জেনারেক রাইটিংঃবিশ্ব পরিবার দিবস।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ২রা জ্যৈষ্ঠ,গ্রীষ্মকাল ১৪৩২ বঙ্গাব্। ,১৬ ই মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি জেনারেল রাইটিংপোস্ট শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

family.jpg

source

মধুর মাস শুরু হয়েছে গতকাল। জ্যৈষ্ঠ মাস। সবচেয়ে গরমের মাস। আম, কাঠাল ও লিচুর মাস।এই সময় দেশীয় ফলমূলে ভরপুর বলে জ্যৈষ্ঠ মাস মধুর মাস। বাজারে আম,লিচু ও কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে। আর দিন কয়েক পরে ভরে উঠবে বাজার। গত দু"দিন ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন ও হালকা বৃষ্টি ছিল। আজ সকাল থেকেই রৌদ্দজ্বল। গত দুদিনের তুলনায় গরমও বেশি। এই গরমে আমাদের সাবধানে চলতে হবে। পরিবারের বয়স্ক ও শিশুদের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। গরমে তারা যেন অসুস্থ্য হয়ে না পড়ে। এই সময়টা থেকেই এডিস মশার প্রজনন শুরু হয়। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে এডিস মশা থেকে সাবধানে থাকতে। ঘরের দরজা-জানালা বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিংয়ে প্রতি সপ্তাহে চেষ্টা করি একটি জেনারেল রাইটিং আপনাদের সাথে শেয়ার করতে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে "পরিবার" নিয়ে একটি জেনারেল রাইটিং আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশাকরি বরাবরের মত সাথেই থাকবেন।


গতকাল রাতে একটি সংবাদে চোখ আটকে গেল। পরিবার নিয়ে সংবাদ। গতকাল ছিল বিশ্ব পরিবার দিবস। প্রতিদিন কোন না কোন দিবস থাকে। পরিবার দিবস আছে এটা আমার জানা ছিল না। প্রতিবছর ১৫ মে বিশ্ব পরিবার দিবস পালিত হয়। পরিবারের প্রতি দৃঢ় বন্ধন,দায়িত্ববোধ, কেন পরিবার গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে ধারণা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা,আদর -সহমর্মিতা,ভালোবাসা জানাতে দিনটি পালিত হয়। আমাদের দেশে দিনটি সেভাবে পালন হয় না। অন্যান্য দিবস যেমন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে পালিত হয়, সেক্ষেত্রে পরিবার দিবস অনেকটা নিরবেই কেটে গেল। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৫ মে বিশ্ব পরিবার দিবস ঘোষণা করে। তারপর থেকেই দিনটি বিশ্বব্যাপি পালিত হয়ে আসছে। খবরে যতটুকু জানলাম বাংলাদেশেও দিনটি দায়সারা ভাবে পালন করা হয়ে থাকে। আমার এই পোস্টটি লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবার দিবসটি ভালো একটি উদ্যোগ। আমাদের সমাজ বাস্তবতায় এই দিবসটি জোরেসোরে পালন করা দরকার।

একটি সমাজের যত কাঠামো আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো পরিবার। ছোট বেলায় পড়েছি মা-বাবা,ভাই-বোন, চাচা-চাচি ও,দাদা-দাদি নিয়ে আমাদের পরিবার। একান্নবর্তি পরিবার। আগে প্রতিটি পরিবার ছিল সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,আনন্দ-বেদনায় ভরভুর।শেয়ারিং ছিল অন্যতম বিষয়। এই পরিবার থেকেই শিক্ষা হতো সহযোগিতা,সহমর্মিতা ,আদর-স্নেহ,ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের প্রথম পাঠ। শিশুর বিকাশে ও মানবিক মানুষ তৈরি পরিবার অন্যতম বিদ্যাপিঠ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে পরিবার থেকেই। একজন সুনাগরিক গড়ার প্রথম কারিগর কিন্তু পরিবার। যে দেশের পরিবারের বন্ধন যত দৃঢ সেই দেশের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি তত বেশি একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

বিভিন্ন কারণে আমাদের পরিবার গুলো ছোট হয়ে আসছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে একা থাকার মানসিকতা ও পরিবার পরিকল্পনা। আগে একজন দম্পতির গড়ে ৪/৫ জন সন্তান ছিল। এখন একজন সন্তানের বেশি নয়।সর্বোচ্চ দুইজন। এছাড়া নগরায়নের প্রভাব,কর্মজীবী বেশি হওয়ার কারণ।কর্ম জীবনের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংখ্যাটা এখন সবচেয়ে বেশি। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে এখন ছোট পরিবার তৈরি হচ্ছে।বাংলাদেশে একটি পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে প্রতিদিন ২২০০ নতুন পরিবার হচ্ছে। গ্রামে আগে একান্নবর্তী পরিবারের যে রেওয়াজ ছিল তা এখন ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখন পরিবার বলতে বাবা-মা ও সন্তান। গ্রাম শহর একই চিত্র। ব্যতিক্রম আছে। সে সব পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে দিন দিন। ছোট পরিবার ভালো না একান্নবর্তী পরিবার ভালো সে তর্কে না গিয়ে পরিবার গুলো যেন সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক এটাই হোক প্রত্যাশা। পরিশেষে আমাদের প্রতিটি পরিবার হয়ে উঠুক আদর্শ পরিবার , এই কামনায় আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন-নিরাপদে থাকবেন।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেনীলাইফস্টাইল
পোস্ট তৈরি@selina 75
তারিখ১৬ই মে, ২০২৫ ইং
মোবাইলSamsung A-10
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

পোস্ট বিবরণ

আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

image.png

image.png

image.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

এক্স প্রমোশন
https://x.com/selina_akh/status/1923280220309651686

 last year 

xp1.png

xp2.png

xp3.png

 last year 

cmc.png

 last year 

পরিবার হলো জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। বিশ্ব পরিবার দিবসে আসুন আমরা সবাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই, ভালোবাসা ও সম্মান বাড়াই। পরিবারই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে।পরিবার শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহমর্মিতার বন্ধন। বিশ্ব পরিবার দিবসে আসুন আমরা সমাজের সবাইকে একত্রিত হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিই।

 last year 

একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া। পরিবারের সুদৃঢ় বন্ধনই গড়ে তুলতে পারে সুন্দর সমাজ। ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.084
BTC 60423.20
ETH 1583.38
USDT 1.00
SBD 0.42