করোনাভাইরাস আগমনের পর আমার প্রথম ভ্রমণের কিছু স্মৃতি

করোনা ভাইরাসের আগমনের পর ভালো-লাগার উপলক্ষ্য বলতে গেলে সত্যিকার অর্থে তেমন কিছুই খুজে পাওয়া যাবে না। চারিদিকে কেবল প্রিয়জনের করোনায় আক্রান্তের খবর, প্রতিবেশীর মৃত্যুর আহাজারি। চারিদিকের এত দুঃসংবাদ, লকডাউনে বাসায় আবদ্ধ থাকা, সব মিলিয়ে মনের মধ্যে একাকীত্ব ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছিলো।

তবে শত দুঃসংবাদ, কষ্টের মাঝেও যতটুকু পেরেছি, তার কিছুটা সময় একটু সুন্দরভাবে কাটানোর চেস্টা করেছি। গতবছর সেপ্টেম্বরের দিকে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমানোর পরে পরিবারের সবাই মিলে ভাবলাম আশেপাশের কোথাও ঘুরে আসা যাক। কাছে ধারের মধ্যে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাওয়া ফেরী ঘাটকে গন্তব্যস্থান হিসেবে ঠিক করা হলো। একই সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাও উপভোগ করা যাবে, আবার বিখ্যাত ইলিশ মাছের স্বাদ-ও নেয়া যাবে।

যেই ভাবা, সেই কাজ। তবে সেদিন রওনা হতে হতে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর হয়ে যায়। বের হতে দেরী হয়ে যাওয়ায় কিছুটা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, তবে কিছুক্ষণ পরেই বিরক্তি ভাবটা কেটে গেলো যখন ধীরে ধীরে মাওয়ার কাছাকাছি যেতে থাকলাম। গাড়ি থেকে লক্ষ্য করলাম আকাশ হঠাৎ করেই মেঘে ছেয়ে যাচ্ছিলো।

20200912_154107.jpg

পরিষ্কার আকাশে মেঘের ঘনঘটা

মাওয়া ঘাটের যতই কাছে যাচ্ছিলাম, আশেপাশের এলাকা যেন তত সবুজ হচ্ছিলো। রাস্তার ডানে-বামে উভয় পার্শ্বে বিভিন্ন ধরনের সবুজ গাছপালা, আবার কিছুক্ষণ পর পর কাশফুলের নিদর্শন, সব মিলিয়ে যাত্রাটা বেশ মমনোমুগ্ধকর লাগছিলো। অবশেষে মাওয়ায় পৌছাতে পৌছাতে প্রায় বিকাল হয়ে গেলো।

মাওয়ায় পৌছানোর পর গাড়ি থেকে নামার পরেই খেয়াল করলাম এখানে আমাদের মতো আরো অনেকেই ঘুরতে এসেছে। আবার রাস্তার ধারের থেকে বিভিন্ন খাবারের হোটেলের লোকেরা মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য হাক-ডাক দিচ্ছে, তাদের হোটেলের মাছ যে পদ্মার একেবারে খাটি কালেকশন সেটা সবাইকে বুঝানোর চেস্টা করছে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে নদীর পাড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম। নদীর পাড়ে গিয়েই দেখি সবাই ছবি তোলায় মহা-ব্যাস্ত, আমি মানুষের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে একাকীভাবে নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। চারিদিকে প্রচন্ড বাতাস বইতে থাকায় সময়টা বেশ উপভোগ করছিলাম।

20200912_154315.jpg

হঠাৎ ঝড়ের পূর্বাভাস

তবে আমরা চাইলেও সেখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারলাম না হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায়। সবাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই গাড়িতে ফিরে আসলাম এবং মনঃস্থির করলাম যে পদ্মার ইলিশ খেতে যবো৷ খাবারের হোটেলগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্রেতারা এমনভাবে হাকডাক দিচ্ছিলো এবং তাদের মাছ কতটুকু ফ্রেশ তা বুঝাচ্ছিলো যে আমরা নিজেরাই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম যে কোন হোটেলে ঢুকবো। অবশেষে একটা হোটেলে ঢুকলাম এবং পুরো মাছ কেনার জন্য দামাদামি শুরু করলাম।

মাছের দামাদামির ক্ষেত্রে আগেই বলে রাখি, এখানে বিক্রেতারা যেই দাম বলে তার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ দামেই মাছ কিনা সম্ভব। তাই এক্ষেত্রে শুরুতেই বেশি দাম বলে না ফেলাই ভালো। আমরা ব্যাপক দামাদামি শেষে ২ টি মাছ কিনলাম এবং এগুলো ভাজা সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেই আমাদের খাবার এসে যায়, সবাই খুব উৎসাহের সাথেই খাবারটা উপভোগ করতে থাকি, কারন এর আগে কখনোই পদ্মার পাড়ের হোটেলে বসে ইলিশ খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয় নি। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছিলো ইলিশের লেজ দিয়ে বানানো ভর্তা খেয়ে। যে মামা এই ভর্তা বানিয়েছে তার হাতের কি জাদুর সংমিশ্রণে যে এই আইটেম বানানো হয়েছে তা বোঝা আসলেই দুষ্কর। যাই হোক, খাওয়া শেষে আমরা হোটেল থেকে যখন বের হয়ে যাই, ততক্ষণে বৃষ্টি থেমে গিয়েছিলো। হোটেল থেকে বের হয়ে আমরা কিছুক্ষণের জন্য হাটতে বের হই।

20200912_182301.jpg

সন্ধ্যার সময়ে পদ্মা নদীর অপরুপ সৌন্দর্য

পদ্মার পাড়ে দাড়িয়ে সন্ধ্যার রুপ দেখে পুরোপুরি বিমোহিত হয়ে গেলাম। তখনো পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয় নি। এ অসমাপ্ত পদ্মা সেতু যেন দিগন্তের সাথে মিশে যেতে চাচ্ছে। আবার ঘন কালো মেঘ আকাশে খেলা করছিলো। সব মিলিয়ে ভিন্ন রকমের এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো। এর কিছুক্ষণ পরেই আমরা বাসার দিকে রওনা দেই। এভাবেই আমার সেদিনটি কেটে যায়।

Line Big Blue Divider.png

সব মিলিয়ে সেদিনটি আমার জন্য একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা ছিলো। কিছুটা সময় ভিন্ন পরিবেশে কাটাতে পারায় মনটাও সতেজ হয়েছিলো, এর পাশাপাশি লকডাউনে থাকতে থাকতে সৃষ্টি হওয়া হতাশাও কিছুটা প্রশমিত হয়েছিলো

Line Big Blue Divider.png

এই ছিলো আমার করোনা ভাইরাসের আগমনের পর প্রথম কোথাও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। লিখাটি সময় নিয়ে পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Best Regards: @mahirabdullah

Sort:  
 5 years ago 

পদ্মার পাড়ের হোটেলগুলোতে গিয়ে ইলিশ মাছ ভাজি খাওয়ার ইচ্ছা আমারও আছে। কখনো যাওয়া হয়নি ওদিকে। ইলিশ মাছের দামাদামি করার বিষয়টা মাথায় রাখব। উপকারে আসবে আশা করি 😇

 5 years ago 

সন্ধ্যার দৃশ্যটি তো ফাটাফাটি হয়েছে ভাই, চমৎকার ক্যাপচার করেছেন। হ্যা, ঢাকা হতে মানুষ প্রায় যায় ইলিশ মাছ খাওয়ার জন্য। ধন্যবাদ

 5 years ago 

সুন্দর হয়েছে এবং ধন্যবাদ আপনাকে আপনার মুহূর্তগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য ।তবে চেষ্টা করুন নিরাপদে থাকার জন্য এবং ভাল থাকুন।

ছবিগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে এবং আপনার সুন্দর মুহূর্ত গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

You have been upvoted by @rex-sumon A Country Representative, we are voting with the Steemit Community Curator @steemcurator07 account to support the newcomers coming into steemit.


Follow @steemitblog for the latest update. You can also check out this link which provides the name of the existing community according to specialized subject

There are also various contest is going on in steemit, You just have to enter in this link and then you will find all the contest link, I hope you will also get some interest,

For general information about what is happening on Steem follow @steemitblog.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.094
BTC 63413.19
ETH 1780.09
USDT 1.00
SBD 0.39