ঈদের আমেজ #১ [ অপেক্ষা ]
হ্যালো প্রিয় বন্ধুরা।
আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন আপনারা? দেখতে দেখতে আমরা তিন ভাগের একভাগ রোজা শেষ করে ফেললাম। আর মাত্র ৯ থেকে ১০ টি রোজা হলেই ঈদুল ফিতরের ছোঁয়া লাগবে লাখো কোটি মুসলিমের প্রাণে। এখনো ১০ দিন বাকি থাকলেও আমার কাছে মনে হচ্ছে সবকিছু যেন খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা বছর ঈদের আগে কত আমেজ অনুভব করি। কত প্রোগ্রাম থাকে, সবাই একসাথে কত ঘুরাঘুরি করি!! কিন্তু এবার মন রয়েছে আমার বাড়িতে আমি রয়েছি ঢাকাতে। আগামীকাল একটা পরীক্ষা আছে আর রবিবারে একটা পরীক্ষা আছে। তার পরেই আমি বাসায় চলে যাব। বাসাতে আমার ছোট দুইটা ভাগ্নে, আপু, ওয়াইফ, আব্বু আম্মু, ছোট ভাই সবাই আছে। আমি শুধু বাইরে।
যারা চাকরি করেন আপনাদের মাঝে তারাও এইরকম অনুভব করছেন এখন আমি জানি। চাকরিজীবীদের তো এবার আরেকটু বেশি সমস্যা। ঈদ পড়তেছে শুক্র শনিবারের মধ্যে । শুক্র শনিবারের ছুটি ঈদের মধ্যেই কেটে যাচ্ছে। ঈদ যদি রবিবার সোমবারের মধ্যে হতো তাহলে ছুটিটা অনেক লম্বা হতো। যাইহোক কিছু তো আর করার নেই। এদিকে আমি প্রহর গুনছি কবে ১৬ তারিখে আসবে। পরীক্ষা দিয়ে ব্যাগ পত্র নিয়ে অমনি রওনা দেবো বাড়ির উদ্দেশ্যে। আগের দিন রাতেই ব্যাকপত্র সবকিছু গুছিয়ে রাখবো। খুব এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে।
image source & credit: copyright & royalty free PIXABAY
যারা পুরনো ব্লগার, যারা অনেকদিন ধরে আমার পোস্টগুলো ভিজিট করেন তারা জেনে থাকবেন গত বছরে আমি ঈদের দুদিন আগে একটি পোস্ট করেছিলাম। পোস্টের টাইটেল ছিল কালবৈশাখী শপিং। পোস্টের লিংক এখানেও দিয়ে দিলাম। চাইলে ভিজিট করতে পারেন। পোস্ট লিংক। একটা মজার বিষয় দেখলাম আমার এই পোস্টটি google সার্চ করেও পাওয়া যায়। আপনাদের বিভিন্ন পোস্ট ও আপনারা ইচ্ছা করলে এভাবে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। অনেক সময় পেতে পারেন। সার্চ দিবেন হচ্ছে টাইটেল লিখে, সাথে আপনার স্টিমেটের আইডি নাম লিখবেন এবং স্টিমেট কথাটা উল্লেখ রাখবেন। অনেক পোস্টই পাওয়া যায় দেখলাম।
আচ্ছা যাই হোক যেটা বলতেছিলাম। এ বছরও আমাদের প্ল্যান আছে আমরা সবাই ঈদের দু'একদিন আগে রাত নটা দশটার দিকে শহরে যাব। শপিং তো আমার প্রায় আগেই করা শেষ, কিছু কিনি আরনা কিনি সবাই একসাথে গতবারের মতো অভিজ্ঞতা নিতে যাব। অ্যাডভেঞ্চার বলা চলে খুব ভালো লেগেছিল গতবারের দিনটি। ঠিক সেইভাবে বাইক নিয়ে যাব রাত তিনটে চারটার দিকে ফিরব। আমরা সবাই এই প্ল্যান করে রেখেছি। এখন বাড়িতে যাওয়া বাকি তারপর অনেকগুলো প্ল্যান সাকসেস করতে হবে। আমি আর এক ছোট ভাই রাহুল দুজনই ঢাকাতে রয়েছি। বাকি সবাই গ্রামে চলে এসেছে অলরেডি। এখন গ্রামে আমরা দুজনই শুধু মিসিং। প্রত্যেকটি পরীক্ষা শেষ হচ্ছে আর আমি একটি একটি সাবজেক্ট কেটে দিচ্ছি। শেষ ই হতে চাচ্ছেনা যেন। ভালো মুহূর্ত গুলো আসলে এরকমই হয়।
image source & credit: copyright & royalty free PIXABAY
গ্রামে না থাকলে কি ঈদের আমেজ বুঝা যায়। ছোটবেলায় ঈদের আগে কত কিছু করে বেরিয়েছি। কত দুষ্টুমি করেছি, কত মজা করেছি, বন্ধুদের সাথে কত ঘুরেছি। বয়স বাড়লেও আমার মন মানসিকতা সেই ছোটবেলার মতোই আছে এখনো। একদম পাগলামি করে বেড়াতে মন চায়। আর আমার এমন মনকে আমি কখনোই শাসন করি না। মন যেটা চাচ্ছে সেটা যদি নাজায়েজ না হয় তাহলে আমি কখনোই বারণ করি না। জীবন আর কদিনের। এগুলোই মনে থাকবে সারা জীবন। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন দুঃখ কষ্টে জর্জরিত। মহান আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ রহমতে পবিত্র দুইটি ঈদ আমাদের উপহার দিয়েছেন। এজন্য দুটি ঈদে মুসলিমদের আনন্দের মাত্রা যেন অনেক বেশিই থাকে।
একটা গল্প বলি যেটা আপনারা সবাই রিলেট করতে পারবেন। ছোটবেলায় কিন্তু আমরা যখন শপিং করতাম তখন সেই জামা কাপড় কাউকে দেখাতে চাইতাম না। আলমারিতে সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে দিতাম, কেউ যেন না দেখে। ভাবতাম কেউ যদি দেখে ফেলে তাহলে ঈদ হবে না। এমনটা আপনাদের সবার সাথেই হয়েছে নিশ্চয়ই??? আহ্ সে দিনগুলো সত্যিই অসাধারণ ছিল। ছিল না কোন পেরেশানি, কোন টেনশন। শুধু ছিল কি খাব, কি খেলব আর ঈদে কি পরবো। আল্লাহর রহমতে কখনো জান্নাতে যেতে পারলে সেই দিনগুলো ফিরে পেতে চাইবো একবার।
আমি তিনটি পর্বে ঈদের আমেজের পোস্ট লিখব চিন্তা করেছি। বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। এ কয়দিন আপনাদেরও সুন্দর সুন্দর কিছু পোস্ট দেখতে পারবো আমি আশা করি। ঈদের আমেজ আমাদের বাংলা ব্লগেও লাগুক সেই প্রত্যাশা। ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ্ হাফেজ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
পোস্টটি পড়ে মঝাই পেলাম। সবাই মিলে এডভেঞ্চার হিসাবে ঘুরতে যাওয়া আসলে পরিবারের সাথে ঈদ করার মজাই আলাদা। আপনি তো পরীক্ষার পর রাজা। কে পায় আরি আপনাকে। কিন্তু আমাদের তো সব শেষ। শুক্রবার আর শনিবার পুরাই মাইর। তবে ভাবছি আমিও গুগুলে সার্চ করবো। দেখবো আমার নাম আর পোস্ট পাওয়া যায় নাকি। ভাল থাকুন আর ভাল ভাবে ঈদ করুন।
অনেক ভাল লাগলো ভাইয়া। আসলে আপনার মত আমার মন ও বাচ্চাদের মতোই আছে অনেকটা বিষয়ে।আপনার ঘুরে বেড়ানোর কথা শুনে আমারও বেশ ভাল লাগলো।যদিও কখন আমার গ্রামে ঈদ করা হয়নি।তারপরেও আপনি যে আনন্দ বা সুন্দর সময় কাটান তা বেশ বুঝতে পেরেছি।অপেক্ষায় রইলাম আপনার ঈদ আয়োজনের পোস্টের।ধন্যবাদ ভাইয়া।শুভকামনা রইলো আপনার আর আপনার পরিবারের জন্য।
আপনার পোস্টটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আসলে এরকম পরিস্থিতিতে মনে হয় কবে বাড়ি যাব কবে বাড়ি যাবো কবে সেদিন আসবে যেদিন আমি সবকিছু গুছিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিব। যাইহোক দোয়া করি যেন আপনি আপনার পরীক্ষা শেষ করে সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন। আরে হ্যাঁ ছোটবেলায় আমরাও ঈদের জামা কাপড় কাউকে দেখাতাম না। মনে হতো যেন এখন দেখে ফেললে ঈদ শেষ। সত্যিই তখনকার অনুভুতি গেল একটু অন্যরকম ছিল। যাইহোক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
দেখতে দেখতে আপনাদের সুন্দর ঈদের দিন চলে আসবে।আর দ্রুত সুন্দরভাবে পরীক্ষা শেষ করে আপনি আপনার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে আশা করছি দাদা।গতবারের আপনার কালবৈশাখী শপিং পোষ্টটি আমি পড়েছিলাম।আলাদা একটা উত্তেজনা ছিল শপিং নিয়ে সেখানে, ধন্যবাদ দাদা।
যখন ছোট ছিলাম তখন শপিং করা, ঈদগাহে ঘুরাঘুরি, আত্নীয় স্বজনের বাসায় ঈদ সালামি আনতে যাওয়া, সবমিলিয়ে ঈদের আমেজটা ছিল অন্যরকম। এটা ঠিক বলেছেন শপিং করে কাউকে দেখাতাম না। তাহলে মনে হত ঈদ শেষ হয়ে যাবে। আসলেই সোনালী দিন গুলো ভুলবার মতো নয়। যত দিন যাচ্ছে ঈদের আনন্দ কমে যাচ্ছে। হয়তো এটাই জীবনের নিয়ম। যাইহোক পরীক্ষা শেষ করে সুস্থ ভাবে বাসায় গিয়ে সবার সাথে ঈদ উদযাপন করবেন সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।