পাঁকা কদবেল এর ভর্তার স্বাদ নিলাম অনেকদিন পর।।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন বন্ধুরা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন । প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন। আমিও ভালো আছি।আজ ১৮ই মাঘ,শীতকাল ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ০১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আমি এখন উত্তরবঙ্গে আছি। প্রচন্ড শীত। যাকে বলে হাড় কাঁপানো শীত।তবে দিনে ছিল সূর্যের ঝলমলে রোদ তাই রাতে শীতের তীব্রতা বেশি। কিন্তু আজ সকাল থেকেই সূর্যের দেখা নেই। তাই দিনেও প্রচন্ড ঠান্ডা। ঠান্ডায় নিজেকে কম্বলবন্ধী করে, বসে বসে একটি লাইফস্টাইল পোস্ট লিখছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।
বন্ধুরা, যারা আমার ব্লগ নিয়মিত পড়েন তারা জানেন যে আমি গত ২৭ জানুয়ারি দিনাজপুর গিয়েছিলাম আমার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে। তারা ওমরা করতে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তাদের পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য তাদের সাথে গিয়েছিলাম।সকল কাজ শেষ করতে দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে যায়। দুপুরে একটি হোটেলে খাওয়া শেষ করে আমরা কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে রামসাগর ঘুরতে যাই। সেখানে গিয়ে অনেক দিন পর পাঁকা কদবেল দেখতে পাই এক বিক্রেতার কাছে। অনেকদিন হয়েছে পাকা কদবেল খাইনি। ঢাকায় যতবারই কদবেল কেনা হয় ততবারই তা খেতে পারি না। হয় তা কাঁচা থাকে না হয় ফাঙ্গাস পরা থাকে। তাই অনেক বছর পাকা কদবেল খাওয়া হয় না। আজকাল বেশিভাগ ফলই মেডিসিন দিয়ে পাকানো হয়।হোক তা কলা,কাঁঠাল,আম কিংবা কদবেল।তাই অনেকদিন পর পাঁকা কদবেল দেখে বেশ লোভ হলো।
প্রথম আমি কদবেল খাই ঢাকায় তখন আমি সম্ভবত ফোরে পড়ি। নানার বাসায় বেড়াতে এসে খেয়েছি। সেই স্বাদ এখনও মনে হয়ে মুখে লেগে আছে। এখন আর সেই স্বাদ পাই না কোন কদবেলে। সেই সাথে কদবেলের সেই পাকা ঘ্রানো আর পাওয়া যায় না।তাই রামসাগরে যখনই কদবেল দেখলাম, তখনই বিক্রেতাকে জিজ্ঞাস করলাম পাকা কি না? বিক্রেতা বলল, একেবারেই গাছ পাকা। আমি তখন বললাম ভেঙ্গে দিয়ে কয়েকপিস নেবো। এর আগে ঢাকায় কয়েকবার কিনেও খেতে পারিনি। ফেলে দিতে হয়েছে কাঁচা অথবা ফাঙ্গাস এর কারনে।বিক্রেতা ভেঙ্গে দেবে বলে রাজি হওয়ার সাথে সাথেই কয়েক পিস কিনে নিলাম।দাম কিছুটা বেশি রেখেছে। মাঝারী সাইজের একটি কদবেল এর রেখেছে ৫০ টাকা। তবুও পাকা কদবেল পেয়েছি এটাই সান্ত্বনা।
বাড়িতে পৌছাতে দেরী হওয়ার জন্য সেই রাতে আর ভর্তা করা হয়নি।পরের দিন লবন,মরিচ ,চিনি ও বিট লবন দিয়ে ভর্তা করে বাড়ির সকলে বেশ মজা করে খেলাম। যদিও আমিই খেয়েছি বেশি পরিমাণে।অনেকদিন পর পাঁকা কদবেলের ভর্তা খেতে পেরে বেশ ভালো লাগলো। যদিও ছোট বেলার কাঠি দিয়ে কদবেল খাওয়ার সেই মজা পেলাম না। তবে কিছুটা হলেও মজা করে খেয়েছি। মফস্বল শহর বা গ্রাম-গঞ্জে এখনও ভেজাল মুক্ত ফ্রেস খাবার পাওয়া যায় এটাই শান্তির।বেশ মজা করে খেলাম কদবেল ভর্তা। আবার কবে যে খেতে পারবো? গ্রামে এসে বেশ শীত উপভোগ করছি। আর কিছুদিন থেকেই চলে যাবো ব্যস্ত শহর ঢাকায়। এতক্ষণ কষ্ট করে পোস্টটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন-সুস্থ থাকুন। শুভ দুপুর।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেনী | লাইফস্টাইল |
