স্মৃতির পাতা থেকে ফুটবল খেলা নিয়ে একটি গল্প//পর্ব-৩

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু-আলাইকুম/আদাব।

হ্যালো বন্ধুরা, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন।হ্যাঁ, আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @mohamad786 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস করি।আমির সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যায়নরত আছি।


ফুটবল খেলার স্মৃতিময় গল্প আজকে আমি তৃতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে এই তৃতীয় পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতার ফলাফল কি হয়েছিল। তাই আজকের পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমাদের গ্রামের স্মৃতিময় ফুটবল খেলার অনুভূতিগুলো। সত্যিই এই গল্পটি আমার এখনও মনে রয়েছে এবং এই গল্পটি অনেক আনন্দদায়ক ছিল। গ্রামের মধ্যে এত বড় ফুটবল খেলার আয়োজন এর আগে কখনোই হয়নি। আর আমরা যখন সেমিফাইনালে বিজয়ী হয় তখন আমাদের গ্রামের চেয়ারম্যান বলেছিল, ফাইনালে জিততে পারলে আমাদের একটি ছাগল কিনে দেওয়া হবে। সেই ছাগল দিয়ে আমরা আমাদের সাথে পিকনিক করবো এবং অনেক আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করব। তাই আজকে আমি সেই ফাইনাল খেলার মুহূর্তের ফলাফলের গল্প নিয়ে হাজির হলাম। সত্যি আশা করি এই পর্বটি পড়ে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।


soccer-g52a960d6d_1920.jpg

source

আমরা যখন নলকা গ্রামের সাথে সেমিফাইনাল খেলে জিতে যাই। তারপরে চেয়ারম্যান এই পিকনিকের ঘোষনা দিয়েছিল। আর এই ফাইনাল খেলা হয়েছিল শুক্রবারে।আমাদের গ্রামেরই খেলোয়ারের যে সভাপতি ছিল সেই বাইরে থেকে আরো চারটা খেলোয়াড় নিয়ে এসে ছিলো। এই চারটা খেলোয়াড় আর আমাদের গ্রামের ভালো কিছু খেলোয়ার দিয়ে খেলা শুরু করলে অনেক ভালো হবে এটা আশা ছিলো।তো শুক্রবারে দিনে আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামে বড় একটি হাই স্কুল ফিল্ড রয়েছে সেই ফিল্ডের খেলা আরম্ভ হলো। আর আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাগবাটি গ্রাম। মথুরাপুর আর বাগবাটি গ্রামের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হল। সত্যিই এই প্রতিযোগিতার জন্য মাইকিং করা হলো এবং হাজার হাজার মানুষ শুক্রবার বেলা দুইটার মধ্যে মাঠে পাশে চলে আসলো। আর খেলা শুরু হলো তিনটার দিকে। যখন তিনটার সময় খেলা শুরু হল মাঠের চারপাশে মানুষের হই হুল্ল মেতে উঠেছিল সেই মুহূর্তে অনেক আনন্দের ছিল।


এই মুহুর্তটা আমরা অনেক আনন্দের সাথে উপভোগ করতেছিলাম এবং দুই দলের খেলোয়াড়রা খুব ভালো খেলতে ছিল। কোন দলের গোল হচ্ছিল না। যে দল বল নিয়ে এগিয়ে যেতো সেই দিকে মানুষের নজর যেতো আর আনন্দ চিৎকার করতে ছিলো। টান টান উত্তেজনা ছিলো।আমরা মাঠের বাইরে থেকে সকলে যেন হই হুল্ল করতে লাগলাম। সত্যিই এরকম টানটান উত্তেজনার মধ্যে খেলা ২৫ মিনিট পার হয়ে গেল, তারপরে কোন দল গোল হল না. যখনই ৩৫ মিনিট পার হলো। বিপক্ষ দল আমাদের একটি গোল দিয়ে দিল। সত্যিই এই গোলটি খাওয়ার পরে মন খুবই ছোট হয়ে গেল এবং অনেককে ভেঙ্গে পড়লাম। খুবই খারাপ লাগতে ছিল, তখন বড় ভাইরা বলল টেনশন করিস না, এখনো অনেক সময় আছে এই গোল শোধ হবে।


