গল্প // "এতিমের মুখের হাসি" এই গল্পের প্রথম পর্ব।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। এই দ্বিতীয়বার নিজে থেকে চেষ্টা করে আরেকটি গল্প লেখার চেষ্টা করছিলাম। অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছি কিন্তু সেভাবে হয়ে ওঠে না সময় বা গল্পের বিষয়বস্তু। আজকে হঠাৎ অনেক চিন্তাভাবনার অবসান ঘটিয়ে লেখা শুরু করে দিলাম, লিখতে লিখতে মোটামুটি কিছুটা মনে হচ্ছে যে লিখতে পারছি, তাই গল্পের প্রথম পর্বটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। যদিও খুবই হৃদয়বিদারক একটি গল্প, যেহেতু প্রথম লেখা গল্পটিতে আপনাদের কাছ থেকে অনেক উৎসাহ অনুপ্রেরণা পেয়েছি তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বারের মত এই গল্পটি লিখলাম। আপনাদেরকে হয়তো তেমন আনন্দ দিতে পারবো না কিন্তু আমি আমার মত করে চেষ্টা করেছি এই গল্পের মাঝে কিছুটা হলেও আপনাদের মন জয় করতে।

আমি আজকে আপনাদেরকে যে গল্পটি শেয়ার করব সে গল্পটির নাম হচ্ছে "এতিমের মুখের হাসি"। এই গল্পটির মাধ্যমে আমি একজন এতিম ছেলের যেই কাহিনীটির মাধ্যমে তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে সেটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাহলে চলুন আপনারা সবাই আমার আজকের এই গল্পটি পড়ে আসবেন, আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। গল্পটা পড়ে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন কেমন হয়েছে কারণ আপনাদের মন্তব্যের উপরেই নির্ভর করবে আমার আরো গল্প লেখা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা।

গল্প

"এতিমের মুখের হাসি"

pexels-faiaz-ahmad-emon-11136640.jpg

উৎস

"মাঈন" গ্রামের একটি এতিমখানায় বড় হয়েছে। কারণ ছোটবেলায় সে তার বাবা-মাকে হারিয়েছিল সেই থেকেই বলতে গেলে একেবারে অবুঝ থেকেই সে এতিমখানায় বড় হয়। এই কারণে সে তার বাবা-মার চেহারা কেমন বা বাবা মার আদর সোহাগ কেমন হয় সে জানতো না। হাটি হাটি পা পা করে মাঈন এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। সে এতিমখানা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পেয়ে পাশ করেছে। এখন সে কলেজে পড়তে চায়। সে অনেক বড় হতে চায় ও মানুষের মত মানুষ হতে চায়। তার মনে ইচ্ছা সে অনেক পড়ালেখা করে অনেক বড় হয়ে তার মত এতিমদের পাশে দাঁড়াবে।

মাঈন এতিমখানায় থাকা অবস্থায় একজন ভালো ও ভদ্র ফ্যামিলির একটা লোকের সাথে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। লোকটির নাম হল শাহজাদা। মাঈন দেখতে খুব সুন্দর ও অনেক লম্বা চওড়া হওয়ায় লোকটি মাঈনকে অনেক পছন্দ করতো, বলতে গেলে সে তার ছেলের মতই তাকে দেখতো ও অনেক বেশি ভালোবাসতো। তার যত ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা ছিল সে মানে ওই শাহজাদা লোকটি পূরণ করে দিত। আর এজন্যে মাঈন ও তাকে অনেক অনেক বেশি পছন্দ করত, নিজের লোক বলে মনে করত এবং তাকে আংকেল বলে ডাকতো।

যেহেতু মাঈন এসএসসি পরীক্ষায় ভালো মার্কস পেয়ে পাস করেছে তাই সে এখন শহরে গিয়ে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু মাঈন শহরে কার কাছে যাবে তার তো এই দুনিয়াতে কেউ নেই, শুধুমাত্র এতিমখানা এবং ওই শাহাজাদা নামক লোকটি ছাড়া। তাই সে সিদ্ধান্ত নিল এ বিষয়টি সেই আঙ্কেলকে বলবে। তার সিদ্ধান্তের কথা শাহজাদা লোকটিকে জানালো। বিষয়টি শুনে লোকটি অনেক খুশি হয়ে গেল, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল ওই শাহাজাদা লোকটিও খুব একটা টাকা পয়সাওয়ালা ছিল না, সেও অভাবের সাথে জীবন যুদ্ধ করে টিকে আছে।

কিন্তু মাঈনের এই কথা শুনে সে অনেক খুশি হয়ে গেল এবং তাকে সব রকম সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করলো। এদিকে কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সে আবেদন করল। আবেদন করার প্রেক্ষিতে একটি সরকারি কলেজে সে চান্স পেয়ে গেলো, কারণ সে অনেক মেধাবী একজন ছাত্র ছিল। তখন লোকটি তার সাধ্য মতো টাকা দিয়ে এবং শহরে তার এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে একটি হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলো। এবং ওই লোকটির মাধ্যমে সে মাঈনকে কয়েকটি টিউশনিও জোগাড় করে দিলো। এদিকে মাঈন তো অনেক খুশি তার সবকিছুই এত সুন্দরভাবে ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। সে তার শাহাজাদা আঙ্কেলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সারা জীবন তাকে মনে রাখবে এই বলে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার শুরু করলো। লোকটি ও মাঈনকে ধরে অনেক কান্নাকাটি করল। তবে লোকটি তাকে বলল মাঝেমধ্যে গিয়ে তাকে দেখে আসবে। এ কথা শুনে মাঈন ও অনেক খুশি হল।

চলবে.........

