কেনাকাটা
বৃহস্পতিবার বিকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে ঈদের শপিং করতে যেতে হবে। যদিও আমার এবার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না, তবে অনেকটা গিন্নির চাপের জন্যই মার্কেটে যেতে বাধ্য হওয়া লাগলো।
সত্যি বলতে কি,আমার এমনিতেই খুব একটা কাপড়-চোপড়ের তেমন দরকার হয় না বললেই চলে। কারণ আমি তো খুব একটা বেশি বাহিরে চলাফেরাই করি না। তাছাড়া অহেতুক এতো বেশি কাপড় কিনে কি করব। তবে এবার আগে থেকেই গিন্নিকে মানানো গিয়েছে যে, সে এবার বেশি কেনাকাটা করবে না। সে এবার নিজেকে অল্পের ভিতরেই সন্তুষ্ট রাখবে। যদিও সে তার কথা রেখেছে।
সবচেয়ে বড় মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবার গিন্নিই আমাকে তার নিজের পয়সা দিয়ে শপিং করে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার। কারণ মেয়েরা অহেতুক পয়সা খরচা করতে চায় না। যেহেতু সে নিজের থেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল, তাই ফেলতে পারি নি।
যেহেতু রমজান মাসের বিকেলবেলার দিকে মার্কেটে খুব একটা ভিড় থাকে না কারণ সেই সময়টাতে লোকজন অনেকটা ব্যস্ত হয়ে যায় ইফতারের প্রস্তুতি নিয়ে। আর আমরা ঠিক সেই সময়টাকে কেন্দ্র করেই মার্কেটে গিয়েছিলাম। আমাদের টার্গেট ছিল যে ইফতারের আগেই শপিং শেষ করতে হবে। নইলে ইফতারির পরে মার্কেটে লোকসমাগম আরো বৃদ্ধি পেয়ে যাবে ।
অন্যান্য সময়ের থেকে এমনিতেই এখন আবহাওয়ার বেশ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে এবং বাহিরে প্রচুর গরম। যদিও আমরা যে সময় মার্কেটে গিয়েছিলাম, সেই সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল, তবে প্রচুর ভ্যাপসা গরম ছিল। বিশেষ করে মার্কেটের ভিতরে এতটাই গরম ছিল যে, তাতে টিকে থাকা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছিল।
বাবুর জন্য তেমন কোন কেনাকাটা করতে হয়নি। কারণ কয়দিন আগে বাবুর নানী বাসায় এসেছিল সেসময় সে বাবুর জন্য সব কেনাকাটা করে দিয়ে গিয়েছে। তবে বাবুর মায়ের জন্য এবার বেশ ভালোই কসমেটিক কিনতে হয়েছে। তবে ঐ মার্কেটে গিয়ে যে অভিজ্ঞতাটা হয়েছে, সেটা আসলেই বেশ মজার ছিল ।
কারণ ঐ মার্কেট কর্তৃপক্ষ মূলত আয়োজন করেছে লটারির ব্যবস্থা। সেখানে কমপক্ষে ৫০০ টাকার বেশি শপিং করলেই ক্রেতাকে লটারির টিকেট দেওয়া হবে এবং তাতে থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। যা ড্র হবে ঈদের পরে। যদিও আমার কপাল খুব একটা ভালো না। তারপরেও যেহেতু সৌজন্যবশত লটারির টিকিটটা পেয়ে গিয়েছি, তাই তাতে নাম লিখে টিকিটটা টিকিট বক্সে ঢুকিয়ে দিলাম।
এরপর সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম পাশের মার্কেটে। আমি মূলত গেঞ্জি পড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাছাড়া খুব একটা বেশি শার্ট পরতে ভালো লাগে না। যদিও প্রথমে শার্ট নেয়ার কথা ভেবেছিলাম, তবে আগের শার্টগুলোই না পরে পরে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই এবার আর এবার শার্ট কিনিনি। চেষ্টা করেছি দুটো গেঞ্জি কেনার জন্য আর সঙ্গে একটা প্যান্ট। তাও একদম সীমিত দামের ভিতরে।
