দিনপঞ্জি ৮-ই ভাদ্র, ১৪২৮ // ১০% পেআউট লাজুক খ্যাক-কে
নমস্কার,
ভোররাত পর্যন্ত জেগে ছিলাম, রাত্রি দুটোর সময় বোন ডিউটি করে ফেরে তাই আসা পর্যন্ত সবাই জেগেই থাকে। অতো রাতে এলে গেট খুলে দেওয়া এবং নীচে গিয়ে নিয়ে আসা। ডাক্তারদের একটা সমস্যা আছে যে তাঁদের ব্যাগের ওজন কখন 10 কিলোর নীচে নামে না। পিঠে চাপিয়ে নিয়ে আসার পর কেউ টেনে আনলে ভালোই লাগে। রাতে রাস্তা মোটামুটি ফাঁকাই থাকে তবুও একটা তো চিন্তা। সেজন্যই জেগে থাকা।
আজকেও ফিরতে অসুবিধে হয়নি, ভালোভাবেই বাড়ি ফিরে পরে স্নান করতে ঢুকলো আর আমি ঘুমোতে চলে এলাম। দেরী করে ঘুমিয়েছি তাই ভোরবেলায় একবার ঘুম ভেঙে গেলেও প্রায় সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েছি। ঘুম ভাঙতে ভাঙতে সেই নটা বেজে গেছিল। সকাল বেলায় চা খেয়েই, জলখাবার খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম কিছু না পেয়ে যখন মহারাণী পিসিকে জিজ্ঞেস করলাম।
-সকালের জলখাবার কি কি গো?
-গতকালের অনকেটা খিচুড়ি বেঁচে আছে, খেতে পারিস।
আমিও না করলাম না, খালি পেটে থাকার থেকে অল্প খিচুড়ি খাওয়া ভালো।
দু'চামচ খেয়ে নিয়ে, সকালের উদরপূর্তি শেষ করে স্টিমিট খুলে বসলাম। দিনপঞ্জি পোস্ট করতে হবে সাথে বেশ ভালো ভালো পোস্ট হচ্ছে সেগুলো পড়াও যাবে।
পোস্ট লিখতে অনেকটাই সময় লাগে। মার্কডাউন বসিয়ে ঠিক ভাবে পোস্ট করতে কমপক্ষে দুঘণ্টা। লিখতে লিখতে ডিসকর্ডটা খুললাম, খুলে দেখি গ্রুপে মজা চলছে, বাংলা সিরিয়ালের গুষ্ঠি উদ্ধার আরকি 😂। আমিও জয়েন করলাম। তিনটে বিয়ে চারটে করে প্রেম। মানুষের জীবনে প্রেম আর বিয়ে ছাড়াও কাজকর্ম নাই যেন। এসব করতে গিয়ে পোস্ট করতে দেরী হয়ে গেলো আরো, সময় দেখে ধড়ফড় করে স্নানে চলে গেলাম। বিগত দুদিনে ক্লায়েন্টদের ওখানে যাওয়া হয়নি। আজকে যেতে হবেই।
একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন স্নান করলে, প্রচুর খিদে পায়, এদিকে ওই বাড়ি থেকে খাবার আসছে না। পিসিও বলছে খিদে পেয়েছে। ফ্রিজটা খুললাম, দেখি কিছু পাওয়া যায় কিনা। যাক চিকেন সসেজ আর চিজ কর্ন নাগেট।
দুটো দুটো বের করে নিয়ে প্লেটে রাখলাম। তারপর কড়াই ওভেনে বসিয়ে গরম করতে দিলাম।
কড়া একটু গরম হয়ে গেলে তাতে তেল দিয়ে দিলাম। অনেকটাই পড়ে গেলো 🌚।
তেল তেঁতে গেলেই সসেজ আর নাগেট গুলোকে তেলে দিয়ে ওভেনের আঁচটা কমিয়ে মিডিয়াম করে দিলাম।
৪-৫ মিনিট এপাশ ওপাশ করতেই সুন্দর সোনালী ব্রাউন রঙের হয়ে গেলো।
একটা ছোট্ট বাটিতে ওগুলোকে নিয়ে পিসি - ভাইপো খেতে যাবো ওই বাড়ি থেকে খাবার হাজির।
দুপুরের লাঞ্চটা একটু বাদেই করতে হলো আবার কাজে যেতে হবে। খেয়ে ১৫ মিনিট রেস্ট নিয়ে বেরোবো এই মুহূর্তে পিসি বলল
-টিভিটা চালিয়ে জি বাংলা দিয়ে যা।
আমিও বাধ্য ছেলের মতো সিরিয়াল চালিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ আগে যে জিনিস নিয়ে খিল্লি হচ্ছিলো সেই অতিনাটকীয়তা দেখে মনে মনে হাসতে হাসতে বেরিয়ে পড়লাম।
কাজের ওখানে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলো না। তবে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে খুবই অধৈর্য্য লাগে।
বেশকিছু কাজ জমে ছিলো সেসব করতে করতে সন্ধ্যে হয়ে গেলো। বেরোবো বেরোবো করছি এমন সময়ে ক্লায়েন্ট এসে হাজির একটা কোটেশন বানিয়ে দিতে হবে। কি আর করা বানাতে বসলাম।