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 3 years ago 

মাঈন ছোটবেলা থেকে এতিমখানায় বড় হয়েছিল সেই ছোট থেকে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত এতিমখানায় ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় সে খুবই ভালো একটা রেজাল্ট পেয়েছিল এটা জেনে ভালো লাগলো। শাহজাদা নামের লোকটি তার পাশে আছে জেনে খুবই খুশি হয়েছি। মাঈন বড় হয়ে এতিমদের জন্য কিছু করতে চায় এটা জেনে ভালোই লাগলো। এই গল্পটির প্রথম পর্ব পড়ে ভালো লেগেছে দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

 3 years ago 

আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার গল্পটির প্রথম পর্ব পড়ে অসাধারণ ও গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

মাঈনের গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো আপু।আমাদের সমাজে শাহজাদা নামক কিছু লোকের জন্যই হয়তো এখনও পৃথিবীটা সুন্দর আছে।তার সামর্থ্য না থাকলেও একজন এতিমের প্রতি তিনি সাহায্য করেছেন যথাসাধ্য।মাঈনের ভালো ছাত্র হওয়ায়, শহরে টিউশন করে বাকি লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারবে সহজেই ।নিজেকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে এতিমদের পাশে দাড়াবে এমনটাই আশা করি।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার গল্পটি পড়ে খুবই গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য। আপনি ঠিক কে বলেছেন শাহজাদা নামক লোকগুলোর মত মানুষ এখনো আছে বলেই পৃথিবীটা এখনো এত ভালোভাবে চলছে।

 3 years ago 

আপু, শাহজাদা নামের লোকটির খুবই উদার মন মানসিকতা। যার কারনে মাইনের মত একটি এতিম ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেছে এবং সন্তানের মতোই আদর যত্ন করেছে। তার এই ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যাইহোক মাইন খুব মেধাবী ছাত্র হওয়ার কারণে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর শহরে গিয়ে লেখাপড়া করার ইচ্ছা পোষণ করায়, শাহজাদা নামের ব্যক্তিটি তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে মাইনকে সেই সুযোগটি করে দিয়েছে। যদিও বা শাহজাদা সাহেবের পারিবারিক অবস্থা খুব বেশি একটা ভালো নয়। তবুও সে মাইনের খোজ খবর রাখবে বলে জানিয়েছে। দেখা যাক মাইনের মুখে কিভাবে হাসি ফিরে আসে, তাই পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

অপেক্ষায় থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সেই সাথে আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার গল্পটি পড়ে খুবই গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।

 3 years ago 

মাঈনের উদ্যোগটি কিন্তু খুবই ভালো। সে ছোটবেলা থেকে এতিমখানায় বড় হয়েছে সে চায় বড় হয়ে কিছু করতে এবং এতিমদের পাশে দাঁড়াতে এটা কিন্তু খুবই। শাহজাদা লোকটির মন মানসিকতা কিন্তু খুবই ভালো। তিনি মাঈন কে অনেক আদর করেন। নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা দিয়েছে তাকে। এখন সে চায় ভালো একটা কলেজে ভর্তি হওয়ার। এই বিষয়টা নিয়ে শাহজাদা লোকটির সাথে মাঈন কথা বলেছিল। লোকটি বলেছিল তার পাশে আছে তিনি অনেক ব্যবস্থা করে দিয়েছে তার জন্য। ভালোই লিখেছেন সম্পূর্ণটা। পড়ে ভালো লাগলো আমার কাছে।

 3 years ago 

আপনাদের ভাল লাগাই আমার গল্প লেখার সার্থকতা। আপনার খুবই মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার পোস্টটি পড়ে গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

আমাদের পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা এতিম ছেলেদেরকে অনেক ভালোবাসে এবং কিছু মানুষ আছে এতিম ছেলেদেরকে অবহেলা করে।

কিন্তু আপনার পুরো পোষ্টটি পড়ে বুঝতে পারলাম শাহজাদা নামের লোকটি সেই ছেলের পাশে সব সময় ছায়ার মত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ অনুভূতি পেলাম আপনার পোষ্টের মাধ্যমে।

আপনার পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সব সময় ভালো এবং সুস্থ রাখুক।

 3 years ago 

আমিও চাই সৃষ্টিকর্তা আপনাকেও এবং আপনার পরিবারকে সবসময় ভালো ও সুস্থ রাখুক এই কামনাই করি। গল্পটি পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুবই খুশি হলাম। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকার জন্য এবং আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার গল্পটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.098
BTC 64659.87
ETH 1856.65
USDT 1.00
SBD 0.38