মোটামুটি নিজেদের কেনাকাটা করতেই দেখলাম যে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই মার্কেটের ভিতরে আর দেরি না করে, খুব দ্রুতই বাসার উদ্দেশ্যে ফেরত চলে আসলাম। গরমে অনেকটাই শরীর ঘেমে গিয়েছে। যাইহোক এবার গোসল করে ফ্রেশ হতে হবে।
একটা কথা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে শেষমেষ তো কেনাকাটা হয়েই গেল। ইদ উৎসব খুব নিকটেই চলে এসেছে। উৎসব আনন্দ সকলের ভিতরে ছড়িয়ে যাক এবং মানুষ হোক মানুষের জন্য।
নিজের জায়গা থেকে যদি সামর্থ্য থাকে, তাহলে চেষ্টা করবেন আশেপাশের দরিদ্র মানুষগুলোর দিকে তাকানোর জন্য। চেষ্টা করবেন একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে, তাদের মাঝেও এই উৎসব আনন্দটা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
যাক শেষে তবে কেনাকাটা হলো জেনে খুব ভাল লাগলো। আসলে এই গরমে বাইরে বের হবার কথা ভাবলেই কেনাকাটার কথা আর মনে আসে না।আপনারা ইফতারের আগ মুহূর্তে মানুষের ভীড় নেই সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে ভালোই করেছেন।কেনাকাটার মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আমাকে শপিং করিয়ে দিয়েছে আপু আপনার ভাবি, এটা সত্য ইফতারের আগ মুহূর্তে গিয়ে ঝামেলাহীন ভাবে শপিং করা গিয়েছে।
আসলে ভাইয়া গরমের মধ্যে মার্কেটে যেতেও ভয় লাগে কিন্তু ঈদের কেনাকাটা না করেও পারা যায় না। অবশেষে আপনার গিন্নির আবদারের মার্কেট করতে গিয়েছেন। আর আপনার গিন্নি আপনাকে নিজের টাকায় কাপড়চোপড় কিনে দিয়েছে এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়। ঠিক বলেছেন সন্ধ্যার আগেই মার্কেটে ভীড় কম থাকে। সন্ধ্যার পর ভীড় বেশি থাকে। এর জন্য কিছু ঠিকভাবে দেখাও যায় না। ভালোই করেছেন কেনাকাটা শেষ করে।
এবার আসলে ও নিজের থেকেই আমাকে কেনাকাটা করে দিয়েছে আপু, এটাই আসলে বেশি ভালো লেগেছে আমার। ধন্যবাদ আপু, আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য।
ইফতারির আগে মার্কেটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত টা একদম ঠিক ছিল ভাইয়া।ওই সময়টা মার্কেটে ভিড় থাকেনা,সবাই ইফতারির জন্য ব্যস্ত থাকে।গতবার ইফতারির আগে মার্কেটে গিয়ে বেশ নিরিবিলি শপিং করেছিলাম তাই ব্যাপার ত জানা। ভাবী আপনাকে নিজের পয়সায় ঈদের পোশাক কিনে দিলেন তাহলে তো আপনি খুব খুশি।গিফট পেতে তো সবারই ভালো লাগে।আপনার শপিং ব্লগটি পড়ে ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ।ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
হ্যাঁ এবারের ঈদ গিফট আমার কাছে ভালোই ছিল, হাজার হলেও আপনার ভাবি আমাকে শপিং করিয়ে দিয়েছে। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
ভাইয়া, ঈদের মার্কেটে কেনাকাটা করাই মানে আমার কাছে এক ধরনের প্যারা মনে হয়। কেননা অনেক লোকের সমাগমে মার্কেট একদম গাদা গাদি থাকে সেই সাথে প্রচন্ড গরম। আমার আবার একদমই গরম সহ্য হয় না। তাই বেশিরভাগ সময়ে অনেক রাত করে মার্কেট করতে যাই। যাক ভাইয়া, আপনি প্যারামুক্ত হয়েছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, আর তাই এই খুশি যেন সকলের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়া যায়, সেজন্য আশেপাশের দরিদ্র মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে, যতটুকু সম্ভব ততটুকু আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করা। ভাইয়া, আপনার পুরো পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো।
