নাতির অন্নপ্রাশন ও পান্না উপলক্ষ্যে অনেকদিন পর পরিবারের সবার সাথে কাটানোর অনুভূতি
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
মোটামুটি যারা নিয়মিত আমার ব্লগ পড়েন বা আমাকে চেনেন তারা প্রত্যেকেই জানে আমি কয়েকদিন আগে কলকাতা গিয়েছিলাম বইমেলা উপলক্ষে। কলকাতা গেলে কি আর শুধুই কলকাতা যাওয়া? আসলে বাড়িতে যাওয়া। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বাড়ির প্রতি টান আমার কখনোই কমে যায়নি। তবে কি জানেন প্রবাসী থাকার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সব সময় দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। শুধু তাই নয় নানান ধরনের পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতেও আমি যোগদান করতে পারি না।
সে কারণেই যখনই আমি যাই তখন কোন অনুষ্ঠান থাকলে চেষ্টা করি উপস্থিত থাকবার। এবারে যখন গিয়েছিলাম আমার নাতির অন্নপ্রাশন বা মুখে ভাত অনুষ্ঠান ছিল। নাতি কোন সম্পর্কে সেটা আগে বলে রাখি। আমার বড় মামার মেয়ের ছেলের ছেলে। এতটা দূরের সম্পর্ক হয়েও সমস্ত অনুষ্ঠানে আমাদের আনাগোনা রয়েছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক বেশ ভালো। আসলে দিদির বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে সামান্যই দূরে। আর দিদির ছেলে আমার থেকে মাত্র এক দেড় বছরের ছোট। সেই সূত্রে আমার নাতি এবং আমি তার ঠাকুমা। হা হা।
এই দিচ্ছিল ওর মুখে ভাতের অনুষ্ঠান। মন্দির থেকে ঠাকুর এসেছিল এবং বড়সড়ো করে পূজো হয়েছিল আগের দিন। আমি থাকতে পারিনি বইমেলার কারণে। তবে মুখে ভাতের অনুষ্ঠানে যখন পৌঁছলাম তখন বাচ্চাটিকে স্নান করানোর ব্যবস্থা করে চলছে। তারপর যখন খাবার-দাবার বারার সময় হয়েছে তখন আমি সবকিছু সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিলাম। আসলে কোথাও গিয়ে বসে থাকতে পারি না এটা আমার স্বভাব।
অন্নপ্রাশনের দিন বাচ্চারা সাধারণত প্রচুর কান্নাকাটি করে তবে আমার নাতি লোকজন দেখে কান্না তো দূরের কথা একতালা পায়েস থেকে প্রায় হামলে পড়েছিল খাবার জন্য। আমাদের এদিকে ভাতের থালা সাজানো হয় ঠিক কথাই কিন্তু মুখে ভাত হিসেবে বাচ্চাকে তার মামা পায়েস খাইয়ে দেবে। পরমান্নই হল সেদিন তার আসল অন্ন।
সবার সাথে দেখা হয়ে সেদিন বড় ভালো লেগেছিল। আমার দুই মামা মারা গেছেন আমি যেতে পারিনি। বড় মামা এখনো আছেন তবে পার্শিয়ালি মেমোরি লস হয়েছে। ঠিক প্রকৃতস্থ নন উনি। তবে আমাকে চিনতে পেরেছেন এইটা আনন্দের কথা।
সেদিন সবার সাথে বেশ ভালো সময় কাটিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম তারপর দিদি মাকে ফোন করে বলল বাচ্চাটির পান্না করানোর জন্য মামার বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন কিন্তু আমার বাড়ি অনেক দূরে এবং তারা কেউ সেই ব্যবস্থা করতে পারবে না বলে মায়ের বাসায় আসতে চাই। আমি আছি দেখে মা নির্দ্বিধায় হ্যাঁ বলে দিল। অথচ আমি সেই দিনগুলোতে যে কি মারাত্মক পরিমাণ ক্লান্ত ছিলাম তা আমি জানি।
আমার ওপর ভরসা করেছে মা আর আমি মাকে কখনোই কোনো ভাবে নিরাশ করবো না। তাই পরের দিন সকাল থেকে সমস্ত রান্নাবান্না নিজের হাতে করলাম। পান্নাতে মূল বিষয় হলো সেদিন বাচ্চা পান্তা ভাত অর্থাৎ জলে ভেজা ভাত খাবে এবং মৎস্য মুখ করবে। এই দিন বাচ্চাকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য মা একটি পিতলের থালা কিনে এনেছিল।
