কফি হাউসের আড্ডা এবং রিভিউ।। জুন -২৬/০৬/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
আমাদের সবার পছন্দের ইন্ডিয়ান কফি হাউস যেটা অবস্থিত college street, যার পাশে রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার সংস্কৃত কলেজ ছাড়াও বিখ্যাত কিছু জায়গা। আসলে এই জায়গাটাতে আমার মাঝেমধ্যেই যাওয়া হয় কারণ আপনারা অনেকেই জানেন যে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এর জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাস অনেকটা কলেজ স্ট্রিট এর কাছেই অবস্থিত। প্রথম যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম তখন মাঝেমধ্যেই কফি হাউস যেতাম। তবে বর্তমানে সেখানকার কফি খেয়ে এমন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে যে ভুল করেও সেই জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা জাগেনা। যদিও এই কথাগুলো কেন বলছি সেটা আপনারা একটু পরেই বুঝতে পারবেন। শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান কফি হাউসে যাওয়ার আমার প্রধান যে কারণ থাকে সেটা হলো এখানে মাঝেমধ্যেই বিখ্যাত লোকেরা এসে আড্ডা মারে, চা কফি খায়। সেটা দেখার জন্যই মাঝেমধ্যে যেতাম। তবে এখন সেই ব্যাপারটা এতটাই কমন হয়ে গেছে যে আর যেতে ইচ্ছা করে না।
বিখ্যাত একজন শিল্পী মান্না দে যার একটা গান ছিল কফি হাউসকে কেন্দ্র করে। সেই গানটা আশা করি আপনারা সকলেই শুনেছেন। যদিও সেই গানটা তিনি যে এক্সপেক্টেশন নিয়ে লিখেছিলেন সেটা যদি এখনকার সময় হতো তাহলে হয়তো তিনি এই কফি হাউজ নিয়ে গান লিখতেন না। কলকাতার কফি হাউস একটি বিখ্যাত জায়গা যেখানে প্রায় সারাদিনই ভিড় থাকে এবং লোক সংখ্যা এতটাই থাকে যে মাঝেমধ্যে তো সিট পাওয়া যায় না বসার জন্য। আমি যতবারই গেছি তার মধ্যে প্রায় অধিকাংশ সময় আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সিট পাওয়ার জন্য। অনেক সময় পরে হয়তো একটা সিট পাওয়া গেছে। যাই হোক কফি হাউজের যে বিখ্যাত কফি সেটা নিয়ে কয়েকটা একটা কথা বলি। আমি লাস্ট বার যখন কফি খেয়েছিলাম তখন মনে হয় এক কাপ কফি ১৫ টাকা করে নিতো। তবে কোল্ড কফির দাম তার থেকে একটু বেশি। এবার যদি কফির কথা বলতে হয় তাহলে এক কথাই বলব যে সেটা একেবারেই মুখে দেওয়ার মতো নয়। আমরা বাইরে পাঁচ দশ টাকা দিয়ে যে কফি কিনে খাই সেটা আরো হাজার গুণে ভালো। মাঝেমধ্যে তো এমনও মনে হতে পারে যে আপনি কফি খাচ্ছেন, নাকি চিনি দেওয়া গরম জল খাচ্ছেন বুঝতে পারবেন না।
এরপর আমরা খেয়েছিলাম সেখানকার বিখ্যাত ফিস কবিরাজি, যেটা সত্যিই বেশ ভালো লেগেছিলো এবং আপনারা যদি কখনো কফি হাউসে যান তাহলে এই জিনিসটা অবশ্যই খেয়ে আসবেন। তাছাড়াও ছিল চিকেনের কিছু আইটেম যেগুলো আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। তবে ওখানে লোকে বেশিরভাগ কফির সাথে স্যান্ডউইচ খেতে যায়। যেটা আমার কাছে একেবারেই জঘন্য মনে হয়। লোকে যে কি করে খাবারগুলো খায় আবার মাথায় আসেনা। হ্যাঁ তবে আপনি কি শখ করে একদিন যেতে চান বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা মারতে চান সেখানে বসে তাহলে ঠিক আছে। তবে এই এক্সপেক্টেশন নিয়ে যদি আপনি যান যে ওখানকার খাবার খুব টেস্টি হবে তাহলে আপনাকে রীতিমতো হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। আর একটা কথা সেখানকার ওয়েটারদের ব্যবহার অতিমাত্রায় জঘন্য। আপনি বুঝতে পারবেন না যে সেখানকার ওয়েটারগুলো আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে চলে গেল। অবশ্য তাদের আর কি দোষ দেব, কারণ তারা সারাদিন এতটাই ব্যস্ত থাকে যে ছোট ছোট কারণে মাথা গরম করে ফেলে। তবে তার থেকে অনেকটা বড় সমস্যা হলো ওখানকার লোকজন এত জোরে জোরে কথা বলে যে আপনি শান্ত হয়ে বসতে পারবেন না। মনে হবে আশেপাশে শুধু চিৎকার চেঁচামেচি চলছে। এই সকল দিক বিচার বিশ্লেষণ করে আমার কাছে মনে হয় যে কফি হাউসে না গিয়ে নরমাল একটা রেস্টুরেন্টে বসে ঠান্ডা হয়ে কফি খাওয়া বা অন্যান্য খাবার খাওয়া তার থেকে হাজার গুনে ভালো।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রিভিউ পোস্ট। |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung Galaxy M31s |
| ফটোগ্রাফার | @rupaie22 |
| লোকেশন | কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা। |
আপনার কফি হাউজের রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগল। তবে জেনে খারাপ লাগল যে নরমাল রেস্টুরেন্টে এর চেয়ে খাবারের মান খারাপ বলে।তাহলে কষ্ট করে কফি হাউজে যেতে হবে না। সত্যি বলেছেন ভাইয়া বিখ্যাত জায়গায় ভির একটু থাকবেই। ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে আপু কোন কোনো জায়গা একবার বিখ্যাত হয়ে গেলে তারা তাদের সেই মান ধরে রাখতে পারেনা। এজন্য খাবারের মান অনেক নিচে নেমে যায়। কফি হাউজের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এরকমই হয়েছে।
"কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই আজ আর নেই"আপনার কফি হাউজের আড্ডা এবং রিভিউ পরতে গিয়ে গানটি মনে পড়ে গেল। তবে গানটি যত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, কফি হাউসটি সেরকম খাবারের দিক থেকে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। তা আপনার পোস্ট পরেই বুঝতে পারলাম। কফি হাউজের মধ্যে যদি কফিটাই স্বাদ না লাগে, তাহলে কফি হাউজে আড্ডা কি করে হবে। যাইহোক ভাই, কফি হাউজ নিয়ে সেরকম কোন ধারণা ছিল না, আপনার পোস্ট পড়ে ধারনা পেয়ে গেলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে কফি হাউজের আড্ডা এবং কফি হাউজের রিভিউ দেয়ার জন্য।
আসলে ভাই খাবারের মান অনেক ভাল ছিল আগে। আমি তো ছোটবেলায় শুনেছি তখন আমার বাবা যেত ওখানে। বাবার মুখে অনেকবার শুনেছি তখনকার খাবার এর মান খুব ভালো ছিল। তবে এখনকার সময় সেই মান অর্থাৎ খাবারের সেই টেস্ট তারা নষ্ট করে ফেলেছে।
