গোধূলি অভিমানে - স্বরচিত কবিতা
ভার না বইতে পেরে বহু কিছু ফেলে আসি । কখনও কখনও কোথায় ফেলে আসি , মনে থাকে না। খুঁজে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেই হয় তাদের। বেঁচে থাকার ,ভালো থাকার সামান্য সামান্য সম্বলগুলো কে ফিরিয়ে আনতেই হয় দিন শেষে। নাহলে একবার অন্ধকার হয়ে গেলে আর সে জিনিস খুঁজে পাওয়া যাবে না। নিজের টুকু আগলে রাখার দায়িত্ব তো আপনা থেকেই চলে আসে। তাই বেলা ডোবার আগে ফিরিয়ে আনি তাকে। যার হাত ধরেই উঁকি মারে সেই চাহনি , উঁকি মারে আমার গুছিয়ে রাখা নিজেকে।
যুগ যুগ আগের কথা।
সে যুগে পৃথিবীর এত তেজ ছিল নাকি জানিনা।
জানিনা কি নাম ছিল তার,
বেলা শেষে যে মিশিয়ে দিয়েছিল
তার দেখা সবটুকু আলো।
মিশিয়ে দিয়েছিল চাহনির অগ্নিবান,
পুরাকালে মদনদেব এই বানেই তো ভস্মীভূত হয়েছিল।
সবটুকু আলো তার গাঢ় হয়ে চলে রোজ ।
এভাবেই যত সময় পার হয়,
গাঢ় হয় তত অভিমানী গোধূলি।
পৃথিবীর তেজে যে হারিয়ে গেছে ।
কখনও গাড়ির,
কখনও কলকারখানার কালো ধোঁয়ায়
হাঁপাতে হাঁপাতে উঁকি মারে সে।
উঁকি মারে গোধূলি দেখার প্রবল বাঞ্চায়।
কংক্রিটের শহরে বেঁচে থাকে
ইট পাথরের এমারত, বাঁধানো ঝিল,
মোড়ের মাথার বিবেকানন্দ আর বিদ্যাসাগর।
জলের বুকে খেলে বেরায় ক্ষুদার্থ ভিখারীরা।
কিন্তু প্রাণের হদিশ মেলে না ।
প্রাণ হারিয়ে যে কিশোরী
জীবনানন্দের কবিতায় আশ্রয় নিয়েছিল ,
সেও বেরিয়ে আসে বই জগৎ থেকে
বেলা শেষে,
অভিমানের আভায় মিশতে।
তারপর আমিও পথে নামি।
খুঁজতে থাকি অভিমান।
কোথায় যেন রেখে এসেছি ওকে।
গোধূলি হওয়ার আগেই
ফিরিয়ে আনতে হবে তাকে।
নাহলে যে,
কালো সমুদ্রে ডুবে যাবে সে।
বহুকাল আগে যে মিশিয়ে দিয়েছিল
তার সবটুকু আলো ,
সব নীল হয়ে যাবে।
আর তারপর,
সে উঁকি দেবে না আর।
উঁকি দেবে না গরম রক্তে।
উঁকি দেবে না চোখের শিরায়।
উঁকি দেবে না গোধূলি অভিমানে।
অভিমান নিয়ে যারা চলে গিয়েছিল বহু দূরে। তারা ভালো থাক। আশা করছি আমার আজকের পোস্ট সকলের ভাল লেগেছে। সকলে সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন।
ফটোগ্রাফি ডিভাইস - স্যামসাং গ্যালাক্সি এ ফিফটি টু
গোধূলি অভিমান নিয়ে সুন্দর কবিতা রচনা করেছেন আপনি। সময় যাচ্ছে গোধূলির অভিমান তত বাড়ছে।
ভালো থাকবেন আপু ।
ঠিক বলেছেন।
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 1/7) Get profit votes with @tipU :)
সত্যি বলতে এখন আপনার কবিতার চরণগুলো অসাধারণ ছিল।আসলে বাস্তব জীবনটাই এমনই যেটা আপনি কবিতার মাধ্যমে আমাদের মাঝে ফুটিয়ে তুলেছেন ।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ দাদা।
ওয়াও! গোধূলির অভিমান নিয়ে খুব চমৎকার একটি কবিতা লিখেছেন আপু কবিতাটি সত্যিই অসাধারণ পড়ে খুব ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
খুব ভালো লাগলো মন্তব্য পড়ে।
আপু আপনি গোধূলি অভিমান নিয়ে খুব সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন। আপনার কবিতাটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। অভিমানী মানুষের একটা অন্যরকমই হয় আপু। আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর কবিতাটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমরা সবাই তো অভিমানী।
অসাধারণ কবিতা লিখেছেন দিদি। কবিতার শব্দগুলো কিছুটা কঠিন ছিল। প্রত্যেকটি চরন খুব সুন্দর এবং নিখুঁতভাবে সাজিয়েছেন। পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো দিদি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে
হ্যাঁ একটু কঠিন হয়তো।
খুবই সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন আপু। আসলে কবিতা পড়তে খুবই ভালো লাগে আর এই লাইনগুলো সত্যি বাস্তব আর আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আজ আপনার কবিতা প্রতিটি লাইন পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে কবিতা লিখেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপনার কবিতা পড়ে খুব ভালো লাগলো। খুবই চমৎকার কবিতা আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত করেছেন। এত সুন্দর কবিতা শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ধন্যবাদ আপনাকেও।
আপু আপনার কবিতাগুলো করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আপনার এই কবিতার শব্দগুলো খুবই কঠিন ছিল এবং আপনার কবিতার মধ্য দিয়ে মনের গভীরে ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার কবিতার প্রতিটি লাইন খুবই সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন। অসাধারণ একটি কবিতা পোস্ট আমাদের উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
চেষ্টা করি একটু অন্যরকম লেখার।