"The Meg" হলিউড মুভি রিভিউ
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
মুভি দেখতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে মানুষ একটু হলেও সময় বের করে মুভি দেখে, মুভি দেখতে যেমন ভাল লাগে তেমন এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। কারণ সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর একটু এন্টারটেইনমেন্টের ও দরকার রয়েছে। মুভি নাটক কিংবা অন্য কোন শো দেখার মাধ্যমে আমরা তা পূরণ করতে পারি।
যারা মুভি দেখতে ভালোবাসেন তাদের পছন্দের তালিকায় হলিউড মুভি গুলো সবার আগেই থাকে। আর সেটা যদি হয় কাল্পনিক কোন বিষয়ের মুভি তাহলে তো কোন কথাই নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাল্পনিক মুভি গুলোই বেশি পছন্দ করি, এইগুলিতেই ভালোলাগার মত সব থেকে বেশি ঘটনা যোগ করা থাকে।
তাই আপনাদের মাঝে আজ আমি এমন একটি মুভির বিভিন্ন হাজির হলাম যেটা দেখলে আপনাদের ভালো লাগবেই লাগবে। কাল রাতে আমি এই মুভিটি দেখি এই মুভিটি আমার কাছে এতটাই ভালো লাগে যে এই মুভিটি রিভিউ না দিয়ে থাকতে পারলাম না। যাই হোক চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে মুভিটির রিভিউ দেখে আসা যাক।
"THE MEG"
| সিনেমা | THE MEG (২০১৮) |
|---|---|
| পরিচালক | জন টুর্তেলটাউব |
| রচয়িতা | ডিয়েন জর্যারিস, জন হবার, ইরিচ হবার |
| প্রডিউসড বাই | বেলি আবেরি |
| অভিনয়ে | জেসন স্টাথাম, বিংবিং লি, রেইন উইলসন, কুলিফ কার্টিস, উইনস্টন চাও ল, সুয়া সোফিয়া চাই, রুবি রোজ, রবার্ট টেইলার, অরাফুর দেরি অতাফসন, |
| মিউজিক | সালম অ্যান্রিু |
| সময় | ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট |
| মুভি রিলিজের তারিখ | ১০ আগস্ট, ২০১৮ |
মুভির শুরুতেই আপনারা দেখতে পারবেন কিছু ড্রাইভারস সমুদ্রের নিচে একটি সাবমেরিন থেকে কিছু মানুষকে উদ্ধার করতে সমুদ্রের নিচে যায়, সেই ড্রাইভার টিমের হেড ছিল জনাস। সেই সবাইকে রেসকিউ করে এবং তাদের সাবমেরিনে নিয়ে যায়। তখনই তাদের সাবমেরিনের উপরে বড় কোনো জীব চলে আসে যেই জীবটি তাদের সাবমেরিনে বারংবার ভীষনজরে আঘাত করছিল।
এভাবেই আঘাত করতে থাকলে তাদের সাবমেরিন এবং সেই ফেঁসে যাওয়া নিউক্লিয়ার সাবমেরিন কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্লাস্ট হয়ে যাবে। তাই জনাস বেশিক্ষণ দেরি না করে যে কয়জনকে উদ্ধার করেছিল তাদের সাথে নিয়ে নিউক্লিয়ার সাবমেরিনকে ছেড়ে দূরে চলে যায় তার কিছুক্ষণ পরেই সেই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বিস্ফোরিত হয়ে যায়। সেই বিস্ফোরণে জনাসের ক্রুমেট সহ আরো কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছিল।
তারপর আমরা পাঁচ বছর পরের দৃশ্য দেখতে পারি যেখানে সমুদ্রের উপর একটি রিসার্চ সেন্টার চালু করা হয়েছিল যে রিসার্চ সেন্টার চলার সকল টাকা পয়সা মিস্টার মরিশ নামে একজন ব্যক্তি দিচ্ছিল। এই রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ছিল মিস্টার জাং এবং তার মেয়ে সুইন।