ভাইয়া আপনার কফি হাউজের রিভিউ পড়ে আমার তো পুরো ধারনাই পাল্টে গেল । এতদিন কি ভেবেছিলাম আর কি বেরোলো ।যে কফি হাউজের এত সুনাম সেই কফি খেতে এতটা জঘন্য সত্যি আমার জানা ছিল না ।যদিও কফির দাম আমার কাছে একেবারে কম মনে হয়েছে। কারণ আমাদের এখানে ৫০ টাকার নিচে তো কফি পাওয়াই যায় না । আর ১৫ টাকায় কি বা কফি দিবে। যাই হোক মান্না দের সেই গানের জন্য হলেও হয়তো অনেকে এই কফি হাউজে যায় । আমারও যেমন যাবার ইচ্ছে আছে। ফিস কবিরাজি খাবারটির নাম শুনেছি এটি খেতে যে বেশ ভালো তা আপনার কাছ থেকে জেনে ভালো লাগলো ।ধন্যবাদ আপনাকে ।
আসলে আপু খাবারের মান আগে অনেক ভালো ছিল, তবে দিনের পর দিন সেই সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনি যদি ঘুরে দেখে আসতে চান তাহলে ঠিক আছে।
এখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে ভিতরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
সুমন দা আপনি ভিতরে গিয়ে ঘুরে দেখে আসতে পারতেন, ঐতিহাসিক জায়গা তো। তবে ওখানকার খাবার-দাবারের মান খুবই জঘন্য। এজন্য আপনার কাছে ভালো নাও লাগতে পারে।
শিল্পী মান্না দের কফি হাউজকে কেন্দ্র করে গানটা শুনেছি, তবে কফি হাউস যে এতটা বড় জায়গা নিয়ে গঠিত সেটা তো জানতাম না। এত বড় জায়গা হওয়া সত্বেও এখানে সারাক্ষণ প্রচুর লোকের ভিড় লেগে থাকে ,এটা তো সত্যিই অনেক জনপ্রিয় একটি জায়গা। সেখানকার কফি খেতে ভালো না হলেও ,অন্তত তুমি যখন বলছ ফিস কবিরাজি খেতে ভালো, একবার গিয়ে ফিস কবিরাজি খেয়ে আসবো । অন্তত জায়গাটা একবার দেখা তো হবে।
একবার গিয়ে ঘুরে আসতে পারো তাতে সমস্যা নেই। তবে ওখানে খাবারের যে মান তাতে মনে হয় না একবারের বেশি ওখানে তোমার যেতে ইচ্ছা করবে।
আসলে এখন বেশিরভাগ জায়গার কফিশপ গুলোতে লোকজন যায় আড্ডা দিতে। খাবারের মান মোটামুটি ভালো হলেই অনেকে বার বার যায় শুধুমাত্র টাইম পাস করতে। তবে কফিশপের কফি যদি ভালো মানের না হয়,তাহলে এটা সত্যিই খুব লজ্জাজনক। অন্যান্য খাবারের স্বাদ কিছুটা খারাপ হলেও চলে,তবে কফিশপের কফি অবশ্যই ভালো হওয়া উচিত। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি যদি শুধু একবার টাইম পাস বা দেখতে যেতে চান তাহলে ঠিক আছে। এমনি ওখানকার খাওয়া-দাওয়া একেবারেই জঘন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই, আপনার সাথে একমত পোষণ করছি। ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
কফি হাউজের আশেপাশে দিয়ে ঘোরাফেরা করেছি তবে ভেতরে যাওয়া হয়নি কখনো। এর আগেও আমি বেশ কয়েকটা রিভিউ দেখেছি কফি হাউজ নিয়ে। আপনার মত সবার মুখেও একই কীর্তন শুনেছি 😅। তারপরেও ঐতিহাসিক এই জায়গাটা একবার দর্শন করার ইচ্ছা আছে। আমি জানি আড্ডা দেয়ার জন্য এই জায়গাটা মোটেও সুবিধার না আমার জন্য। কারণ হইচই চেঁচামেচি আমার একদম ভালো লাগে না। সে যাই হোক তবে আপনার এই ফিশ ফ্রাই এবং ফিস কাটলেট এর কথা অনেকবার শুনলাম ভাই। শুধু ভাবছি কবে যাবো ইন্ডিয়া আবার, এই খাবারটা এবার আর মিস করছি না।
আপনি যতবারই জিজ্ঞাসা করবেন আমি ততবারই বলবো যে ফিস কাটলেট বা ফিশ ফ্রাই, এটা খেতে মিস করবেন না, যদি কলকাতা কখনো ঘুরতে আসেন তাহলে। আর কফি হাউসের যে রিভিউ এটা যে ই ওখানে যাবে একই রকম রিভিউ দেবে। এর কোন পরিবর্তন হবে না। কারণ ওখানকার পরিবেশ এখন আগের মত নেই।