দিন-রাত বৃষ্টি মুখর একটি দিন
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
শনিবার, ০৫ ই অক্টোবর ২০২৪ ইং
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ।এদেশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঋতু বিভিন্ন রকমের সৌন্দর্য নিয়ে আসে। প্রতিটি ঋতু আমাদের কে নতুন নতুন সৌন্দর্য উপহার দেয়।আর আমরা প্রতিটি ঋতুর সৌন্দর্য খুবই সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারি। ঠিক অনুরুপ ভাবে বর্তমান সময়ে শরৎকাল চলছে। শরৎকাল এসে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে অনেক বেশি আলোকিত করে তোলে।আর শরৎকালের একটি বিশেষ সৌন্দর্য হলো হঠাৎ বৃষ্টি। শরৎকালে কখন বৃষ্টি আসবে, আসলে তা বোঝা বড় মুশকিল। শরৎকালের আকাশে প্রায় সব সময় সাদা মেঘের ভেলা ভাসাই।আর কিছু কিছু সময় আমাদের রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ হয়। বর্ষাকালের থেকে শরৎকালের বৃষ্টি একটু বেশি সুন্দর লাগে। শরৎ কালের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার মিষ্টি মিষ্টি রোদ উদিত হয়। কিন্তু বর্ষাকালে বৃষ্টি এক টানা পাঁচ থেকে ছয় দিন চলে।
দুই দিন আগে আমি আমার নানার বাসায় আসছি। দুই দিন ধরেই হালকা করে বৃষ্টি পাত হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি খুবই জোরে জোরে হচ্ছে না।একটু একটু বৃষ্টি আবার রোদ। এরকম ভাবেই চলছে দুদিন।আর এরকম বৃষ্টি গুলি আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। কোথাও একটু খানি ঘুরতে বের হলেই বৃষ্টি চলে আসে। মাঝে মাঝে এরকম বৃষ্টি অনেক টা বিরক্তিকর বোধ হয়। তবু ও বৃষ্টির মাঝে মামাতো ভাই এর সাথে বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করছিলাম। তবে, এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পানিতে ভিজলে অসুস্থ হ ওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবু ও আমরা এই বৃষ্টির পানিতে ভিজিয়েছিলাম।তবে, বৃষ্টির পানিতে ভিজে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। আশা করছি আর সমস্যা হবে না।
রাতের বেলা তেমন একটা বৃষ্টি ছিল না। কিন্তু পরদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পারলাম মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বাহিরে বের হ ওয়ার মতো কোনো সম্ভাবনা নেই। এভাবেই দুপুর হয়ে গেল কিন্তু কোন ভাবেই বৃষ্টি থামার কথা নেই।আর দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে আমার বিরক্ত লাগে। তবে, নিজ বাসায় থাকলে এতোটা বিরক্তিকর মনে হয় না। মানুষের বাসায় এসে এরকম সময় কাটটেই চায় না। এরকম একটি দিন একটি রাতের মতো মনে হয়। যাইহোক, তবুও আমি দিনের বেলা আমার ভাই, বোন এবং খালার সাথে খুবই সুন্দর একটি সময় উপভোগ করেছিলাম এই বৃষ্টির দিনে। তবে, সারাদিন কোথাও বের হ ওয়ার সুযোগ হয়নি।
রাতের বেলা বৃষ্টি কিছুটা থেকে গিয়েছিল।তাই আমি ভাবলাম যে, দোকান থেকে মুড়ি এবং চানাচুর নিয়ে এসে একটি পার্টি দেয়া যায়।আর এই রকম বৃষ্টির দিনে মুড়ি খেতে বেশ মজাদার লাগে।তাই আমি ছাতা নিয়ে বের হলাম দোকানের উদ্যেশে। আমার নানার বাড়ি থেকে দোকানের দুরুত্ব খুবই কম। দোকানের দুরুত্ব প্রায় দেড়শ থেকে দুইশত মিটার হবে।তাই আমি অল্প সময়ের মধ্যে দোকানে গিয়ে পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পারলাম চা বিক্রি করছে। আমিও এক কাপ চা খেয়ে নিলাম।আর বৃষ্টির দিনে চা খেতে বেশ ভালো লাগে।চা খাওয়া শেষ করে আমি কিছু পরিমাণ মুড়ি এবং চানাচুর নিয়ে নিলাম।
মুড়ি এবং চানাচুর গুলো আমার নানার বাসায় নিয়ে চলে আসি। এরপর আমি আমার খালা কে দিয়ে দিলাম।সে খুবই সুন্দর করে মুড়ি চানাচুর গুলো মিক্সড করে এবং আরো তার সাথে আরো বেশ কিছু উপকরণ মিশ্রণ করে। এরপর আমি আমার মামাতো ভাই, বোন ডাক দিলাম। তারা সকলেই চলে আসে। এখন আমরা সকলেই মিলে বসে মুড়ি চানাচুর খাওয়া শুরু করি। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে, আর ঘরে বসে মুড়ি চানাচুর খেতে বেশ ভালোই লাগছিলো। মাঝে মাঝে এরকম সুন্দর সুন্দর সময় উপভোগ করতে বেশ ভালোই লাগে। বিশেষ করে আমি নানার বাসায় গেলে এরকম সুন্দর সময় উপভোগ করতে পারি।তবে, নিজ বাড়িতে এরকম আয়োজন কখনো করা হয়নি। আপনাদের কাছে বৃষ্টির দিনে কী খেতে ভালো লাগে তা অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।
সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Vote@bangla.witness as witness
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
কোন খাবার একা খাওয়ার থেকে সবাই মিলে খাওয়ার মাঝে অন্যরকম একটা আনন্দ কাজ করে। আপনিও ভালো কাজ করেছেন ভাইয়া মুড়ি মাখা নিয়ে নানা বাড়িতে চলে গিয়েছেন। যেহেতু আপনার খালা সুন্দর করে মাখিয়ে দিয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই সবাই মিলে বেশ মজা করে খেয়েছেন। সুন্দর মুহূর্ত দেখে ভালো লাগলো।
বৃষ্টি ভেজা কোন দিনে একা একা খাবার খেতে ভালো লাগে না। সবাই মিলে আনন্দ করা যায় আর খাওয়া যায়। আপনি চমৎকারভাবে নিজের অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছেন এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিন দিন ধরে আমাদের এখানেও বৃষ্টি হলো। কিন্তু বৃষ্টির মাত্রা বেশি জোরে ছিল না হালকা ভাবে হচ্ছিল। কিন্তু সারাদিন ধরে যদি এভাবে বৃষ্টি হয় সেটা বেশ বিরক্তিকর মুহূর্ত। যাহোক নানা বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন এবং বৃষ্টি অনুভব করলেন। আর এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আমাদের মাঝে। যার মধ্য দিয়ে বেশ আপনার অনুভূতি জানতে পারলাম।