কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট থেকে সুস্বাদু কাচ্চি খাওয়ার অভিজ্ঞতা।
সেদিন সকাল সকাল বাসা থেকে বের হয়েছিলাম একটি জরুরী কাজে। পরিকল্পনা ছিলো যে কাজটা সম্পন্ন করে তারপর একটু যমুনা ফিউচার পার্কে ঘুরতে যাব। আমি যখনই ঢাকা আসি চেষ্টা করি যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে অন্তত একবার হলেও ঘুরে যেতে। কারণ এই শপিং মলটি আমার খুবই পছন্দের একটি জায়গা। বিশাল আকৃতির এই শপিংমলে খুব একটা লোকজন থাকে না বললেই চলে। আকারের সাথে সেখানকার দর্শনার্থীদের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। এত বড় শপিংমলে যে পরিমাণ লোক আসার কথা সেই পরিমাণ লোকজন এখানে আসে না। এজন্যই আমার কাছে ভালো লাগে।
যাই হোক যে কাজে গিয়েছিলাম সেই কাজ শেষ হতে হতে প্রায় দুপুর হয়ে গেলো। তারপর আমি রওনা দিলাম ফিউচার পার্কের উদ্দেশ্যে। কাছাকাছি পৌঁছে দেখতে পেলাম ফিউচার পার্কের গেটের ভিতরে বেশ ভিড়। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি আসলে এত লোক কি কারনে এখানে এসেছে। পরে বুঝতে পারলাম সেখানে ভিড়টা মূলত ইন্ডিয়ান এম্বাসির সামনে। যমুনা ফিউচার পার্কে ইন্ডিয়ান এম্বাসির একটা শাখা আছে। সেখানে ইন্ডিয়ান ভিসা প্রার্থীদের দীর্ঘ সাড়ি দেখতে পেলাম।
আমি যখন ফিউচার পার্কের সামনে পৌঁছেছি তখন মনে হচ্ছিল চারপাশ সূর্যের তাপে পুড়ে যাচ্ছে। তাই আমি দ্রুত পা চালিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু গেটের কাছে গিয়ে নিজের বোকামির জন্য মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। কারণ ফিউচার পার্ক সেদিন বন্ধ ছিল। আমার উচিত ছিল আসার আগে ইন্টারনেটে চেক করে আসা। এতদূর আসার পর ফিউচার পার্ক বন্ধ দেখে মনটা খুব খারাপ হলো।
তখন চিন্তা করছিলাম এখন কি করা যায়। এখন কি সরাসরি বাসায় চলে যাবো। এর ভেতর প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। বেশ কিছুদিন থেকে প্ল্যান করছিলাম কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট থেকে কাঁচি বিরিয়ানি খাবো। ঢাকার ভিতরে এখন অন্যতম জনপ্রিয় একটি কাচ্চির দোকানের নাম হচ্ছে কাচ্চি ভাই। এর আগে আমার এক ফুফাতো বোনের বাসায় সেই রেস্টুরেন্টের কাচ্চি খেয়েছিলাম। খাওয়ার পর তাদের কাচ্চিটা আমার কাছে বেশ পছন্দ হয়েছিল। তখনই পরিকল্পনা করেছিলাম এরপরে কাচ্চি ভাই থেকে কাচ্চি খেতে হবে।
তাই চিন্তা করলাম এতদূর যেহেতু এসে করেছি তাই এখান থেকে কাচ্চি খেয়ে যায়। যমুনা ফিউচার পার্কের পাশের রাস্তায় একটি কাচ্চি ভাইয়ের আউটলেট আছে। যদিও আমি রেস্টুরেন্টটি ভালোভাবে চিনতাম না। কিন্তু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে বেশ কিছু দূর আগানোর পর রেস্টুরেন্টটি দেখতে পেলাম। রেস্টুরেন্টটি একটি বিল্ডিং এর দোতলায় অবস্থিত। বিল্ডিংটির অবস্থা খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছিলোনা। কিন্তু যখন ভিতরে প্রবেশ করলাম তখন দেখলাম তারা রেস্টুরেন্টটি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে।
