প্রমাণ
জীবনে আপনি যে কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকেন না কেন, তা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব সহকারে করেন তাহলে অবশ্যই সেই কাজের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করবেন।
স্থানীয় বাজারটা যখন ছোট ছিল তখন থেকেই মকবুল কাকু নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। বাজারটার কত রকম উত্থান-পতন সে যে নিজের চোখে দেখেছে তা বলাবাহুল্য।
ছোট বাজারটাতে সময়ের পরিক্রমায় দিন দিন অনেক নতুন নতুন দোকান গড়ে উঠেছে, যত দোকান বৃদ্ধি পেয়েছে ততোই যেন বাড়তি দায়িত্ব তার আরো কাঁধে এসে পড়েছে। জীবনের পঞ্চাশটা বছর ধরে একই দায়িত্ব সে এই বাজারে পালন করছে।
যারা সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিল এই বাজারের, তারা তাকে প্রচুর সম্মান করতো। তবে দিন যত গড়ে গিয়েছে, তার সম্মানের খাতায় যেন কিছুটা ভাটা পড়ে গিয়েছিল। তবে তারপরেও, সবার কাছে সে বড্ড বিশ্বস্ত ছিল।
দায়িত্ব পালন তার কাছে সবচেয়ে মুখ্য বিষয়, এর বাইরে অন্য সবকিছুই যেন তুচ্ছ। আগে সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলতো, সময়ের পরিবর্তনে বাজার যত বড় হয়েছে, তখন থেকেই একা যেন সে কোনভাবেই কুলিয়ে উঠতে পারছিল না।
সে নিজের থেকেই বাজার কমিটির কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল, একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য। কমিটির লোকজন তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল এবং সেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেহেতু এখন বাজারে তিনজন প্রহরী দায়িত্বে আছে, তাই কিছুটা যেন বিশ্রাম পেয়েছে মকবুল কাকু নিজে।
এখন শুধু বাজারে দোকান আর দোকান, অনেকটা গিজগিজ করা ব্যাপার। প্রতিনিয়তই লোকজনে ভরপুর থাকে বাজার। তবে বেশি সজাগ থাকতে হয় সন্ধ্যার পর থেকে।
যদিও সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল, তবে পুকুরপাড় সংলগ্ন যে দোকানগুলো সদ্য নির্মিত হয়েছে, সেখানেই গত দুদিন আগে রাত্রিবেলা চুরির ঘটনা ঘটেছে । এমন ঘটনা বাজারে এই প্রথম, মকবুল কাকুর যেন চিন্তার শেষ নেই। তার কর্মজীবনে এমন কলঙ্কিত অধ্যায় তাকে বড্ড মানসিকভাবে আঘাত করেছে। সে যেন নিজেকে কোন ভাবেই ক্ষমা করতে পারছিল না।
পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় ধরে, যে সম্মান তিনি পেয়েছেন তা যেন মুহূর্তেই ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছে। সকল নৈশ প্রহরীকে ডাকা হয়েছিল বাজার কমিটির ঘরে, দোকানদাররা যে যার মত করে কথা বলে গিয়েছে। যেহেতু ঘটনাটা অনাকাঙ্ক্ষিত, তাছাড়া ইতিমধ্যেই থানা-পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে, তাই বলা যায় বিষয়টা তদন্তাধীন অবস্থায় আছে।
এর মাঝেই বাজার কমিটির লোকজন এবং দোকানদারদের আলোচনায় যেভাবে নৈশ প্রহরীদের দিকে সন্দেহর নজর রাখা হয়েছে, তাতে যেন মকবুল কাকু ভীষণ ভাবে মর্মাহত হয়েছে। সকলের তির্যক কথা যেন, তাকে বেশ ফালা ফালা করেছে। কথার আঘাত সে যেন কোনভাবেই নিতে পারছিল না।
