জেনারেল রাইটিং- স্বার্থপরের সুখ: আমি আগে, তারপর বাকিরা
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজ আমি একটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি।আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার জেনারেল রাইটিংটি দেখে আসি যে কি বিষয় নিয়ে লেখলাম। হ্যাঁ বন্ধুরা আজ আমার জেনারেল রাইটিং এর বিষয় হলো স্বার্থপরের সুখ: আমি আগে, তারপর বাকিরা?
আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে একটাই শিক্ষা পেয়ে এসেছি, “নিজেকে নয়, অন্যকে আগে ভাবো।” স্কুলে, পরিবারে, এমনকি সমাজের কথায়ও আত্মত্যাগকে গৌরবময় বলে মনে করা হয়। কিন্তু একটু গভীরে চিন্তা করে দেখলে একটা সত্য ধরা পড়ে, এই পৃথিবীতে যারা নিজেদের প্রাধান্য দিতে জানে, নিজের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেয়, তারাই যেন একটু বেশিই সুখী।এটা কি স্বার্থপরতা? নাকি নিজের প্রতি এক ধরণের সম্মান? এই প্রশ্নই আজকের আলোচনার মূল বিষয়।
আমাদের সমাজে "স্বার্থপর" শব্দটার সঙ্গে সবসময়ই নেতিবাচক একটা অনুভূতি জড়িয়ে থাকে। আমরা ধরে নিই, স্বার্থপর মানেই আত্মকেন্দ্রিক, ঠান্ডা মনের মানুষ, যে কেবল নিজের কথা ভাবে। অথচ বাস্তবে যারা নিজেদের সময়, শক্তি, আবেগ সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করে, তারাই মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল ও সুখী থাকে। নিজেকে ভালোবাসা, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া, নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, এগুলো কোনও অপরাধ নয়, বরং এক ধরণের আত্মসম্মান।
অন্যদের খুশি করতে গিয়ে অনেকেই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে। পরে তারাই মানসিক চাপ, ক্লান্তি আর দুঃখে ভোগে। কিন্তু যারা নিজের কথাটা আগে ভাবে, তারা জানে "আমি যদি নিজেকে না বুঝি, কেউ বুঝবে না।" তাই তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কখনোই অনুতাপ করে না।আমরা অনেকেই “না” বললে অপরাধবোধে ভুগি। অথচ “না” বলা এক ধরণের সাহস। স্বার্থপর মানুষরা যেখানে প্রয়োজন, সেখানে স্পষ্টভাবে “না” বলতে পারে। এতে তারা সময় ও মানসিক শক্তি দুটোই বাঁচিয়ে নেয়।
সবার প্রত্যাশা মেটাতে গিয়ে আমরা নিজের স্বপ্ন ভুলে যাই। কিন্তু যারা নিজেদের লক্ষ্য স্থির রাখতে জানে, তারা এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি পায়। তারা জানে, নিজেকে খুশি রাখার দায়িত্ব নিজেরই। স্বার্থপর মানুষরা অন্যের উপর নির্ভর না করে নিজে নিজের সুখ তৈরি করতে শিখে নেয়। এই স্বনির্ভরতা তাদের আত্মবিশ্বাসী ও শান্ত করে তোলে। তারা তাদের সময়কে মূল্য দেয়সময় পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। যারা নিজেদের গুরুত্ব বোঝে, তারা সময়ের অপচয় করে না। তারা জানে কোথায় সময় দেওয়া উচিত, আর কোথায় নয়।
এখানে একটা জিনিস স্পষ্ট করা জরুরি আমরা যে স্বার্থপরতার কথা বলছি, তা অন্যকে ঠকিয়ে নিজের লাভ করার বিষয় নয়। বরং এটি এমন এক মানসিকতা, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনকে অবহেলা না করে, সেটিকে সম্মান করে। এটা ঠিক, কেবল নিজের কথা ভাবা অন্যায় হতে পারে। কিন্তু সবসময় কেবল অন্যের কথা ভাবাও এক ধরণের আত্ম-অবমাননা। দুইয়ের মাঝে একটি সুস্থ ভারসাম্যই সবচেয়ে জরুরী।
আজকের জগতে যেখানে প্রতিযোগিতা, সময়ের অভাব আর মানসিক চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে একটু 'স্মার্ট স্বার্থপর' হওয়া দরকার। এর মানে, নিজের শরীর, মন, সময় ও সম্পর্কের যত্ন নেওয়া। এতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং আপনি আরও সচেতন, দক্ষ ও ইতিবাচক মানুষ হয়ে ওঠেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আপনি যদি নিজেকে না ভালোবাসেন, তবে অন্যরাও একদিন এসে আপনাকে অবহেলা করতে শিখে যাবে।
স্বার্থপর মানুষ মানেই খারাপ মানুষ নয়। বরং যারা সময়মতো নিজেকে প্রাধান্য দিতে শিখেছে, নিজের ভালো-মন্দ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারাই জীবনে সত্যিকারের সুখী হয়। তাই নিজেকে সময় দিন, নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিন, প্রয়োজনে “না” বলতে শিখুন। এতে আপনি কেবল সুখী হবেন না, বরং অন্যদের কাছেও স্পষ্ট হবেন। স্মরণ রাখুন "নিজেকে আগে ভাবা আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা।"
আশা করি প্রতিদিনের মত করে আজও আপনাদের কাছে আমার আজকের পোস্টটি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মন্তব্যের আসায় রইলাম।
আমার পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অরেনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুনি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।
https://x.com/mahfuzanila95/status/1921631302018572587
https://x.com/mahfuzanila95/status/1921631896523374933
https://x.com/mahfuzanila95/status/1921631896523374933
নিজের সুখ ও শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া মোটেই স্বার্থপরতা নয়, বরং এটি মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন। আপনি যখন নিজেকে ভালো রাখবেন, তখন অন্যদের সাহায্য করতেও পারবেন বেশি সক্ষম হয়ে।নিজের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়া এবং 'না' বলতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এটি আপনাকে বিষাক্ত সম্পর্ক বা অত্যধিক চাহিদা থেকে রক্ষা করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আপনার সুখ নিশ্চিত করবে।