে ছাত্রীদের দেখতে পাচ্ছেন এরা খুবই মেধাবী খুব সুন্দর লেখাপড়া করে থাকে।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
ফুলের আশেপাশে থাকলেই ছাত্রছাত্রীরা যেন আমার পিছু ছাড়ে না। অফিসে বিভিন্ন কাজ এবং ক্লাস নেওয়ার থেকে নিজেকে যখন একটু ফ্রি করে বাইরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবে ঘিরে ধরে আমার মোবাইলে ফটো ওঠার জন্য। সব ছাত্র-ছাত্রী আমার ভালো লাগে তারা নিজের সন্তানের মত মনে হয় যেন অতি স্নেহের ধন। তাই কাউকে আমি কালো ফর্সা নির্ণয় করি না সবাইকে মন থেকে এক স্নেহের দৃষ্টিতে দেখি তাই সবার ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করি ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়ে হোক আর যেভাবেই হোক। হয়তো এরা অতি ছোট সামান্য আমার মোবাইলে ফটো ওঠার পরে মাত্র কয়েকবার স্বচক্ষে দেখে আনন্দ পেয়ে চলে যায়। সামান্য সময়ের ব্যবধানে কত যে সুন্দর একটা হাসি দেয় তারা যা দেখে মন ভরে যায়। স্যারের মোবাইলে ফটো উঠেছি! ফুলের সাথে! কতই না আনন্দের ছলে তারা বলাবলি করে।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
এ যে কত স্নেহের ছাত্র ছাত্রী আমার। ছোট বাচ্চা বলে আমরা যেমন স্নেহের সাথে ডেকে থাকি। তারা যেন স্নেহের সাথে আমাকে স্যার থেকে স্যারু বলে ডাকে। স্যারু আমার ফটো করে দেন না। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা কত সুন্দর করে কথা বলে, তাদের সুন্দর কথা শুনেই যেন মন ভরে যায়। সত্য কথা বলতে কি শুধু বই থেকে পরিয়ে সুন্দর পরিবেশে তুলে দেওয়া যায় না সুন্দর পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোনিবেশ করাতে হলে তাদের সাথে সাহায্যপূর্ণ আচরণের ভালো ব্যবহার কথাবার্তার মধ্যে দিয়েই ভদ্রতা নম্রতা শেখানো যায়। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি এমন অনেক ছাত্রছাত্রী রয়েছে যারা সুন্দর ব্যবহারের অভাবেই খারাপ ব্যবহার আয়ত্ত করে ফেলে। আবার যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ভালো ব্যবহারের মাঝে বেড়ে ওঠে তারা সুন্দরভাবে ব্যবহার করতে শিখে অন্যের সাথে। ছোট্ট নিষ্পাপ মনের আশা যখন পূরণ হয় তখন দেখা যায় তারা আরো সুন্দরভাবে ব্যবহার করছে সকলের সাথে। আমি খেয়াল করে দেখেছি যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ছোট ছোট ভালো লাগাগুলো পূরণ হয় তারা ক্লাসে ভালো মনোযোগ সহকারে পড়ে এবং কথা শুনে।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
নতুন বছরে অনেক ছাত্রছাত্রী আগমন। তবে আমাদের বিদ্যালয়ের সিটের সংখ্যা খুবই কম যার জন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু পাশ করতে পারেনি তবে যারা বিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে তাদের নিয়ে পুনরায় আমাদের ২০২৩ সালের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। সকালে স্কুলের শুরুতেই এসেম্বলি ও পিটি প্যারেড করানো হয়ে থাকে। এরপরে ক্লাস চলতে থাকে তিনটা দশ মিনিট পর্যন্ত। যে সমস্ত পুরাতন ছাত্রছাত্রীরা ছিল তারা অবশ্য পিটি প্যারাডে এক্সপার্ট। লক্ষ্য করে দেখেছি ক্লাসে লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও খুব ফাস্ট। কারণ নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য দিয়ে নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে সবকিছু। তবে পূর্ব বছরের দেখা হয়েও এবার অনেক ছাত্র-ছাত্রী হওয়ায় স্কুলের মাঠ যে কোন সময় লক্ষ্য করলে যেন মনে হয় বর্ষাকালের একটা কথা আছে না 'কানায় কানায় পরিপূর্ণ' ঠিক তেমন। সব মিলিয়ে বলবো বিদ্যালয়ের দারুন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেছে। আশা করি আরো সুন্দর একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
💌আমার পরিচয়💌
| আমি মোঃ নাজিদুল ইসলাম (সুমন)। বাংলা মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস মেহেরপুর গভমেন্ট কলেজ। আমার বাসা গাংনী-মেহেরপুর। মড়কা বাজার, গাংনী,মেহেরপুর এ গ্রীনরেইন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক । ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি মেরামত ও সৌর প্যানেল নিয়ে রিসার্চ করতে পছন্দ করি। প্রাকৃতিক দৃশ্য ফটোগ্রাফি করা আমার সবচেয়ে বড় ভালোলাগা। দীর্ঘদিনের আমি পাঙ্গাস মাছ চাষী এবং বিরহের কবিতা লেখতে খুবই ভালোবাসি। |
|---|
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
| আমার পরিচিতি | কিছু বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| আমার নাম | @sumon09🇧🇩🇧🇩 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | মোবাইল |
| ব্লগিং মোবাইল | Infinix hot 11s |
| ক্যামেরা | camera-50mp |
| আমার বাসা | মেহেরপুর |
| আমার বয়স | ২৬ বছর |
| আমার ইচ্ছে | লাইফটাইম স্টিমিট এর 'আমার বাংলা ব্লগ' এ ব্লগিং করা |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
Your post has been rewarded by the Seven Team.
