অন্ধকারের আশ্চর্য: পর্ব ৮
নমস্কার বন্ধুরা,
অন্ধকারের আশ্চর্য: পর্ব ৭ এর পর...
কোনোক্রমে গ্রামের রাস্তার উঠেই তাদের ধড়ে যখন প্রাণ ফিরল দুজনে তারপর সোজা বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাকিটুকু পথে দুজনের মুখেই কোনো শব্দ ছিলো না। বাড়িতে ঢুকে সুদীপ্ত তাড়াতাড়ি হাত পা ধুয়ে চুপচাপ বারান্দার চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ল। শীতের রাতে তার কান গরম হয়ে আছে, চোখ গুলো বিস্ফারিত। সুদীপ্তর চোখে মুখ থেকে ভয় যেন ঠিকরে বের হচ্ছিলো। ছেলের পরিস্থিতি দেখে সুদীপ্তর বাবা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো,
-কিছু হয়েছে নাকি রে?
সুদীপ্ত তারপর দু ঢোক গিলে ধীরে ধীরে বাবাকে সমস্ত ঘটনাটা খুলে বললো। ঘটনা শুনে সুদীপ্তর বাবা অবাক হয়ে গেলেন কিন্তু তিনি ছেলেকে খানিক শান্ত করিয়ে বললেন অনেক সময় খাঁড়ির আশপাশের পাড়ের মাটি ধসে খাঁড়িতে পড়ে যায় সেজন্য অনেক সময় আওয়াজ হয় সেটাই হয়তো তোমরা শুনেছ। বাবার কথা শুনে সুদীপ্ত বলে উঠলো,
-বাবা তোমার কথাতেই আমি বিশ্বাস করতে চাই। তাছাড়া তুমি জানো যে আমি ভূত প্রেতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এক-দুইবার মাটি ধসে জলে পড়লে আওয়াজ হবে তবে বার বার কি মাটি ধসে জলে পড়তে পারে?
রাতে কোনো মতে খাওয়া-দাওয়া সেরে সুদীপ্ত ঘুমোতে গেল কিন্তু সারারাতে তার চোখে তেমন আর ঘুম এলো না। সারাটা রাত জেগে জেগেই কাটিয়ে দিল। ভোর বেলায় অল্প চোখ লেগে গেলো। যদিও মায়ের ডাকে কিছুক্ষনের মধ্যে তাও ভেঙে গেলো। হুড়মুড়িয়ে উঠে কোনো কথাবার্তা না বলেই সে সুকেশের সাথে দেখা করার তাগিদে বেরিয়ে পড়ল। বাড়ি থেকে বেরোতেই চারপাশে বেশ কিছু মানুষজনের জটলা দেখতে পেয়ে একটু আশ্চর্যই হলো। সকালে তার বাড়ির সামনে এত মানুষের জটলা সে কোনোদিন দেখেনি। জটলা থেকে শুধুই গুনগুন আর ফিসফিস আওয়াজ তবে কি নিয়ে আলোচনা চলছে সেটা বোঝার উপায় নেই।
সুদীপ্তকে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে সুকেশের বাড়ির দিকে পা বাড়ালো। সাথে সাথে জটলার চোখ গুলো সুদীপ্তর দিকে গিয়ে পড়লো। সুদীপ্ত মনে মনে ভাবলো যে সুকেশ নিশ্চই গত রাতে সমস্ত ঘটনা পাড়াসুদ্ধ করে ফেলেছে।
সুদীপ্তর ডাক শুনে সুকেশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। সুকেশও সারারাত জেগে ছিল সেটা তার মুখ চোখেই স্পষ্ট। দুজনকে একসাথে দেখে জটলার লোকগুলো তাদের কাছে এগিয়ে এলো। জটলার সবার মুখে ঘটনা নিয়েই কথা হচ্ছে। তারা দুজনকে নানা ধরনের মতামত দিচ্ছে কিন্তু কোনো কিছুই সুদীপ্ত এবং সুকেশের কাছে ধোপে টিকলো না।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |