ফেনীর কাচ্চি ডাইনে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও ভালো থাকার চেষ্টা করেছি। তো কিছুদিন আগে ফেনী গিয়েছিলাম কলেজে দরকারি কিছু কাগজপত্র তোলার জন্য। কারণ ভর্তির সময় কাগজপত্রগুলো লাগবে। আপনারা হয়তো জানেন ফেনী জেলার বেশ কয়েকজন ইউজার আমার বাংলা ব্লগে কাজ করে আসছে গত তিন চার বছর ধরে। তার মধ্যে @narocky ভাই একজন। রকি ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই। যেহেতু ফেনী পলিটেকনিক এ পড়াশোনা করেছিলাম তখন ডিস্কর্ডে মাঝে মাঝেই রকি ভাইয়ের সাথে কথা হতো। কিন্তু ফেনীতে তেমন দেখা করার সুযোগ হয়নি। তো গত এক তারিখ রাতে ট্রেনে করে গিয়েছিলান ফেনীতে। ফেনীতে যাওয়ার আগে ট্রেন অনেকটা সময় ডিলে করেছিল। যার কারণে ফেনী পৌঁছাতে সকাল ছয়টার উপরে পৌঁছে যায়।
সকাল আটটার দিকে চলে যায় কলেজের সামনে। যাওয়ার আগে অবশ্য রকি ভাইকে মেসেজ দিয়েছিলাম। উনার সাথে দেখা করার ইচ্ছে ছিল। এর আগে একবার দেখা হয়েছিল রকি ভাইয়ের সাথে। সাথে নেভলু ভাইও ছিল তখন। তো ফেনীতে আর কখনো যাওয়া হয় কি না জানি না। এজন্য ভেবেছিলাম রকি ভাইয়ের সাথে দেখা করে যায়। আসলে কিছু সম্পর্ক রক্তের চাইতেও দামি। আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন বড় ভাই ও আপু পেয়েছি। রকি ভাই আমার বড় ভাইয়ের মতোই। তো ভাইকে বলেছিলাম আমার কলেজ কাজ শেষে ফ্রি থাকলে আপনি, দেখা করার ইচ্ছে। রকি ভাইও খুবই ব্যস্ত একজন মানুষ। আর আমার ফিরতি ট্রেন ছিল দুপুর ১:৫৬ মিনিটে! কলেজ কাজ শেষ হতে হতে বারোটা বেজে গিয়েছিল। রকি ভাই অবশ্য আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল কলেজের কাজ শেষ হয়েছে কি না! আমি তখন বললাম কাজ শেষ করে ফোন দিবো। তারপর কাজ শেষ করে চলে গেলাম ফেনী ট্যাংক রোডে!
রকি ভাইয়ের বাসা থেকে ট্যাংক রোডে আসতে ২০-৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে। ট্যাংক রোডে গিয়ে আমি রকি ভাইয়ের সাথে ওয়েট করলাম! কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর দেখলাম রকি ভাই দোয়েল চত্বরের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। রকি ভাইকে দেখে আসলে খুবই ভালো লেগেছিল। এতো ব্যস্ততার মাঝেও আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের সাথে দেখা করতে আসা আসলেই অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য। তারপর রকি ভাই আমাকে নিয়ে সোজা চলে গেল ফেনীর কাচ্চি ডাইনে। ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানগে পারলাম উনি সপ্তাহে একদিন এখানে এসে খাওয়া-দাওয়া করে যায়। আপনার যারা নিয়মিত রকি ভাইয়ের ব্লগ ফলো করেন তারা নিশ্চয় দেখেন। আসলে রাত থেকেই কিছু খাওয়া হয়নি। তারপর রকি ভাই কাচ্চি ডাইনে গিয়ে অর্ডার দিল বিরিয়ানী।
বিরিয়ানী অর্ডার ফাকেঁ ভাইয়ের ব্লগিং ব্যস্ততার অনেক কিছুই জানতে পারলাম। আসলে ভাইয়ের ধ্যানধারণা ব্লগিংকেই নিয়ে। আমি নিজেও অবাক হয়ে যায় উনাকে দেখে। এতো পরিশ্রম করে কিভাবে? তাছাড়া উনার ওয়াইফ (সোনিয়া আপু) আপনারা সকলে চিনেন। সোনিয়া আপুও অনেক পরিশ্রম করে। আমি তো ভাইয়ের কাছ থেকে বেশ কিছু টিপস নিলাম। তারপর খাবার চলে এলো। কাচ্চি ডাইনে আমার প্রথম আসা। কাচ্চি ডাইনের বিরিয়ানী অসাধারণ ছিল। সবমিলিয়ে খাবারটা ভালো ছিল। তারপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সোজা চলে এলাম রিকশা করে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে। রকি ভাইও ছিল সাথে। আসলে অল্প সময়ে আর কি কথা বলা যায়। তবে ভাইয়ের সাথে কথা বলে একটুকুও বোরিং হয়নি। উনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো আপ্যায়ন করেছিল। এজন্য উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারপর স্টেশনে অনেক্ষন দাঁড়ালাম। দুই ভাই মিলে ব্লগিং অভিজ্ঞতাও শেয়ার করলাম। ট্রেন আসে আড়াইটায়। তখন ভাইকে বিদায় দিয়ে আমি ট্রেনে উঠে পরলাম। ফেনীতে আর কখনো আসা হবে কি না জানি না, তবে যদি আসি আবারো রকি ভাইও সোনিয়া আপুর সাথে দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে।
