জেনারেল রাইটিং -- "নারী বলেই আজ আমি অনুতপ্ত"
সকলকে শুভেচ্ছা। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও বেশ ভালো আছি। আর আপনারা সবাই সব সময় ভালো থাকবেন। এটাই প্রত্যাশা করি।
"নারী বলেই আজ আমি অনুতপ্ত"
🥀 জেনারেল রাইটিং🥀
নারী বলে আজ আমি অনুতপ্ত, আমি লজ্জিত,
আমি নারী, কারো মেয়ে, কারো বোন কারো প্রেমিকা, কারো বউ কারো মা, কারো বউ মা আবার কারো শাশুড়ি, কারো ননদ, কারো ভাবি একই অঙ্গে বহুরূপ।
বাবা-মায়ের কাছে যখন পরম আদর, যত্ন, মায়া, মমতা, ভালোবাসায় বেড়ে উঠি তখন তাদের কাছে আমি রাজকন্যা। আবার কখনো ভুল করলে কঠোর হয়ে তারাই আমাদের শাসন করেন। না, সেখানে আমার কোন অভিযোগ নেই। ছোটবেলায় যখন ভাই-বোনেরা
একসাথে লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা, এবং বেড়াতে যাওয়ার মাঝের যে আনন্দ, যে খুনসুটি যেন,, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মধু মাখা সম্পর্ক। অথচ একটি অচেনা নারী যখন ওই পরিবারে আসে, তখন ভাইবোনের সেই মধুমাখা সম্পর্কগুলোর দূরত্ব বেড়ে যায়। আর গারো হয়ে যায় বউয়ের বাড়ির সম্পর্কগুলোর সাথে। আমার প্রশ্ন ঠিক এই জায়গাটায়-- কেন আমরা সম্পর্কগুলোর মধ্যে এমন বৈষম্য তৈরি করি--?
আমি সেই নারী, যখন বিপরীত কোন সম্পর্কে জড়াই, তখন সেই রকম রূপ ধারণ করি।
অর্থাৎ আমি যখন ভাবি, তখন ননদের দোষ, আবার যখন ননদ হই, তখন ভাবীর দোষ। আমি যখন পুত্রবধু হই, তখন শাশুড়ির দোষ, যখন আমি শাশুড়ি হই, তখন পুত্রবধূর দোষ। আরো লজ্জাজনক বিষয় হচ্ছে,আমি সেই নারী, যে মায়ের জন্য আমি আমার স্বামীকে পেয়েছি, পেয়েছি স্বামীর আদর, সোহাগ, ভালোবাসা, মান, অভিমান, রাগ অনুরাগ--এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই মাকে আমি তখন আর মা ভাবতে পারছি না। সে মাকে অনাদর, অযত্ন, অবহেলা আর মান অপমান তো পান্তা ভাতের মতো। সেই ছেলের মায়ের বাড়িতে আমার মায়ের মর্যাদা হয়, আমার মায়ের থাকার জায়গা হয়, আমার ভাই-বোনেরাও থাকে স্বাচ্ছন্দ্যে। তখন আর অভাব থাকে না।
অভাব শুধু মায়ের জন্য, নিজের বোনের জন্য, নিজের আপন ভাইয়ের জন্য। ঠিক এই জায়গাটায় নারী হিসেবে আমার লজ্জাটা অনেক বেড়ে যায়।
একটি মা তার যদি পাঁচটি সন্তান থাকে, সেই সন্তানদের আগলে রাখে অনায়াসে। থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান, সব কিছুর জন্য মায়ের কাছে জায়গা হয়। জমি, জায়গা, অলংকার বিক্রি করে যে সন্তানটিকে মা লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে, আমার স্বামী বানিয়েছে। সেই মা টিকেই আমরা যথার্থ অপমান করি, অবহেলা করি, অযুক্ত করি।
আমার স্বামী, আমার ছেলে-মেয়ে সবার জন্য বাড়িঘর চকচকে ঝকঝকে হয়। আমরা ঘুমাই রাজকীয় খাটে। এসি রুমে। কিন্তু আমার শাশুড়িকে রেখেছি পরিত্যক্ত ঘরে। কেউ রাখে পরিত্যক্ত ঘরে , কেউ বা বৃদ্ধাশ্রমে।
যে মায়ের মানুষ করা ছেলেটি, তার বউ, বাচ্চা, শশুর, শাশুড়ি, শালা, শালির জন্য নিবেদিত।তারপরও কত অভিযোগ। ওরা যতটা আপন হয়ে ওঠে, এরা ততটাই পর হয়ে যায়। আমি বলছি না, আমরা সব নারীরাই এমন। কিন্তু সেই সব নারীদের মধ্যে যখন আমাকে খুঁজে পাই, তখন আমার নিজের প্রতি শুধু ঘৃণাই হয়।
ভেবে দেখুন তো, যে মা পাঁচটি সন্তানকে মানুষ করেছেন একা। তারা পাঁচটি সন্তান মিলে কি মা কে আদর যত্নে রাখতে পারে না--?
আমি বুঝি না, শুধু মায়ের বেলায় এত অভাব আসে কেন?
