চাঁদ রাত।
আজ - ১৯ই, বৈশাখ, | ১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
শাওয়াল মাসে প্রথম তারিখে নতুন চাঁদ উঠে আর এই নতুন চাঁদটি দিয়েই কিন্তু ঈদের আগমন নিশ্চিত করা হয়। রমজান মাসের শেষ দিনটিতে এই নতুন চাঁদ দেখা যায় । তাই ঈদের আগের রাতটিকে অর্থাৎ যেদিন নতুন চাঁদ দেখা যায় এই রাতটিকে বলা হয় চাঁদ রাত।
এই চাঁদরাত কে ঘিরে সুমধুর কিছু স্মৃতি রয়েছে । তো চলুন সেসব স্মৃতি গুলো আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই।
চাঁদরাতে সবথেকে উপভোগ্য একটি বিষয় হচ্ছে নতুন চাঁদ দেখতে যাওয়া। ছোটবেলায় বন্ধুদের সকলের সাথে চলে যেতাম খোলা আকাশের নিচে চাঁদ দেখতে। গ্রামের সকলেই একত্রিত হয়ে নতুন চাঁদ দেখতে আসতো । নতুন চাঁদ দেখতে এসে সকলেই গল্প আড্ডায় মেতে উঠতো খোলা আকাশের নিচে নরম ঘাসে বসে। আমাদের গ্রামে একটি খোলা বড় মাঠ ছিল যেখানে প্রত্যেক বছর নতুন চাঁদ দেখতে গ্রামের সকলে একত্রিত হয়। নতুন চাঁদ দেখে সকলের চোখেমুখে সে কি আনন্দ। আমি নতুন চাঁদ দেখলেই বাড়িতে দৌড়ে দৌড়ে এসে সকলকে বলতাম কালকে ঈদ হবে চাঁদ দেখা গিয়েছে। আসলে বাড়ির সকলেই বসে থাকতো নতুন চাঁদ দেখা গেছে কিনা এই খবরের অপেক্ষায়। এছাড়াও নতুন চাঁদ দেখা গেলে মসজিদে মাইকে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হতো।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
যদি এখন আর নতুন চাঁদ দেখতে যাওয়ার সুযোগটা হয়ে ওঠেনা। কেননা নগরের ছোটখাটো জানালা বারান্দার ফাঁক দিয়ে কি আর চাঁদ দেখতে পাওয়া যায়৷ এছাড়াও সকলে মিলে একসাথে নতুন চাঁদ দেখতে যাওয়ার যে আনন্দ সেটি এখন আর নেই। এখন আর কেউ নতুন চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকে না। টিভি নিউজ চালালেই জানা যায় চাঁদ দেখা গেছে কিনা। তবে আমি ভাবছি এবারের চাঁদরাতটিতে উপভোগ করার জন্য ছাদে নতুন চাঁদ দেখতে যাব। আসলে অনেক বছর ধরে ঈদের চাঁদ দেখা হয়না। এছাড়া ও ঈদের নতুন চাঁদ দেখা কিন্তু সুন্নত। এবং নতুন চাঁদ দেখার সময় একটি বিশেষ দোয়াও রয়েছে।
যাইহোক সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটলেও কিছু কিছু জিনিস এখনও রয়ে গিয়েছে যেমন চাঁদ রাতের দিন মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়ার ব্যাপারটি। ছোটবেলায় দেখতাম আমার কাজিনরা সকলে একত্রিত হয়ে রাত জেগে মেহেদি দিত। মাঝে মাঝে আমিও তাদের থেকে মেহেদি নিয়ে হাতের এক কোনায় ঈদ মোবারক লেখতাম। এছাড়া ও চাঁদ রাতের দিন যে কাজটি আমি সবসময় করি সেটি হচ্ছে অনেক রাত পর্যন্ত শপিং করা। আমি সবসময় আমার শপিং গুলো চাঁদরাতের দিনই করে থাকি কেননা চাঁদরাতে দিন শপিং করার মজাই আলাদা। এছাড়াও প্রত্যেক বছর চাঁদ রাতের দিন অনেক রাত পর্যন্ত রান্নাবান্না চলে আমাদের বাসায়। ঈদের সময় তো অনেক কিছুর আয়োজন করা হয় তাই সম্ভব হয়নাই ঈদের দিন সকালে সবকিছু তৈরি করার। তাই ঈদের আগের দিন রাতে সব কিছু বানানো হয়। এছাড়াও ছোটবেলায় আম্মুদের কে দেখতাম নিজে হাতে সেমাই তৈরি করে ঈদের জন্য সে সেমাই রান্না করতো। এছাড়া বিভিন্ন রকমের হাতের নাস্তা সকলে মিলে একসাথে তৈরি করত। আসলে সেই সময় গুলো ছিল অন্যরকম৷
বিগত দুই বছর আমাদের সকলের ঈদ কেটেছে দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে । আমরা তখন কেউ ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারিনি কিন্তু পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক তাই আমরা চেষ্টা করব ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করার।