| Device | Samsung S23 Ultra |
|---|---|
| Location | Kacci Dyne, Feni |
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ডুয়েটে অধ্যয়নরত আছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত তিন বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
twitter share
puss tweet
আসলে রকি ভাই একজন ভালো মনের মানুষ। উনি সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করেন।আমিও যদি কখনো ফেনীতে যাই অবশ্যই রকি ভাই এর সাথে দেখা করার ইচ্ছা আছে। আপনারা কাচ্চি বিরিয়ানী খেতে খেতে আমার বাংলা ব্লগ নিয়ে আলোচনা করেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো।
আসলেই ভাই রকি ভাইয়ের সাথে কথা হয়ে বেশ ভালো লাগছিল।
পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো সত্যি বাংলা ব্লকের কোন ইউজারের সাথে দেখা করলে অনেক ভালো লাগে। রকি ভাই অনেক ভালো একটা মনের মানুষ। যাইহোক দেখা করা যেমন ভালো লাগে তারপর এমন বিরিয়ানি হলে তো কথায় নেই। আপনার অনুভূতিগুলো পরে অনেক ভালো লাগলো ধন্যবাদ ভাইয়া।
রকি ভাই আসলেই খুবই ভালো একজন মানুষ। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু
আসলে আমাদের সবার মধ্যেই অনেক সুন্দর সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে। আপনার আসার বিষয়টা শুনে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছিল। আর আপনারা দুইজন দেখা করেছিলেন এবং সুন্দর একটা মুহূর্ত কাটিয়েছেন দেখে আরো ভালো লাগলো। আসলে আমাদের সবারই অনেক ইচ্ছা রয়েছে সবার সাথে দেখা করার। এরকম সুন্দর সম্পর্ক যেন সব সময় থাকে এটাই চাই।
আপনি আর নোয়াইশা আসলে আরও খুশি হতাম আপু
ফেনীতে গিয়ে রকি ভাইয়ের সাথে দেখা করেছেন জেনে ভালো লাগলো। সেখানে গিয়ে আপনারা কাচ্চি ডাইনে খাওয়া দাওয়া করেছেন। ভার্চুয়াল ভাবে যাদের সাথে কাজ করা হয় তাদের সাথে সামনাসামনি দেখা হওয়ার অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম। আপনাদের কাটানো মুহূর্ত গুলো দেখে ভালো লাগলো।
হুমম, আপনার সাথে একদিন দেখা করার ইচ্ছে রইল 🫠
দুজনকে একসাথে দেখে সত্যি অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া। আসলে আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে একসাথে কাজ করি তারা অনেক আপনজন হয়ে গেছি। কিন্তু কেউ কারো সাথে দেখা করতে পারি না। আপনি যেহেতু ফেনীতেই পড়াশোনা করেন তাই রকি ভাইয়ের সাথে দেখা করেছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো।
আসলেই ঠিক বলেছেন আপু, আমরা যারা কাজ করেছি তারা সবাই অনেক আপন হয়ে গিয়েছি।
অনেক ভালো লেগেছে আপনার সুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিকস পড়ে। যেহেতু আমার বাংলা ব্লগে রকি ভাইয়ের সাথে আপনি দেখা করলেন। আসলে ডিসকোডে যতক্ষণ কথা বলি বুঝেছি বেশ ভালো মনের মানুষ রকি ভাই একজন। দুইজনে বেশ গল্প করলেন আড্ডা করলেন খাওয়া-দাওয়া করলেন। খুব সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করলেন। মুহূর্তটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আসলেই আপু, রকি ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লেগেছিল।
রকি ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে, জেনে খুব ভালো লাগলো ভাই। রকি ভাই খুব ভালো মনের মানুষ। আপনারা কাচ্চি ডাইনে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। হ্যাঁ রকি ভাই কাচ্চি বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসে বলে প্রায়ই কাচ্চি খেতে যান। উনার পোস্ট গুলো প্রায়ই দেখা হয় আমার। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হুমম ভাই, উনি প্রায়ই কাচ্চি ডাইনে খেতে যায়। উনার সাথে দেখা হয়ে ভালো লেগেছিল খুব।