ভিতরে আমি বসে মেনু কার্ড দেখছিলাম। মেনু কার্ড দেখার পর একটি প্যাকেজ অর্ডার করলাম। সেই প্যাকেজে ছিল দুই পিস মাটন সহ কাচ্চি, বোরহানি আর সাথে ফিরনি। খাবার অর্ডার করে বসে আছি বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু সার্ভ করার কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। যদিও এদের বেশ সুনাম শুনেছিলাম। পরে আমি এক ওয়েটারকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম খাবার দিতে এত দেরি হচ্ছে কেন? সে জানালো অনেকগুলো পার্সেল জমেছে। আগে সেগুলো ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। তারপর ভেতরের কাস্টমারদের খাবার পরিবেশন করা হবে।
অবশ্য ওয়েটার কে বলার কিছুক্ষণের ভেতরেই টেবিলে খাবার চলে এলো। খাবার দেখেই মনে হচ্ছিল খেতে বেশ মজা হবে। এমনিতেই পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা ছিল। তারপরে সামনে এত লোভনীয় কাচ্চি। তাই দেরি না করে খাওয়া শুরু করলাম। কাচ্চিটার টেস্ট ছিল খুবই ভালো। সাথে যে দুই পিস মাটন দিয়েছিল সেই মাটন দুই পিস খুবই সফট ছিল। কাচ্চির সাথে মাঝে মাঝে বোরহানির ক্লাসে চুমুক দিচ্ছিলাম। বেশ দ্রুতই আমার খাওয়া শেষ হয়ে গেল। আমি এমনিতেই একটু তাড়াতাড়ি খাই। খাওয়া শেষ হওয়ার পর ডেজার্ট হিসাবে ফিরনি খেতে লাগলাম। রেস্টুরেন্টের ফিরনি আমি খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু এদের ফিরনি খেয়ে দেখলাম বেশ মজাদার। তারপর বিল পরিশোধ করে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | বসুন্ধরা |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
কাচ্চি ভাই এর কাচ্চি আসলেই বেশ মজা। ভাই খাবার খাওয়ার সময় তাড়াতাড়ি খেতে ডাক্তার নিষেধ করে।
খাবার ধীরে সুস্থ্যে খাওয়াই নিয়ম এটা আমি জানি। তবে কেন জানি আমি আস্তে আস্তে খেতে পারি না।
আমিও ফোন কিনতে গিয়ে এই সমস্যার মুখে পড়েছিলাম।গিয়ে দেখি যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ।পরে বন্ধুর সাথে ঘোরাফেরা করে চলে এসেছি।কাচ্চি ভাইয়ের অনেক নেগেটিভ রিভিউ দেখেছিলাম দেখে খাওয়ার সাহস পাইনি।তবে আপনার রিভিউ দেখে ভরসা পেলাম।
কাচ্চি ভাই সম্বন্ধে আমারও আগে খুব একটা ভালো ধারণা ছিল না। তবে একবার খাওয়ার পর ধারনা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। ওদের কাচ্চির টেস্ট যথেষ্ট ভালো।
এবার নিশ্চিন্তে ট্রাই করা যেতে পারে।
ভুল মানুষ মাত্রই করে তবে এই ডিজিটাল জামানায় এসে এরকম ভুল খুব কমই হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারপরও মাঝেমধ্যে হয়ে যায় কিছুই করার থাকে না। এই ক্ষেত্রে যমুনা ফিউচার পার্ক আপনার কাছে অনেক পছন্দের একটি জায়গা কিন্তু আমি মনে করি এটা সকলের জন্য নয়। যাইহোক যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও আপনার প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে তাই কাচ্চি ভাই গিয়ে কাচ্চি খেয়ে নিলেন। ফটোগ্রাফি দেখে বোঝা যাচ্ছে অনেক লোভনীয় একটি খাবার ছিল। অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ভুল না বলে গাফিলতি মনে হচ্ছে এখন। কারণ আমি সেখানে যাওয়ার আগে একবার চিন্তা করেছিলাম ইন্টারনেটে চেক করে দেখে যাই যে যমুনা ফিউচার পার্ক আজকে বন্ধ আছে কিনা। পরে আবার কি মনে করে জেনো আর চেক করিনি। সেই গাফিলতির খেসারিতই আমাকে দিতে হয়েছে।
তবে ভাই কাচ্চিটা খেয়ে মনে হয় সেটাও ওসুল হয়ে গেছে। কি ভাই ঠিক বলছি না?
