ফটোগ্রাফি পোস্টঃ বৃষ্টিভেজা ফুল ও পাতার ফটোগ্রাফি।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি ভালো আছেন।প্রত্যাশা করি সব সময় যেনো ভালো থাকেন। আজ ২৪শে আষাঢ়,বর্ষাকাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৮ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।গতকাল রাত থেকেই নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকায় বৃষ্টি। সারাদিন থেমে বৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে গেছে। ফলে অফিসগামীরা পরেছে বিপাকে।তবুও এই বৃষ্টির মধ্যেই জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ কর্মস্থলে ছুটে চলছে। বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ফটোগ্রাফি ব্লগ শেয়ার করার চেস্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজও একটি ফটোগ্রাফি ব্লগ নিয়ে এসেছি। এই ফটোগ্রাফিগুলো করেছিলাম মিরপুর-১ এর একটি নার্সারি থেকে। একটি কাজে আজ মিরপুর-১ গিয়েছিলাম। ফেরার পথে নার্সারীটি চোখে পরে। দেখলাম অনেকগুলো গাছে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে রয়েছে। আর বৃষ্টিভেজা গাছ ও ফুলগুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিলো। তাইতো ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় ফটোগ্রাফিগুলো করে নিলাম। আশাকরি আজকের ফটোগ্রাফিগুলো ভালো লাগবে আপনাদের। তাহলে বন্ধুরা, আসুন দেখে নেয়া যাক আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো।

প্রথম ফটোগ্রাফি

ph4.jpg

বৃষ্টি স্নাত জবা ফুল ফুলটি কি সুন্দর তাই না? সেই সাথে সুন্দর ফুলটির রং। যদিও লাল রং এর জবা ফুল বেশি দেখা যায়। কিন্তু আজকাল সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা এবং মিশ্র রঙেরও দেখা যায়। জবা ফুল একটি জনপ্রিয় ফুল যা মালভেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। জবা ফুল বাংলাদেশে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালে ফোটে । জবা গাছের জন্য রোদ খুব প্রয়োজন। জবা ফুলের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে, যেমন- ওজন কমাতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ উপকারী।

দ্বিতীয় ফটোগ্রাফি

ph1.jpg

নাগচাঁপা ফুল বাংলাদেশে বেশ পরিচিত ফুল এটি। এটি সাধারণত সাদা রঙের পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল, যার কেন্দ্রে একটি উজ্জ্বল হলুদ রঙের আভ থাকে। এর পাতাগুলি সাপের ফণার মতো বাঁকানো থাকে, যে কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে নাগচাপা।এছাড়া এটি বৃন্দাবন চাঁপা,পুডিকা চম্পা, প্রেমনলিনী এবং কমলিকা নামেও পরিচিত। নাগচাপা ফুল সাধারণত সারা বছর ধরেই ফোটে, তবে বর্ষা ও শরৎকালে গাছটিতে ফুলের সমারোহ বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মের পর এবং বর্ষার শুরুতে ফুল আসতে শুরু করে।

তৃতীয় ফটোগ্রাফি

ph5.jpg

বৃষ্টিভেজা গোলাপী রং এর গোলাপ ফুলটি দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিলো। তাইতো ফটোগ্রাফি করেছি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বলে। গোলা্পকে ফুলের রানি ও ভালবাসার প্রতীক বলে হয়। বিভিন্ন জাতের ও রং এর গোলাপ ফুল দেখা যায়। এর মিষ্টি গন্ধ সকলকে আকর্ষন করে। বিশ্বে প্রায় ৩০০ প্রজাতির গোলাপ ফুল দেখতে পাওয়া যায়। আজকাল বাংলাদেশেও বানিজ্যিকভাবে গোলাপ সহ বিভিন্ন ফুলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চতুর্থ ফটোগ্রাফি

ph2.jpg

রঙ্গনের আদি নিবাস ক্রান্তীয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া। কমলা, কমলা লাল, গোলাপী, হলদে গোলাপী, লাল, হলুদ, সাদা ইত্যাদি রঙের রঙ্গন দেখা যায়।রঙ্গনের একক ফুল নলাকৃতি, চারটি পাপড়ির বিন্যাস তারার মতো। রঙ্গনের এক-একটি থোকায় প্রায় ১৫ থেকে ৫০ টির মত ফুল থাকে। কিছু কিছু থোকায় ফুলের সংখ্যা আরো বেশি হতে দেখা যায়। আগে কেবল লাল রং এর রঙ্গন ফুল দেখা যেতো। এখন বিভিন্ন রং এর দেখা যায় এই ফুল। থোকায় থোকায় ফোটে বলে দেখতে আরও সুন্দর লাগে। বীজ ও কলম পদ্ধতি এই গাছের চারা তৈরি করা হয়।

