ভ্রমণ পোস্ট // সিলেট ভ্রমণের ৩০ তম পর্ব
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (০১-১০-২০২৪)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি সিলেট ভ্রমণের ৩০ তম পর্ব। আজকে সকাল বেলা থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই হাতমুখ ধুয়ে বেশ কিছু সময় বাড়িতে ছিলাম। তারপরে বাইক বের করে রওনা দিয়েছিলাম পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার জন্য। পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখি আমাদের পুকুরে বেশ কয়েকটি মাছ মারা গিয়েছে সত্যি দেখে আমার কাছে বেশ খারাপ লেগেছিল। আসলে কয়েকদিন ধরে অল্প কিছু পুকুরের মাছ মারা যাচ্ছে। তারপরে পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া শেষ করে এসে বেশ কিছু লোকের সাথে পরামর্শ নিয়েছিলাম। সকলে বলছিল উপর বৃষ্টি হলে পুকুরের একটু অক্সিজেনের সমস্যা হয়। তারপরে সকালে নাস্তা খেয়ে বেশ কিছু সময় পাড়ার ছেলেদের সাথে আড্ডা দিয়েছিলাম। বাড়িতে ফিরে বেশ কয়েকটি পোস্টে কমেন্টের উত্তর দিয়েছিলাম। তারপরে ভাবলাম পোস্ট লিখব কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। রুমের মধ্যে বসে থাকা সত্যিই বেশ কষ্টকর বিদ্যুৎ না থাকলে। তারপরে বাইরে থেকে একটু ঘুরে ফিরে এসে আবারো পোস্ট লেখার জন্য বসে গেলাম। তবে চলুন আজকের পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা যাক........
প্রথমে আপনারা উপরে ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন। আমি অনেক সুন্দর ভাবে আপনাদের মাঝে মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের মধ্যে পাহাড়ি ঝরনার ছবি তুলে শেয়ার করেছি। আসলে ঝরনাটি দেখতে সত্যি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল। সেখানে উপর থেকে পানি পড়ছিল এই দৃশ্য দেখে আমি বেশ মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেখানে বেশকিছু মানুষের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি এখানে সব সময় এভাবেই পানি পড়ে কিন্তু পানির উৎস কোথা থেকে কেউ জানে না। সত্যি এই বিষয়টা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল। পৃথিবীর অপরূপ সৃষ্টির দৃশ্য দেখে সত্যি আমি সেদিন বেশমুগ্ধ হয়েছিলাম। সেখানে আমরা বন্ধুরা মিলে সকলে গোসল করেছিলাম এবং সকলে বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। সেখানে সিঁড়ি বয়ে উপরে উঠায় একটি টাওয়ার ছিল সেখানে উঠে আমরা বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। সব মিলিয়ে ইকো পার্কের মধ্যে আমরা বেশ দারুন সময় অতিবাহিত করেছিলাম। আসলে এটি ছিল একটি সরকারি ইকোপার্ক সেখানে ২০ টাকা দিয়ে টিকিট গ্রহণ করে আমাদের পার্কের মধ্যে প্রবেশ করতে হয়েছিল। সেখানে চোরাবালি ছিল আমার সত্যি বেশ ভয় লেগেছিল এই চোরাবালি আছে জানার পরে। সেখানে পুলিশ বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল এটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
আপনারা উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন। আমি খুবই চমৎকারভাবে আপনাদের মাঝে বেশ কয়েকটি ছবি তুলে শেয়ার করেছি। আমি চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত আপনাদের মাঝে সিলেট ভ্রমণের ছবিগুলো পর্যায়ক্রমে শেয়ার করে আসার। ঝরনার সাথে দাঁড়িয়ে আমি চোরাবালির মধ্যে বেশ সুন্দরভাবে একটি ছবি তুলেছিলাম। আসলে চোরাবালি যেখানে আছে সেই জায়গায় মাঝখানে যেতে প্রত্যেকে বেশ ভয় পেয়েছিলাম তাই আশে পাশে দাঁড়িয়ে আমারও ছবি তুলেছিলাম। তারপরে নদীর মধ্যে নৌকায় ভ্রমণ করা মুহূর্তে আমরা বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। আসলে সিলেটে আমরা যখন গিয়েছিলাম হালকা শীত মৌসুম অল্প একটু পানি ছিল বেশ ভালো লেগেছিল ভ্রমন করতে। তবে আমি মনে করি ভ্রমণ যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হত তাহলে আরো বেশি ভালো লাগতো। আসলে এর আগে কখনো আমি নদীর মধ্যে নৌকাতে চড়ে ছিলাম না। আমরা নৌকাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বন্ধু মিলে চড়েছিলাম সেখানে নৌকা মনে হচ্ছিল পানির মধ্যে ডুবে যাবে সত্যি আমার কাছে বেশ ভয় লেগেছিল। কিন্তু আমাদের নৌকার মাঝি কোন ভয় পেয়েছিল না আমাদের শুধুমাত্র নৌকার মাঝখানে চুপ করে বসে থাকতে বলে এবং গান গাইতে গাইতে নৌকা নদীর কিনারায় নিয়ে চলে আসে। এভাবেই সিলেট ভ্রমণের কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলাম সত্যি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল সিলেট ভ্রমন। আমার জীবনের সব থেকে বড় ভ্রমণ হচ্ছে সিলেট ভ্রমণ। আসলে এই ছবিগুলো দেখলে আমার প্রায় প্রতিনিয়ত সেই মুহূর্ত মনে পড়ে।
আপনারা উপরে ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি সন্ধ্যা মুহূর্তের একটি ছবি তুলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। ভোলাগঞ্জ থেকে ছবিটি তোলা হয়েছিল সেখানে পাহাড়ের উপরে বিভিন্ন মানুষের বাড়ি ছিল টিপটিপ করে লাইটের আলো জ্বলছিল দেখতে সত্যি বেশ ভালো লেগেছিল সন্ধ্যা মুহূর্তের। তারপরে জাফলং এ এসেছিলাম সেখানে পাহাড়ের গায়ে একটি ঝর্ণা ছিল। আমি এবং আমার বন্ধু পাহাড়ের পাথর বয়ে সেই ঝর্ণার শেষ মুহূর্ত দেখার জন্য উঠেছিলাম। কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্তে উঠতে সক্ষম ছিলাম না সত্যি আমাদের বেশ ভয় লাগছিল। তাও আমরা সেই পাহাড়ের ঝরনার প্রায় অর্ধেক উপরে উঠেছিলাম। সেখান থেকে পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে ঝিরঝির করে পানি আসছিল সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা বেশ কিছু ছবি মোবাইলের ক্যামেরা বন্দি করেছিলাম। সব মিলিয়ে বেশ দারুন সময় অতিবাহিত করেছিলাম সিলেট ভ্রমণে। আশা করি আজকের লেখা পোস্টটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল।
| শ্রেণী | সিলেট ভ্রমণ |
|---|---|
| ডিভাইস | oppo f21s pro / ডিএসএলআর |
| লেখক | @kibreay001 |
| লোকেশন | সিলেট |
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
x-promotion
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সিলেটের প্রতিটি জায়গা ভীষণ সুন্দর। আমি সিলেট ভ্রমণ না করতে গিয়েও আপনার পোষ্টের মাধ্যমে দেখতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। এত সুন্দর পাহাড় ঝর্ণা সবকিছু মিলিয়ে দারুন লাগলো আপনার পোস্ট। পাহাড়ের অর্ধেক অংশে উঠে অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি ধারণ করেছেন। সত্যি এরকম স্যাঁতছেতে ঝিরঝিরে পানির মধ্যে পাহাড়ে উঠতে ভয় তো লাগবেই। ভীষণ ভালো লাগলো আপনার পোস্ট ধন্যবাদ।
সত্যি পাহাড়ের ঝর্ণা দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল।
নৌকা ভ্রমণ আমি খুবই পছন্দ করি। অনেকদিন নৌকা ভ্রমণ করা হয় না। আপনি সিলেট ভ্রমণ করতে গিয়ে অনেক আনন্দ করেছেন তার মাঝে নৌকা ভ্রমণটাও আশা করি বেশ ভালো ছিল কারণ অনেক বন্ধু ছিল আপনার সাথে। যাইহোক অনেক কিছু জানলাম এই পোস্টে।
ঠিক বলেছেন বন্ধুদের সাথে নৌকায় একসাথে ভ্রমণ করতে সবচেয়ে বেশ ভালো লেগেছিল।
বাহ্! ফটোগ্রাফি গুলো দেখে চোখ দুটি একেবারে জুড়িয়ে গিয়েছে ভাই। মাধবকুণ্ডের ঝর্ণা আসলেই খুব সুন্দর। চোরাবালির কথা শুনলে যে কেউ ভয় পেয়ে যায়। কারণ চোরাবালি খুবই ডেঞ্জারাস। বেশ ভালো লাগলো পোস্টটি দেখে। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর ভাবে আপনার মূল্যবান গঠনমূলক মতামত শেয়ার করার জন্য।
আপনি সবসময় আমাদের মাঝে সিলেট ভ্রমণের একের পর এক পর্ব শেয়ার করে আসছেন৷ আজকেও খুবই সুন্দর একটি পর্ব শেয়ার করেছেন। আপনার কাছ থেকে এত সুন্দর একটি পর্ব দেখে খুবই ভালো লাগছে৷ আজকের এই পর্বের মধ্যে আপনি সবকিছু খুব সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন এবং খুব সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফিও শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
চেষ্টা করছি ভাই প্রতিনিয়ত আপনাদের মাঝে সিলেট ভ্রমণের পর্বগুলো শেয়ার করার জন্য।