কেন সেই মা ছেলের কোন কিছু ধরলে, চোর হয়ে যায়।
এমনকি ছেলের সাথে কথা বলতেও পারবে না, পাহারা থাকে বউ। ছিঃ ছিঃ ছিঃ -
এমন বউদের জন্য আমার মন থেকে ধিক্কার জানাই।
যে নারীদের পেটে এই নারীদের জন্ম হয়, সেই নারীকে নিয়ে ও নানারকম প্রশ্ন জাগে মনে।
অথচ এই আমিটা সারা জীবন, নারী নির্যাতন নিয়ে কাজ করে গেলাম। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে গেলাম। কিন্তু মায়েদের অধিকার নিয়ে কাজ করা হলো না। এখন খুব ইচ্ছে করে বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য।
যে সন্তানেরা বাবা-মায়ের কদর করেন, তাদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।
আর যারা বাবা-মায়ে দের অবহেলা অযত্ন করেন,
তাদের জন্য করুণা। বিনম্র চিত্তে তাদের কাছে জানতে চাই: তোরা মানুষ হবি কবে?
বি :দ্র --- (সকল নারীদের জন্য আমার এই লেখাটি নয় )
মায়ের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের সমাজের মৌলিক ভিত্তি। মায়ের অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।
বন্ধুরা আমার আজকের এই রাইটিং টি , নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। আর আপনাদের ভালোলাগাই আমার সার্থকতা ও পরম পাওয়া। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তীতে আবারো সুন্দর সুন্দর ব্লগ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। আমি সেলিনা সাথী
💞
🥀 ধন্যবাদ 🥀
আমি সেলিনা সাথী। ছন্দের রাজ্যে, ছন্দরাণী কাব্যময়ী-কাব্যকন্যা বর্তমান প্রজন্মের নান্দনিক ও দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি সেলিনা সাথী। একধারে লেখক, কবি, বাচিক শিল্পী, সংগঠক, প্রেজেন্টার, ট্রেইনার, মোটিভেটর ও সফল নারী উদ্যোক্তা তার পুরো নাম সেলিনা আক্তার সাথী। আর কাব্যিক নাম সেলিনা সাথী। আমি নীলফামারী সদর উপজেলায় ১৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আমার বাবা পিতা মরহুম শহিদুল ইসলাম ও মাতা রওশনারা বেগম। ছড়া কবিতা, ছোট গল্প, গান, প্রবন্ধ, ব্লগ ও উপন্যাস ইত্যাদি আমার লেখার মূল উপজীব্য। আমার লেখনীর সমৃদ্ধ একক এবং যৌথ কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫ টি। আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই অশ্রু ভেজা রাত, উপন্যাস মিষ্টি প্রেম, যৌথ কাব্যগ্রন্থ একুশের বুকে প্রেম। জীবন যখন যেমন। সম্পাদিত বই 'ত্রিধারার মাঝি' 'নারীকণ্ঠ' 'কাব্যকলি'সহ আরো বেশ কয়েকটি বই পাঠকহমলে বেশ সমাদৃত। আমি তৃণমূল নারী নেতৃত্ব সংঘ বাংলাদেশ-এর নির্বাচিত সভাপতি। সাথী পাঠাগার, নারী সংসদ, সাথী প্রকাশন ও নীলফামারী সাহিত্য ও সংস্কৃতি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়াও আমি জেলা শাখার সভাপতি উত্তোরন পাবনা ও বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছি। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৪ সালে নীলফামারী জেলা ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। এছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ও সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় আমি বহু সম্মামনা পদক অর্জন করেছি। যেমন সাহিত্যে খান মইনুদ্দিন পদক ২০১২। কবি আব্দুল হাকিম পদক ২০১৩। শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক সম্ভাবনা স্মারক ২০১৩। সিনসা কাব্য সম্ভাবনা ২০১৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে সম্মামনা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১১৫ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২০১৪। দৈনিক মানববার্তার সম্মামনার স্মারক ২০২৩। চাতক পুরস্কার চাতক অনন্যা নারী সম্মাননা ২০২৩ ওপার বাংলা মুর্শিদাবাদ থেকে মনোনীত হয়েছি।
বিষয়:
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সমাজটাই জানি কেমন হয়েগেছে। কেউ এখন আর মায়ের যত্ন করতে চায় না। কেউ আর মাযের মর্যাদা দিতে জানেনা। যারা মাকে মায়ের মতন সম্মান করতে পারে তাদের প্রতি রইল প্রাণ ঢালা অভিনন্দন। বেশ সুন্দর করে একজন মায়ের সম্মান কে তুলে ধরেছন আপু।
আপু আপনাকে স্পেশালি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আপনি পোস্টটি মন দিয়ে পড়েছেন বলে। আমরা নারীরা একটি সমাজকে কলুষিত করছি, করছি অবহেলা অবজ্ঞা। সমাজের এই চিত্র দেখতে চাই না। তাই সকল নারীর কাছে আহ্বান আসুন আমরা মানুষ হয়ে উঠি। মায়েদের যথার্থ সম্মানটুকু দিতে আমরা যেন কৃপণতা না করি।
সত্যি আপনার আজকের কথাগুলো পড়ে মনে হয়েছে যেন বাস্তবিক বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। হয়তো আমরা কেউ এইরকম ভাবে ভাবি না সম্পর্ক গুলো নিয়ে। সত্যিই একটা মানুষ কতগুলো সম্পর্কে জড়িত। আবার সম্পর্কের মোড় একবার একেক রকম হয়ে থাকে। আপনার আজকের পোস্ট পড়ে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। খুবই ভালো লাগলো লেখা গুলো পড়ে।
এটা একদম ভাববার বিষয়। আমি যখন কারো মেয়ে থাকি, সেই মেয়েটাই আমি কারো বউ হই।তবে সেই মা টাকে কেন দেখতে পারে না এটাই বুঝে আসেনা। আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো খুব দরকার।