|---|---|
| ক্যামেরা | Samsung Galaxy A-10 |
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| তারিখ | ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ইং |
| লোকেশন | পার্বতীপুর,দিনাজপুর |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
আমাদের এদিকেও কদবেল দেখি তবে এগুলোর দাম সবসময় অনেক বেশি থাকে। তাই সেভাবে খাওয়া হয় না। পাকা কদবেল আমারও অনেক দিন খাওয়া হয়না। এভাবে মেখে খেতে ভালোই লাগে। পাকা কদবেল আসলেই তেমন একটা খুজে পাওয়া যায় না। ফটোগ্রাফিতে দেখে তো জিভে জল চলে এসেছে।
কদবেলের দাম সব সময় বেশি । কিন্তু দাম দিয়ে কিনলেও পাঁকা কদবেল পাওয়া যায় না।। তাই পেয়ে কিনে নিলাম।খেতে অনেক মজা ছিল।
Daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
পাঁকা কদবেল এর ভর্তার স্বাদ সত্যি অসাধারণ লাগে খেতে।পাঁকা কদবেল খেয়েছি আমি, কিন্তু এভাবে কখনো ভর্তা করে খাওয়া হয়নি। তবে আপনি পাঁকা কদবেল খেয়েছেন এবং সেটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু আপনাকে এতো সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
জি পাঁকা কদবেল খেতে অনেক মজা লাগে। কিন্তু সব সময় পাওয়া যায় না। তাই পেয়ে ভর্তা করে খেয়ে নিলাম।
https://x.com/selina_akh/status/1885607675679125778
শুধু কয়েদ বেল নয় আপু আমাদের দিনগুলোই এখন আর পাইনা। সবকিছুই বড় হয়ে গিয়ে অন্যরকম হয়ে যায়। এসবের মাঝেও আপনি যে কয়েদবেলটা সময় করে খেলেন এই আর কম কি।
ঠিক তাই। পাঁকা কদবেল খাওয়া হয় না অনেকদিন। তাইতো পেয়ে কিনে নিলাম। আর ভর্তা করে খেলাম মজা করে।
হ্যাঁ আপু পাকা কদমিলেট দুই একটা গান সেটা সবার কাছে ভালো লাগে আপনি তো পোষ্টের মাধ্যমে বিবরণ দিয়েই লোভ লাগিয়ে দিলেন হা হা হা। হ্যাঁ কিছুদিন আগে দিনাজপুর গিয়েছিলেন আর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে একটা পোস্ট শেয়ার করেছিলেন সেটাও পড়েছিলাম। যাইহোক আপনি গ্রামে যেমনটা টাটকা অরিজিনাল ফলগুলো পাবেন শহর অঞ্চলে সেরকমটা পাওয়া যায় না গ্রাম থেকে গাছ পাকা কদবেলের যে ঘ্রাণ সেটা আপনাকে কদবেলের প্রতি আকৃষ্ট করবে।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্টগুলো পড়ে যথাযথ মন্তব্য করার জন্য।
সেই ছেলেবেলা হতে আমি কিন্তু কটবেল খেতে বেশ পছন্দ করি। আপনি আজ এমন একটি লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখে আমি নিজেও বেশ মুগ্ধ। সুন্দর করে রেসিপিটির প্রতিটি ধাপ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ এমন দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমারও বেশ ভালো লাগে কদবেল খেতে। কিন্তু পাঁকা কদবেল পাওয়া যায় না সবসময়। তাইতো পেয়ে কিনে নিলাম। আর অনেক মজা করে ভর্তা করে খেলেম।
পাকা কদবেল যে কতদিন খাইনা আপু। এটা আমার খুবই পছন্দের ফল। বিশেষ করে ভর্তা করলে বেশ ভালো লাগে এটা। কদবেল এর ভর্তাটা দারুণ তৈরি করেছেন আপনি আপু। দেখে বেশ দারুণ লাগল। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
আমিও অনেকদিন পর খেলাম পাঁকা কদবেল।