ক্রিটিভ রাইটিং (গল্প) // গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরার গল্প
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৬-১২-২০২৪)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি ক্রিটিভ রাইটিং (গল্প) // গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরার গল্প । আজকে সকাল বেলা থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। প্রথমে ঘুম থেকে উঠে বেশ কিছু সময় বসে ছিলাম। তারপরে হাতমুখ ধুয়ে সকালবেলায় খাওয়া-দাওয়া শেষ করেছি। তারপরে চলে গেলাম মাছের পুকুরে খাবার দেওয়ার উদ্দেশ্যে। মাছের পুকুরে খাবার দেওয়া শেষ করে বাড়িতে এসে হঠাৎ মনে হল আজকে আমাদের বাড়ির পাশের কাকার বিয়ে, তাই বিয়ে খেতে যেতে হবে। তাই বিয়ে খাওয়ার আগে আমি আমাদের বাজারে চলে গিয়েছিলাম চুল কাটানোর জন্য এবং কিছু কেনাকাটার জন্য। বাজার শেষ করে বাড়িতে আসতে প্রায় বারোটা পেরিয়ে যাই। গোসল শেষ করে দেখে এখনো হাতে অনেক সময় বাকি আছে। তাই বসে গেলাম আপনাদের মাঝে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস ধরার গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। তবে চলুন আজকের পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা যাক..........
আসলে শহরের মানুষের তুলনায় গ্রামের মানুষ যেকোনো একটা অনুষ্ঠান যাঁক জমক পূর্ণভাবে করতে সবথেকে বেশি পছন্দ করে আপনারা কম বেশি সকলেই জানেন। কিছুদিন আগে মহান বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে আমাদের গ্রামে বেশ বড় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা গ্রামের ছেলেরা মিলে সেখানে বেশ কিছু চমৎকার খেলার আয়োজন করেছিলাম এবং রাতে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিলাম। আসলে আমরা আমাদের গ্রাম থেকে যদি যেকোন উদ্যোগ গ্রহণ করি সেই উদ্যোগটা শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণ তাই ভরে ওঠে এটা আমাদের জন্য বেশ বড় একটা পাওয়া। এবং আমরা যেকোনো ডিসিশন আমাদের বড় ভাই ব্রাদার সকলের সাথে আলোচনা করেই ফাইনাল করি এটা আমাদের সবথেকে বড় একটা গুন বলতে পারেন। তাই ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে আমরা গ্রামে স্কুলের ফিল্ডে খেলার আয়োজন করব এবং সেখানে পিকনিকের আয়োজন করবে এটা ভেবেছিলাম এই নিয়ে আমরা দুই দিন বসে ছিলাম বড় ভাই ব্রাদারদের সাথে। তারা আমাদেরকে অর্থ দিয়ে এবং অনেকভাবে সহযোগিতা করেছিল। গ্রামে আবারো সেই শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করেছিলাম। সেইসব খেলার গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে পোস্ট লিখতে চলে আসলাম।
১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে আমরা আমাদের গ্রামের ফিল্ডে ছোট্ট পরিসরে খেলার আয়োজন করেছিলাম হাঁস ধরার। আমরা প্রথমে চিন্তা ভাবনা করেছিলাম হাঁস ধরার খেলা আমরা আমাদের গ্রামের ছেলে এবং মেয়েদের উভয় পক্ষে দুই দলের দুইটি ভাগে দুইটি খেলা রাখবো। তাই আমাদের এই হাঁস ধরা খেলার প্রাইজ মানি ছিল দুইটি হাঁস। আমরা সন্ধ্যেবেলায় মেয়েদের খেলা শুরু করেছিলাম। আমরা যখন হাঁস ধরার খেলা শুরু করেছিলাম তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে প্রায় রাত্রি হতে চলেছে তখন ফিল্ডের চারিপাশে লাইটিং সিস্টেম রেখে খেলা শুরু করেছিলাম। তাই হাঁস ধরা খেলার জন্য অল্প কিছু জায়গা চাটিসাইড আমরা হালকা একটু উঁচু করে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে একটি পাতিহাঁস ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবং হাঁসটির ধরার জন্য প্রথমে আমরা বেশ কয়েকজন মেয়ের চোখ বেঁধে দিয়েছিলাম গামছা দিয়ে সেই হাঁস যে ধরতে পারবে সে নিয়ে বাড়িতে চলে যাবে এমনটাই ছিল খেলা। সত্যি বলতে আমাদের এই খেলা দেখতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এসেছিল সত্যি আমরা সেদিন কি যে আনন্দের সাথে দিন পার করেছিলাম বলে বোঝানো যাবে না। এভাবে প্রায় অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে যায় কিন্তু হাঁস কেউ ধরতে পারে না। অবশেষে হাঁস যখন হাঁপিয়ে পড়ে তখন একটি মেয়ে হাঁস ধরে ফেলেছিল। তখন সকলে সেখানে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল এবং সকলে করতালির মাধ্যমে তাকে উৎসাহ জানাতে ছিল। এভাবে আমরা মেয়েদের খেলা সম্পূর্ণ করেছিলাম তবে সেখানে নিষিদ্ধ ছিল কোন প্রকারের ছবি তোলা। যেহেতু সেখানে ছেলে-মেয়ে সবাই ছিল তাই ছবি তোলা আমাদের কমিটির পক্ষ থেকে নিষেধ ছিল।
এভাবে আবারও পর্যায়ক্রমে আমরা সেই জায়গায় অন্য আরেকটি হাস দিয়ে ছেলেদের খেলা শুরু করে দিয়েছিলাম। আসলে ছেলেদের খেলায় প্রায় অনেকেই অংশগ্রহণ করেছিল। আসলে আমি নিজে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমার চোখ যখন একজন বেঁধে দিয়েছিল তখন আমি মনে হচ্ছে আর কিছুই দেখতে পারছি না। শুধুমাত্র গোল বৃত্তের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে ছিল এবং হাঁস ডাকতেছিল কিন্তু আমি হাঁস ধরতে পারিনি আসলে আমি ব্যর্থ। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রায় অনেকেই চেষ্টা করেছিল কিন্তু অবশেষে ছেলেদের হাঁস কেউ ধরতে পেরেছিল না। তাই আমরা সেই হাঁসটি কাউকেই পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলাম না অবশেষে সেই হাঁসটি আমরা কমিটির কাছে রেখে দিয়েছিলাম। এভাবে যখন সব খেলা শেষ হয়ে যায় আবারও সেই হাঁসটি একজনের কাছে আমরা বিক্রয় করে দিয়েছিলাম। সত্যি ১৬ই ডিসেম্বরের দিন আমরা গ্রামের সকল ছোট-বড় এক জায়গায় হয়ে বেশ আনন্দ উদযাপনের সাথে অতিবাহিত করেছিলাম। এরকম কাটানো দিনগুলো আমি মনে করি সব সময় আমার কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আশা করি আজকের লেখা গল্প আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল।
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://x.com/kibreay001/status/1872134320598790211?t=C6nIo-mNTIKJ35l8zgH0jg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
গ্রামবাংলায় মুরগি ধরার খেলার প্রচলন আছে দেখেছি। কিন্তু হাঁসধরা খেলার কথা আগে শুনিনি। তবে এই খেলাও যে বেশ মজার তা বুঝতেই পারছি। আপনারা যেভাবে দল ভাগ করে এই খেলার মজা নিয়েছেন আসলেই বেশ মজা লাগছে। দুর্দান্ত একটি মজার পোস্ট আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
ধন্যবাদ ভাই গল্প পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া ভিন্ন রকম খেলা তো। এই খেলা সামনে থেকে কখনো দেখি নাই। গোল বৃত্তের মধ্যে হাঁস রাখলে ধরতে পারলে ডাবল হাঁস পাওয়া যাবে। তবে দুঃখের বিষয় আপনি হাঁসটি ধরতে পারেন নাই। আসলে এসব খেলা গুলো হলে মানুষও বেশি হয়। ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।
এই খেলা দেখতে হলে আমাদের এলাকায় চলে আসতে হবে আপু দাওয়াত রইলো সামনে বছর।