রেসিপিঃডালের বড়ির মজাদার ভর্তা।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সব সময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ২৬শে আষাঢ় ,বর্ষাকাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ১০ই জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। । আজ একটি রেসিপি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে। আর তা হচ্ছে রেসিপি ব্লগ। আজ ডালের বড়ি ভর্তার রেসিপি শেয়ার করবো। এই বড়ি ভর্তা আমি প্রথম খেয়েছি আমার শ্বশুর বাড়ি। আমাদের বাসায় ডালের বড়ি বা ভর্তা কখনও খাওয়া হয়নি। এই ডালের বড়ি বানানো হয় মাশকলাইর ডাল দিয়ে। এক বিশেষ পদ্ধতিতে। এই বড়ি মাছ দিয়ে যেমন রান্না করা হয় তেমনি বিভিন্ন সব্জিতে দেওয়া হয়। আমার কাছে বেশ মজা লাগে এই বড়ি। তাই আমি শীতকালে বেশ কিছুটা কিনে আনি বাড়ি থেকে। যাতে সারা বছর খাওয়া যায়। সাধারনত শীতকালেই এই বড়ি বানানো হয়। এবারও কিনে এনেছি। কিছুদিন আগেই ভর্তাটি করেছি। তবে এই ভর্তায় ভাজা আদা অবশ্যই দিতে হবে। তবেই ভর্তাটি খেতে বেশি ভালো লাগবে। আবার কেউ চাইলে ধনেপাতাও দিতে পারেন। আমার বাসায় ছিল না তাই দেওয়া হয়নি। তবে এভর্তা আমার কাছে ধনেপাতা ছাড়া বেশি ভালো লাগে। ভর্তা বানাতে উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি ডালের বড়ি সহ আরও কিছু উপকরণ।বন্ধুরা তা হলে আর দেরী না করে চলুন দেখে নেয়া যাক,রেসিপি তৈরির ধাপ সমূহ। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| ডালের বড়ি | ৫০ গ্রাম |
|---|---|
| লবন | স্বাদ মতো |
| কাঁচা মরিচ | ৭-৮টি |
| পিয়াজ কুচি | ৪টেবিল চামচ |
| রসুন | ২টি |
| আদা | আধা টেঃ চামচ |
| সরিষার তেল | পরিমাণ মতো |
ডালের বড়ি ভর্তা তৈরির প্রণালী
ধাপ - ১
প্রথমে চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে দিয়েছি পরিমাণ মতো তেল দিয়ে।
ধাপ - ২
তেল গরম হয়ে এলে তাতে ডালের বড়িগুলো দিয়ে দিয়েছি। এবং হাল্কা ব্রাউন করে ভেজে নিয়েছি।
ধাপ - ৩
আবারও চুলায় কড়াই বসিয়ে দিয়েছি পরিমাণ মতো তেল দিয়ে। তেল গরম হয়ে এলে তাতে রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ৪
এরপর তাতে পিঁয়াজ কুচি,আদা কুচি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে দিয়েছি। সব গুলো উপকরণ ভালোভাবে ভেজে তুলে নিয়েছি।
ধাপ-৫
এবার সব গুলো ভাজা উপকরণে পরিমাণ মতো লবন দিয়ে ভালোভাবে বাটনায় বেটে নিয়েছি। এরপর ভাজা বড়িগুলো দিয়ে আবারও বেটে নিয়েছি।
ধাপ-৬
এবার পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিয়ে সবগুলো উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে নিয়েছি। ব্যস তৈরি মজাদার বড়ি ভর্তা।
পরিবেশন
এবারএবার একটি প্লেটে কাঁচা মরিচ দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছি পরিবেশনের জন্য। সাথে কিছু ফটোগ্রাফি করে নিয়েছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আশাকরি, আজকে বড়ি ভর্তার মজাদার রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে।আমি চেষ্টা করি সব সময় নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করতে। এবারও সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন রেসিপি নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণি | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Redmi Note-A5 |
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| তারিখ | ১০ই জুলাই, ২০২৫ ইং |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রা শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Link
https://x.com/selina_akh/status/1943333886391627881
https://x.com/selina_akh/status/1943334564648341991
https://x.com/selina_akh/status/1943332406775418908
ডালের বড়ির ভর্তা দেখতে খুবই সুস্বাদু লাগছে! আমি সাধারণত কাঁচা মরিচ আর পুদিনা পাতা দিয়ে বেটে খাই, আপনার রেসিপিটা ট্রাই করতে হবে। ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য!
এভাবে একদিন বানাবেন ।আশাকরি ভালো লাগবে।
যেকোনো ধরনের ভর্তা খেতে আমার কাছে ভালো লাগে। তবে ডালের বড়ি দিয়ে ভর্তা তৈরি করে কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার তৈরি করা ভর্তা রেসিপিটি দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। কখনো সম্ভব হলে এভাবে একদিন ট্রাই করে খেয়ে দেখব। নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আমিও প্রথম আমার শ্বশুরবাড়িতে খেয়েছি। বেশ অন্য রকম খেতে।
ভর্তা দেখেই মনে হচ্ছে অনেক বেশি সুস্বাদু এবং মুখরোচক হয়েছে খেতে। যদিও এমন রেসিপি আমি আগে কখনো খাইনি। তাই আরো খাবার ইচ্ছাটা বেড়ে গেল। ভীষণ সুন্দর করে ধাপে ধাপে আমাদের মাঝে রেসিপিটি শেয়ার করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। এত সুন্দর একটি পোষ্টের মাধ্যমে একটি নতুন রেসিপি শিখতে পারলাম।
একদিন তৈরি করে খাবেন। বেশ মজা খেতে। তবে আদা অবশ্যই দেবেন। ধন্যবাদ আপু।
একেবারে সুস্বাদু এবং ভিন্ন ধরনের একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন৷ আপনার কাছ থেকে আজকের এই সুস্বাদু রেসিপি দেখে বেশ ভালই লাগছে৷ এরকম রেসিপি আগে কখনো দেখা হয়নি৷ আপনার কাছ থেকে এই প্রথম এরকম একটি রেসিপি দেখতে পেলাম৷ যেভাবে আপনি এত সুস্বাদু একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা যেরকম সুস্বাদু দেখা যাচ্ছে৷ একই সাথে এই রেসিপি শেয়ার করার মধ্য দিয়ে আপনার কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের একটি রেসিপি দেখতে পেলাম। এটিকে এখনি এখান থেকে নিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে ৷
আসলেই অন্য রকম রেসিপিটি। আর খেতেও বেশ মজা।