আবোল-তাবোল জীবনের গল্প [ ব্যক্তিত্ব ]
শুভ বিকেল বন্ধুরা,
একটা বিষয় আমি ব্লকচেইন এ আসার পর বেশ ভালো বুঝতে পেরেছি, আর সেটা হলো নিজের আত্মবিশ্বাস। এখানে সেই ইউজার ততক্ষন পর্যন্ত ভালো কিছু করতে সামর্থ হয় না, যতক্ষন পর্যন্ত না সে তার কাজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারে। আসলে এটা কোন সহজ বিষয় না, কারন আমরা ছোটবেলা হতেই একটু ভিন্ন রকম মানসিকতা নিয়ে বড় হতে থাকি। কেমন এই ভিন্ন রকম মানসিকতা?
লক্ষ্য করুন, স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর আপনার সাথে অথবা আপনার চারপাশে এই রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, বাবা-মা তার সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করছে ওর মতো ভালো ছাত্র হতে হবে, হাতের লেখা সেই ছেলের মতো সুন্দর হতে হবে কিংবা অমুকের মতো পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে হবে, ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এই কথাগুলো আমাদের নানাভাবে উৎসাহিত করেছিলো নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের মাঝে নিজেকে খোঁজতে। কিন্তু এটা কখনো চিন্তা করি নাই, এর থেকে ভালো কিছু আমার মাঝেও আছে, হয়তো ভিন্ন অবস্থায়।
যার কারনে আমার মাঝে কি আছে কিংবা আমার মাঝে কোথায় দূর্বলতা রয়েছে, এই বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের বাবা-মা খেয়াল না করেই আমাদের উৎসাহিত করেছে অন্যের মাঝে কি আছে তা অনুকরণ করার। ফলশ্রুতিতে আমরা কখনো নিজেদের নিয়ে কিংবা নিজের ভালো লাগার বিষয়টিকে নিয়ে খুব একটা চিন্তা করি নাই। সেই কাজটাই ব্লকচেইনে এসে আমরা এখনো করার চেষ্টা করছি, না বুঝেই অন্যের মতো অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে চাইছি। কিন্তু নিজের মতো করে নিজের অবস্থান তৈরীতে মনোযোগ দিচ্ছি না।
আর এই চাওয়াটাই আমাদেরকে বিপদগামী করার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। যার কারনে আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারছি না, আমরা সময় ব্যয় করছি কিন্তু পরিশ্রম সার্থক হচ্ছে না এবং দিন শেষে নিজের আত্মবিশ্বাসটাকে উপরের দিকে আনতে পারছি না। যার কারণে চেষ্টা, সময়, পরিশ্রম করার পরও আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি এবং নিজেকে ফিরে পেতে ব্যর্থ হচ্ছি।
কিভাবে নিজেদের বের করবো ভুলের মাঝে জড়িয়ে যাওয়ার এই অবস্থা হতে? এটা হতে পারে আপনার/আমার জন্য সবচেয়ে কাংখিত প্রশ্ন এবং উত্তরটি আপনাকে/আমাকে দেখাতে পারে সঠিক রাস্তায় ফিরে আসার আলো। এই ক্ষেত্রে আমার পক্ষ হতে আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর যে পরামর্শটি থাকবে সেটা হলো, নিজের ভেতরের কথা শুনো, নিজের পছন্দের বিষয়টিকে প্রাধান্য দাও তবে অবশ্যই অন্যদের দেখে না, অন্যদের অনুকরণ করে না। হ্যা, তাদের সাফল্যের গল্প শুনে নিজেকে অনুপ্রাণিত করার সুযোগ নিতে পারে কিন্তু তাদের পথে তাদের মতো করে তুমি সফল হতে পারবে না এটা স্মরণে রাখো।
আমি লিখতে ভালোবাসি, যে কোন বিষয় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পছন্দ করি এবং এটা শুরু হতে এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছি। আমার লেখা কিংবা কাজের মাঝে কখনো আমি অন্যকে প্রাধান্য দেই নাই বরং নিজের কাছে যা ভালো লেগেছে সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, নিজের কাছে যা সঠিক মনে হয়েছে সেটাকেই সামনে রেখেছি। আমার কাজ এবং আত্মবিশ্বাস, আমার পথে আলো হয়ে থেকেছে আমাকে সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে।
