গল্পঃ "মা" (পঞ্চম পর্ব)
নমস্কার,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো । সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমিও অনেক ভাল আছি। আজ তোমাদের সাথে পূর্বের শেয়ার করা একটি গল্পের তম পঞ্চমতম পর্ব শেয়ার করব । গল্পটির নাম হল "মা"। |
|---|
সকালে কুয়াশা তেমন গাঢ় না হলেও একেবারে পাতলা হয়ে যায়নি। কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো প্রকাশ পাচ্ছে। তপুর বাবা খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকালে তপুর ঘরে গিয়ে দেখে ঘর শুন্য। তপু সেদিন বাড়ি ফিরেনি। কোথায় গেছে কেউ জানেনা। তপুর বাবা খুব চিন্তায় পড়ে গেল। এতবড় শহরে কোথায় তাকে খুঁজবে? সে যে সাবালক তা বলা যায়না। তবে কোথায় যেতে পারে।
তাদের পরিচিত যত বাড়ি ছিল সবখানে খোঁজ নিল কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না। ক্রমে দুপুর হয়ে এলো। বাসায় ফিরে দেখে তপুর মা বিছানায় শুয়ে দুচোখের জলে বালিশ ভিজিয়ে ফেলেছে। নিঃশব্দ পায়ে তপুর বাবা অনিতার কপালে হাত রাখল। শোকের সময় স্নেহের পরশ দুঃখের বেগকে আরো বাড়িয়ে দেয়। অনিতা হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলে, " আমার তপু ফিরেছে?" তপুর মায়ের অবস্থা দেখে দীপঙ্কর নিজের রিক্সা নিয়ে ছুটল ডাক্তার খানার দিকে। বড় নাম করা ডাক্তার।
সেখানে সিরিয়াল দেওয়াই মুশকিল। ওখানে গরীবদের কোন চিকিৎসা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। অনিতার অবস্থা দেখে তপুর বাবা একবার চেষ্টা করতে গেল। ভিড় ঠেলে গিয়ে ডাক্তার মশাইয়ের পা জড়িয়ে ধরল বলল- আমার স্ত্রীকে একটু দেখে দেন তার খুব কষ্ট হচ্ছে। ডাক্তারের কম্পাউন্ডার তাকে ধরে বাইরে বসিয়ে রাখল। বলল এখানে সিরিয়াল ছাড়া কোন রোগী দেখা হয় না। অথচ তিনজন তারা একশত টাকা ঘুষ দিয়ে সিরিয়াল আগে করিয়ে নিল। তপুর বাবা আর কোন কথা না বলে সোফায় স্ত্রীর পাশে বসল। তপুর বাবার অন্তর যন্ত্রনায় ক্ষত-বিক্ষত ও রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে। অসীম ধৈর্যের সাথে এভাবে প্রায় ঘন্টা খানেক বসে থাকার পরে তাদের সিরিয়াল এলো। সিরিয়ালে নাম লেখাতে তিনশত টাকা চাইল । তপুর বাবা একশত টাকা দিয়ে বলল আমার কাছে আর নেই।
চলবে...
মা গল্পটির চতুর্থ পর্ব পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আসলে বর্তমানে মানুষ বড়ই অসহায় । ডাক্তার দেখাতে গেলেও যেন শান্তি নাই। যদিও ভদ্রলোক কয়েকবার চেষ্টা করেছিল তবুও তাকে আবার বাহিরে বসিয়ে দেওয়া হলো। গল্পটি বেশ ভালোই লাগলো। আগামী পর্ব পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
আপু পরিস্থিতি এমন গরিবদের কোন জায়গায় নেই এই সমাজের সুযোগ-সুবিধার জায়গা গুলোতে। সব জায়গায় টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয় আর গরিব লোকের কাছে টাকা না থাকায় তারাই সবথেকে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় । আপু আগামী পর্ব খুব শীঘ্রই আপনাদের সাথে শেয়ার করব । গল্পটি পড়ে আপনার সুন্দর মতামতের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করেছেন।এর আগের পর্বগুলো পড়া হয়নি তবে আজকের পর্ব পড়ে অনেক ভালো লাগলো। বাস্তবেও এমন ঘটনা অনেক দেখা যায় ডাক্তারের কাছে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না। যারা এক দুশো টাকা দিতে পারে তারই ডাক্তারের কাছে আগে যেতে পারে। আপনার পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপু আগের পর্বগুলোও পড়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে । হ্যাঁ আপু সত্যি কথা বলেছেন টাকা দিতে পারলে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়ালও খুব সহজে পাওয়া যায়। বর্তমানে সবকিছুই টাকার খেলা। আপনার সুন্দর মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।