প্রত্যেকটি শ্রমজীবী মানুষ আমাদের সমাজের অংশ
আসসালামু আলাইকুম।
শুভেচ্ছা সকল বন্ধুদের। আপনাদের মাঝে আবারো একটি নতুন ব্লগ উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এবং সৃষ্টিকর্তাকে আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই আবারও একটি দিন আমাকে সুস্থ সুন্দর এবং ভালো রাখার জন্য।
আমাদের ভালো থাকার মাঝে রয়েছে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। অর্থাৎ আমরা বছরের ৩৬৫ দিন সুস্থ থাকতে চাই এবং মাঝে মাঝে যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। তবে এটা মোটেই কাম্য নয়।
আমরা যেমন বছরের ৩৬৫ দিন সুস্থ থাকতে চাই এবং ভালো থাকতে চাই তেমনি আমাদের জীবনে চলার পথেও আমরা প্রতিটা দিন আনন্দ এবং উপভোগ করে চলতে চাই। তবে মাঝে মাঝে আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং আমাদের মুহূর্তগুলো এমন অবস্থান নেই যে আমরা ভালো থাকা কি জিনিস কিংবা কিভাবে ভালো থাকা যায় সেই অবস্থান হারিয়ে ফেলি।
যখন আমরা আমাদের ভালো অবস্থান থেকে কিছুটা কষ্ট পেয়ে থাকি তখনই আমাদের জীবনটা কষ্টময় হয়ে যায়। কিন্তু সেই সাময়িক কষ্টে যদি আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারি তবে আমাদের জীবনে সঠিক এবং সুন্দর দিন আসবে এবং আমরা আগামীতে ভালো কিছু পাব এটাই বাস্তবতা।
ঠিক তেমনি আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা কিনা প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যম দিয়ে নিজের জীবনকে একটি ভালো অবস্থানের মাঝে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও তারা তাদের জীবনে চলার পথে প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রাম করে চলছে কিন্তু তাদের এই সংগ্রাম যেন শেষ হতে চায় না।
একদিন সংগ্রাম করে কোন রকম দিন পার করার পরে আবার পরের দিন সংগ্রামের জন্য বের হতে হয় তাদেরকে। যদিও আমি একজন জীবন সংগ্রামে মানুষ এবং প্রতিনিয়ত জীবনে ভালো থাকার জন্য এবং আগামী দিনগুলো সুন্দরভাবে কাটানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি তবে মাঝে মাঝে আমিও বেতাল হয়ে ফেলি।
অর্থাৎ আমিও সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ধৈর্য হারিয়ে ফেলি এবং নিজেকে নিঃস্ব মনে করি। তবে আমাদের সকলকে অবশ্যই বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে এবং সব সময় জীবন সংগ্রামের টিকে থাকতে হবে এই হোক আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা।
যাইহোক আমি আজকে আপনাদের মাঝে আবারও বেশ কিছু জীবন সংগ্রামী মানুষদের চিত্র তুলে ধরতে চাই যারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে তাদের নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখছে। যদিও তারা তাদের জীবনে এখনো উন্নতি করতে পারেনি তবে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে নিজেকে ভালো রাখার এবং নিজের অবস্থানকে ধরে রাখার জন্য। আমাদের উচিত প্রতিনিয়ত নিজের প্রতি আপ্রাণ সংগ্রাম করে নিজেকে টিকিয়ে রাখার। আমি আজকে আপনাদের মাঝে তিন ধরনের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে চাই।
- রিক্সা চালক
- ঝাল মুড়িওয়াল
- সবজি বিক্রেতা
সবজি বিক্রেতা
একজন সবজি বিক্রেতা কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করে তার নিজের জীবিকা নির্বাহ করে। আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে আমি যেহেতু এখন পাইকারি সবজি বিক্রি করছি এবং এখান থেকে আমার এই অভিজ্ঞতাটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
আমরা রাত বারোটা থেকে পাইকারি সবজি বিক্রি শুরু করি। আমাদের বানিজ্যলায় ঢাকা উত্তরা ১১ নং সেক্টরে। সেখানে যখন আমরা সবজি বিক্রি শুরু করি তখন পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে পাইকারি সবজি কিনে পুরো রাত অতিক্রম করে দেয়।
প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘন্টা তাদের সবজি ক্রয় করতে সময় লাগে। এরপর যখন ভোর হয়ে যায় তখন সবজি কিনা শেষ করে বাসায় ফিরে এবং মাত্র দুই থেকে তিন ঘন্টা রাতে ঘুমিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা সবজি বিক্রি শুরু করে।
