অতীত এখন ভেসে বেড়ায়
সারারাত ডিউটি করে সকালবেলা কেবল বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। গতকাল ইমার্জেন্সী ডিউটি ছিল যার কারণে খুব একটা ভালো ঘুম হয়নি। এবং হসপিটাল থেকে বের হতেই দেখলাম মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইদানিং আকাশের মন এতো খারাপ যাচ্ছে , যার কারণে সে মুহূর্তে মুহূর্তে কেঁদে দেয় আর আমাদেরকে ভিজে দেয় । অন্যান্য দিনের মতো ভাবছিলাম যে আজকে হয়তো হসপিটালের সামনের মামার দোকানে বসে, এক কাপ চা কড়া লিকারের দুধ চা খেয়ে তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হব । কারণ এমনিতেই ঘুম না হওয়া শরীর আমার , এমত অবস্থায় চা হলে মন্দ হতো না ।
একই ব্যাচের এক মেয়ের সঙ্গে হালকা ভাব ছিল আমার । আমার এক বছর গ্যাপ যাওয়ার কারণে, সে আমার আগেই ডাক্তার হয়ে বের হয়েছে আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে। যাই হোক সে এখন মেডিকেলের সামনেই একটা ডায়াগনস্টিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে। তার জীবনটা এখন তার মতো করেই কাটছে। আসলে তার সঙ্গে দূরত্ব আমার কেমন ভাবে যে হয়ে গেলো, এটা আমি বুঝে উঠতেই পারলাম না । চার বছরের ভাব ভালোবাসা, এই ক্যাম্পাসে একসঙ্গে কত দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে, কত মধুর সময় কাটিয়েছি। তা শুধু মনে হয় ক্যাম্পাসের বোবা দেয়াল গুলোই জানে । ভাগ্যিস কংক্রিট গুলো কথা বলতে জানেনা ।
যখন আমার এক বছর গ্যাপ হয়ে গেল।তখন কেউ একজন আমাকে বলেছিল, তোর জীবন থেকে এখন অনেক কিছুই গ্যাপ হয়ে যাবে । আসলেই অনেক কিছুই গ্যাপ হয়ে গিয়েছে, পরিচিত হাতের স্পর্শ এখন আর নেই। কারণ এখানে মানসম্মানের বিষয় চলে এসেছে । তার সোসাইটিটা তখন সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে চলে যাচ্ছিল,সে যখন ইন্টার্ন করত আমি তখন ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্ট। সব মিলিয়ে একটা দীর্ঘসময়ের গ্যাপ। দীর্ঘ নিয়ম-কানুনের গ্যাপতো রয়েই গিয়েছে । সে যে ভাবে যোগাযোগ করতে চাইত,সেটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠত না আবার আমি যে ভাবে যোগাযোগ করতে চাইতাম সেটা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠত না । কারণ এখানে দায়িত্ব একটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল । ইন্টার্নশিপ আসলে একটা নব্য ডাক্তারের জন্য অনেক বড় একটা দায়িত্বের বিষয় । কারণ এখানে প্রতিটা পদক্ষেপে অনেক কিছুই শেখার আছে, হয়তো সে এত নিয়মকানুনের বেড়াজালে পড়ে আমার মত মানুষটাকে ভূলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ তার দিনশেষে সময় কাটছিল হসপিটাল আর রোগী নিয়ে । সেখানে আমাকে সময় দেওয়ার তার সময় কোথায় ।
আচ্ছা হুটহাট করে, আমি আজকে এসব কথা বলা কেন শুরু করছি বলেন তো । এই বৃষ্টি দেখলেই এখনো যেন সব কিছু গুলিয়ে ফেলি । আজ যখন বৃষ্টির মাঝে হসপিটাল থেকে বের হয়ে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি তখন দেখলাম যে হসপিটালের সামন দিয়ে এক নব্য যুগল রিক্সার মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে । আসলে একটা সময় আমার জীবনেও এরকম সময় ছিল । আজ সব আছে সেই আকাশ ,সেই বৃষ্টি, সেই মেডিকেল কিন্তু এক বছর গ্যাপের কারনে প্রিয় মানুষটা এখন আর পাশে নেই । আজ যদিও আমি নিজেও ডাক্তার কিন্তু প্রফেশনের খাতিরে আমি এখনো তার জুনিয়র থেকে গেলাম ।
অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ অসাধারণ।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
অতীত সম্পর্কে দারুন বক্তব্য পেশ করেছেন। অতীতের অনুভূতিই ফেলে আশা আমাদের কত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়. আপনাকে ধন্যবাদ আপনার অতীত সম্পর্কে কিছু কথা এখানে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
স্মৃতিচারণা একই সাথে দুঃখের এবং আনন্দের । খুব ভালো লাগলো পড়ে । তবে একটা কথা - শৈশবের আর স্কুল জীবনের বন্ধুরাই সব চাইতে কাছের হয় ।
এইটা অবশ্য ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।