ছবি এখান হতে নেওয়া হয়েছে।
এই ছিল আমার আজকে আলোচনা। সকলে ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। এবং নিরাপদে থাকবেন। এবং পরিবারের সকলের সাথে ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করবেন। সকলকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাইয়া আপনি একদম ঠিক বলেছেন চাঁদরাতে নতুন চাঁদ দেখার মাঝে আলাদা রকমের আনন্দ আছে। আগেকার সময় গুলো কেন জানি আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় সবাই মিলে চাঁদ দেখতাম এবং নতুন চাঁদ দেখার আনন্দ উপভোগ করতাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর চাঁদ দেখা হয়ে ওঠেনা। হয়তো টিভির খবরে চাঁদ দেখার খবর জানতে পারি। আপনার লেখাগুলো পড়ে পুরনো দিনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছিল। আমারও ইচ্ছে করছে চাঁদ নতুন চাঁদ দেখার অপেক্ষায় বসে থাকতে। তাই আজকে আমিও চাঁদ দেখার অপেক্ষায় বসে থাকবো। ভাইয়া আপনাকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি "ঈদ মোবারক"। 💖💖
পুরানা কিছু স্মৃতি আমরা চাইলে আবার নতুন করে ফিরে পেতে পারি। তাই আজ ভাবলাম পুরানো সেই দিনগুলোর মত আজ ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখবো।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া আমরা চাঁদ রাতে কত মজা করেছি এখন আর এইসব চোখে পড়েনা। কত আনন্দ করে দলবেধে ইফতারের পড়ে চাঁদ দেখতে গিয়েছি। সাথে পকেটে করে পটকা নিয়ে যেতাম চাঁদ দেখা গেলেই ফুটানো শুরু করতাম। আসলে অনেক মজার ছিল সেই দিনগুলি। ধন্যবাদ ভাইয়া দিনগুলি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
আমি তখন নানুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পটকা কিনতাম নতুন চাঁদ দেখলে ফুটাবো বলে। আসলে কতনা মধু সেসব স্মৃতি গুলো।
আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া ঈদের ক্ষেত্রে চাঁদ রাতের চাঁদ দেখতে যাওয়া একটি উপভোগ্য বিষয়। ইফতার করেই আমরা সবাই চাঁদ দেখতে যাইতাম আজও যাব ছাদে নতুন চাঁদ দেখার মাঝে এক আলাদা আনন্দ কাজ করে। ছোটবেলায় তো সবাই মিলে হৈ হুল্লোর করে চাঁদ দেখতে যেতাম। এই চাঁদ দেখার মজাই আলাদা আনন্দ কাজ করে নিজের ভালো লাগা কাজ করে। তবে দিন যতই যাচ্ছে ঈদ নিয়ে আমাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে তবে ঈদের দিন আসলেই আমি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ি কারন আমাদের বাসার সব পিচ্চির আমার কাছে আসে মেহেদি দেওয়ার জন্য আমি নিজেও এ বিষয়টি খুব উপভোগ করি সবার হাতে মেহেদি দেওয়ার। যাই হোক আপনি খুব সুন্দর ভাবে চাঁদরাতে বিষয়টি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন।
আসলেই নতুন চাঁদ দেখার মজাই আলাদা। তাই আজ আমিও ভাবছি ছাদে গিয়ে নতুন চাঁদ দেখবো।
এখন আসলেই আগের মত আর সেই মজা নেই। আগে ইফতার করেই পটকা নিয়ে বাহিরে বের হতাম চাঁদ দেখার জন্য। চাঁদ দেখার পর সে কি আনন্দ। আর এখন ইফতারের পর আমরা বসি টিভির সামনে চাঁদ দেখা গিয়েছে কিনা এই খবরটি নেয়ার জন্য। হারিয়ে গিয়েছে সেই আনন্দময় পুরনো দিনগুলো।
যাইহোক আপনি আর আমি দেখছি একই রকম চাঁদরাতে শপিং করতে পছন্দ করি। আসলেই এই দিনটায় শপিং করার মজাই আলাদা, তবে এবার আগের মতো কিছু বাকি রাখিনি সব আগেই কিনে ফেলেছি।