এইভাবে বলার কি আছে ভাইয়া বলেন তো কাচ্চি খাওয়ার মাঝখানে আপনি বোরহানিতে চুমুক দিচ্ছেন 😐। লোভ লাগাচ্ছেন। খাবারের ছবিগুলো দেখে পেট ছোচ করছে তার ওপর আপনার কথার ঢং ☺️। যাইহোক রেস্টুরেন্টে দেখে বোঝা যাচ্ছে খুব সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি প্লেস। এবং বেশ বড়সড়। ঠিক বলেছেন ভাইয়া সবসময় আসার আগে ইন্টারনেটে চেক করে দেখবেন তা না হলে এত দূর থেকে এসে যদি বন্ধ হই পান তাহলে তো মন খারাপ হওয়ারই কথা।
কাচ্চির সাথে বোরহানি না হলে আবার আমার চলে না। বোরহানি আর কাচ্চি পেলে আমার আর কিছু চাইনা। আর আপনাদের লোভ লাগানোর জন্যই ওই অংশটার উল্লেখ করেছি। হা হা হা
যমুনা ফিউচার পার্ক সুন্দর আসলেই ভাইয়া। তবে আগে যদি লোকেশন চেক করে যেতেন তাহলে হয়তো ঘুরে যেতে হতো না। তবে এতোদূর যখন এসেছেন কাচ্চি না খেলে কি হয় 🤭। কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট এর কাচ্চি দেখে আমারও লোভ লেগে গেল। সাথে মাটন আর বুরহানী ভালোই জমিয়েছিল তাহলে।
ঠিকই বলেছেন। কাচ্চির সাথে বোরহানি ভালোই জমে ছিলো।
ভাইয়া কিছুদিন আগে আমিও ঢাকায় গিয়েছিলাম তখন যমুনা ফিউচার পার্কে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলাম ।পরে একটি ঝামেলার কারণে যেতে পারিনি ।তারপর দিন কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চি বাসায় এনে খেয়েছিলাম। আমিও আপনার মত বুরহানি এবং কাচ্চির পর ফিরনি খেয়েছিলাম। ফিরনি এগুলো আমার অনেক মজা লেগেছিল। আর যমুনা ফিউচার পার্ক যেহেতু আপনার প্রিয় একটি জায়গা, নেক্সট টাইম আমিও ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করব দেখে আসবো কতটা সুন্দর।
যমুনা ফিউচার পার্ক আসলেই চমৎকার একটি জায়গা। সময় পেলে একবার ঘুরে আসবেন। আশা করি ভালো লাগবে।
ভাইয়া কি পোস্ট শেয়ার করলেন দেখেই তো জিহ্বা দিয়ে পানি চলে আসলো। কারণ কাচ্চি আমার ভিশন পছন্দের একটা খাবার।ঢাকার মধ্যে যতো গুলো নামকরা কাচ্চি আছে সেগুলো থেকে মোটামুটি সবার গুলো টেস্ট করা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া।এর মধ্যে কাচ্চি ভাই নাম অবশ্যই বলতে হবে।আর কাচ্চি ভাই এর কথা কি বলবো এদের কাচ্চি আমার অসম্ভব ভালো লাগে। কয়েকদিন আগেই বেইলি রোড এ গিয়ে খাওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ওদের মাটন টা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। কারণ একদম সফট তাদের মাটন। পাশাপাশি ডেজার্ট হিসেবে ফিরনি টা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে সুন্দর কিছু মূহূর্ত ছবি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আগে আমি সবচাইতে বেশি পছন্দ করতাম সুলতান'স ডাইনের কাচ্চি। তবে কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চিটা খাওয়ার পর এখন ওদের টাই বেশি ভালো লাগে।
কথায় আছে না, মানুষ মাত্রই ভুল। আপনি না হয় একটা ভুল করেই ফেলেছেন। যমুনা ফিউচার পার্ক এর গেটে গিয়ে নিজের সাথে নিজেই বোঝাপড়া করছেন কেন বোকামি করলে। বাসায় যাবেন নাকি কাচ্চি ভাই গিয়ে কাচ্ছি খাবেন সে চিন্তা করতে করতে কাচ্চি ভাইয়ের আউট লেটে গিয়ে পৌঁছেছেন। তবে আপনি যে আমাদের প্রিয় ভোজন রসিক ভাই সেটা আমি আগেই জানি। আপনার খাওয়ার মেনু দেখে এবং খাবারের প্রশংসা শুনে আমারও জিভে জল চলে এসেছে। ইচ্ছে করছে খেয়ে একটু টেস্ট করার জন্য। আমাদের সাথে এত সুন্দর করে আপনার কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ার গল্পটা বেশ মজা লেগেছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
সময় সুযোগ করে একবার ওদের কাচ্চিটা খেয়ে আসুন। আশা করি ভালো লাগবে।
আসলে যে উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া হয় সে উদ্দেশ্য যদি পূরণ না হয় তাহলে একটু খারাপ লাগে অবশ্যই। আমি নিজেও এর আগে রবি ঠাকুরের বাড়ি গিয়ে আপনার মতো বিরম্বনায় পড়েছিলাম। তবে আসল উদ্দেশ্য সফল না হয়ে অন্য একটি উদ্দেশ্য যদি সফল হয়ে যায় সেদিন তখন আবার বেশ ভালই লাগে। কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চি দেখে খুবই ভালো লাগলো এবং আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর হয়েছে। শুভকামনা রইল।
ঠিকই বলেছেন কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে আসলেই খারাপ লাগে। তবে শেষ পর্যন্ত মজার কাচ্চি খাওয়ার কারণে আর খারাপ লাগেনি।
সবচেয়ে দুঃখ জনক বেপার হলো যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ৷যাই হোক কথায় বলে না এক পথ তো আরেক পথ খোলা ৷
কাচ্চি ভাইয়ের রেস্টুরেন্টে বেশ সুস্বাদু খাবার খেয়েছেন ৷
আর সত্যি বলতে আমার কখনো বড় রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সৌভাগ্য হয় নি ৷আসলে আমি যেহেতু গ্রামে থাকি তাই এখানে রেস্টুরেন্টে নেই ৷তবে ইচ্ছে আছে কোনো একদিন শহরে গিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো মানের কাচ্চি খাবো ৷