মূলত তাদেরকে সারাদিন খুচরা সবজি বিক্রি করতে হয় এবং সবজি বিক্রি শেষ হলে ওই একই দিন আবার তাদেরকে পাইকারি সবজি বিক্রেতার কাছে আসতে হয় এবং সবজি কিনে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
মূলত আমি মনে করি এখানে তারা তাদের ২৪ ঘন্টা থেকে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘন্টা নিজেকে সময় দিতে পারে এবং বাকি ঘন্টাগুলো তাদের কঠোর পরিশ্রম করে রাত জেগে জীবিকা নির্বাহ কাজে ব্যবহার করতে হয়।
রিস্কা চালক
একজন রিস্কা চালক অনেক পরিশ্রমী হয়ে থাকে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা কোনরকম হতে না হতেই তারা রিসকা নিয়ে বের হয়ে চলে যায় এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য।
রোদ নাই গরম নাই বৃষ্টিতে ভিজে তাদেরকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করার কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। মাঝে মাঝে যারা রিস্কা আহরণ করে তারা বিভিন্ন রকমের বকাবাজি করে এবং বিভিন্ন রকমের কথা শুনিয়ে থাকে রিক্সা চালকদের।
ঝড় রোদ গরম রাত দুপুর তারা অনেক কঠোর পরিশ্রম করে এবং এভাবে তারা তাদের নিজের জীবিকা নির্বাহ করে।
ঝাল মুড়ি বিক্রেতা
ঝালমুড়ি বিক্রেতা মানেই আমাদের সমাজে নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ এবং এটাই আমাদের ধারণা। তবে একজন ঝাল মুড়িওয়ালা ও কিন্তু একজন পিতা কিংবা একজন ভালো পরিবারের কর্তা। সুতরাং আমাদের ভেতরে অনেক ধারণা রয়েছে যে একজন ঝাল মুড়িওয়ালা মানে সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ।
তাকেও কিন্তু সারাদিন অনেক পরিশ্রম করতে হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করে তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয় এবং ছেলে মেয়ের লেখাপড়া ছাড়াও চিকিৎসা খাদ্যবস্ত্র সব কিছু বহন করতে হয়।
উপসংহার
আমি উপরে আপনাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ সম্পর্কে এবং জীবন যোদ্ধাদের সম্পর্কে অবগত করেছি। উপরের তিন শ্রেণীর মানুষ ছাড়াও আরো অনেক মানুষ রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
মূলত তারা আমাদের চোখে নিম্ন বিত্ত এবং দরিদ্র পরিবারের মানুষ হলেও তারাও আমাদের মত জীবন সংগ্রামী মানুষ। হয়তোবা তাদের ইনকাম কম কিংবা তাদের চলাচলের মান কিছুটা অউন্নত।
তবে দিনশেষে তারাও একজন ভালো পিতা হতে চাই এবং একজন ভালো স্বামী হতে চাই। তবে তাদের প্রতি আমাদের যে ভ্রান্ত ধারণা কিংবা আমরা যে প্রতিনিয়ত তাদেরকে নিচু চোখে দেখি বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। যদিও তারা দিনমজুর এবং কঠোর পরিশ্রম করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে তার পরেও কখনোই তাদেরকে ছোট চোখে দেখা উচিত না। কারণ সকল শ্রমজীবী মানুষ আছে বলেই আমরা সকল রকমের সুবিধা পায় এবং আমাদের জীবনের চলার পথ আরো সুন্দর হয়েছে।
সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং অবিরাম শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি আজকের ব্লগিং। ভুল কিছু বললে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদায় বলছি, ধন্যবাদ সবাইকে
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
X media share link
এই সপ্তাহেও একই ধরনের কাজ করলেন কেন? কমিউনিটিতে কাজ করতে হলে কমিউনিটির নিয়ম মানতে হবে না হলে কোন পোষ্ট কিউরেশন করা হবে না, এটা পরিস্কার করে বলে দিলাম। এর আগেও আপনাকে গাইড করা হয়েছিলো। আপনার বুঝতে যদি সমস্যা হলে শুভ ভাই কিংবা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন টিকেট কেটে।
স্পষ্ট করে তিনটি নিয়ম মার্ক করে দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু সেটা আপনি ফলো করেন নাই।
