মাছ ধরতে বিলে গিয়ে ভূত দেখার গল্প//পর্ব-১
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
শীতকাল মানেই পাটকাঠি পোড়ানোর ধোঁয়া, আলুর পাতা দিয়ে ভাপা রুটি, আর রাতভর কুয়াশার চাদরে মোড়া সাদা গ্রাম। এমনই এক সন্ধ্যায়, রফিক আর নাসির বসে ছিল চায়ের দোকানে। গ্রামে তখন গুজব ছড়িয়েছে মরা বিলে নাকি রাতে মাছের ঝাঁক দেখা যায়, বড় বড় কই-মাগুর, একবার জাল ফেললেই গদগদে মাছ উঠবে।নাসির বলল,শোন, রফিক, আমরা যদি আজ রাতে যাই, বাকিদের আগেই মাছ ধরে ফেলতে পারব।
রফিক একটু চিন্তিত হয়ে বলল, কিন্তু শুনি, বিলে নাকি কিছু একটা আছে, যা রাতে বের হয়, নাসির হেসে বলল,তুইও কিনা এইসব গল্পে বিশ্বাস করিস? পেত্নী আবার মাছ পাহারা দেয় নাকি!তাই ঠিক হল, রাত ১২টায় ওরা যাবে। হারিকেন, একটা মোটা দড়ি, বাঁশের জাল, আর পকেটে কয়েকটা আগরবাতি,ভয়ের থেকে বাঁচতে নিলো।
রাত ১১টা ৩৫ মিনিট,বিলের চারপাশ নীরব, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর মাঝে মাঝে শেয়ালের ডাক। কুয়াশায় আলো ফোটে আবার মিলিয়ে যায়। ওরা ছোট্ট একটা নৌকায় উঠে বিলে নামল।নাসির জাল ফেলল, রফিক হারিকেন ধরে ছিল। হঠাৎই নৌকার নিচে কিছু একটা ঘষঘষ করতে লাগল। রফিক জিজ্ঞেস করল, তুই শুনলি শব্দটা?
নাসির তখন জাল টানতে ব্যস্ত, বলল,বড় মাছ হয়তো... টান দিচ্ছে।কিন্তু এইবার শব্দটা নৌকার একেবারে পাশে।চপাৎ,চপাৎ। আর হারিকেনের আলোয় দেখা গেল, পানির ওপর মাথা ভাসিয়ে একটা সাদা রঙের দৃশ্য । মুখ দেখা যায় না, শুধু লম্বা ভেজা চুল আর হাতদুটো যেন ঠাণ্ডা বরফের মতো নীল
সেই ছায়া বলল, তোমরা মাছ ধরতে আসছো? ওরা আমার
মাছ,কেউ আমার মাছ নিয়ে যায় না।নাসির জাল ফেলে দিয়ে বলল,রফিক, এইটা পেত্নী রে বাঁচতে চায়লে দৌড় দে,ওরা নৌকা ঘোরানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ছায়াটা সামনে ভেসে উঠল, চোখ জ্বলজ্বল করছে অন্ধকারে। হঠাৎ হারিকেন নিভে গেল, আর চারপাশ ঘোর অন্ধকার।
শুধু একটা ফিসফিসে কণ্ঠস্বর বাতাসে ঘুরে বেড়াতে লাগল,জলমাটির নিচে আমি থাকি,যারা আমার পানিতে আসে, তারা আর ফিরে যায় না।ওরা আরও বেশি ভয় পেয়েছিল, ওরা সবকিছু ছেড়ে এক দৌড়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল এবং বাড়ির দিকে রওনা দিতেই বিলের শেষের দিকে একটি বাড়ি ছিল সেই বাড়িতে গিয়ে উঠলো।
https://x.com/rayhan111s/status/1914020116901290223?t=_1vfNFfkVXFjocLlTNMSDw&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার গল্প সত্যিই চমৎকার হয়েছে। গ্রামের পরিবেশ এবং ভূতের কাহিনী খুবই দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন। গল্পের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার মত লেখার ধরন।। বিশেষ করে শেষ অংশটি অনেক উত্তেজনাপূর্ণ, পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম ।
https://x.com/rayhan111s/status/1914031367702430034?t=CLfNjZup8ItQlCFL1Z7xbQ&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1914032134769283091?t=ESXUNJvIV8rehNO1oU56FQ&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1914033230925406660?t=c0VIiLVomLoXa9gyJmOh8A&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1914033746665415066?t=GADkEGK9eVcx0h7jLb54PQ&s=19
গল্পটা একদম গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছে। মাছ ধরা যেন শুধু শিকার নয়, বরং একেকটা রোমাঞ্চকর অভিযানের মতো—যেখানে আনন্দ, উত্তেজনা, আর ভয় সবই একসাথে মিশে থাকে।রফিক আর নাসিরের সাহসিকতা আর সেই মরা বিলে রাতের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা যেন কল্পনার জগতে টেনে নিয়ে যায়। কুয়াশায় মোড়া গ্রাম, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, আর হারিকেনের ঝাপসা আলো—এসব মিলিয়ে একটা ভৌতিক অথচ চেনা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
আগের দিনের মাছ ধরতে গিয়ে ভূত দেখার গল্প আগের দিনের মানুষেরাই শুধু বলতে পারে। আগের দিনের মানুষদের যেমন মাছ ধরার নেশা ছিল তেমনি মাছ ধরতে গিয়ে ভূতের রসানলেও পরতে হতো।আপনার পুরো গল্পটা পড়ে আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। ভুতের গল্প শুনতে ভালো লাগে কিন্তু ভয় পাই অনেক। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ ভয়ংকর পেত্নী ভুতের গল্পটি ভাগ করে নেয়ার জন্য