আজ সোমবার অফিস পরিষ্কারের দিন // ১০% পেআউট লাজুক খ্যাঁক-কে
নমস্কার,
দীপাবলি তো চলেই এলো, সাথে অফিসে নতুন বছরের শুরু। অফিসের হালখাতা ধনতেরাসের দিনেই করা হয়। আজ অফিসে কাজকর্ম বলতে বিশেষ কিছুই ছিল না শুধুমাত্র অফিস পরিষ্কার করা ব্যতীত। অফিস পরিষ্কার করার দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয় না। পরিষ্কার করাটা আমরা নিজেরাই করি, অন্যের উপরে দায়িত্ব দিয়ে কেন যেন বিশেষ শান্তি হয় না। নিজেরাই পরিষ্কার করাটাকে বেশি গুরুত্ব দিই, একটা দিন সময় করে পুরোটা পরিস্কার করায় একটা অদ্ভুত ধরনের তৃপ্তি হয় যা শব্দে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। সত্যি কথা বলতে যে থেকে একসাথে মিলে কাজটা করি এটার মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
আমার বেশি কাজকর্ম সন্ধ্যেবেলায় দিকেই থাকে, তবে আজ একটু বেলা থাকতেই চলে গিয়েছিলাম। অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্র এদিক-ওদিক সরাতেই বিকেল গড়িয়ে টুক করে সন্ধ্যা নেমে এলো বুঝতেই পারিনি। শীতের আগমন হয়েছে সাথে বেলাটা কমে গেছে। দুপুর থেকে হঠাৎ সন্ধ্যা নেমে আসে, মাঝের বিকেলটা যেন নেই।
আমাদের অফিসের বাকি কাজ ছিলো টেবিল চেয়ার গুলোকে নতুন ভাবে রং করা। আমরা ফাইলপত্র ঝাড়া পোছা করবো আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম। আর কাঠের বার্নিশ করার জন্য একজন কাঠের মিস্ত্রিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
টেবিলের বার্নিশ খুব তাড়াতাড়ি করে ফেললে, বাকি প্লাইয়ের টেবিলগুলোকে বার্নিশ করার কথা বলতেই উনি আলাদা টাকা দাবি করে বসলেন, পুজোর সময় বলে আমরাও জোরাজুরি করিনি। তাকে বাকি কাজটা করতে দিয়ে আমরা দুজনে একটু বেরোলাম। কারন অফিসের বাকি কাজগুলো বার্নিশ শুকোলেই করা সম্ভব।
বার্নিশ শুকোতে দিয়ে দুজনে বেরোলাম চাবির নকল বানাতে, আসলে হয়েছে কি, সপ্তাহ দুয়েক আগে যখন শুশুনিয়া পাহাড়ের বেড়াতে যাওয়া আগে বোনের স্কুটারের চাবিটা ফ্ল্যাটের লিভিং রুমের টেবিলে রেখে যাই। শুশুনিয়া থেকে ফিরে আসার পর চাবিটা আর খুঁজে পাইনি, তন্ন তন্ন করে খুঁজে কিনারা না পেয়ে চাবির নকল বানাতে হতো। বার্নিশ শুকানোর ফাঁকে আমি চাবিটাই বানিয়ে গিয়েছিলাম। বাইকের চাবিটা বানাতেই বেশি টাকা লাগলো। সে লাগুক, নকল বানাতে পেরেই আমি খুশি ছিলাম।
অফিসের জন্য একটা আঠা কেনার প্রয়োজন ছিলো তা কিনতে খুব হয়রানি পোহাতে হলো। দেওয়ালের স্টিকারের আঠা স্বাভাবিক আঠার থেকে একটু আলাদা, খুঁজতে বেশ বেগ পাওয়া গেলো। তারপরে টেবিলের জন্য একটা ক্লথ নিতেও হলো।
বাজার শেষ করে অফিসে ফেরা হলো যখন টেবিলের বার্নিশ শুকিয়ে গিয়েছে। কাপড়টা বসিয়ে তার উপরে কাঁচটা বসাতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হলো। কাঁচ অনেকটাই বড়ো তাই খুবই সাবধানে কাজ করতে করতে হলো।
টেবিলের কাজ শেষ করতে রাত ৯:৩০ বেজে গিয়েছিল, আর কিছু কাজ বাকি থাকলেও সেগুলো করার মতো আমার হাতে সময় ছিলো না, তাই বেরিয়ে আসতেই বাধ্য হলাম। বাকি কাজ বলতে ফাইল গুলোকে সাজিয়ে রাখা, এইগুলো দায়িত্ব আশীষের উপরে দিয়েই বেরোলাম। রাত হলে আবার বাড়ি ফেরার বাস অনেকটাই কমে যায়।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