তারা এই রিসার্চ সেন্টার থেকে এটাই রিসার্চ করছিল যে সমুদ্রের মারিয়ানা ট্রেঞ্জের নিচে আরো কোন সমুদ্রএস্তর আছে কিনা সেটা নিয়ে। এজন্য তারা সমুদ্রের নিচে একটি পরীক্ষা চালাবে সাবমেরিন এর মাধ্যমে।
এই পুরো রিসার্চ সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছিল পানির নিচে গ্লাসের মাধ্যমে তাই সমুদ্রের গহবরে সকল দৃশ্য একদম ক্লিয়ারলি দেখা যেত। নিচের দৃশ্যটা সত্যি দেখার মত ছিল চারপাশে সামুদ্রিক মাছ তিমি সহ আরো বিভিন্ন সামুদ্রিক জীব ঘুরে বেড়াচ্ছিল চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মত দৃশ্য।
দেখতে দেখতে সেই সময় চলে আসে যখন তারা তাদের সাবমেরিন লঞ্চ করবে। সাবমেরিন লঞ্চ করে দেয়ার কিছুক্ষণ পরই তারা সমুদ্রের একদম নিচের তল মারিয়ানা ট্রেঞ্জে পৌঁছে যায়। তারপর তারা থার্মোক্লাউড ভেদ করতেও সক্ষম হয় এবং আবিষ্কার করে মারিয়ানা ট্রেঞ্চই সমুদ্রের সর্বোচ্চ তল নয় থার্মোক্লাউডের নিচেও আরও একটি সমুদ্র রয়েছে যার প্রাণী বৈচিত্র এবং পরিবেশ উপরের সমুদ্র থেকে একদমই আলাদা।
থার্মক্লাউডের নিচে সমুদ্র এবং উপরের সমুদ্র একদমই আলাদা ছিল এবং নিচের প্রাণী বৈচিত্রও একদমই ভিন্ন রকম ছিল। তারপর তাদের সাথে নিচে এমন একটি প্রাণীর ধাক্কা লেগে যায় যা মাপে এতটাই বড় ছিল যে তারা সেখানে টিকতে পারে না কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সাবমেরিন টি অকেজো হয়ে নিচে আটকে যায় আর রিসার্চ সেন্টারের সাথে তাদের যোগাযোগ একদমই বন্ধ হয়ে যায়।
থার্মোক্লাউডের নিচে যারা ফেঁসে গেছে তাদের তাদের শুধু জোনাস বাঁচাতে পারবে তাই জোনাসকে নিয়ে আসার জন্য দুজন যায় এবং অনেক কষ্টে জোনাসকে কনভেন্স করে রিসার্চ সেন্টারে নিয়ে আসতে হয়।
তারপর জোনাস আরেকটি সাবমেরিন নিয়ে থার্মোক্লাউডের নিচে চলে যায় এবং নিচে আটকে যাওয়া দুজনকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও একজনকে সেখানে রেখেই জন আজকে চলে আসতে হয় কারণ আরেকটু দেরি হয়ে গেলেই সেখানেই তারা সবাই ধূলিসাৎ হয়ে যেত।
দুর্ভাগ্যবশত থার্মোক্লাউড ভেদ করে একটি মেগ উপরের সমুদ্রে চলে আসে, এই দানব টিকে যদি তারা মারতে সক্ষম না হয় তাহলে অনেক মানুষের প্রাণ যেতে পারে তাই এবার তারা সকলেই ঠিক করে এই প্রাণীটিকে মারতেই হবে যেমন করেই হোক।
প্রথমে তারা একটি মেগকে মারতেও সক্ষম হয় কিন্তু পরে তারা উপলব্ধি করতে পারে সমুদ্রের শুধু একটিই নয় আরো মেগ রয়েছে যা মাপে আগেরটার থেকে অনেক বেশি বড় এবার হয়তো একে মারতে তাদের আরো বেশি কষ্ট করতে হবে। এর মধ্যেই সুইন এর পিতা, জ্যাং ও মৃত্যুবরণ করে।
তারপর অনেক কষ্টের পর অনেক জনের জীবনের বলিদান এরপর জোনাস মেগকে মারতে সক্ষম হয়। তারপর তারা একটি জাহাজের উপর আনন্দ উল্লাস করে সেখানেই সুইন এবং জোনাসের মিলন হয়ে যায় আর এখানেই মুভির সমাপ্ত ঘটে।