ওই যে বেরোনোর আগে বাধা পেলাম, তারপর পাক্কা দেড় ঘন্টা আটকে গেলাম। কোটেশন বানানোর সময় যে একবার বৃষ্টি শুরু হলো পুরো দেড় ঘন্টা চললো। বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেকটা রাত হয়েই গেলো। ৩ ঘন্টার কাজ ৫ ঘন্টা লেগে গেলো।
Preety nice recipy you shared w/ us
Keep sharing be smile
@kingporos
#affable
Thanks @layersinn! Hope to see your cooking techniques in future too. #affable
আপনার দিন টা বেশ ভালো কেটেছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটালে ভালো লাগে। আলসেমি করলে মাথায় কিছু লেখার বুদ্ধি খাটে না
বস বসটি দুর্দান্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে কন্টেন্ট টাও খুব সুন্দর।আপনার উপভোগ্য মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।
ধন্যবাদ ভাই। তোমার মতো এতো রান্না পারলে আরো রেসিপি Share করতাম
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খুবই লোভনীয়।
ভাই কমিউনিটি রুলস ফলো করার চেষ্টা করেন। মাইক্রো কমেন্টস না করাই ভালো। কমেন্ট করতে হলে একটু বড় করে অর্থবহ এবং বিশ্লেষণধর্মী কমেন্ট করবেন। তাতে আপনারই উপকার হবে। আপনার সম্বন্ধে সবার একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
সত্যিই তাই। তবে বৃষ্টি না থাকলেও আমার ভালো লাগে
খুব ভালো সময় কাটিয়েছেন দাদা।খিচুড়ি আমার ও খুব প্ৰিয়।ধন্যবাদ।
খিচুড়ি কার না ভালো লাগে। গরম গরম। অল্প ঘী ছড়িয়ে নিয়ে! আহা
দাদা অনেক সুন্দর ভাবে দিনটা অতিবাহিত করেছেন। এবং পোস্টটা পড়ে খুব মজা পেলাম।
দাদা দুম তা না না এর মধ্যে মেঘের গর্জন কতবার ছিল🤣🤣🤣।
ওভারএক্টিং টা দেখো। দেখে প্রচন্ড হাসি পাচ্ছিলো
হুম বুঝেছি দাদা🤣🤣🤣
তিন ঘন্টার কাজ পাঁচ ঘন্টা লাগল আপনার দিনটি অনেক চমৎকার ছিল শুরুটা যেখানে খিচুড়ি দিয়ে তারপর নাগেট নাটক তারপর রাতে কিছু অনলাইন ভিত্তিক কাজ সবমিলিয়ে অনেক ব্যস্ত একটি দিন কাটিয়েছেন।
বেরোনোর আগে বাধা দিলে এই হয় দেখেছি। কাজটা অনলাইন না, তবে কম্পিউটার দিয়েই করতে হয়। অফিস আর ট্যালি সফটওয়ারের সহায়তায়
সারাদিন আপনার অনেক এক্টিভিটি ছিলো, খুব ভালো ভাবে সম্পূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। আপনার খিচুড়ি দেখে খাওয়ার ব্যাপারে খুব ইচ্ছে করছে। ধন্যবাদ ভাই 🙂
বাড়িতে রান্না করে ফেলুন তাহলে। বর্ষা প্রায় শেষ। টিপটিপ বৃষ্টি দেখলেই খিচুড়ি আর বেগুনি।
হ্যাঁ অবশ্যই ভাই 🙂 খিচুড়ির সাথে বেগুনি তবে কখনো ট্রাই করা হয়নি। যাইহোক, ধন্যবাদ।
মুচমুচে বেগুনি আর অল্প ঘী। পুরো অমৃত লাগবে। ট্রাই করে দেখো
আমাকে সাজেস্ট করার জন্য ধন্যবাদ, আমি আগামী সপ্তাহে ট্রাই করে দেখব।
অবশ্যই ❤️
আপনার পোস্টের উপস্থাপনাটা খুব সুন্দর হয়। দিনপঞ্জিটা আপনি গল্পের মত করে বললেন। স্টোরি টেলিং অনেক ভালো একটা গুন। এটা অনেক সাধারন ব্যাপার কেও অসাধারণ করে তুলতে পারে। আপনাকে একটা পরামর্শ দিই। যদি আগের দিনের খিচুড়ি ফ্রিজে থাকে। তাহলে সেটা একটু মরিচ, পেঁয়াজ আর তেল দিয়ে ভেজে নেবেন। দেখবেন খেতে খুবই সুস্বাদু। আমি মাঝে মাঝে খাই। সাথে শুধু একটা ডিম ভেজে নেবেন।
ধন্যবাদ ভাই! খিচুড়ি এইভাবে কখন খাইনি। পরের বার অবশ্যই করে দেখবো। খিচুড়ির সাথে ডিম ভাজা খেতে অসাধারণ লাগে। সকাল বেলায় এতোটা ভারী খাবার খেয়ে নেবো ভেবেই আর অমলেট করা হয়নি