ঘাটশিলা ভ্রমণ : ফুলডুংরি পাহাড়ের উপর

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বন্ধুরা,

তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমিও মোটামুটি ভালো আছি।

আজকের নতুন একটি ব্লগে সবাইকে স্বাগতম । আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে ভ্রমণ মূলক একটি পোস্ট শেয়ার করব। ঘাটশিলায় অবস্থিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি "গৌরী কুঞ্জে" ঘুরে ঘাটশিলা ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন আমাদের অটো চালক আমাদের যে জায়গাটাতে নিয়ে গেছিল সেটা হলো ফুলডুংরি পাহাড়।

20230223_163710.jpg

20230223_163707.jpg

কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই এই পাহাড়টি বিখ্যাত । লেখক এখানে বসেই অনেক কিছুই রচনা করেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাস অরণ্যক এখানে বসেই তিনি লিখেছিলেন। যারা ইতিহাস ভালবাসেন তারা ইতিহাসের টানে এখানে যান লেখকের স্মৃতির মাঝে নিজেদেরকে কিছু সময় রাখার জন্য। ফুলডুংরি পাহাড় ঘাটশিলা স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । এর পাশেই রয়েছে জাতীয় হাইওয়ে। সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথ হয়ে উঠতে হয় এই পাহাড়ের উপরে। পাহাড়ে ওঠার সাথে সাথে পাহাড়ের উপরের অংশে দেখা যায় শাল বনের বাগান। পাহাড়ের উপরে যতটুকু জায়গা রয়েছে প্রায় সব জায়গায় এই গাছ রয়েছে। এই গাছও পর্যটক আকর্ষণেরও কারণ।

20230223_163716.jpg

20230223_163703.jpg

এই পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘাটশিলা শহরের একাংশ দেখা যায়। যা দেখতে সত্যি অসাধারণ লাগে। আমি সেখানে গিয়েই দেখেছিলাম ব্যাপারটা। পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘাটশিলা শহরকে শান্ত দেখতে লাগে। আমরা যখন বন্ধুরা মিলে এর উপরে গেছিলাম আমরা নিজেদের মধ্যে এই জায়গা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এই জায়গাটা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হলেও এই জায়গার তত্ত্বাবধায়নের অভাব রয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এই জায়গাটা যত্ন করে রাখা হয়নি। এখানকার স্থানীয় কিছু লোকেরা এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাত দ্রব্য সেবন করে থাকে তা বোঝা যাচ্ছিল একটা অংশ দেখে। এই বিষয়টা আমাদের কাছে একটু খারাপ লেগেছিল ।

20230223_163700.jpg

20230223_163658.jpg

জায়গাটিতে যখন আমরা গেছিলাম অন্য কেউ ছিলনা ।আমরা বন্ধুরাই শুধু ছিলাম। আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে পাহাড়ে ওঠার সময় আমার এক বন্ধু তো স্লিপ খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল তার জুতোর কারণে। যাই হোক আমরা সবাই মিলে তাকে সামলে নিয়েছিলাম । সেখানে আমরা কিছু খাবার কিনে নিয়ে গেছিলাম সেগুলো সেখানে বসে খেয়েছিলাম বন্ধুরা মিলে । অনেক আড্ডা দিয়েছিলাম আমরা। বেশ একটা অন্যরকম ফিল হচ্চিল আড্ডা দিতে । সেদিন অনেকটা গরম থাকা সত্ত্বেও এই জায়গাতে আমাদের অতটা গরম লাগছিল না কারণ আমরা গাছের নিচে গিয়ে বসে ছিলাম।

20230223_163358.jpg

20230223_163355.jpg

এই পাহাড়ের উপরে গোল করা একটি জায়গা ছিল সেখানে বসে সময় কাটানো যাচ্ছিল। আমি গোল করা অংশে কিছু সময় বসে তারপর চারপাশে একটু হাঁটাহাঁটি করে বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি করে নিয়েছিলাম এই জায়গার। স্মৃতির পাতায় এমন জায়গা ধরে রাখা বেশ আনন্দের ব্যাপার। এখানে আমরা প্রায় কুড়ি মিনিটের মতো সময় ছিলাম । তারপর অন্য একটি স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা করি।


পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীভ্রমণ
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@ronggin
লোকেশনফুলডুংরি পাহাড়, ঘাটশিলা ,ঝাড়খণ্ড।

ফুলডুংরি পাহাড় যাওয়া নিয়ে শেয়ার করা আজকের ব্লগটি তোমাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিও । সবাই ভালো থাকো, সুস্থ থাকো , সুন্দর থাকো ,হাসিখুশি থাকো , নিজের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো , সবার জন্য এই শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে

Sort:  

This is a manual curation from the @tipu Curation Project.
Also your post was promoted on Twitter by the account josluds

@tipu curate

 3 years ago 

আপনার পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এই পাহাড়টিতে বসে অনেক কিছুই রচনা করেছেন। পাহাড়টি কিন্তু সত্যিই খুব সুন্দর। এ ধরনের জায়গায় সময় কাটাতে দারুণ লাগে। তবে দেখে খারাপ লাগলো এই ধরনের জায়গায় স্থানীয় লোকজনেরা নেশা দ্রব্য সেবন করে থাকে। সবমিলিয়ে পোস্টটি এককথায় চমৎকার লেগেছে। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64696.50
ETH 1922.51
USDT 1.00
SBD 0.39