Support partner witnesses
We are the hope!
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল। আপনি ও মোস্তাফিজ ভাইয়া মিলে স্কুলে সুন্দর গার্ডেন তৈরি করেছেন।আপনি সত্যি বলেছেন বাচ্চাদের এভাবে ছবি তুললে বাচ্চরা অনেক খুশি, যে স্যারের ফোনে ছবি তুলেছি।আর সেই আনন্দে স্যার থেকে স্যারু বলে ডাকে দারুণ ।প্রতিটি ছবি চমৎকার ছিল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ছোট বোনের সুন্দর একটা ইচ্ছে পূরণ করতে পারলে নিজের ভালো লাগে।
অনেক ভাল লাগল এটা দেখে যে ছাত্রছাত্রীদের সাথে আপনার সম্পর্ক অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ,আর আপনি সবাইকে সমান চোখে দেখেন।এমনই হওয়া উচিত।শিক্ষকদের দেখে ভয় পেলে, তারা শিখতে পারবে না।আপনাদের স্কুলের বাগানটি অনেক সুন্দর।ফটোগ্রাফ গুলোও অনেক সুন্দর হয়েছে।ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছে পূর্ণ করে,আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আশা করি পাশে থাকবেন আরো অনেক কিছু তথ্য পেয়ে যাবেন বিভিন্ন পোস্টে।
স্কুল হল মানুষ গড়ার কারিগরের জায়গা।আর এই জায়গাটা আপনি যত সুন্দর করে গড়ে তুলবেন তত সেখানে পরিবেশ টি সুন্দর হবে। তার পাশাপাশি ছাত্রদেরও মন পরিষ্কার থাকবে।স্কুলে ফুল গুলো দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো। আপনাদের এই বছরে অনেক ছাত্রছাত্রী স্কুলে ভর্তি ও হয়েছে। সব মিলে খুবই সুন্দর একটি দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফুলের সাথে বাচ্চাদের ফটোগ্রাফি দেখে মনে হচ্ছে এরাও একজন ফুলের মতই মনে হচ্ছে আমার কাছে।
অবশ্যই তারা ছোট্ট বাচ্চা, তাই ওদের মনটাও ফুলের মত পবিত্র।
প্রথমত আপনাদের বিদ্যালয়ের বাগানটা খুবই সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। ফুলগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। এটা জেনে ভালো লাগলো যে আপনার মোবাইলে ফটোগ্রাফি অনেক সুন্দর হয় এবং সবাই বায়না করে আপনার কাছে ফটোগ্রাফি করার জন্য। আর আপনার ছাত্র-ছাত্রীদের ফুলের সাথে করা ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। আপনার ছাত্র-ছাত্রীদের বলে দিবেন যে আমরা অনেক খুশি হয়েছি তাদের ফুলের সাথে ফটোগ্রাফি গুলো দেখি। তারা অনেক কিউট। ধন্যবাদ এরকম একটি বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আর আমার কাছে আপনার এই পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে।
হ্যাঁ এরা যেমনটা কিউট তেমনটাই এক্সপার্ট।
আপনি তো দেখছি ছোট ছোট বাচ্চাদের আশা পূরণ করলেন তারা অনেক খুশি হয়েছে। খুশি হওয়ারই কথা কারণ তাদের মনের আশা এভাবে পূরণ করলে কেউ তারা খুশি হবে। আসলে বিদ্যালয়ে দারুন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাহলে। এমনিতেই বিদ্যালয়ে এভাবে ফুল গাছ লাগালে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে দেখতে। ছাত্র-ছাত্রীরা ফুল দেখে ভালো সময় কাটিয়েছে।
তারা তো প্রায় ফটো উঠার জন্য পিছু লেগে থাকে।
আসলে ছাএ ছাএীর সাথে স্যারদের বন্ধুত্বপূর্ন আচরন করা উচিত এতে স্টুডেন্ট রা পড়ালেখা করে মজা পায়।যাই হোক আপনার বিদ্যালয়ের পরিবেশটা আসলেই মনোরম। তাদের ছোট ছোট আবদার পূরন করার জন্য আপনি ফুলের সাথে ছবি তোলেদেন জেনে ভালো লাগলো।তবে সারু বলে ডাকাটা কেমন জানি মনে হলো আমার কাছে।যাই হোক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
আমাদের স্টুডেন্টরা এতটাই আদরের হয়ে গেছে পরবর্তী পোস্ট দেখে বুঝতে পারবেন।
দারুন একটা ব্যাপার। অনেক কষ্টের পরে অবশেষে আমরা সক্ষম হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের খুশি করার জন্য সুন্দর একটা বাগান তৈরি করতে। যদিও এই কাজ করতে অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছিল তারপরও আমরা যে সফলভাবে কার্যক্রমটি করতে পেরেছি এজন্যই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানাতে চাই।
অবশ্যই। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করাও বেশ কঠিন কাজ।
ছোট ছোট পিচ্চি মিষ্টি ছাত্র-ছাত্রীরা দেখছি আপনাকে স্যার না ডেকে স্যারু ডাকে। আসলেই এরকম ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বলা শুনলে মনটা একেবারেই ভরে যায়। তারা আপনাকে ফুলের সাথে ফটোগ্রাফি করে দেওয়ার জন্য বলল আপনি করে দিলেন অনেক খুশি হয়েছে তাই না। আসলেই ছোট ছোট বাচ্চাদের যদি কোন মনের আশা পূরণ করা হয় তখন তারা অনেক খুশি হয়। বেশ ভালই একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাহলে।
অতি স্নেহের ধন হয়ে গেছে তারা।