বাসস্ট্যান্ডের আগন্তুক : পর্ব ৫

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago


Copyright free Image : Pexels

বাসস্ট্যান্ডের আগন্তুক : পর্ব ৪ এর পর...


বাসস্ট্যান্ডের আগন্তুক : পর্ব ৫


বাজের আলোয় অন্ধকার রাস্তাটা দিনের মতো ঝকঝকে হয়ে গেলো। সেই ঝলকানিতে অমিত লোকটির অবয়ব দেখতে পেয়ে নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলো না। বাস স্ট্যান্ডের ঠিক পাশে সেই লোকটি রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অমিত ভালো ভাবে লক্ষ্য করে পরিস্কার দেখতে পেলো লোকটির হাঁটু থেকে বাকি পা টুকু নেই। চোখের কালো রোদ চশমা টাও চোখে আর নেই। চোখের কোটর খুলি পর্যন্ত ঢুকে গেছে কিন্তু সেখানে চোখ লেশমাত্র নেই। ফাঁকা কোটর নিয়ে শূন্যে ভাসমান অশরীরী মাত্র।

সব কিছুর আকস্মিকতায় অমিত ভয়ে চুপসে গেলো। গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। মনে মনে প্রমাদ গুনলো। আজ হয়তো তার জীবনের শেষ দিন। তবুও বাঁচার মরিয়া চেষ্টা করে গলা ছেড়ে তীব্র চিৎকার দিয়ে উঠলো সে। চিৎকার করে অমিত রাস্তার উপরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো।



Copyright free Image : Pixabay


অন্যদিকে বাড়ি সুদ্ধ আত্মীয় স্বজন সবাই অমিতের খোঁজ করছে অথচ ঘণ্টাখানেক ধরে অমিতের কোনো খোঁজই আর পৌলমীর কাছে নেই। সে শুধু বারবার ঘড়ির দিকে তাকায়। শেষমেশ উপায় না পেয়ে পৌলমী অমিতকে ফোন করা শুরু করে দিলো। অমিতের ফোন বার দুয়েক রিং হয়ে কেটে গেলো। সহ্যের সীমা পেরিয়ে পৌলমী রাগে গজরাতে শুরু করলো,

"আজকের দিনে অন্তত অমিতের ফোন ধরা উচিত। অমিত শুধু আজ বাড়ি ফিরুক, তারপর পৌলমী তাকে কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দেবে।"


তারপর অনেকটা সময় কেটে গেলো। বাড়িতে অনুষ্ঠানের হইহুল্লোড় চলছে যদিও তার মধ্যে পৌলমী ঠিক যেন আনন্দ করে উঠতে পারছে না। বারবার তার মাথার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে যে, রাত বেড়ে চলেছে অথচ অমিতের পাত্তা টুকুও নেই। কোনো বিপদ হয়নি তো অমিতের? আত্মীয় স্বজনের মাঝে পৌলমীকে বেশ অস্বস্তিকর অবস্থাতেই পড়লো। বাধ্য হয়ে সে ফের অমিতকে ফোন করা শুরু করে দিলো। টানা পাঁচ বার ফোন রিং হলো বটে কিন্তু কেউ ফোন তুললো না, তারপর ষষ্ঠ বার রিং করতে গিয়ে হঠাৎ অমিতের ফোন সুইচ অফ বলা শুরু করলো। পৌলমীর চোখমুখ এইবার শুকিয়ে গেলো। ভয়ানক দুশ্চিন্তায় ঘিরে এলো তার মনে। বাড়িতে আসা আত্মীয় স্বজনকে কিছু না জানিয়েই কোনোমতে টাকার ব্যাগটা হাতে নিয়ে পৌলমী বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো। বহুতলের সিঁড়িতে মনে মনে ঠিক করে নিলো সে আগে অমিতের অফিসেই যাবে।

বহুতল থেকে বেরোতেই পৌলমী দেখতে পেলো রাস্তা পুরো শুনশান। দূরে একটা হলুদ ট্যাক্সি দাড়িয়ে আছে বটে তবে গাড়ির সব আলো নেভানো। পৌলমী তবুও ট্যাক্সির কাছে ছুটে গেলো। গিয়ে দেখতে পেলো ট্যাক্সি চালক ট্যাক্সির সব জানলা বন্ধ করে পেছনের সিটে আরাম করে শুয়ে মোবাইলে বিভোর হয়ে কিছু একটা দেখছেন। পৌলমী ডাকতে শুরু করলো।

মানুষের আওয়াজ শুনে চালকের হুশ ফিরলো। ট্যাক্সি চালক পৌলমীকে দেখেই চিনতে পেরে গেলো। পৌলমীরা মাঝে মধ্যে সপরিবারে তার গাড়িতে চড়ে ঘুরতে যায়। পৌলমীও চালকের মুখ দেখে চিনতে পারলো, তাদেরই পাড়ার সুবল কাকু। পৌলমী ভয়ার্ত মুখে সুবল বাবুকে অমিতের ঘটনা সব খুলে বললো।

পৌলমীর কথা শুনে সুবল বাবু বুঝতে পারলেন অমিত নিশ্চই কোনো বিপদে পড়েছে। বিপদ বুঝতে পেরে সুবল বাবু পৌলমী কে গাড়িতে বসিয়ে অমিতের অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিলেন।


চলবে....




