স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণঃ এক্সিডেন্ট! পর্বঃ- ০২ // ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁকের জন্য

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

05-01-2022

২১ই পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রসঙ্গ: "স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণঃ এক্সিডেন্ট! পর্বঃ- ০২"


schooll life part 2.jpg

আসসালামুয়ালাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন?
আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি। টাইটেল ও থ্যাম্বনেইল দেখে হয়তো আপনারা বুঝে গেছেন আজকে আমি কি নিয়ে আলোচনা করবো।
স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণঃ এর দ্বিতীয় পর্বে আপনাদের স্বাগতম। আশা করি, আপনারা যারা এই পর্বটি পড়তেছেন, তারা আগের পর্বটি পড়ে নিয়েছেন। যারা এখনো পড়েন নি, তাদের জন্যে আরেক বার দিলাম। এখানে ক্লিক করুন!

team-gf0745c5d0_1920.jpg

Pixabay Image



আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যেটা আমরা চাইলেও কোনোদিন ও ভূলতে পারবো না। আমাদের সাথে যদি কোনো অস্বাভাবিক কিছু হয়, তাহলে সেটা ভুলে যাওয়া সম্ভব, তাঁর আগে কখনোই সম্ভব নয়। জীবনের এইসব স্মৃতিগুলো সর্বদাই হাতড়ে বেড়ায় প্রতিক্ষণে, প্রতি মুহুর্তে। তাই তো এসব ভুলা সম্ভবই না।

আজকের গল্পটিও ঠিক এমন কিছু। আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগের ঘটনা। আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়তাম ২০১৩ সালে। নতুন স্কুল, নতুন বন্ধু। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অনুভুতি। নতুন নতুন বন্ধু পেলে কার না ভালো লাগে। সবারই মন চায় নতুন বন্ধু নিয়ে ঘুরতে, ফিরতে। মনের আনন্দে নেচে বেড়াতে। অনেক সময় অতিরিক্ত নেচে বেড়ানোটা আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে। কয়েক দিনের জন্য দমে গেলেও যখন সব কিছু স্বাভাবিক হয় আবার সবাই সবার নিজের চেনা রুপে ফিরে আসে। শুরু হয়ে রঙ, তামাশা, ঘুরাঘুরি।

আমাদের ব্যাচে আমার যেসব বন্ধুরা ছিলো, তারা সবাই ছিলো ব্রিলিয়ান্ট এবং দুষ্টমির দিক থেকেও সেরা। স্কুল লাইফের শুরু থেকেই সব রকমের দুষ্টুমিতে মেতে ছিলাম আমরা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের ব্যাচের সবাইকে পুরো স্কুল চিনে ফেলেছিলো। লেখাপড়ার দিক থেকে, দুষ্টমির দিক থেকে, খেলাধুলার দিক থেকে। কোনো অংশেই পিছিয়ে ছিলাম না আমরা। দিন যত যাচ্ছিলো আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।

আজকের গল্পটা মূলত একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। ক্লাস ৬ এর একটা পরীক্ষার পর গ্রীষ্মকালীন ছুটি দিয়েছিলো। ছুটি চলছি যে সময়টায় ওই সময়ে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গণিত প্রাইভেট নিয়েছিলাম। আমি সেসময় প্রতিদিন এ প্রাইভেট এ যেতাম। কিন্তু একদিন সবাই প্রাইভেটে যাওয়ার পর স্যার জানায় তিনি আজকে পড়াতে পারবেন না, আজকের মতো সবার ছুটি। যখন স্যার এই ঘোষনা দিয়েছে, তারপর আমাদের আনন্দ আর দেখে কে। এই খুশিতে আমরা শর্ট ট্যুর হিসেবে শহরের বাহিরে যেতে চাইলাম। সাথে সাইকেল ছিলো সবার। সবাই যাওয়ার জন্য একবাক্যে রাজি হয়ে গেলো। আমরা আর সময় নষ্ট না করে বেড়িয়ে পড়লাম সেখান থেকে। চেনা, অচেনা সবগুলো জায়গা আজকে ঘুরে ঘুরে দেখবো। এটাই ছিলো মূলত প্লান।

railway-g9335222e1_1920.jpg

Pixabay Source

আমরা চললাম, শহরে পাশ দিয়ে যাওয়া রেললাইনের ধার বেয়ে। এর পাশ দিয়ে সাইকেল - বাইক সহজেই যাওয়া আসা করতে পারতো। তাই আমাদের কোনো সমস্যাই হয় নি যাওয়ার সময়। আমরা হাতে গোনা ছয়জনের মত ছিলাম, ৩ টা সাইকেলে। যতদূর যাওয়া সম্ভব, আমরা ঠিক তত দূরেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু একটা মুহুর্তে এসে আমাদের সাইকেলকে থাকিয়ে দিতে হয়। এর কারণ হচ্ছে সামনে থাকা বড় একটি রেল-সেতু। তাই আমরা আর সামনে না এগিয়ে সাইকেলগুলোকে লাইনের ধারে রেখে সবাই সেতুর উপরে উঠেছিলাম। একজন বাদে আমরা সবাই সহজেই সেতুর নিরাপদ যে জায়গাটা থাকে সেখানে চলে গেছিলাম। কিন্তু একজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় সে ধীরে ধীরে লাইনের কাঠ বেয়ে আসতেছিলো। এমন সময় ঘটে বিপত্তি।

রেললাইন চেক করার জন্য যে ছোট গাড়ি গুলো থাকে, একটি খুব জোরে পিছন থেকে তেড়ে আসছিলো। আমরা সবাই তাকে জোরে ও তাড়াতাড়ি আসতে বলি। কিন্তু সে ওই গাড়ী দেখে আরো ভয়ে কুপোকাত হয়ে যাচ্ছিলো। এমন একটা পর্যায়ে সে চলে এসেছিলো, না পারে সামনে যেতে আর না পারে পিছনে যেতে। একটা সময়ে সে সাহস করে দ্রুত হাঁটার চেষ্ঠা করে কাঠের উপর দিয়েই এবং সে সফল ভাবে আমাদের কাছে চলে আসতে পারে। এবং কিছু সেকেন্ড পরেই সে গাড়িটি আমাদেরকে অতিক্রম করে চলে যায়।

cloude-sky-gd5828485d_1920.jpg

Pixabay Source

সেদিন আমরা সবাই চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, সেদিন ঠিক সময় পৌছাতে না পারতো তাহলে তাঁর কি হয়ে যেতো আর আমরা তাঁর পরিবারকেই বা কি জবাব দিতাম। আল্লাহ চেয়েছিলো বিধায় সেই দিন সে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পেরেছিলো। এরপর কিছু সময় আমরা সেখানে কাটিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার আগ মুহুর্তে সেখান থেকে চলে আসি। আর এভাবেই আজকের পর্বটিও শেষ হয়ে গেলো।

আশা করি, পরবর্তী পর্বটি খুব দ্রুতই আপনাদের সামনে নিয়ে আসতে পারবো। ধন্যবাদ



আশা করি, আমার এই ব্লগটি আপনাদের ভালো লেগেছে। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।



Untitled-1s.jpg

আমার সম্পর্কে কিছু কথাঃ-


আমি মোঃ আবু হেনা সরকার। আর আমার ডাক নাম সাগর। আমি একজন স্বাধীন চেতনাময়ী ছেলে। যে সবসময় স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেই। আমি লিখতে, পড়তে, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, বিশ্লেষন এবং কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী ও ভালোবাসি। আমি একজন মিশুক ছেলে। সবার সাথে মিশতে আমার অনেক ভালো লাগে।

sagor bordar.png

আমার সাথে যোগাযোগ করুনঃ-

ফেসবুক | টুইটার | ডিস্কোর্ড | ইউটিউব

sagor bordar.png

Amar Bangla Blog.png


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  

সত্যিই অনেক ভয়ানক একটি ঘটনা। ভাবলেই যেন আমার শরীর শিউরে উঠছে। যদি কয়েক সেকেন্ডের ই হতো তাহলে কি হতো ভাবতেই অনেক ভয় লাগতেছে। আর বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার মজাই অন্যরকম। ধন্যবাদ পরবর্তী পাঠের অপেক্ষায় রইলাম।

 4 years ago 
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
 4 years ago 

আসলে ভাইয়া আপনার গল্প শুনে তো গলার পানি শুকিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা কিভাবে যে ছিলেন সেই জিনিসটাই ভাবছিলাম। আর ওপরওয়ালা না চাইলে যদি একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেত তখন আপনাদের খুব বিপদ ছিল। আসলে বিষয়টি খুবই ভয়ঙ্কর এবং কী আশ্চর্যজনক ছিল। আপনার স্কুল লাইফের এমন একটা গল্প যা আমার শরীর শিউরে ওঠে ছিল। যাইহোক আল্লাহর রহমতে সবাই ঠিকঠাক মতো বাসায় পৌঁছাতে পেরেছেন শুকরিয়া আল্লার দরবারে। আমাদের সাথে এত সুন্দর করে আপনার ছেলেবেলা গল্পটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

 4 years ago 

পুরো গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 4 years ago 

আপনার ঘটনার মতো আমি এবার এইরকম বিপাকে পড়ছিলাম। রেল লাইনের ব্রিজ পার হওয়ার সময়। রেল লাইনের ব্রিজটির নিচে সারি সারি কাঠের তক্তা কিন্ত অনেক ফাঁক ফাঁক আমি যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম মনে হচ্ছিলো এক পা ভুল জায়গায় পড়লে আমি নদীতে পড়ে যাবো। ঔ দিনের কথা মনে পড়ে গেলো আপনার কাহিনী পড়ে।

সেই স্কুল লাইভটাকে এখন খুব মিস করতেছি। কত সুন্দর সময় ছিলো স্কুল জীবনের সময় টা।

আপনার ঘটনার দ্বিতীয় পার্টের অপেক্ষায় থাকলাম।।
আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

@sikakon

 4 years ago 

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য। খুব দ্রুতই আমি পরবর্তী পার্ট নিয়ে আসবে আশা করি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.092
BTC 62587.21
ETH 1770.97
USDT 1.00
SBD 0.39