আলিপুর চিড়িয়াখানা : পর্ব ১
নমস্কার বন্ধুরা,
মার্চ মাসে ছোট মামারা এসেছিলেন কলকাতায়। যদিও তাদের আসাটা ছিলো চিকিৎসার কারণে কিন্তু কলকাতা শহরে এসে শুধু ডাক্তার দেখিয়ে চলে যাওয়া কার মন চাইবে বলুন? আর ছোটো মামার সাথে যেহেতু এসেছিল তার ৬ বছরের ছেলে সে কি আর ঘরে চুপটি করে বসে থাকার মানুষ। আসা থেকেই চিড়িয়াখানা যাবো করে লম্ফঝম্প, তাই দেখে শেষমেষ তাদেরকে নিয়ে আমি গেলাম আলিপুর চিড়িয়াখানাতে। কলকাতাতে চিড়িয়াখানা বলতে সুপরিচিত আলিপুর চিড়িয়াখানা। যদিও সকলে মূলত শীতকালেই চিড়িয়াখানা যাওয়াটা পছন্দ করেন কারণ ঐসময়ে চিড়িয়াখানা ঘোরার আমেজটাই অন্যরকম। তবে যেহেতু মামারা মার্চ এসেছে তাই আমার কাছেই তাদের সাথে মার্চে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিলো না।
আলিপুর চিড়িয়াখানায় প্রথম গিয়েছিলাম খুব ছোটবেলায় যখন প্রথম কলকাতায় এসেছিলাম তারপর আর কখন যাইনি। মনে আছে সেবার ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গেছি। কিন্তু কি কি পশু পাখি দেখেছিলাম সেগুলো কিন্তু আর বিশেষ খেয়াল ছিল না।
কাজের থেকে সময় বের করে তাই চলে গেলাম সকাল সকাল, কারণ বেলা বাড়তে বাড়তে রোদের তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে। মার্চ মাস, বুঝতেই পারছেন গরম বেশ খানিকটা পড়ে গিয়েছে তাহলেও বর্তমান সময়ের থেকে অনেকটাই কম ছিলো তাই সাহস করে যাওয়া। যেতে যেতে সেই সকাল ১০ টা, আরকি 😁। পৌঁছে বুঝলাম আরো ঘন্টা দুয়েক আগে আসা উচিত ছিলো আমাদের। তাপে ঠিক করলাম যত তাড়াতাড়ি ঘুরে ফেলা যায়।
সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। পৌঁছে তাই সোজা চারখানা টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম চিড়িয়াখানায়। ঘুরতে অনেকটা সময় লাগে বলেই তাড়াহুড়ো। তাছাড়া মামার ছেলেটি বড্ড দুষ্টু, তাকে নিয়ে ঘুরতে আমাদের যতটা না লাগার তার থেকে বেশি সময় লাগবে বলে চিন্তায় ছিলাম। ঢুকে দেখলাম চিড়িয়াখানায় যথারীতি মানুষজনের ভীড় কম।
চিড়িয়াখানায় ঢুকেই চিড়িয়াখানার পুরো দস্তুর ম্যাপটা আমার চোখে পড়ল। ম্যাপটা ভালোভাবে খুটিয়ে দেখে নিলাম কোন দিক থেকে ঘোরাটা শুরু করবো, যদিও মূলত বাঁ দিক থেকে শুরু করলেই চিড়িয়াখানা ঘোরা সবচেয়ে ভালো হয় কিন্তু আমি ভাবলাম যে ডানদিকে যেহেতু বড় বড় স্তন্যপায়ী পশু রয়েছে সেজন্য ডানদিকেই রওনা হলাম।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
দাদা, আপনার ছোট মামা অসুস্থ হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন তা আপনার পোষ্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম। আলিপুর চিড়িয়াখানায় আপনি খুব ছোটবেলায় গিয়েছিলেন তারপর আর যাওয়া হয়নি কথাটি শুনে একটু অবাকই হলাম। যাইহোক এত বছর পর মামাতো ছোট ভাইয়ের কারণে আলিপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়া হয়েছে জেনে ভালোই লাগলো। তবে দাদা চিড়িয়াখানায় গেলে একটু সকাল সকাল যাওয়াই ভালো, তা না হলে সূর্যের তাপে গলে যাওয়ার মত অবস্থা হয়। যেহেতু আপনার চিড়িয়াখানায় যেতে দেরি হয়েছিল, সেহেতু আপনারাও নিশ্চয়ই প্রখর রোদে কষ্ট পেয়েছেন। যাইহোক দাদা, আলিপুর চিড়িয়াখানা ঘুরতে যাওয়া নিয়ে ১ম পোস্ট উপস্থাপনের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। অনেক অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
প্রিয় দাদা, আলিপুর চিড়িয়াখানা ভ্রমণের প্রথম পর্বটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। চিড়িয়াখানার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বড় বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী গুলো দেখার পর আপনার অনুভূতির কথাগুলো জানার জন্য পরবর্তী পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। খুবই সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য প্রিয় দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।