IMG_20220926_174120.png

Vote bangla.witness


Support @heroism by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

|| Join HEROISM ||

Sort:  
 4 years ago 

অমিত ভালো ভাবে লক্ষ্য করে দেখতে পেলো লোকটির হাঁটু থেকে বাকি পা টুকু নেই। আসলেই পড়ে অনেক দুঃখ পেলাম ,এমন যেন কারো সাথে না হয়।ট্যাক্সি চালক ভাগ্যিস পরিচিত ছিল সেজন্য খুব তাড়াতাড়ি অমিতের অফিসে যেতে পারলো।বাসস্ট্যান্ডের আগন্তুক গল্পটি শুনে অনেক কিছু বুঝলাম দাদা ,আশা করি পরবর্তীতে আপনি আরো সুন্দর সুন্দর গল্প আমাদের মাঝে উপহার দেবেন।

 4 years ago 

আমিও তাই আশা করি। প্রথম গল্প লিখছি তো তাই ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমা করবেন।

 4 years ago 

সম্পূর্ণ ভৌতিক একটা ব্যাপার আসলে ওই মুহূর্তে অমিতের জায়গায় যদি আমি থাকতাম পুরোটাই দেখার আগে মনে হয় পড়ে যেতে হতো আমাকে। অমিততো সাহস করে তার পুরোটাই দেখতে পেয়েছে এরপর সে ভয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল। যাইহোক অমিতের প্রতি পৌলমীর ফোন না ধরার কারণে রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক কিন্তু যখন সে বুঝতে পারল দেরি না করে অমিতের খোঁজে বের হওয়াটাই ছিল তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ সে তাই করল এবং ট্যাক্সি ড্রাইভার পরিচিত হওয়াতে খুব সহজেই আমার মনে হয় অমিতকে তারা খুঁজে পাবে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম বেশ ভালই লাগলো ধন্যবাদ দাদা আপনাকে।

 4 years ago 

আদৌ কি পাবে? পরের পর্বে সব খোলসা করবো। 😁

 4 years ago 

অমিত ভালো ভাবে লক্ষ্য করে পরিস্কার দেখতে পেলো লোকটির হাঁটু থেকে বাকি পা টুকু নেই।

দাদা,গল্পটা যেদিন থেকে পড়ছিলাম তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল এটা একটা ভৌতিক গল্প।আজকে গল্পের পঞ্চম পর্ব পড়ে বুঝতে পেরেছি এটা একটা ভৌতিক গল্প কারণ যেই লোকটি বাস স্ট্যান্ডের ছিল সেই লোকটির নিচের হাঁটু থেকে পায়ের অংশ নেই। আর একটা মানুষ যদি হয় তাহলে তার শরীরের সব অঙ্গ থাকবে।দাদা, যখন গল্পটি পড়ছিলাম প্রথমের দিকে পড়ে খুবই ভয় লেগেছিলো অমিতের কি অবস্থা হয়েছিল সেটা কল্পনা করছিলাম। দাদা, এত ছোট করে গল্পটা লেখেন কেন?আরেকটু বড় করে লেখলে ভালো হত ভৌতিক গল্প গুলো পড়তে বেশ দারুন লাগে।ধন্যবাদ দাদা, পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।।

 4 years ago 

দিদি, কাহিনী যদি একদিনেই খোলসা করে ফেলি তাহলে তো পরের পর্ব পড়ার ইন্টারেস্ট টাই কমে যাবে। তাইনা?

 4 years ago 

আরে টানটান উত্তেনায় শেষ হল এই অংশটা। প্লীজ তাড়াতাড়ি দেবেন। দেখতে চাই ফাইনালি পৌলমী কি ভাবে উদ্ধার করে অমিত কে।যাক আজ অতটা ভয় পাই নি। কারণ বেশী রাত হয় নি। 😃

 4 years ago 

কালী পুজোর রাত এগিয়ে আসছে ভূতের গল্প থেকে দূরে থাকি। পুজো শেষ হলেই পাবলিশ করবো। অন্তিম পর্ব।

 4 years ago 

একটু করে পড়তে নিয়েছিলাম,পরে পড়তে পড়তে পুরোটাই পড়েনিলাম, ভালো লাগলো পুরোটা কাহিনী,তবে এখন আসল টুইস্ট অমিতের জন্য সে এখন কেমন আছে কোথায় আছে ,পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ।

 4 years ago 

কি সেই টুইস্ট জানতে হলে নজর রাখুন পরের পর্বে। 😁

 4 years ago 

দাদা সত্যিই তো কঠিন বিপদ। অমিতের কিছু হবে না তো আবার ? দেখা যাক আগামী পর্বে। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

 4 years ago 

কি যে হয় জেঠু! আগামী পর্বেই সব জানা যাবে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.099
BTC 65416.72
ETH 1896.21
USDT 1.00
SBD 0.38