অবশ্যই প্যারা ভাই, কারণ এত পরিমান লোকজনের সমাগম যা বলা মুশকিল আর তাছাড়াও অতিরিক্ত গরম তো লেগেই আছে।যদিও আমি কিছুটা রেহাই পেয়েছিলাম কারণ ইফতারের আগেই চেষ্টা করেছিলাম শপিংটা শেষ করার জন্য ভাই।
ঈদের পরে লটারি ড্র হলে কি পুরস্কার পাবেন সেটা জানার একটা আগ্রহ রয়ে গেল ভাই। তাছাড়া এবারে আপনার গিন্নি আপনাকে শপিং করে দিয়েছে এটা জেনে বেশি খুশি লাগলো কারণ প্রিয় মানুষের কাছ থেকে কিছু পাওয়া অনেক বড় ভাগ্যের ব্যাপার।
লটারি আমার ভাগ্যে নাই রে ভাই, তবে প্রথম পুরস্কার সম্ভবত মোটরবাইক আছে।
দেখা যাক কি হয়।
আপনাদের দুজনের ভালোবাসা দেখলে সত্যিই ভালো লাগে। আসলে কারো কাছ থেকে উপহার পাওয়ার মাঝে আলাদা রকমের আনন্দ আছে। হিরা আপু আপনাকে এবার ঈদের শপিং করানোর জন্য টাকা দিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। বাজেট যেটাই হোক না কেন ভালোবাসাটা অনেক বেশি। রেফেল ড্রোর আয়োজনটা বেশ ভালো লেগেছে। যাইহোক এই গরমে শপিংয়ে যাওয়া সত্যিই মুশকিল। তবুও আমি কয়েকদিন আগে বাবার জন্য শুধুমাত্র পাঞ্জাবি কিনেছি। আর কারো জন্য তেমন কিছু কেনা হয়নি।
ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য, আমাদের দুজনের জন্য আশীর্বাদ করবেন।
প্রিয় মানুষের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার মজাটাই আলাদা। এবারের ঈদের কেনাকাটা ভাবী করে দিয়েছে জেনে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। ইফতারের আগ মুহূর্তে মার্কেটে যাওয়ার সময় টা একদম ঠিকই ছিল তখন মার্কেটে মানুষজনের ভিড় একটু কম থাকে। ঈদের পর লটারিতে কি পাবেন তার জানার অপেক্ষায় রইলাম। কেনাকাটার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
যাক ধন্যবাদ ভাবিকে আমাদের এত সুন্দর ভাইটাকে ঈদে কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। বাপরে বাপ যে গরম আমি যে কি করে আমার শপিং শেষ করব সেটাই বুঝে পাচ্ছি না। তবে আপনি কিন্তু ভাইয়া বরাবরই বেশ বুদ্ধিমান, ইফতারের টাইমটা ভালই কাজে লাগালেন। সত্যি বলতে এ সময় মানুষ বেশি শপিংয়ে যায় না। যাক তবু শপিং করতে পারলেন। যে কয়টা রেফেল গুলো জমা দিলেন ভাইয়া পুরস্কার পেলে আমাদেরকে কিছুটা দিয়েন।
হাহাহা আগে লটারি ভাগ্যে লাগুক তারপর না হয়, ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে। ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
আপনি সুন্দর সময় ঠিক করে গেছেন আসলেই ইফতারির আগে লোক জনের সমাগম একটু কম থাকে তাই বাচ্চাকে নিয়ে এই সময়ে গেছেন অনেক ভালো হয়েছে। এ বছর জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি ভাইয়া আসলেই সব কিছু বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে দিনদিন।আপনি একটা খুব সুন্দর সত্যি কথা বলছেন আসলে মেয়েরা সব সময় হাসবেন্ডের টাকা বাঁচাতে চাই🤪😜🤪।খুব সুন্দর কেনাকাটা করেছেন অবশেষে একটি টিকেটও ফেলেন বেশ ভালো লেগেছে। দেখি ফলাফলটা কি রকম হয় শেষের দিকে।
এইটা সত্য যে এবারে মার্কেটে যা দেখলাম, তাতে আসলেই কাপড়ের দাম তুলনামূলক বেশি।