পঞ্চম ফটোগ্রাফি

ph3.jpg

কচু পাতার মতো দেখতে রঙ্গিন এই গাছটি ক্যালাডিয়াম । আমি এই গাছটির নাম আজই জানলাম গুগল সার্চ দিয়ে। ছোট বেলায় কত খেলেছি এই পাতা দিয়ে। হার্ট শেপের দেখতে লাল সবুজ এই পাতাটি বেশ সুন্দর। পাতাই এই গাছের সৌন্দর্য। এই গাছে ফুল ফটোতে তবে খুবই ছোট। যার সৌন্দর্য পাতার সৌন্দর্যের কাছে ম্লান।এই গাছের মূল আকর্ষণ এর পাতা, যা লাল, গোলাপি, সাদা বা সবুজ রঙের বিভিন্ন সংমিশ্রণে দেখা যায়। আর বৃষ্টির ফোটা জমে থাকায় এই পাতার সৌন্দর্য বহু গুন বেড়ে গেছে।
আশাকরি আজকের বৃষ্টি স্নাত বিভিন্ন ফুল ও পাতার ফটোগ্রাফিগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে। আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।শুভ রাত্রি।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেনীফটোগ্রাফি
পোস্ট তৈরি@selina 75
মোবাইলRedmi Note 5A
তারিখ৮ই জুলাই,২০২৫
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ

image.png

image.png

image.png

Sort:  
 last year 

আপনি আজকে মুগ্ধ হওয়ার মতো বেশ কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। এরকম ফটোগ্রাফি গুলো করতে আর দেখতে আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি অসম্ভব দারুণ ছিল। এরকম ফটোগ্রাফি গুলো দেখলে চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

চেস্টা করেছি আপু সুন্দর করে ফটোগ্রাফি করার। আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

image.png

 last year 

xp1.png

xp2.png

xp3.png

xp4.png

 last year 

ভিন্ন ভিন্ন রকমের ফটোগ্রাফি আমার কাছে অসম্ভব ভালো লাগে। আপনার তোলা প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি এত সুন্দর হয়েছে যে, আমি তো দেখছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। আমার কাছে সব রকমের ফটোগ্রাফি দেখতে খুব ভালো লেগেছে। এরকম সুন্দর ভাবে ফটোগ্রাফি করলে দেখলে অনেক বেশি মুগ্ধ হই। আমি এই ধরনের ফটোগ্রাফি গুলো করতে এবং দেখতে দুটোই খুব পছন্দ করি।

 last year 

আমারও ভালো লাগে সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি দেখতে। আর চেস্টা করি সুন্দর কিছু দেখলে ফটোগ্রাফি করার। ধন্যবাদ ভাইয়া।

 last year 

খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। ফটোগ্রাফি করতে আমি বেশ পছন্দ করি। বৃষ্টি ভেজা ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। কচু পাতার মতো দেখতে রঙিন পাতাবাহার এর আগে কখনো দেখিনি। বাকি ফটোগ্রাফি গুলো বেশ ভালো ছিল। ধন্যবাদ এত সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।

 last year 

পাতা বাহারটি দেখতে বেশ সুন্দর। বৃষ্টির পানি পরায় দেখতে আরও সুন্দর লাগছিলো।

 last year 

বাহ আপনি তো আজকে দারুন দারুন কিছু বৃষ্টি ভেজা ফুলের ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন।সত্যি বলতে ফটোগ্রাফি গুলোর মধ্যে বৃষ্টি পড়ার কারণে ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে অনেক ভালো লাগতেছে।বিশেষ করে গোলাপ ফুল ও জবা ফুলের ফটোগ্রাফি আমার অনেক ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 last year 

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 last year 

সব সময় আপনার কাছ থেকে একেবারে চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি দেখে আসছি৷ আজকে যেভাবে আপনি এত চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা দেখে অনেক বেশি ভালো লাগলো৷ এখানে যেভাবে আপনি বৃষ্টি ভেজা ফুল এবং পাতার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম৷ এখানে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার ফটোগ্রাফির দক্ষতাকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তেমনি এখানে ফুলের সৌন্দর্যকেও খুবই ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন৷

 last year 

ধন্যবাদ ভাইয়া।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.087
BTC 61537.48
ETH 1696.34
USDT 1.00
SBD 0.38