শৈশবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা : একশত টাকা (পর্ব -০৩) শেষ পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বন্ধুরা,

তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমিও মোটামুটি ভালো আছি।

আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে আমার শৈশবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার তৃতীয় পর্ব অর্থাৎ শেষ পর্ব শেয়ার করবো।

rupee-4508801_640.jpg

ইমেজ সোর্স

দ্বিতীয় পর্বের লিংক

ম্যাডাম ক্লাস বাদ দিয়ে আমার এই টাকা খোঁজার পিছনে এমন একটা উপায় বের করেছিল যা সত্যি আমার জন্য অনেক বড় বিষয় ছিল। যাইহোক ম্যাডামের কথা অনুযায়ী ক্লাস রুমের সবাই এক এক করে বাথরুমে যায় কেউ টাকাটা নিয়ে থাকলে তা সেখানে ফেলে আসার জন্য। তবে এই উপায় করার পরও যে টাকাটা নিয়েছিল সে টাকাটা সেখানে ফেলেনি। ম্যাডাম আমার জন্য সত্যি অনেক চেষ্টা করেছিল সেদিন এই টাকাটা পাওয়ার জন্য । তবে টাকাটা না পেয়ে আমার মনটা সত্যি সেই সময় অনেক খারাপ হয়ে গেছিলো।

আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি আমার যে কয়েকজন বন্ধুকে আমার টাকার বিষয়টা বলেছিলাম টাকাটা হারানোর আগে তাদের কাছে গিয়েও আমি অনুরোধ করি, কেউ টাকাটা নিয়ে থাকলে সেটা দিয়ে দিতে না হলে আমি পুজোয় ঘুরতে পারব না। কিন্তু যে নিয়েছিল সে কোন অবস্থায় স্বীকারই করেনি। আমার একটা বন্ধু ছিল রাজ নামে তার উপর আমার সব থেকে বেশি সন্দেহ হয়েছিল। এর আগেও অনেকবার অনেকের জিনিস সে চুরি করে নিয়েছে, সেই বিষয়টার প্রমাণ ছিল। আমি যেহেতু আমার টাকা নেওয়ার বিষয়ে সিওর ছিলাম না তাই আমি তার উপর দোষারোপ করতে পারিনি কিন্তু তাকে আমি অনেকবার রিকোয়েস্ট করেছিলাম টাকাটা নিয়ে থাকলে দিয়ে দেওয়ার জন্য।

ম্যাডামের পুরো ক্লাসটাই টাকা খোঁজার পেছনে গেছিল কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তারপর টিফিনের পরে পরবর্তী ক্লাস শুরু হয় কিন্তু আমি কোন অবস্থায় ক্লাসে মন বসাতে পারছিলাম না। আমি বারবার এই টাকার কথা চিন্তা করছিলাম এবং বাড়িতে গিয়ে কি কৈফিয়ত করব সেই কথা ভাবছিলাম। অবশেষে সেই দিন স্কুলের ঘন্টা পড়ে যায় অর্থাৎ ছুটি হয়। আমি মন খারাপ করে বাড়ি যায়। আমার মন খারাপ দেখেই মা বুঝতে পারে সেই টাকা আমি হারিয়ে ফেলেছি। তারপর অনেক বকাবকি হয়। মনের কষ্ট মনে নিয়ে চুপচাপ থাকি কোন কথা না বলে। কয়েকদিন পর পুজো, সেই সময় কি আমাকে পুনরায় টাকা দেবে এই ভাবনা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকে।

যাই হোক তবে সেইবার পুজোতে পাঁচ দিন ঘোরাঘুরির জন্য পুনরায় আমাকে ১০০ টাকা দিয়েছিল পুজোর প্রথম দিন। সেইবার পুজো ভালই কেটেছিল তবে এই ১০০ টাকা হারানোর কথা পুজোর সময়টাতেও আমি ভুলে যাইনি। কোন না কোনভাবে এই ১০০ টাকা হারানো আমাকে অনেক ব্যথা দিয়েছিল। এই ১০০ টাকা হারানোর জন্য অনেক বছর পর্যন্ত আমাকে বাড়ি থেকে কথা শুনতে হয়েছিল। পরবর্তীতে পুজোর বেশি আগে আর হাতে টাকা দিত না, পুজোর দিনই টাকা দিত পুজোর খরচ চালানোর জন্য।

বন্ধুরা, আজকে শেয়ার করা শৈশবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার শেষ পর্ব তোমাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানিও। সবাই ভালো থাকো, সুস্থ থাকো , সুন্দর থাকো ,হাসিখুশি থাকো , নিজের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো , সবার জন্য এই শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.076
BTC 63464.69
ETH 1661.30
USDT 1.00
SBD 0.43