football-g5cd173b02_1920.jpg

source

বড় ভাইয়ের কথা মতে অনেকটাই যেন সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করতেছিলাম, কিন্তু মন মানতে ছিলনা। খেলার দিকে বারবার চোখ যাচ্ছিল এবং গোল কখনো শোধ হবে, এই আশায় ছিলাম। তারপরে আমাদের গোল দিতে হবে। বিপক্ষ দলের কাছে বল গেলে যেন ভয় লাগতে ছিল।যে আবার এরও একটা দিয়ে দিবে নাকি। তাই বারবার চাচ্ছিলাম গোল পরিশোধ হোক। এভাবেই ৪০ মিনিট পার হয়ে গেল, তারপরও গোল হলো না এবং ৪৫ মিনিট হয়ে গেল, তারপরে গোল হল না। এখন বিরতি দিয়ে দিল দিল। আমরা মাঠের ভিতরে চলে গেলাম এবং সকলের সাথে মত বিনিময় করতে লাগলো।বিরতির পর আবারও খেলা শুরু হল, অনেকটাই প্রার্থনা করতে লাগলাম। যে গোল তারাতারি শোধ হয়, কিন্তু খেলা অনেক সময় চলতে ছিলো তাও শোধ হচ্ছিলো না।কিন্তু আমাদের গ্রামের খেলোয়াড়রা অনেক ভালো খেলতে ছিল, তাও গোল শোধ হচ্ছিল না। এভাবেই ৭০ মিনিট পার হয়ে গেল।এখন যেন আমাদের হার মেনে নিতে হবে। আর মাত্র কিছু সময় বাকি আছে। এখনো গোল শোধ হলো না, তাই খুবই খারাপ লাগতে ছিলো।


মনে হচ্ছিল আমরা হেরে গেলাম।কিন্তু যখনই ৮৫ মিনিট হয়ে গেল, তখনই আমাদের গ্রামের মানিক ভাই নামে খেলোয়াড় ছিল সে বলটি হেড করে গোল দিয়ে দিল। আর তখনি যেন আনন্দে উল্লাসে পুরো আমাদের গ্রাম মানুষ চিৎকার করে উঠল। সত্যি সেই মুহূর্তটা ছিল অনেক বেশি আনন্দের।গোল যখন শোধ হয়ে গেল তখন খুবি ভালো লেগেছে এবং আশা ছিলো যে আমরা আবারো বিজয়ী হতে পারব। সত্যি শেষের দিকে গোল শোধ হবার সেই মুহূর্তটা অনেক আনন্দের ছিল।তো বন্ধুরা আগামী পর্বের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই ফাইনাল খেলাতে আমরা বিজয়ী হয়ে ছিলাম কিনা। সে পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করবেন, আশা করছি আগামী পর্বের মাধ্যমেই এই গল্পের শেষের অনুভূতি জানতে পারবেন।

আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো অন্য কোনদিন ভিন্ন কোনো কন্টেট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, এই দোয়া রইল। আল্লাহ হাফেজ।🙏🤲🙏

প্রথম পর্ব👇
https://steemit.com/hive-129948/@mohamad786/5djmqv

দ্বিতীয় পর্ব👇
https://steemit.com/hive-129948/@mohamad786/nrahe

banner-abbVD.png

আমার পরিচয়

IMG_20220525_014109.jpg

আমার নাম মোঃ ফয়সাল আহমেদ ।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবসি ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  
 3 years ago 

বেশ চমৎকার ভাবে আপনি ফুটবল খেলার, বর্ণনা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আপনার পোস্টটি পড়ে তো আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। অবশেষে গোল দিতে পেরেছিলেন কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়।

 3 years ago 

যাক অবশেষে ৮৫ মিনিটের মাথায় গিয়ে আপনাদের গ্রামের মানিক ভাই গোলটি দিয়েছিলেন। আল্লাহ আপনাদের ডাক শুনে ছিলেন,তাই হয়তো শেষ সময়েও আপনারা গোলটি দিতে পেরেছিলেন শেষের দিকে।পুরো গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে ভাইয়া।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনার পোস্টটি পড়ে বেশ ভালই লাগলো আমার। ৮৫ মিনিটের সময় মানিকের গোলে আপনারা সমতায় আসতে পেরেছিলেন জেনে আমারও খুব আনন্দ লাগলো। উক্ত ফুটবল ম্যাচে আপনারা বিজয়ী হয়েছিলেন কিনা সেটা জানার জন্য পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

স্মৃতিময় ফুটবল খেলার গল্পটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো, যাক ৮৫ মিনিটে গোলটা শোধ হয়েছে, এখন দেখা যাক আপনারা বিজয়ী হয়েছিলেন কিনা। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.074
BTC 63618.85
ETH 1675.97
USDT 1.00
SBD 0.41