আর আমার বাসাতেও চাঁদ রাতে সারারাত জুড়ে রান্না চলে। বেশ ভালই লাগে ব্যাপার গুলো।
যাইহোক আপনাকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ভাইয়া।
আপনাকে ও ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
আসলেই চাঁদরাতে শপিং করার মজাই আলাদা তাই আমি প্রতিবছর কিছু কিনি কিনবা না কিনি অন্তত ঘুরতে হলে যা হয়।
আসলে ভাই আমরা ছোটবেলা চাঁদ দেখার জন্য সেই মাঠের পাশে যেতাম এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতাম চাঁদ উঠেছে কিনা। এখন আর সেই যুগ নেই। এখন সবাই টিভি ইন্টারনেটে খবরের দেখে। আর সেই চাঁদ দেখার আনন্দটা নেই। শহরের জানালা দিয়ে ঐ চাঁদ দেখার ইচ্ছা জাগে না। ইন্টারনেটের যুগ, সেই দিন গুলো খুবই মনে পড়ছে। খুবই ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।
সময়ের সাথে সাথে আমাদের আনন্দ গুলো কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে আসছে। আসলেই আগে ওই সব দিনগুলো কতইনা সুন্দর ছিল।
Hi @moh.arif,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.
Come and visit Italy Community
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
ভাইয়া,কালের পরিবর্তনে সাথে সাথে সবকিছু যেন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।ছোটবেলায় আমরাও খোলা মাঠে গিয়ে দাঁড়াতাম ঈদের চাঁদ দেখা যাচ্ছে কিনা। ঈদের চাঁদ দেখে দৌড়ে এসে সবাইকে বলতাম ঈদের চাঁদ উঠেছে এ যে কি আনন্দ সেটা বলে বোঝানো যাবে না।ভাইয়া, আপনি লিখেছেন ঈদের চাঁদ দেখা সুন্নত আর এই চাঁদ দেখে একটি বিশেষ দোয়া পড়তে হয় সেটা আমাদের অনেকেই কিন্তু জানিনা। এখন এর ঈদ চাঁদ রাতের মধ্যে যেন আগের সেই ঈদের আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। গ্রামের বাড়িতে থেকে চাঁদ দেখা যেত আর এখন শহরের কোণঠাসা দালান কোঠা মধ্য থেকে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তারপরও যদি ছাদে যাওয়া হয় তাহলে চাঁদ দেখাটা কিছু সম্ভব। ঠিক ভাইয়া, ছোটবেলায় আমিও চাঁদ রাতে মেহেদি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতাম আমার বড় আপুদের কাছে। ভাইয়া, অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এই পোস্টটি পড়ে ছোট বেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল।ধন্যবাদ ভাইয়া, ঈদ মোবারক🥰🥰
আসলে ভাই ঠিকই বলেছেন ছোট বেলার আনন্দ টা একটু অন্যরকম ছিল। তবে সেই ছোটবেলার আনন্দটা এখন আর ভিতরে কাজ করে না। সময়টা যেন পাল্টে গেছে। রাগের অনেক কিছুই রয়েছে যেমন মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়া। তবে চাঁদ রাতের একটা আনন্দ কাজ করে মনের ভিতরে। আর আপনার একটা সব কথা শুনে সবচেয়ে খারাপ লাগলো
ঠিকই বলেছেন ভাই আসলেই গত দুইটা বছর আমাদের খুব খারাপ ভাবে কেটেছে। তবে এই সময়টা যে আমরা কেটে উঠতে পেরেছি এটাই আমাদের জন্য অনেক কিছু। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এত সুন্দর সুন্দর কিছু কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন নতুন চাঁদ দেখার আনন্দ অনুভূতি একটু অন্যরকম। যেটা আপনি আপনার ছোটবেলার কথা বলে প্রকাশ করেছেন। আপনারা এলাকার মাঠে বসে সকলেই গল্প ও আড্ডা দিতেন চাঁদ দেখা শেষে। সব মিলিয়ে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছেন ধন্যবাদ আপনাকে।