৩য় পর্বঃ এক তরফা ভালোবাসা
09-09-2022
২৫ ভাদ্র ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
শুভ সন্ধ্যা 🌼। কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি। যায়হোক,ইতিপূর্বে আপনাদের সাথে দ্বিতীয় পর্বটি শেয়ার করেছিলাম। আজকে তৃতীয় পর্বটি লিখে ফেললাম। সামনে একটি বা দুটি পর্ব হতে পারে। আশা করি আজকের পর্বটিও আপনাদের ভালো লাগবে।
২য় পর্বের পর
রূপা রাতে রাফিকে ফোন দেয়। নরমালি রূপাই আগে রাফিকে ফোন দেয়। রূপার ফোন পেয়ে রাফি অনেক খুশি হয়। স্যারের প্রাইভেট এর পড়া কি জানতে চায় রূপা। রাফি তখন সব পড়া বলে এবং কি বাড়ির কাজ দিয়েছে সেটাও বলে। কাল সকাল থেকে রূপার প্রাইভেট। এজন্য রাফি আগেই এসে দাড়িঁয়ে থাকবে। রাফিকে বলে সামনে তার বার্থডে। সবাই একসাথে মিলে সেলিব্রেট করবে। রাফি শুনেও বেশ খুশি। পহেলা জুলাই রূপার বার্থডে। রূপাকে সারপ্রাইজ দিবে রাফি। কি দেয়া যায় সেটাই ভাবতে থাকে। রূপা কিছুক্ষণ পর ফোনটা কেটে দেয়। আসলে রূপার ফ্যামিলি ভালো। সবাই শিক্ষিত, মার্জিত। রূপার বড় বোনকেও বিয়ে দিয়েছে মস্ত বড় ধনী লোকের ছেলের সাথে। রূপা কে রাফির কাছে বিয়ে দিবে? পরিবারের ছোট মেয়ে হওয়ায় রূপাকে নিয়েও স্বপ্ন তার মা বাবার ভালো একটি ছেলের সাথে বিয়ে দিবে। রূপা অবশ্য এখন ছোট। মাধ্যমিকও এখনও শেষ করেনি। মা বাবা স্বপ্ন অনেক বড় রূপাকে নিয়ে। মেয়েকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে চাই।
রাফি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তাদের পরিবারে সেই একমাত্র পড়াশোনা করছে। বড় একজন ভাই পরিবারের হাল ধরেছে। ছোট একটি ভাই সেও অল্প বয়সেই কর্মে নিয়োগ দিয়েছে। পড়ার ইচ্ছাও নেই তার। তাই মা বাবা রাফিকে নিয়েই আশাবাদী। পরিবারের একমাত্র ছেলে যে কিনা মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখা পড়া করছে। মাঝে মাঝে রাফির খুব মন খারাপ হয়। কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের কাছে কি রূপাকে বিয়ে দিবে? রাফি স্বপ্ন দেখে রূপাকে নিয়ে বিয়ে করে সুখে সংসার করবে। তার স্বপ্নগুলো কি পূরণ হবে নাকি সবপ্নই রয়েই যাবে। তা অবশ্য তাকে এতো কিছু ভাবায়। সে শুধু জানে রূপা রাজি থাকলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে তাকে নিয়ে চলে যাবে। সকল বাধাঁ বিপত্তি পেরিয়ে হারিয়ে যাবে অজানায়। যায়হোক, ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় রাফি। সকালে এলার্ম ফোনে দিয়ে রেখেছিল। এলার্ম বাজতেই রাফি উঠে পড়ে। সাইকেল নিয়ে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে রূপার বাড়ির সামনে দাড়িঁয়ে থাকে। কুয়াশা তখন চারদিকে অনেক বেশি। অল্প দূরত্বেই সামনে কিছু দেখা যায় না