নকল বানানো সে এক তৃপ্তির ব্যাপার। এইযে যেমন এক্সাম হলে একজন থেকে অন্যজন টুকে দেওয়া। 🤪🤪
আমাদের এদিকেও একই অবস্থা। এই দেরি হলেই বাস বাবাজিদের আর দেখাই পাওয়া যায়না।
উহু! পরীক্ষায় নকল করা পাপ 😛।
ওই ঝামেলার জন্যই বেরিয়ে এসেছিলাম। 😅
আমারও মনে হয় অফিস অন্য কাউকে দিয়ে পরিষ্কার না করানোয় ঠিক। কারণ আপনারা যে পেশায় আছেন এতে বাইরের মানুষকে ভেতরের অবস্থা না জানানোই বেটার।
একটা আঠার জন্য এত ঘুরাঘুরি 😳।
যাইহোক দাদা পোস্ট টা ভালো হয়েছে। এবং অফিস টা মনে হচ্ছে ছোট। কিন্তু খুব সুন্দর।
হ্যাঁ! ছোটখাটোই। তাই পরিষ্কার করতে ফেটে গেলো। 😭
😳😳😳
ভাইয়া আমিও আপনার মত চাবি হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং অনেক খোঁজার পর ও পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে নকল চাবি বানাতে হয়েছিল। এরকম পরিস্থিতি আমার কাছে খুবই ঝামেলাপূর্ণ লাগে।আর নিজের কর্মস্থল নিজে গোছানোর মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি রয়েছে। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
বাইকের চাবি তো এইজন্য আরো সমস্যা হয়েছিল। চাবি বানিয়ে ঝামেলা মিটলো। ধন্যবাদ ভাই 🤗
ঠিক বলেছেন ভাইয়া শীতের দিন আসলেই কেন জন্য বিকেল টা হারিয়ে যায়। খুব দ্রুত সন্ধ্যা হয়ে যায়। আপনি খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন যে নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। বাইরের লোক দিয়ে পরিষ্কার করলে কেমন যেন মনের শান্তি পাওয়া যায় না। শুভকামনা রইলো ভাইয়া আপনাদের জন্য।
শীত যেমন ভালো তেমনই খারাপ। দিন খুবই ছোটো। কাউকে দিয়ে করালে কাজের জিনিস হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ধন্যবাদ দিদি 🤗
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সবার জন্যই কাম্য। ভালো লেগেছে অফিস পরিষ্কারের দৃশ্যটি।আমার কাছ অফিস এর পরিবেশ ভালো লেগেছে শুভকামনা রইল আপনার জন্য দাদা।
ধন্যবাদ ভাই 🤗
আসলেই ঠিক বলেছেন ভাই আপনি। নিজের কাজ নিজে করলে তখন ই একটা শান্তি পাওয়া যায়। নিজের কাজগুলা অন্য কেও করে দিলে তার মাঝে কিছু না কিছু অপছন্দের হয় ই। তবে নিজের কাজ নিজেকে অনেকেই করতে চায়না অলসতার কারণে যা আপনার মধ্যে একদম পাইনাই।
অপছন্দ আর কাগজ হারিয়ে যাওয়ার ভয় 😆।
বসে থাকতে খুবই খারাপ লাগে, তাই ছুটে চলা।
আসলে কোন ছোট কাজ নিম্ন ভেবে তা থেকে দুরে থাকা মনুষ্যত্ব নয়।মনুষ্যত্ব হলো ছোট বড় সব কাজ করা।
আমিও মাঝে মাঝে আমাদের স্কুলে পিয়নটি না থাকলে ছুটির ঘন্টা দেই বা ব্রেঞ্চ পরিস্কার করি।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য।
বাহ! খুব ভালো কাজ করেন। নতুন কাজ শিখতে মজাও লাগে। 🤗
ঐ রকম ছোট কাজেও লজ্জা বোধ করি না।
টেবিল বার্নিশ করা, ফাইল পত্র গোছানো এবং বাইকের চাবি দুপ্লিকেট করা সব মিলে অনেক চমৎকার করে সবগুলো গুছিয়েছেন। অনেক ধন্যবাদ এবং একটি ভাল আইডিয়া পেলাম যে সপ্তাহে একদিন অফিস গুছানো। ধন্যবাদ