পার্কিংলটে বিপত্তি: পর্ব ২
নমস্কার বন্ধুরা,
পার্কিংলটে বিপত্তি: পর্ব ১ এর পর....
রাতুল যে অফিসে কাজ করছে সেই অফিস যে বহুতলটিতে রয়েছে সেটাও তার কোম্পানির মতো একদম নতুন। কলকাতা শহরের নব্য গড়ে ওঠা নিউটাউনের একদম শেষপ্রান্তে একাকী দাঁড়িয়ে রয়েছে। অফিসের জানালা দিয়ে উঁকি দিলেই সেটা আরো ভালো করে বোঝা যায়। আশপাশটা ঘন সবুজ গাছ পালায় ভর্তি তার ঠিক মাঝে তাদের অফিসটা। তাছাড়া এদিকটায় খুব একটা বসতি নেই, এমনকি অন্য কোন অফিসও। কাছেপিঠে আছে বলতে বহুতলের সামনে একটা চায়ের দোকান আরেকটা খাবারের দোকান। যাদের ঝাঁপ উল্টো দিকে থাকা অফিসের সাথেই সারারাত খোলা থাকে।
দোকান গুলোকে দেখে রাতুল শুধু আশ্চর্য হয়। তারা আদৌ যে দোকান বন্ধ করে কিনা সেটা নিয়েই রাতুল সন্দিহান। সে যখন সকালবেলায় অফিসে আসে তখনও দোকান গুলো খোলা দেখতে পায় এবং যখন রাতে অফিস থেকে বের করে তখন তাদের খোলা দেখতে পায়।
চায়ের নেশা নেই সেজন্য সে চা খেতেও বিশেষ আসে না। তবে মাঝে মধ্যে চায়ের দোকানের পাশের খাবার দোকানটিতে আসতে হয়। দারুন ম্যাগি পাওয়া যায়, সেটাই খেতে বার কয়েক বার এসেছে। রোজ বাড়ি থেকে খাবার আনার সময় তার থাকে না আর দুপুরের খাবারের জন্য বেশিক্ষণ সময় খরচ করতে সে নারাজ। তাই ম্যাগিই ভরসা। আট দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় আবার নিমেষের মধ্যে সে খেয়েও নিতে পারে।
সেদিন বাড়ি থেকে খাবার আনতে ভুলে গিয়ে রাতুল তাই নীচের দোকান থেকে দু প্লেট ম্যাগি খেয়ে নিয়েছে, রাতে কখন বাড়ি ফিরতে পারবে সেটা নিজেও জানে না। আদবে বিগত ক'দিন ধরে অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে অনেক দেরী হচ্ছে। মাঝে তো দুদিন রাতে উপায় না পেয়ে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। অফিস থেকে নতুন একটা প্রজেক্টে অস্যাইন করার পরে থেকেই এমন পরিস্থিতি। ক্লায়েন্ট মূলত ইউরোপীয় হওয়ায় তাকেও বেশ রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রাতুল যদিও সেটাকে মনে মনে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে। কাজের শুরুতেই ইউরোপীয় ক্লায়েন্ট তাদের থেকে নতুন কিছু শিখবে সেই আশায়।
রাতুলের সাথে রুমি নামের একটি মেয়ে প্রজেক্টটিতে রয়েছে তবে যেহেতু রুমি রাতুলের থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে সিনিয়র তাই প্রজেক্টটির লিডার রুমিই। রুমি বছর পাঁচেক আগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। সে জেলার মেয়ে কিন্তু পড়াশোনা সূত্রে কলকাতায় আসে। তারপর চাকরি বাকরি করে আজ প্রায় ন'বছর কলকাতাতে। রাতুল রুমিকে দিদি বলেই ডাকে। দুজনে মিলে প্রজেক্ট করলেও রাতের দিকে এদিকটায় গাড়ি পাওয়া যায় না জন্য রুমি আগেই বেরিয়ে যায়। আর বাইক নিয়ে আসার কারণে রাতুল অনেকটা রাত পর্যন্ত কাজ করে তবে বেরোয়।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
কিছু কিছু মানুষের জীবন এভাবেই কেটে যায় কাজের মধ্যে দিয়ে। তারা ক্যারিয়ার গড়তে গড়তে জীবনের ভালো সময়গুলো নষ্ট করে ফেলে রাতুলের ক্ষেত্রেও হয়তো সেরকমই হচ্ছে যাইহোক আজকের নতুন একজনের আবির্ভাব হলো এই গল্পে। দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়। ভালো লাগছে দাদা। ধন্যবাদ।
সবাই ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত দিদি। তবেই এটা মেনে নিতেই হবে।
ভালোই লেখে যাচেছন দাদা। বেশ সুন্দর চলছে গল্পটি। আসলে আমরা যদি চারদিকে দেখি তাহলে এমন অনেক মানুষই খোঁজে পাবো যে যারা নিজের ক্যারিয়ার গড়তে যেয়ে জীবনের সুন্দর সময় গুলোকে নষ্ট করে ফেলে। পায় না কোন জীবনের স্বাদ। কৌতুহল বেরেই চলছে। আগামীর অপেক্ষায় রইলাম।