ভাজা বুঝি তরকারি মাছ ইত্যাদি সমস্ত কিছু নিয়ে থালা সাজিয়ে বাচ্চাটিকে দিলাম। ছোট বাচ্চা সে তো খাবে না তাই আমার মা তাকে সামান্য মুখে থেকে নিয়ম রক্ষা করেছিল। পরে ওই থালায় বাচ্চাটির মা খেয়েছে। আর ছবিতে যে ছোট্ট মেয়েটিকে দেখছেন ও আমার নিজের ভাইজি মানে আমার দাদার মেয়ে। দেখিনা বসে বসে অবাক হয়ে যাচ্ছিল বাচ্চাটির সাথে কি হচ্ছে তা দেখে।
যাইহোক অনেকদিন পর পরিবারের সাথে বেশ আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়ে ক্লান্ত থাকলেও আমারও বেশ ভালো লাগছিল। বড় মামা মামিমা বড়দিদি সবার সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা এবং আড্ডা। প্রবাসে থাকলে জীবনে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। আর এই বয়সে এসে সেগুলো ভালই বুঝি আমি। তবুও মাঝেমধ্যে পাই সেটাই আনন্দের।
আজকের ব্লগ এখানেই শেষ করছি। আপনারা ভালো থাকুন এই কামনা করি।
| পোস্টের ধরণ | লাইফস্টাইল ব্লগ |
|---|---|
| ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
| লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিতব্য গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1892637640823869449?t=4RehEOjrkLW8eHwj66bq8w&s=19
বইমেলা উপলক্ষে গিয়ে দেখছি বেশ ভালো সময় কাটিয়েছো নাতির অন্নপ্রাশনে।তুমি যাকে পান্না বলছো বাংলাদেশে আমরা মামা ভাত বলি।মামার বাড়িতে গিয়ে খাওয়া হয় এই ভাত তবে মামার বাড়িতে কোন কারণে যেতে না পারলে কোন আত্নীয়ের বাড়িতে খাওয়ানো হয় তবে পুরা খরচ মামা বাড়িকে বহন করতে হয়।বেশ ভালো লাগলো পোস্ট টি।খাবারের থালা গুলো লোভনীয় করে সাজানো হয়েছে। সব মিলিয়ে অসাধারণ। ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট টি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
আমাদের এদিকেও একই নিয়ম তবে এই ক্ষেত্রে খরচপাতি আমার মা ই করেছেন। আমি শুধু রান্নাবান্না করে সাজিয়ে দিয়েছি। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য তোমায় অনেক ধন্যবাদ।
এটা একেবারেই ঠিক যা প্রবাসে থাকে তারা পারিবারিক সব অনুষ্ঠানে থাকতে পারে না। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানে গেলে বেশ ভাল লাগে। সকলের সাথে দেখা হয়। তবে আপনি অনেক দিন পর পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে বেশ ভালই আনন্দ করেছেন। সেই সাথে বেশ বড় একটা দায়িত্ব পালন করেছেন নাতির জন্য পান্না অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করে। বেশ সুন্দর আয়োজন করেছেন দিদি।
হ্যাঁ কি আর করা যাবে পেটের দায় বড় দায়। এই কথা তারাই বুঝতে পারে যারা প্রবাসী। ভালো থাকুন আপু।
নাতির অন্নপ্রাশন ও পান্না উপলক্ষ্যে সবার সাথে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন আপু। দেখে খুব ভালো লাগলো। আসলে এমন সুন্দর মুহূর্তগুলো অনুভূতির খুবই অন্যরকম হয়ে থাকে। নাতির অন্নপ্রাশন ও পান্না উপলক্ষ্যে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে আপু এতো সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
অনেকদিন পর পর বাড়ি যাওয়া থাকে তো আর এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমি একেবারেই পাই না। তাই পরিবারের সবার সাথে দেখা হয়ে বড় আনন্দিত হয়েছিলাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্য করার জন্য।