পঞ্চাশ বছরের কর্মজীবনে সে যে সম্মান পেয়েছিল, তা যেন মুহূর্তেই শেষ। নিজেকে এতটা অপরাধী তার আগে কখনো মনে হয়নি, তার হয়তো জীবনে অর্থের অভাব ছিল কিন্তু সম্মানের না। তাই অর্জিত সম্মানেই যখন হাত লেগেছে, তাই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিজেকে ঝুলিয়ে দিয়ে, সে তার সম্মান বাঁচিয়েছে।
স্পষ্ট ভাষায় চিরকুটে সে লিখে গিয়েছে, তোমাদের মকবুল কাকু তোমাদের বাবাদের বেলাতেও প্রহরীর দায়িত্বে ছিল, তারাও কখনো তার কাজ নিয়ে কটু কথা বলেনি বরং প্রশংসা করেছিল। তবে তোমাদের কাছ থেকে কর্মের বিনিময়ে যা পেলাম, তার হয়তো প্রমাণ দিয়ে গেলাম নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মাধ্যমে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। মকবুল কাকুর জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। দীর্ঘ ৫০ বছর উনি উনার দায়িত্ব ঠিকঠাক মতো পালন করার পরেও,চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উনার দিকে আঙ্গুল উঠানোটা একেবারেই উচিত হয়নি। এমন সৎ লোক বর্তমানে খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি।
আসলে সবাই বোঝে, তবে একটু দেরিতে। বিষয়টা বেশ বেদনাদায়ক।
খুবই খারাপ লাগলো! এটা টোটালি আনএক্সপেক্টেড! আসলে কথার আঘাত তীরের মতো হৃদয়ে এসে লাগে। কথা হচ্ছে পঞ্চাশের বেশি সময় ধরে মকবুল কাকা যেখানে প্রহরীর দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছিল সেখানে একটা চুরির ঘটনার জন্য তাকে কথার মাধ্যমে অপমান! যেটা মোটেও নিতে পারেনি তাই তো সিলিং ফ্যানে জীবনের শেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালো! এ দোষ কাকে দিবেন? যারা তাকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল তাদেরকে
এ দোষ নষ্ট সমাজের, যারা মানুষটাকে অপমানিত করেছিল।
ভীষণ মন খারাপ হলো পুরো বিষয় টি জেনে৷ তবে এমন খারাপ সময়ে এমন হুটহাট কাজ, হুটহাট ডিসিশন গুলো ভালো হয় না। বেঁচে থাকলেও কিছুটা সময় দিলে প্রমাণ হয়েই যেতো। অথচ তিনি সেই দিনটা না দেখেই চলে গেলেন। বিপদের দিনে ধৈর্য্য নিয়ে, মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হয়। প্রয়োজনে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হয় অনেক কিছুই।
অভিমান বড্ড নিষ্ঠুর ব্যাধি।
ভীষণ দুঃখজনক একটি ঘটনা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলেন ভাই। এমন ভাবে একজন বর্ষিয়ান মানুষ যখন নিজে চলে গেলেন, তখন এর থেকে খারাপ ঘটনা আর কিছু হয় না। আসলে বয়সের শেষে এসে এই ধরনের অপমান তিনি মেনে নিতে পারেননি। আমরা মানুষের মানুষকে যোগ্য সম্মান দিতে পারি না। নিজেদের স্বার্থের উপর আর কিছু ভেবেই উঠতে পারি না কোনদিন। আর তার ফল ভোগ করে অন্য কিছু মানুষ। মকবুল কাকুর জন্য খুব খারাপ লাগছে।
জীবন এমনই দাদা, কখন কার কি হয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।
মকবুল কাকুর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। এমন ঘটনা আমাদের সমাজে অনেক ই ঘটতে দেখা যায়। তবে মকবুল কাকুর মতো মানুষ গুলো নিজের প্রান দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে যায় এই নষ্ট সমাজ তার জন্য নয়।
ব্যাপারটা বড্ড বেদনাদায়ক।