ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে কাচ্চি খাওয়ার গল্প।
এবার আমাকে পেয়ে সে ফরিদপুর যাওয়ার বাইনা ধরলো। যদিও আমার বোন আর দুলাভাই এই সময়ে ভাগ্নেকে ফরিদপুর পাঠাতে রাজি ছিলো না। পরবর্তীতে আমার ভাগ্নের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হয়েছিলো। যথারীতি পরদিন সকালে আমি আমার ভাগ্নেকে নিয়ে ফরিদপুর রওনা দিয়েছিলাম। আমার ভাগ্নে ও আমার মত খুবই ভোজন রসিক। যার ফলে আমি তার খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখছিলাম। ভাগ্নে আসার দু-তিনদিন পরে শুক্রবারে আমি আমার মাকে রান্না করতে নিষেধ করলাম। কারণ আমি জানি আমার ভাগ্নের শুক্রবারে দুপুরে তার ভালোমন্দ খাওয়া না হলে চলেই না। এই কারণে আমি আমার মাকে বলেছিলাম দুপুরে আমরা বাইরে খেতে যাবো। জুমার নামাজ পড়ে যখন বাসায় ফিরলাম। তখন আমার মাকে বলতে সে আর বাইরে যেতে রাজি হলো না। সে বলল বাইরের খাবার খেতে তার একেবারেই ভালো লাগেনা। পরবর্তীতে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যেহেতু আম্মা যেতে চাচ্ছে না। তাই তার জন্য বাসায় পার্সেল নিয়ে আসবো।
তারপর আমি ভাগ্নেকে নিয়ে রওনা দিলাম কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে। অবশ্য আমি সকালেই তার কাছে শুনে নিয়েছিলাম সে কোন ধরনের খাবার খেতে চায়? ফ্রাইড রাইস না কাচ্চি? সে কাচ্চি খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলো। সেই কারণে তাকে নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি যথারীতি সেদিনও বেশ ভিড়। তারপরও আমরা খোঁজাখুজি করে দুজনে একটা টেবিল ফাঁকা পেয়ে গেলাম। দেরি না করে সাথে সাথে সেই টেবিলে বসে পড়লাম। বসার পর ওয়েইটারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তবে পুরো রেস্টুরেন্টে অনেক লোকজন থাকায় ওয়েটারের অর্ডার নিতে বেশ দেরি হোলো। এদিকে অর্ডার দেয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ বসে ছিলাম। কিন্তু খাবারের কোনো দেখা পাচ্ছিলাম না। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় আমি আর আমার ভাগ্নে দুজনে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছিলাম।
অবশেষে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমাদের সামনে খাবার এলো। তবে সেখানেও একটা ঝামেলা থেকে গেলো।ওয়েইটার আমাকে প্লেট দিলেও আমার ভাগ্নের সামনে তখনো প্লেট দেয়নি। তখন আমি আমার ভাগ্নেকে পরামর্শ দিলাম যেটাতে করে সার্ভ করেছে সেখান থেকে খাওয়া শুরু করতে। যাইহোক সেদিনের কাচ্চিটা আমার কাছে দারুন লেগেছিলো। এর আগে যে দুইবার আমি কাচ্চি ভাই থেকে কাচ্চি খেয়েছিলাম। সেই দুইবারই কাচ্চির ভেতরের মাংস কিছুটা শক্ত পেয়েছিলাম। তবে এবারে মাংস পেয়েছিলাম একেবারেই সফট। কাচ্চির ভেতরের মাংস যদি সফট হয় তাহলে কাচ্চির টেস্ট অনেক বেড়ে যায়। সেদিন কাচ্চিটা আমার কাছে আসলেই দারুন লেগেছিলো। এদিকে আমরা খাওয়া-দাওয়া করার সময় দেখলাম আরো কিছু মানুষ রেস্টুরেন্টের ভেতর ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে সিট পাওয়ার জন্য। যেহেতু আমরা দুজন ছিলাম তাই আমি আমার ভাগ্নেকে পরামর্শ দিলাম আমার পাশে বসতে। তাতে করে সামনে দুজনে বসার ব্যবস্থা হয়ে গেলো। দুজন লোক সেখানে বসতে পেরে আমাদের উপর খুব খুশি হয়েছিলো। যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করে একটা কাচ্চি পার্সেল নিয়ে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | Samsung s24 ultra |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
Hi @rupok,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.
Come and visit Italy Community
ভাই এই অভ্যাসটা আমারও আছে। জুমার নামাজ শেষ করে ভালো খাবার না পেলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। যাইহোক আগের দুইবারের মতো এবারের কাচ্চির মাংস শক্ত ছিলো না,এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। সবমিলিয়ে ভালোই খাওয়া দাওয়া করেছেন তাহলে। যাইহোক এতো চমৎকার মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার নিজের ও একই অবস্থা। শুক্রবার দুপুরে টেবিলে ভালো কিছু না থাকলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
এরকম রেস্টুরেন্ট গুলোতে মানুষ একটু বেশি যায়। কাচ্চি খেতে তো আমি অনেক বেশি ভালোবাসি। ভাগ্নেকে নিয়ে কাচ্চি খেতে গিয়েছিলেন শুনে অনেক ভালো লাগলো। অন্যবারের তুলনায় এবারের মাংসগুলো সফট ছিল শুনে অনেক ভালো লেগেছে। বুঝতে পারছি মজা করে খেয়েছেন দুজনে মিলে খাবার গুলো। বাড়িতে নিয়ে আসার পর আপনার আম্মুও নিশ্চয়ই মজা করে খেয়েছে।
আমার বাসাতে ও শুক্রবার ভালো মন্দ কিছু থাকতেই হয় ছেলের জন্য। আপনি আপনার ভাগ্নের জন্য ভাগ্নের পছন্দের আইটেম খাওয়াতে নিয়ে গেলেন।আর আগের চেয়ে সেদিন কাচ্চি খেতে খুব ভালো লেগেছিল জেনে ভালো লাগলো। অন্তত ভাগ্নে তো প্রশংসা করতে পাবরে খাবারটা বেস্ট ছিল। সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।