জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ব্যাচেলর পয়েন্ট নিয়ে আমার অভিমত।
টাইটেল দেখে আপনারা হয়তো মনে করেছেন আমি আজকে ব্যাচেলার পয়েন্ট নাটকের রিভিউ দিতে চলেছি। কিন্তু আমার পুরো লেখাটা পড়লে বুঝতে পারবেন আসলে আমি এই নাটকের রিভিউ করতে বসিনি। নিম্নমানের কনটেন্টের বিপক্ষে আমি আমার অবস্থান তুলে ধরেছি।
মোবাইল থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
| নাটকের পরিচালক📽️ | কাজল আরেফিন অমি |
|---|---|
| প্রযোজক | তৌহিদ তালুকদার |
| কাহিনী | কাজল আরেফিন অমি, সালমান ফারসি |
| অভিনেতা/অভিনেত্রী | জিয়াউল হক পলাশ, মিশু সাব্বির, মারজুক রাসেল, চাষী আলম, সাবিলা নূর, পারশা ইভানা |
আপনারা যারা বাংলাদেশের নাটক দেখেন। তারা জানেন বর্তমানে পরিচালক কাজল আরেফিন আমির পরিচালিত নাটক ব্যাচেলার পয়েন্ট অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিক নাটক। বর্তমানে বাংলাদেশের নাটকগুলোর মান অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ নাটকই দর্শক প্রিয়তা পায় না। কিন্তু এই নাটকটি প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমি এই নাটকটা দেখা শুরু করেছিলাম সিজন ৩ থেকে। সিজন ৩ এর শেষের দিকে নাটকটি বেশ জমে উঠেছিলো। সিজন ৩ একটি ট্রাজেডির মাধ্যমে শেষ করা হয়েছিল।
সেজন্য এটার দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলে ছিল। দর্শকদের দাবি ছিল এটার পরবর্তী সিজন আনার জন্য। পরিচালক অমি সেই আহবানে সারা দিয়ে সিজন ফোর চালু করে। এখন এই নাটক সম্বন্ধে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরবো। হতে পারে আপনারা যারা এই নাটকের রেগুলার দর্শক। তারা অনেকেই আমার সাথে একমত নাও হতে পারে। এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। যখন আমি এই নাটকটি প্রথম দেখা শুরু করি তখন কিছু পর্ব মোটামুটি ভালো লেগেছিল।
কিন্তু যতই দিন গড়াতে লাগলো ততই বুঝতে পারলাম এখানে আসলে কাহিনীর গভীরতা বলতে তেমন কিছু নেই। অর্থহীন কিছু বিষয় নিয়ে দিনের পর দিন এই নাটকটি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও সিজন ৩ শেষের দিকে একটি ট্রাজেডির মাধ্যমে সিজনটি শেষ করা হয়। সেই কারণে নাটকটি নিয়ে সবার ভিতর ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। সিজন ফোর এর আমি এখন পর্যন্ত প্রায় সবগুলো পর্বই দেখেছি। কিন্তু এবারও আমি হতাশ। কারন এখানেও কাহিনীর গভীরতা বলতে তেমন কিছু পাইনি। আপনারা মনে করতে পারেন কাহিনী পছন্দ না হলে নাটকটি আমি কেন দেখছি? সেটার একটি কারণ হচ্ছে এই নাটকের মূল চরিত্রগুলোর সবাই দুর্দান্ত অভিনেতা। তেমন ভালো একটি কাহিনী ছাড়াও তারা নাটকে দর্শকদেরকে ধরে রেখেছে। এটা অনেক বড় একটি কাজ। এই কাজটা অভিনেতাদের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়।
আমরা যারা ৯০ দশকের দর্শক। তারা বিভিন্ন কালজয়ী নাটক দেখে অভ্যস্ত। যার ফলে আমাদেরকে ইমপ্রেস করা এত সহজ নয়। আমরা সংশপ্তক, আজ রবিবার, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই এমন আরও অসংখ্য কালজয়ী নাটক দেখে বড় হয়েছি। সেই নাটকগুলোর কাহিনী যেমন ছিল দুর্দান্ত তেমনি ছিল অভিনেতাদের অভিনয়। এজন্য আমাদের চোখে ভালো নাটকের মানদন্ডটা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজকালকার জেনারেশনের কাছে হয়তো এই ব্যাচেলর পয়েন্ট অনেক ভালো লাগবে। কারণ তারা আমাদের মত সেই কালজয়ী নাটকগুলি দেখার সুযোগ পায়নি। যদিও ইউটিউবে ঘাটলে আপনি পুরনো নাটকগুলি বেশ সহজেই পেয়ে যাবেন। হয়তো সেগুলোর প্রিন্ট খুব একটা ভালো হবে না দেখতে। তাছাড়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই নাটকগুলি অনেক পুরনো মনে হতে পারে।