রূপা রাফিকে দেখে অবাক হয়ে যায়। পাতলা একটি টি-শার্ট পড়েই সে চলে এসেছে। শীতে কাপঁছে রাফি। রূপা আবার বাসায় চলে আসে। তার। বাসায় একটি চাদর ছিল সেটি রাফিকে দেয়। মাথার চুল, চোখে কুয়াশা জমে গেছে। সাইকেল প্যাডেল মেরে এসেছে এজন্য হাত পা শীতল হয়ে গেছে। যাক রূপা আর রাফি হাটঁতে থাকে। তার জন্মদিনে প্লেনের কথা বলে রূপা। এবার বড় পরিসরে উদযাপন করবে। দেখতে দেখতে স্যারের প্রাইভেট এর কাছে চলে আসে। স্যার দেখার আগেই রাফি সেখান থেকে চলে আসে। সাইকেলে এর প্যাডেল মেরে ধীর গতিতে সাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে যেতে থাকে। পথিমধ্যে রাফি অনেক খুশি হয় এই ভেবে যে রূপা আজকে তার জন্য বাসা থেকে চাদর এনে দিয়েছে। হয়তো তাকে মন থেকে ভালোবাসে তাই তার জন্য চাদর নিয়ে এসেছে। বাড়ির কোণায় সাইকেল রেখে ঘরে প্রবেশ করতেই তার মা দেখে ফেলে। তার মা তখন রাফিকে জিজ্ঞেস করে, এতো সকাল সকাল কোথায় গিয়েছিল? রাফি সাইকেল চালিয়ে ব্যায়ামের কথা বলে পাশ কাটিয়ে নেয়। কিন্তু তার শরীরে চাদর এলো কোথা থেকে? রাফি মা তখন সন্দেহ করতে থাকে রাফিকে। রাফি তখন তার মাকে আবোল-তাবোল বলে মানিয়ে নেয়।
রাফি কম্বলের নিচে এসেই শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর স্কুলেও যেতে হবে। তাই উঠতেও হবে। রাফি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়। সকালের নাস্তা করেই স্কুলের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে রাফি। রাফি জানে রূপা বই পড়তে খুব ভালোবাসে। যাওয়ার পথে আজিজ লাইব্রেরি থেকে দুটি রবীন্দ্রনাথ এর বই কিনে নেয় রূপার জন্য। বইগুলো পেয়ে হয়তো রূপা অনেক খুশি হবে। ব্যাগের মধ্যে বই দুটি রেখে স্কুলে চলে যায় রাফি। রূপা ক্লাসে এখনো আসেনি। স্যারের প্রাইভেট শেষ করেই প্রতিদিনের মতো নয়টাই চলে আসে। রূপার সিটা রাফি আগে থেকেই রেখে দেয়। রূপা ক্লাসে এসে সিটে বসে পড়ে। তারপর রাফি ব্যাগ থেকে রবীন্দ্রনাথ এর দুটি বই তাকে উপহার দেয়। রূপা বই দুটি পেয়ে বেশ খুশি হয়। রূপার খুশিতেই রাফি অনেক খুশি। এই যা, চাদর নিয়ে আসতেই ভুলে যায় রাফি। তবে কাল নিয়ে আসবে রূপাকে বলে। তারপর রাফি জানতে চায় শাকিল স্যার আজ কি পড়ালো? বিকালে অবশ্য রাফির প্রাইভেট শাকিল স্যারের এখানে। আর একদিন পর রূপার বার্থডে। রাফি প্লেন করে তাকে একটি ওয়ালমেট গিফট সেখানে অবশ্য লেখা থাকবে,প্রিয় তুমি।
রাফি পরদিন সকাল রূপাকে প্রাইভেটে দিয়ে চলে যায় ওয়ালমেট আর্ট করা একটি দোকানে। সেখানে একটি ওয়ালমেট পছন্দ করে। তবে এটার ভিতরে খোদাই করে, "প্রিয় তুৃমি" লেখা থাকবে। দোকানদার রাফিকে কাল এসে নিয়ে যেতে। আজকে অনেক কাজের প্রেসার। কালই তো রূপার বার্থডে। ওয়ালমেটটি রাতের মধ্যে দিলে ভালো হতো। দোকানদারকে রিকোয়েস্ট করে রাজি করায় রাফি। ওয়ালমেটের দাম দিয়ে বাড়িতে চলে আসে রাফি। রূপা এই প্রথম এতো বড় পরিসরে বার্থডে সেলিব্রেট করবে। এজন্য ক্লাসমেট এর সব মেয়েকে রূপা ইনভাইট করেছে তার বার্থডেতে। রাফিকে আগেই বলে রেখেছিল তার বার্থডেতে আসার জন্য। কিন্তু রূপা এবার বার্থডে সেলিব্রেট করবে ক্লাসমেটসহ তার বয়ফ্রেন্ড আরিফও থাকবে। কিছুটা ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিল রাফি পেয়েছিল। কিন্তু রাফি এই ব্যাপারটা এতো পাত্তা দেয়নি। পরদিন....
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
Link
গল্পটা যতই পড়ছি ততই কৌতূহল তৈরি হচ্ছে। ভালো লিখেছেন ভাই। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।দেখি আরিফ এবং রাফির মধ্যে কোনো নতুন সাসপেক্ট আসে কী না রুপার জন্য।।
হুমম সামনের পর্বটি পড়লেই বুঝতে পারবেন 😍। ধন্যবাদ আপনাকে