আপনি ইদানিং ভাইয়া অনেক বাস্তবমুখী কিছু কথা আমাদের মাঝে তুলে ধরেন। যেগুলো পড়লে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি ও শিখতে পারি। অনেক জ্ঞান অর্জন হয়। ভীষণ ভালো লাগে। প্রত্যেকটি শ্রমজীবী মানুষ আমাদের সমাজের অংশ ঠিক বলেছেন ভাইয়া কারণ শ্রমজীবী মানুষ যারা কাজ করে খায় তারা যদি কাজ না করে তাহলে সমাজ কখনো টিকবে না। হুম ভাইয়া ভালো থাকার মাঝে রয়েছে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মূল তন্ত্র। যত যাই হোক আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি ধৈর্য রাখতে হবে। জি ভাইয়া অল্পতে ধৈর্য হারালে জীবন চলবে না। আমরা যদি কষ্ট ধৈর্য ধারণ করতে পারি তাহলে আগামীতে ভালো কিছু অর্জন করতে পারব। যারা সবজি বিক্রি করেন তারা যদি সবজি বিক্রি না করে তাহলে কিন্তু আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।সবজির বিক্রেতা অনেক কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করে । একজন রিক্সাচালকের কথা বলতে গেলে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা কোনরকম হতে না হতেই। তারা বেরিয়ে পড়েন নিজের জীবনের জন্য ও পরিবারকে চালানোর জন্য। তাদের কাছে রোদ বৃষ্টি গরম কিছুই মনে হয় না। ঢাকা শহরে আমি ছিলাম ভাইয়া। ঢাকা শহরে তো পায়ের রিকশা চালাতে হয়। অনেক কষ্ট করে তারা কাজ করে সত্যিই দেখলে মায়া লাগে। একজন ঝাল মুড়ি বিক্রেতাও সারাদিন অনেক পরিশ্রম করার পর ভাইয়া জীবিকা নির্বাহ করে। ছেলে মেয়ের পড়ালেখা চালায়। আপনি ঠিক বলেছেন ভাইয়া। প্রতিটা মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অনেক সুন্দর আলোচনা করেছেন। ভালো লাগলো।
শ্রমজীবী মানুষেরা আমাদের সমাজের শক্ত খুঁটির মতো, তারা পরিশ্রম করে বলেই আমরা আরামে দিন কাটাতে পারি। তারা যদি অক্লান্ত পরিশ্রম না করতে তাহলে হয়তো অনেক খারাপ কিছু দেখতে হতো আমাদের।
যাইহোক আমি সেই সমস্ত মানুষদের নিয়ে আজকের পোস্ট সাজিয়েছেন যাদের সত্যিকার অর্থেই সম্মান এবং মূল্যায়ন করা উচিত।
বেশ ভালো এবং গোছানো পোষ্ট ছিল।
আজকে শ্রমজীবী মানুষ গুলো আছে বলেই তো আমাদের দুনিয়াটা টিকে রয়েছে। এক একটি মানুষের একেকটি পেশা রয়েছে এক এক রকম মূল্যায়ন। অবশ্য সবাই এই মূল্যায়ন করতে জানে না। তবে যারা যে পর্যায়ে পরিশ্রম করে থাকে তারাই জানে তার কতটা পরিশ্রম ও কষ্ট সাধন করতে হয়।
ছোট সময় সমাজ বইতে পড়েছিলাম এই শ্রমজীবি মানুষের কথা।কোন পেশাই ছোট নয়।আর সকল পেশার মানুষকেই আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে হবে।আপনি আজ তিনজন শ্রমজীবি মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। এজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমাদের সকলের উচিত সবার পেশার মানুষকে সমানভাবে সম্মান করা।কাউকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়।আর আমরা তা করব ও না।
সুস্থ থাকাটা প্রতিটা মানুষের জন্য খুবই জরুরী। পরিশ্রম মানুষের সৌভাগ্যের প্রসূতি পরিশ্রম দ্বারা নিজের জীবনযাত্রা মান উন্নয়ন করা যায়। সমাজে যারা পরিশ্রম করে তারাই সমাজের সবথেকে বড় অংশ। গরীব এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয় আর এই পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হয়। আপনি খুবই চমৎকার লিখেছেন ভাই ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
প্রতিটি মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসে এবং ভালো সময় আসে। তবে যখন খারাপ সময় আসে, তখন অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। কারণ ধৈর্য্যশীল ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা খুব পছন্দ করে। যাইহোক শ্রমজীবী মানুষদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ তারাও মানুষ এবং মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা তাদেরও রয়েছে। এই সমস্ত শ্রমজীবী মানুষেরা প্রচুর পরিশ্রম করে থাকে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি টপিক নিয়ে পোস্ট শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভালো এবং মন্দ সময় মিলে আমাদের জীবন। তবে সব সময় তা অপেক্ষা এবং মোকাবেলা করতে হবে। আপনারা এত চমৎকার করে মন্তব্য করেন দেখে বেশ ভালো লাগে এবং আনন্দ লাগে। শুভেচ্ছা রইল এবং অনেক অনেক দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো।