ঘাটশিলা ভ্রমণ-অষ্টম পর্ব ( বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি)।। এপ্রিল -২৭/০৪/২০২৩।।

☬নমস্কার সবাইকে☬

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

আজকের পোস্টটা লেখার শুরুতেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দু এক লাইন কথা লিখতে চাই। আমরা যারা মোটামুটি গল্প, উপন্যাস পড়তে খুব পছন্দ করি তারা খুব ভালো করেই এই মহান লেখক কে চিনবো। তবে যারা চেনেন না তাদের উদ্দেশ্যে আর কি দু-একটা কথা। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত উপন্যাস। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আরণ্যক, চাঁদের পাহাড়, আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর প্রত্যেকটা গল্পই আমি পড়েছি। সব থেকে বেশি সানডে সাসপেন্স এ তার লেখা ছোটগল্প প্রকাশিত হয়। তবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কে কেন্দ্র করে তিনি অনেক গল্প লিখেছেন। এর ভিতর সব থেকে আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয়েছিল সেটা হল যে তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প। যারা নিয়মিত সানডে সাসপেন্স শোনেন তারা হয়তো এই ব্যাপারে যথেষ্ট জেনে থাকবেন। যাইহোক যতটুকু প্রথমে বলার সেটুক বলে দিলাম, এবার আসি অন্য কাহিনীতে।

InShot_20230427_145326090.jpg

বিশিষ্ট লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ছিল আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা নামক একটা জায়গায়, যেখানে আসলে আমরা ঘুরতে গেছিলাম। যেহেতু আমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব বড় একজন ফ্যান এবং তার লেখা অনেক গল্প আমি পড়েছি তাই তার বাড়িটা বা বসতভিটেটা দেখার ইচ্ছা আমার প্রচন্ডভাবেই ছিল। ঘাটশিলায় আসলে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা নিজস্ব মিউজিয়াম এবং তার প্রতিষ্ঠিত করা একটা ইস্কুলও আছে,যেটা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে সেটা নিয়েও একটা পর্ব আমি তৈরি করব। ঘাটশিলা ভ্রমণের এটা ছিল আমাদের তৃতীয় দিন। প্রথম দুদিন তো প্রচন্ড রকম ধকল গেছিল আমাদের। পাহাড়ি অঞ্চলে এমনিতেই রোদের তাপ প্রচন্ড পরিমাণে থাকে, তারপর আবার পাথরের গরম, সবমিলিয়ে দুইদিন খুব কষ্ট করে ঘুরাঘুরি করেছিলাম, তবে মজা হয়েছিল এটা তো ঠিক আছে। আমরা তৃতীয় দিন একেবারেই ফাঁকা রেখেছিলাম কিছু পার্টিকুলার জায়গায় ঘোরার জন্য, তার ভিতর বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বাড়িটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল।

20230224_094821.jpg

যাই হোক আমরা একদম সকাল সকাল বেরিয়ে গেলাম বিভূতি বাবুর বাড়ি দেখার জন্য। আসলে আমরা যে গাড়িটা ঠিক করেছিলাম তিনি আমাদের নিয়ে গেছিল সেই বিখ্যাত জায়গায়। প্রথমদিকে তো আমরা ভেবেছিলাম হয়তো অনেকটা দূরে যেতে হবে গাড়িতে করে, তারপরে দেখলাম যে মোটামুটি দশ মিনিটের ভিতরেই সেখানে এসে পৌঁছে গেলাম। আসলে আমরা জানতামও না যে আমরা যে হোটেলে ছিলাম তার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে এই জায়গাটা অবস্থিত। কারণটা যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে অন্তত সন্ধ্যার পর হেঁটে গিয়ে দেখে আসতাম। যাই হোক আমরা সকালে টুকটাক কিছু খাওয়া-দাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে। প্রথমে তো ভেবেছিলাম যে এত বড় মাপের একজন লেখক হয়ত তার বাড়ির ঘর জমিদারি স্টাইল এ হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি রীতিমতো অবাক। সামান্য একটা ঘর তাতে রয়েছে মাত্র দুটো রুম এবং টালির চাল দেওয়া বাড়ি। তবে কিছু কিছু জায়গায় কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে শুধুমাত্র এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য। সেখানকার যারা দায়িত্বরত লোকজন ছিলেন তাদের সাথে কথা বলে যেটা বুঝলাম যে, পশ্চিমবাংলা সরকার এই দিকটাতে খুব বেশি একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এত বড় মাপের একজন লেখক হওয়া সত্বেও দিনের পর দিন সেই ব্যাপার গুলো প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

20230224_094839.jpg

যাইহোক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ভেতরে একটা খুব সুন্দর মিউজিয়াম রয়েছে, সেটা নিয়ে অন্য একদিন কোন একটা পোস্ট করা যাবে। আজকে শুধু আমরা বাইরের কিছু অংশ দেখব। এরপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম তারাদাস মঞ্চ বা অপুর পাঠশালায়। এখনো নাকি এই জায়গাতে বাচ্চাদের পড়ানো হয় ফ্রিতে। তবে আমরা যখন গেছিলাম তখনও সেখানে বাচ্চারা এসে পৌঁছায়নি, তাহলে হয়তো সেখানকার কিছু ফটো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারতাম। যাই হোক তারপরও ফাঁকা মঞ্চের একটা ফটো এখানে শেয়ার করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে লাগানো একটা আমের গাছ যেটাতে তখন সবে মুকুল ধরেছে। তারপর সেখানে যারা ঘুরতে আসে তাদের জন্য ছিল বেশ কিছু বসার জায়গা। তাই ছাড়া বাড়ির ভিতর আর তেমন কিছু দেখতে পাইনি। এরপর আমরা সেখান থেকে ঢুকে গেলাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে, যেখানে আসলে তার সমস্ত স্মৃতি রয়েছে। আসলে বিভূতি বাবুর ঘরের ভিতর ঢুকে আমরা সবাই অনেকটাই অবাক হয়ে গেছিলাম, সেটা নিয়ে না হয় সামনে অন্য একটা পর্ব তৈরি করব।

20230224_094844.jpg

20230224_094851.jpg

20230224_094854.jpg

20230224_094910.jpg

20230224_094932.jpg

20230224_095019.jpg

পোস্ট বিবরণ


শ্রেণীভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট।
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@rupaie22
লোকেশনঘাটশিলা, ঝাড়খন্ড।
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।

🎯ধন্যবাদ সবাইকে🎯

Sort:  

This post was selected for Curación Manual (Manual Curation)

@tipu curate

 3 years ago 

গল্পের শুরুতে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর সম্পর্কে লেখাগুলো পড়ে বুঝতে পারলাম ,গল্পের বই পড়তে তোমার বেশ ভালো লাগে। ঘাটশিলা ভ্রমণের তৃতীয় দিনে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ তোমার প্রিয় একজন লেখক এর বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলে দেখছি। মাত্র ১০ মিনিটের পথ ছিল গাড়িতে তাহলে তো বেশ কাছেই ছিল। সত্যিই তাই এত বড় মাপের একজন লেখক এর বাড়ি, আমিও তো ভেবেছিলাম মহল টাইপের হবে। তবে ওনার ঘরের ভিতরে সুন্দর একটা মিউজিয়াম রয়েছে সেটা শুনে তো জানার আগ্রহ থাকলো। অপুর পাকশালায় বাচ্চাদের ফ্রিতে পড়ানো হয় বা দারুন ব্যাপার তো। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে লাগানো আম গাছ দেখতে পেলে,বাহ্। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের ভিতর কি কি আশ্চর্য জিনিস দেখলে ,সেটা নিয়ে আগ্রহ থাকল পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

আমি প্রচুর পরিমাণে গল্পের বই পড়তে পছন্দ করি এবং আমি নিজেও এটাই চিন্তা করেছিলাম যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি হয়তো কোন বড় মহলের মত হবে। কিন্তু তার সহজ সরল এবং সাদামাটা জীবন যাপনের যে দৃশ্যপট, সেটা দেখে সত্যিই বেশ অবাক হয়েছিলাম।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দৃশ্য গুলো দেখে ভালই লাগলো। কত স্মৃতি চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভাইয়ের জন্য লাগানো আম গাছটিও এখন দাড়িয়ে আছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন খুব বড় মাপের লেখক। তার লেখা গল্পগুলো যদি পড়ে থাকেন তাহলে তো অবশ্যই বুঝতে পারছেন। তবে সেই অনুযায়ী তার বাড়ির কোন সংস্কার তেমন একটা করা হয়নি। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে পোস্ট পড়ার জন্য।

 3 years ago 

সাহিত্য জগতের অনন্য এক নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সবার প্রথমে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই যে এত চমৎকার একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। এরকম দর্শনীয় জায়গা আদৌ কখনো সামনাসামনি দেখার সৌভাগ্য হবে কিনা জানি না। বেশ মন দিয়ে লেখাগুলো পড়লাম আর ছবিগুলো দেখতে দেখতে নিজেকে আপনাদের দলের একজনই ভাবছিলাম। আপনার মত আমিও রীতিমতো অবাক হয়েছি এরকম এত বড় মাপের একজন সাহিত্যিকের বাড়ি এতটা সাদামাটা ছিল এই জিনিসটা দেখে। সত্যি কথা বলতে বড় মনের মানুষগুলো হয়তো এমনই হয়। আরেকটা পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা।

আসলে জায়গাটা খুব বেশি দূরের নয়, কলকাতা থেকে মোটামুটি তিন চার ঘন্টাই লাগে যেতে। আর সরকার থেকে তেমন বিশেষ কোন অনুদান দেয়া হয় না জন্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির এই অবস্থা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65335.22
ETH 1948.43
USDT 1.00
SBD 0.37