"গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি পুলি পিঠা "
আসসালামুআলাইকুম/আদাব🤝
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছি ।
শীতকাল প্রায় চলে এসেছে। শীতকাল চলে আসা মানেই নানান রকমের পিঠে খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। আর গ্রাম অঞ্চলে তো ঘরে ঘরে পিঠে উৎসব শুরু হয়ে যায়। দাদী নানীরা এর সময় খুব যত্ন সহকারে নানান রকমের পিঠে তৈরি করে খাওয়ায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটা খুব কমে গেছে। কেউ আর ওই রকম ভাবে গ্রাম অঞ্চলে ঘুরতে যায় না সবাই প্রায় শহরমুখী হয়ে গেছে। কাল হঠাৎ করে নানী আমাদের বাসায় আসে আমার বাবাকে দেখার জন্য কারণ অনেকদিন হলো আমরা নানু বাড়ি। নানীকে দেখে আমি তো অনেক খুশি। নানীর কাছে যা আবদার করা যায় তাই পাওয়া যায়। নানীকে বললাম পিঠে খাব। নানী বলল অনেকদিন ধরে বানাই না তবে আমার মায়ের কাছ থেকে শেখা সেই গ্রাম বাংলার আগেরকার দিনের পুলি পিঠা তৈরি করি যেটা একটু আলাদাভাবে তৈরি করা। বললাম চলেন আমি সাথে বানাই কারণ আপনার একা বানাতে অনেক কষ্ট হবে। আর নতুন ধরনের এই পুলি পিঠা তৈরি করতে আমি অনেক আগ্রহী। তাই না নিয়ে আর আমি মিলে সেই গ্রাম বাংলার পুরনো দিনের পুলি পিঠা তৈরি করব। কিভাবে এই নতুন ধরনের হাঁ তৈরি করেছি তা আপনাদের মাঝে দেখাই চলেন।
| উপাদান | পরিমাণ |
|---|---|
| ১) আখের গুড় | তিন কাপ পরিমাণ। |
| ২) চাউলভাজা | পরিমাণ মতো। |
| ৩) নারিকেল কুড়ানো | পরিমাণ মতো। |
| ৪) ভেজে রাখা তিল | পরিমাণ মতো। |
| ৫) আটা এবং আতপ চাউলের গুড়ার মন্ড | পরিমাণ মতো। |
- প্রথমেই ভেজে রাখা চাউল এবং মন ভেজে রাখা তিল ব্লেন্ডারের সাহায্যে গুঁড়ো করে নিব।
- এখন পুরানো নারকেলগুলো কড়াই এর মধ্যে দিয়ে দেব। ভালোভাবে নাড়তে থাকবো যতক্ষণ পর্যন্ত এটা আঠা আঠা ভাব না আসে।
- এরপর কড়াই এর মধ্যে গুড়ো করা চাউল ভাজা এবং তিল ভাজা গুলো দিয়ে দেব। সবগুলো উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেব। মিশ্রণটি নামিয়ে ঠান্ডা করে নিব। এটাই পুলি পিঠের মূল উপকরণ।
- এবার আটার মন্ডটিকে সুন্দর করে বেলে নিয়ে বড় একটা রুটি বানিয়ে নেব। এবার রুটির মাঝখানে বড় একটা মুখা দিয়ে সুন্দর করে একই মাপের কেটে নিয়ে ছোট ছোট রুটি বানিয়ে নেব।
- এখন ছোট রুটিটি হাতের মধ্যে নিয়ে রেডি করে রাখা পুর মাঝখানে দিয়ে সুন্দর করে ভাজ করে নিব।সাইড দিয়ে সুন্দর করে ভাঁজ করে ডিজাইন করে নিব।
- এভাবে অনেকগুলা পুলি পিঠে তৈরি করে নিব। পিঠেগুলোকে ছড়িয়ে পাত্রের উপর রেখে দিব যেন পিঠেগুলো একটার সাথে একটা লেগে না যায়।
- এবার পিঠাগুলো ভাজার পালা। কড়াইয়ে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে পিঠেগুলো দিয়ে আস্তে আস্তে ভেজে নিবো।
- এখন একটা পাত্রের মধ্যে ভিজে রাখা পুলি পিঠাগুলো একে একে তুলে নিব। সবাইকে একটা করে খেতে দিলাম।অনেক মজা হয়েছিল।সবাই খেয়ে অনেক প্রশংসা করেছিল। এভাবে আস্তে আস্তে আমি নানীর থেকে সব অন্যরকম রান্না গুলো শিখে নিব। আজ এখানে শেষ করছি। আবার অন্য কোনদিন অন্য কোন রেসিপি নিয়ে আপনাদের সামনে এসে হাজির হব। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
❤️🩹আল্লাহ হাফেজ❤️🩹।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | Redmi note 9 |
|---|---|
| ধরণ | রেসিপি🥙। |
| ক্যামেরা.মডেল | note9 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |
আহা আহা। আপনি তো শীত পড়ার আগেই পিঠে খাইয়ে দিলেন। এ আমার ভীষণ পছন্দের একটি খাবার। আপনার বানানো পিঠে গুলি দেখতে তো অসাধারণ হয়েছে। না জানি খেলে কত ভালো লাগবে। তবে এই মরশুমে প্রথম পিঠে আপনার পোস্টেই দেখতে পেলাম। যদিও এখনো গরমের জালায় উদ্ভ্রান্ত হচ্ছি।
ধন্যবাদ ভাইয়া। বাস্তবে খাওয়ানো গেলে আরো বেশি খুশি হতাম।
ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত আমি যে পিঠা সবচেয়ে বেশি খাই সেটি হচ্ছে এই পুলি পিঠা।পুলি পিঠা খেতে আমি ভীষণ রকমের পছন্দ করি। ছোটবেলায় আমার দাদী আমার জন্য কিছুদিন পরপরই পুলি পিঠা তৈরি করে দিত।আর আমি মজা করে খেতাম।এখন আর আগের মত খাওয়া হয়না, মাঝেমধ্যে খাওয়া হয়।হঠাৎ করে আজকে আপনার তৈরি পুলি পিঠা দেখে খেতে খুব লোভ হচ্ছে।যাইহোক পুলি পিঠা তৈরীর পদ্ধতি আমাদের মাঝে খুবই সুন্দরভাবে শেয়ার করেছেন আপনি। এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
পুলি পিঠে সুস্বাদু রেসিপি দেখতে পেলাম। এই রেসিপি দেখে খেতে ইচ্ছা করছে। আপনার রেসিপি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
আপনার ভালো লেগেছে শুনে ভালো লাগলো।
পুলি পিঠা আমার খুব পছন্দের একটি পিঠা। কিন্তু আপনার পুলি পিঠা তৈরির পদ্ধতি ভিন্ন ধরনের। ভাজা চালের গুঁড়া দিয়ে কখনও খাওয়া হয়নি। পুলি পিঠা অনেক ভাবেই তৈরি করা যায়। যেভাবেই তৈরি করা হোক না কেন খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনার পুলি পিঠা দেখে খুব খেতে ইচ্ছে করছে। শীতের সকালে বসে গরম গরম পুলি পিঠা খেতে দারুণ লাগে। ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
জি আপু, এই পুলি পিঠার ধরন যেমন আলাদা স্বাদ তেমনি অন্যরকম।
পুলি পিঠা আসলেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটা পিঠা। শীতের সময় এই ধরনের পিঠাগুলো অনেক বেশি তৈরি করা হয় গ্রাম অঞ্চলে। আসলে দেখতে দেখতে শীতকাল একেবারে চলে এসেছে। আর এই সময়টাতে গরম গরম পুলি পিঠা খেতে কিন্তু অনেক বেশি ভালো লাগবে। আর তৈরি করা পুলি পিঠা দেখেই আমার লোভ লেগে গেল অনেক বেশি।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
নানী দাদিরা সত্যি নাতি নাতনিদের সব আবদার মেটায় কখনো না করে না।আপনি চমৎকার সুন্দর করে ঐতিহ্যবাহী পুলিপিঠা রেসিপি করেছেন এবং রেসিপি তৈরি পদ্ধতি চমৎকার সুন্দর করে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু রেসিপিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
আপনাকেও ধন্যবাদ আপু।
https://x.com/JannatulF57996/status/1852784356051538064?t=Bkp-7xOD0kruwUYIm0iF-g&s=19
এখন পুলি পিঠা শহরের মানুষেরা ও খেতে পছন্দ করে। তবে, এক সময় পুলি পিঠা গ্ৰামের মানুষের একটি শখের পিঠা ছিল। আপনি দেখছি আজকে খুবই সুন্দর করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি পুলি পিঠা রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার হাতে তৈরি করা এতো সুন্দর একটি পিঠা রেসিপি দেখে বেশ ভালো লাগলো। আপনি বেশ দারুন ভাবে পিঠা তৈরির রেসিপি টি সম্পন্ন করেছেন।আর পিঠে গুলো দেখে মনে হচ্ছে বেশ মজাদার হয়েছিল।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
এই সব পিঠা গুলো শীতে বানানো হয়ে থাকে। আমি এই পিঠা পছন্দ করি। অনেক সুন্দর পোস্ট করেছেন
জ্বী ভাইয়া ধন্যবাদ।