এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।
এই গাছ গুলোকে সাধারণত আমরা পাতা বাহার বলি অন্য কোন নাম থাকলেও আমার জানা নেই। সূর্যের আলো লাল পাতার উপর পড়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। এই পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ দেখতে আমাদের বেশ ভালোই লাগছিল। এখানে পুকুরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য একপাশে বেশ কিছু পাতাবাহারের গাছ অপর প্রান্তে ফল ও সুপারির বাগান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিবেশটা অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আমার ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে পুকুরে মাছ ও হাঁস দেখছিলাম। হঠাৎ দেখলাম আমার পাশে নেই, আমি আচমকা পেছনে ঘুরে দেখি এই পিচ্চি গাছে ওঠার চেষ্টা করছে। আমিও আটকানোর চেষ্টা করিনি, দেখি না কি করে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম একটু উপরে উঠতে পেরেছে। আমি একটু খুশিই হলাম বাহ্ আমার ছেলেটা গ্রামে এসে গাছে উঠা শিখে গেল।
তারপর যখন আরো উপরে ওঠার চেষ্টা করলো তখন হাঁস দেখানোর কথা বলে টেনে নিয়ে আসলাম। আরেকটু উপরে উঠলে পড়ে যাওয়ার রিস্ক থেকে যেত। আমি হাতের করে একটু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। খাবার গুলো পানির মধ্যে ছুঁড়ে মারতেই সব দল বেঁধে খাওয়ার জন্য উড়ে আসতে লাগলো। অনেক ভালোলাগার দৃশ্য কিন্তু এটি, আমার ছেলেও খুব খুশি হয়েছিল।
পুকুরের কিছুটা দূরে সারিবদ্ধ ভাবে তিনটি বেড তৈরি করে সেখানে বেগুন, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও পটল চাষ করার জন্য চারা রোপণ করা হয়েছিল। বেগুনের চারাটি কেবল সুস্থ সবল ভাবে বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। আমার কাছে দেখে খুব ভালো লাগলো এই উদ্যোগ।
আরো কিছু সবজির চাষ করা হয়েছিল। তার মধ্যে সিম গাছের এই ফুল কালারের জন্য বেশ চোখে লাগার মত। সদ্য ফুল ফোটা শুরু করেছে এই গাছে। আর কিছুদিনের মধ্যে ফুলে ফুলে ভরে যাবে সমস্ত গাছ। তারপর সমস্ত ডগা গুলোতে যখন সিম ঝুলতে থাকবে তখন ভাবেন কেমন লাগবে দেখতে।
লাউ গাছের সাদা ফুল দেখতে চোখ জুড়িয়ে যায়। যে জমিতে লাউ চাষ করা হয় সেখানে দাড়িয়ে সারিবদ্ধ ভাবে সাদা রঙের ফুটন্ত ফুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।
রঙ্গন ফুলের সৌন্দর্য নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে এই ফুল বর্ষাকালে আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। এখন যদিও গাছে প্রচুর ফুল ফুটেছে কিন্তু কেমন যেন ফুল ও পাতা গুলো মলিন লাগছে। আপনার হয়তো লক্ষ্য করেছেন আম গাছের ডালে রঙ্গন ফুল ঝুলছে। একটি হাড়িভাঙ্গা আম গাছ ফুল গাছের পাশেই লাগানো ছিল। সেখানে ফুল গাছের লম্বা ডাল আম গাছের ডালে জড়িয়ে গিয়েছিল। সেখানেই ফুল ফুটেছে তাই মনে হচ্ছে আম গাছে রঙ্গন ফুল। ফুলের এই সৌন্দর্য দেখতেই সন্ধ্যা নেমে এসেছিল।
এটা ডালিমের কলি এখান থেকে আস্তে আস্তে ফুল ফুটতে শুরু করবে। তারপর ফুলের নিচের অংশে ডালিম ফল দেখা যাবে। সেটা আমরা সবাই জানি কিন্তু এই মুহূর্তে দৃশ্যটি এতটাই ভাল লাগল ক্যামেরাবন্দী না করে পারলাম না।
গ্রামের আশেপাশের রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়াতে অনেক ভালো লাগার কিছু দৃশ্য চোখে পড়েছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল অন্ধকারে তেমন ভালো ফটোগ্রাফি করতে পারিনি। তাই সেগুলো শেয়ার করা থেকে বিরত থাকলাম। আশা করছি আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের ভালো লাগবে। তাই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি A-10 |
|---|---|
| ফটো | @mayedul |
| লোকেশন | w3w location |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 4/8) Get profit votes with @tipU :)
আসলেই ছোটদের গ্রাম সম্পর্কে জানানোর জন্য গ্রামে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া উচিত।আপনার গ্রামের ফটোগ্রাফি গুলো বেশ সুন্দর হয়েছে। পাতাবাহারের উপর সূর্যের আলো পড়াতে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আপনার ছেলে তো গাছে উঠেয় গিয়েছে।শিমফুল গুলো সুন্দর লাগছে।ভালো ছিলো।ধন্যবাদ
আপনার এই কথাটি জেনে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ছোট বাচ্চাদের কে ও গ্রাম সম্পর্কে জানানো এবং ঘুরে ফিরে দেখানো আমাদের সকলেরই উচিত। গ্রামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্নিগ্ধ বাতাস আমার কাছে তো খুবই ভালো লাগে। চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন আপনি। সবগুলো ফটোগ্রাফি বেশ ভাল ছিল। বিশেষ করে পাতাবাহারের ফটোগ্রাফি হাঁসগুলো খাবার খাওয়ার ফটোগ্রাফি এবং সিমের ফুলের ফটোগ্রাফি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সব বাবা মা যদি আপনার মত বুঝত না।আর গ্রামে গেলে কিন্তু ফটোগ্রাফি করার অভাব হয় না।আর আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুব চমৎকার হয়েছে বিশেষ করে আপনার ছেলের ফটোগ্রাফিটি।
চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন ভাইয়া। আপনি শেয়ার করে ফটোগ্রফিকুল এর মধ্য থেকে আমার কাছে পানির মধ্যে হাঁসের ফটোগ্রাফি এবং রঙ্গন ফুলের ফটোগ্রাফিটি খুবই ভালো লেগেছে।
আমিও এভাবে শহরে থাকতে থাকতে আবার বাচ্চাদের নিয়ে কিছুদিন গ্রাম থেকে ঘুরে আসি।গ্রামে গেলে সত্যি মনটা অনেক সতেজ হয়ে যায়।আপনি বেশ কিছু গ্রাম থেকে নেওয়া প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।এমন দৃশ্য দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।