যারা গা ছমছমে থ্রিলার এবং অ্যাডভেঞ্চারাস মুভি গুলো দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য আমি এই মুভিটি হাইলি রেকমেন্ড করব। এটা সত্যি অসাধারণ একটি মুভি, আপনারা যারা এই মুভিটি দেখেননি তারা অবশ্যই এই মুভিটি দেখবেন আশা করছি আপনাদের কাছে অনেক বেশি ভালো লাগবে।
| • ৫.৬/১০ |
|---|
| অভিনয় | ৯/১০ |
|---|---|
| কাহিনী | ৯/১০ |
| সব মিলিয়ে | ৯.৫/১০ |
| YouTube |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Twitter Link
এই ছবিটা আমি অনেকদিন আগে দেখেছিলাম, খুবই চমৎকার একটা মুভি এটা। এই মুভিতে নায়কের অভিনয় গুলো খুবই ভালো লেগেছিল আমার কাছে। একটা মাছকে নিয়ে এত চমৎকার একটা মুভি শুধুমাত্র হলিউড এই করা সম্ভব বলে আমার কাছে মনে হয়।
এই মুভিটি সত্যি দারুন একটি মুভি । এই মুভিতে অভিনীত সকলের অভিনয় আমার কাছে খুব বেশি ভালো লেগেছে এজন্যই এই মুভিটি আমার এতটা প্রিয়।
ওয়ারনারস ব্রোস এর মুভি মানেই জোস ভাই। আসলেই আই এম ডিবি রেটিং খুবই কম কিন্তু আমার মতে এই মুভিটির রেটিং অনেক বেশি হওয়া উচিত ছিল কারণ মুভিটি এতটাই জোস। মুভিটা অবশ্যই দেখবেন ভাই আশা করছি আপনার কাছে দারুন লাগবে।
তোমার পছন্দের সাথে আমার পছন্দ মিলে গেল দেখছি, আমিও কাল্পনিক মুভি গুলো দেখতে ভীষণ পছন্দ করি। আর সেই দিক থেকে এই মুভিটাও আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। আমি এই মুভিটা দুইবার দেখেছি। মুভির শেষের দিকে নায়ক জোনাস খুবই চতুরতা ও কষ্টের সাথে মেগকে মেরে ফেলতে পেরেছে। আর এই দৃশ্যটি আমার কাছে প্রচন্ড ভালো লেগেছে। খুব সুন্দর একটি মুভির রিভিউ দেয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আসলে মামা এই মুভিটি দারুন একটি মুভি আমি তো ভেবেছি এই মুভিটি আবারও দেখব।
মুভিটি আমার এখনো দেখা হয়নি কিন্তু তোমার রিভিউ দেখে মনে হলো যেন পুরো মুভিটি দেখলাম। চমৎকার গুছিয়ে লিখে রিভিউ করেছো। আর কাহিনী অসাধারণ। পানির নিচে আটকে পরা, সেখান থেকে উদ্ধার। আবার বড় বড় প্রানীদের মেরেছে, সবমিলিয়ে দারুন।
ধন্যবাদ তোমায় চমৎকার রিভিউ করার জন্য।
ডাউনলোড করে এখনই এই মুভিটি দেখে ফেলুন ভাইয়া, আশা করছি মুভিটি দেখতে আপনার কাছে আরো বেশি ভালো লাগবে। ❣️
আপনি তো খুব সুন্দর মুভি রিভিউ দিয়েছেন ।আগে এই ধরনের অনেক হলিউড মুভি দেখা হতো। কিন্তু এখন সময়ের কারণে তেমন একটা মুভি দেখা হয় না। আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে খুবই সুন্দর মুভি। সময় পেলে অবশ্য দেখে নেবো । এত সুন্দর মুভি রিভিউ আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অন্তর অন্তর থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
জি ভাই এই মুভিটি আসলেই অনেক সুন্দর একটি মুভি সময় করে অবশ্যই দেখে নেবেন আশা করছি আপনার কাছে খুবই ভালো লাগবে।