কিন্তু যদি আপনি ভালো কাহিনীর নাটক দেখতে চান। তাহলে এখনো সেই নাটকগুলোর বিকল্প বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। আপনি চিন্তা করুন একটি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের কারণে পুরো দেশ অচল হয়ে গিয়েছিলো। যে চরিত্রের নাম ছিল বাকের ভাই। আর এই চরিত্রের স্রষ্টা ছিলেন বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় লেখক এবং পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ। আমিও জানি হয়তো এমন নাটক আর কখনো আসবে না বা এমন নাটক কালে ভদ্রে আসে। বর্তমানেও যে ভালো পরিচালক বা ভালো গল্পের নাটক হয় না সেটা নয়। কিন্তু সেই ধরনের নাটকের সংখ্যা খুবই কম।
আমাদেরকে সবসময় ভালো কনটেন্টকে সমর্থন করতে হবে। ব্যাচেলর পয়েন্টের মত নাটক এড়িয়ে চলায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদিও ব্যাচেলর পয়েন্টে অভিনয় করা কলাকুশলীদের নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। তারা তেমন কোন কাহিনী না থাকা সত্ত্বেও এই নাটকে দুর্দান্ত অভিনয় করছেন। কিন্তু অর্থহীন ডায়লগ আর অশ্লীল সংলাপের কারণে এই নাটক তার মান আরো নিচে নামিয়ে ফেলেছে। এজন্যই আমাদের উচিত ভাল কনটেন্ট দেখার মানসিকতা তৈরি করা এবং সেটাকে সমর্থন করা। তাহলে পরিচালক প্রযোজক ওনারাও চিন্তা করবেন ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। না হলে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা যাবে না। কিন্তু ব্যাচেলর পয়েন্ট এর মত কনটেন্টকে যখন আমরা সাপোর্ট করবো তখন ভালো কাহিনীর নাটক এর পরিচালক বা কলাকুশলীরা ভালো কাজ করতে তাদের আগ্রহ হারাবে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ব্যাচেলার পয়েন্টের দুই তিনটি পর্ব দেখেছি। কিন্তু এই নাটক কখনো ফ্যামিলির সাথে বসে দেখার মত নয়। দুই তিনটি পর্ব দেখেই আমি ব্যাচেলার পয়েন্টের উপর বিরক্ত চলে এসেছে। যখন ব্যাচেলার পয়েন্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো তখন আমি ব্যাচেলার পয়েন্ট নাটক এর কিছু শর্ট ভিডিও দেখে নাটকের প্রতি ঘৃণা জমে গেছে। তাইতো আমাদের নবীন বা তরুণ সমাজের সকলের মুখে গালি থাকে। কারণ তারা তাদেরকে (অভিনেতাদের) কপি করে স্টাইল করে চলে। কয়েক বছর আগেও আমি আম্মুর সাথে নাটক দেখতে পারতাম, কিন্তু এখন আম্মুর সাথে নাটক দেখতে গেলেই ভয় কাজ করে না জানি কোন লজ্জায় পড়তে হয়। নাটক গুলোর মধ্যে এখন সামাজিকতা নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে সময় পেলে আমি ৯০ দশকের নাটক গুলো দেখি। আসলেই তখনকার নাটকগুলোর মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় ছিল। অশ্লীলতা নেই বললেই চলে। খুব সুন্দর কথা তুলে ধরেছেন আপনি ভাইয়া।
আমি এই কথা গুলোই সবাইকে বলি কিন্তু কেউ বুঝে না।আর বর্তমান জেনারেশন নাটক বলতে সস্তা কিছু বিনোদন আর গালিগালাজকেই বুঝে।যাইহোক অডিয়েন্স রাই ভালো না,আর নির্মাতাদের দোষ দিয়ে লাভ কি😅।
ব্যাচেলর পয়েন্টের নাটক টা আমি প্রথম বেশ মজা নিয়েই দেখতাম। এবং তাদের অভিনয় গুলোও বেশ সুন্দর এবং ফানি ছিলো,কিন্তু আস্তে আস্তে অশ্লীল চলে এসেছে আমার মনে হয়,তাই আর দেখা হয় না।আসলে কিছু কিছু নাটক পরিবার নিয়ে দেখা যায় না।
ব্যাচেলার পয়েন্ট এক আমি কয়েকটা পর্ব দেখেছি। কিন্তু এরপর দুই, তিন, চার যেগুলো এসেছে এগুলো একটাও আমার দেখা হয়নি। আসলে এটা ঠিক বলেছেন, এই নাটকের গভীরতা বলতে কিছুই নেই। নাটকটির ভেতরের শুধু ভাষা ব্যবহারকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে। ওরা মনে করছে শুধুমাত্র এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করলেই সবাই হাসবে। আমার নিজেরও এই ধরনের ভাষা ব্যবহার দেখে পছন্দ নয়। আসলেই জানি না কেন এটা এতটা জনপ্রিয়। তবে হ্যাঁ অভিনেত্রীরা ভালো অভিনয় করে এমনিতে।
ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটক টি সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। আসলে অভিনয় শিল্পীরা খুবই দক্ষতার সাথে অভিনয় করেছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে এর জনপ্রিয়তা যেন আরো ফিকে হয়ে যাচ্ছিল। কারণ একটাই এসব নাটকগুলোতে যখন অশ্লীলতায় ভরে যায় তখন নাটক দেখার মত অবস্থান থাকে না। আর পরিবার পরিজনের সামনে এই নাটকগুলো দেখতেও বেশ খারাপ দেখায়। আমরা যদি এই নাটকগুলোকে এভয়েড করি তাহলে অবশ্যই ভালো মানের নাটক দেখতে পাবো। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগলো।
টাইটেল দেখে আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের রিভিউ দিচ্ছেন। কিন্তু পুরোটা পড়ে বুঝতে পারলাম আপনি এ নাটকের মেইন পয়েন্টটা তুলে ধরেছেন। আসলে আমিও কিন্তু এই ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটি দেখেছিলাম শুরু থেকে। কিন্তু পরপর যখন এই নাটকটি অন্যরকম হতে শুরু করল তখন আর ভালই লাগছিল না। কারণ যে নাটকের গভীরতা নেই সেই নাটক দেখার মধ্যে কোন আনন্দ নেই। শুধুমাত্র অভিনয় করে চলেছে গতানুগতিক ধারায়।আপনার মতামতের সাথে আমিও একমত। সেই জন্যই এখন আর কোনো এপিসোড দেখা হয় না। যাইহোক সুন্দর একটা ফিডব্যাক দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই।
ব্যাচেলার পয়েন্ট নাটক টা শুরু হওয়ার পর পরই দেখলাম অনেকেই দেখা শুরু করেছিল কিন্তু আমার কেন জানিনা এটি ভালো লাগতো না। তবে অভিনেতাদের কথা আলাদা, তারা সব সময় খুব ভালো অভিনয় করে। কারণ অন্যান্য নাটকগুলো দেখা হয়েছে। তবে ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের বিভিন্ন ধরনের বাচনভঙ্গি দেখেই আমার এই নাটকের প্রতি একটা অনীহা চলে এসেছিল। আর সেই হিসেবেই নাটকটা আমার তেমন একটা দেখা হয়নি। তবে আপনার আজকের এই পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম এখন খুব বাজে পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেল এই ব্যাচেলর পয়েন্ট এর মধ্যে। যাইহোক মতামত পেয়ে খুব ভালো লাগলো।
সত্যি বলতে কিছু কিছু সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ এমন ব্যানার বানায়, আর এমন প্রমোশন করে যে মনে হয় বিশাল কিছু গল্প আছে। কিন্তু দেখতে গিয়ে আমরা বেশ ডিজঅ্যাপয়েন্টেডই হই।আমি যা বুঝলাম আপনার রিভিউটা পড়ে আপনিও খুব একটা সন্তুষ্ট নন নাটকটা নিয়ে। এদিকে তো নাটক বলে ওরকম কিছু হয় না। বা অত পপুলারিটি ও নেই। তবে ওয়েবসিরিজ ও সিনেমা গুলো এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে পরিবার নিয়ে মোটেই দেখা যায় না। মায়ের সাথে বসে একটা ওয়েব সিরিজ দেখতে গিয়ে আমি রীতিমতো লজ্জায় কান লাল করে ফেলেছিলাম। সত্যিই সমাজের অবক্ষয় হওয়ার আগে এই দিকগুলোতে অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত।