জেনারেল রাইটিং:- চিনা হাঁস হারানোর কষ্ট
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করেছি আজকের পোস্ট।
জেনারেল রাইটিং:- চিনা হাঁস হারানোর কষ্ট
বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছে নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটা জেনারেল রাইটিং নিয়ে। আসলে বর্তমান সময় অনেক ব্যস্ততার মধ্যে যাচ্ছে।আসলে দিন যত যায় ততোই আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি।আমাদের যাদের জীবন আছে তারা সবাই জীব। আর জীব মৃত্যু বরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে মানুষ কিংবা পালিত পশুপাখি মারা গেলে কষ্টের শেষ থাকে। যদিও আমাদের সব কিছু মানতে অনেক কষ্ট হয় কিন্তু যেটা বাস্তব সেটা না মেনে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আসলে আমরা গ্রামে থাকি আর গ্রাম বলতে আমাদের বাড়ি শহরের অতি নিকটে। আমাদের বাড়ি থেকে মেইন শহরে যেতে বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট লাগে। যাইহোক আমাদের বাড়িতে অনেক ধান রয়েছে তাই আমি খাওয়ার জন্য বেশ কিছু হাঁস মুরগি পালন করি।আসলে আমার কিন্তু হাঁস মুরগি বেশ ভালোই হয় তবে মাঝে মারা গেলে বা হারিয়ে গেলে তখন আর ভালো লাগে না।
আমার দেবর গতবার একটা চিনা হাঁস ১৫০০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিল। সবাই খেয়ে অনেক ভালো বলেছে।তারপর থেকে আমার দেবর বলেছে চিনহাঁস পেলে কয়েকটি কিনবেন। আসলে আমাদের বাড়িতে পালন করার মতো সব রয়েছে। তাই ভাবলাম কয়েকটি হাঁসের বাচ্চা কিনে আনবো।তবে চিন হাঁসের বাচ্চা আমাদের এদিকে পাওয়া যায় না বলেই চলে।আর যেহেতু পালন করতে চেয়েছি তাই আমি সব জায়গায় খুঁজতে লাগলাম। তারপর ঈদের ভিতরে আমার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন আমার বলল আমাদের এখানে চিন হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করবে।।আমি গত ঈদুল ফিতরের পরে আমার বোনের বাড়ির পাশ থেকে ১০৫০ টাকা দিয়ে সাতটি চিন হাঁসের বাচ্চা কিনে এনেছি।
বাচ্চা পালন করতে কতটা কষ্ট সেটা যারা পালন করে তারাই জানে। আসলে মারা যাওয়ার চেয়ে কাক, চিল, শেয়াল ইত্যাদি নিয়ে যায় বেশি।যাইহোক সাতটি হাঁস বেশ ভালো ছিল দুই মাস পর্যন্ত। যখন হাঁসের নতুন পাখা উঠতে লাগলো তখন হাঁস গুলো দুর্বল হয়ে পড়ল। তারপর আস্তে আস্তে একটা একটা করে পাঁচটি হাঁস মারা গেল। আর দুটি হাঁস রইল। এভাবে কয়েক দিন চলে গেল। তারপর আমার জা আবার দশটি চিন হাঁসের বাচ্চা এনেছিল।তার দশটার মধ্যে ছয়টি আছে আর আমার দুটি আছে। আমার একটা মেয়ে আর একটা ছেলে হয়েছে। ছেলে হাঁসটি এখন প্রায় চারকেজি হবে হয়তো।আপনার ভাই বলেছে আমার দেবর এলো জবাই করে খাবে।
আমাদের বাড়ির পাশেই পুকুর। আগে হাঁস গুলো পুকুরে নামতো না কিন্তু এখন সব সময় পুকুরে থাকে। গত দুই দিন আগে সন্ধ্যার কিছু সময় আগে আমি হাঁসগুলোকে খেতে দিয়ে এসে মাগরিবের নামাজ পড়তে বসেছি।এদিকে নামাজ পড়ে দেখি হাঁস একটা আছে আর একটা নেই। তারপর আনতে গিয়ে দেখি পুকুরের ভিতরে আর আমার জার হাঁস গুলো মাঝে মাঝে পুকুরে থাকে। তারপর আমার হাঁস ডেকে আসলাম কিন্তু কিনারাই এসে আমার ভিতরে চলে যায়। তারপর কিছু সময় পড়ে হাঁস রেখে চলে আসলাম। সাথে আমার জায়ের হাঁস ও রয়েছে। আসলে আমি ভাবলাম হয়তো এক রাত থাকলে কিছু হবে না কিন্তু রাতে আমার হাঁসটি কুকুরে ধরে খেয়ে ফেলেছে। সকাল বেলা দেখি কয়েকটি কুকুর হাঁসের অর্ধেক খেয়েছে আরো পড়ে আছে। এটা দেখে এতোটা খারাপ লেগেছে বলার মতো নয়। আসলে এমন কুকুর গুলো বাড়ির আশেপাশে না থাকায় উত্তম। আসলে হাঁস খাওয়ার পড় থেকে আর কিছু পালন করতে ইচ্ছে করে না।তাই দুই দিন ধরে মনটা অনেক খারাপ। যাইহোক আপনারা সবাই দোয়া করবেন যেন আবারো চিনা হাঁস পালন করে খেতে পারি।
| প্রয়োজনীয় | তথ্য |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @parul19 |
| ডিভাইস | redmi note 12 |
| লোকেসন | ফরিদপুর |
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।
https://x.com/MimiRimi1683671/status/1877705227677438027?t=r4BnB_TKSUP0lScbvETE0w&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
যখন কোনো প্রাণী অনেক দিন যাবৎ পোষা হয় আর সেগুলো যদি হারিয়ে যায় তাহলে ভীষণ মন খারাপ হয়। একটা প্রাণী লালন পালন করে বড় করতে অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন। আপনার হাঁসকে কুকুরে নিয়ে খেয়ে ফেলেছে এটা সত্যিই দুঃখজনক। এতে মন খারাপ হবারই কথা। ঠিক বলেছেন এভাবে ক্ষতি হলে আর পালতে ইচ্ছে করে না। আপু মনকে শান্ত করে আবারও কিছু হাঁস কিনে আরও বেশি খেয়াল রেখে পালন করার চেষ্টা করুন। আপনার জন্য দোয়া রইল।
জি আপু আবারো কিছু হাঁস কিনবো, দোয়া করবেন। ধন্যবাদ আপু।
এই হাঁসগুলো আমার খুবই প্রিয়। আমি গ্রামের বাড়িতে থাকতে এগুলো আম্মুর সাথে অনেক পুষেছি। তবে এখনো শহরের গ্রামে বসবাস। সময় করতে পারি না তবুও আপনার ভাবি এগুলো পালে। আমার খুবই ভালো লাগে এই জাতীয় পশু পাখি। কিন্তু কষ্ট লাগলো নিজের হাতে পোষা মায়া-ময়েই জিনিস নষ্ট হওয়া জেনে।
জি ভাইয়া পালন করতে ভালো লাগে কিন্তু মারা গেলে আর ভালো লাগে না।
আমি পশুপাখি অনেক পছন্দ করি। আমার কাছে পশুপাখির জাতীয় জিনিস না থাকলে ভালো লাগেনা। দীর্ঘদিন নিজের হাতে প্রাণীর ক্ষতি হলে অনেক খারাপ লাগে। কুকুরে আপনার হাঁস খেয়ে ফেলেছে যেন অনেক খারাপ লাগলো।
পোস্ট পড়ে গঠন মূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
বিষয়টা সত্যি খুবই দুঃখজনক। অনেক অনেক খারাপ লাগলো আপনার নিজের হাতে পোষা একটি পাখি এভাবে নষ্ট হয়েছে জেনে। তবে এই মুহূর্তে মনে কষ্ট দিয়ে আর কিছু করার নেই। বাকিগুলোর প্রতি যত্নবান হবেন এবং আগামীতে সচেতন হবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য
চিনা হাঁসকে আমাদের এলাকায় চিল হাঁস বলে।এই হাঁস দেখতে অনেক সুন্দর এবং সব হাঁস একই রকম দেখতে হয় এবং বেশ বড়ে সাইজের হয়ে থাকে। এই চিল হাঁসের মাংস খেতে ভীষণ সুস্বাদু। আপনি সখের বশে বোনের বাড়িতে গিয়ে সাতটি হাঁস কিনেছেন আর সেই সখের হাঁস কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। পৃথিবীর মানুষের সাথে জীবজন্তুু গুলোও কেমন জানি হয়ে গেছে। আগে কখনো জেন্ত,মুরগি খায়নি কুকুর এখন খায়।খুবই দুঃখজনক ঘটনাটি। কি আর করার তবে সখের জিনিস নষ্ট হলে খুবই কষ্ট পেতে হয়।ধন্যবাদ পোস্ট টি ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
জি আপু কষ্টের শেষ থাকে না, ধন্যবাদ আপনাকে।