তাহলে, প্রশ্ন এবং উত্তর দুটোই আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বাকী সব আপনার উপর নির্ভর করছে। কি করবেন আপনি? অন্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন নাকি নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন, নিজের কাজের এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, উত্তরটি খুঁজে বের করুন, অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||



সত্যি ভাইয়া এত সুন্দর দিক নির্দেশনা মূলক পোষ্ট আমি আগে কখনো পাইনি। আপনার প্রত্যেকটি পোস্টে আপনি আমাদের জন্য যা করে যাচ্ছেন এটা আসলে সত্যি কল্পনার বাইরে। আপনি ঠিকই বলেছেন আমাদের কারোরই উচিত নয় অন্য কারো উন্নতি দেখে নিজেকে তার মতো করে গড়ে তোলা। নিজের প্রতিভাকে নিজেকেই বিকশিত করতে হবে আর এতে করেই আমরা আমাদের উপযুক্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে এত সুন্দর একটি দিক নির্দেশনা মূলক পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
নিজের প্রতিভা বিকশিত করা ছাড়া আমাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা কখনো সম্ভব না। ধন্যবাদ
@tipu curate
খুবই চমৎকার ভাবে নিজেকে কি ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় তার সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।আজকে একদম সত্যি কথা বলছেন পরিবার থেকেই আমাদের অনুকরণ করা শেখানো হয়।এটা সত্যি যে আমি কারোরই মতো হতে চাই না আমি এক নতুন আমি হতে চাই আমার আমিকে ঘিরে।আপনার লেখা আমার পাথেয় হয়ে থাকবে। শুভ কামনা আপনার জন্য। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এত চমৎকার একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য♥
চেষ্টা করেছি আপু, আপনাদের ভালো লেগেছে শুনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ
সবগুলো কথা খুব ভালো লেগেছে। নিজের ব্যক্তিত্ব রক্ষা করার পাশাপাশি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার দারুণ এক অনুপ্রেরণা। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
একদম ঠিক, আমরা যদি ব্যক্তিত্ব রক্ষা করতে পারি, অনেক কিছুই সম্ভব হবে আমাদের জন্য তখন।
আমাদের সবার উচিত অন্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে না ফেল নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা। আমরা মানুষ ভিন্ন তাই আমাদের সবার সৃজনশীলতা ও পারদর্শিতাও এক নয়। পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই তার নিজের নিজের গুণ লুকিয়ে থাকে। তাই আমাদের সকলের উচিত অন্যকে অনুসরণ না করে আমার নিজের যেটা ভালো লাগে সেই বিষয়টি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এতে সাফল্য খুব সহজেই আমাদের সামনে ধরা দিবে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে আমাদের মাঝে একটি জ্ঞান মূলক পোষ্ট শেয়ার করার জন্য। ভাইয়া অনেক অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
জ্বী, এটাই আমি বলতে চেয়েছিলাম, নিজের মাঝে কি আছে তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। ধন্যবাদ
জি ভাইয়া
সত্যি অনেক ভালো কথা বলছেন ভাইয়া। নিজের ভিতর আত্মবিশ্বাস না থাকলে কোন কাজে সম্ভব হয় না। আমরা প্রথমে ভাবি এই কাজ করবো না কঠিন পারবোনা কিন্তু আমরা যদি নিজের মনোবল স্থির রেখে আত্মবিশ্বাস টা রেখে কাজ করি ইনশাআল্লাহ সফল হব। খুবই ভালো ছিল এ কথাটা। আমার খুবই ভালো লেগেছে।হ্যাঁ একটা কথা আমাদের নিজের ভিতরে যে প্রতিভা সেইটা কাজে লাগানো উচিত। আমাদের বাবা-মা ভুল বুঝে কম বেশি বলে থাকে যে ওই পাশের বাসার ছেলেটা পড়াশোনায় ভালো তাকে দেখে শিখতে পারো না কিন্তু একটা ছেলে ভালো ক্রিকেট খেলে তাকে দিয়ে তো পড়াশোনা হবে না তার মেধা ভালো যার যা মেধা থাকে তাই করা উচিত।
যে বিষয় আপনি যতটা কঠিন চিন্তা করবেন, সে বিষয়টি আপনার নিকট ততো বেশী কঠিনই থাকবে। ধন্যবাদ
এই ব্যাপারটা থেকে যেইদিন বের হয়ে আসতে পারবো সেদিন ই আমরা সফলতা পাবো।আমাদের মধ্যে এই ব্যাপারটা বেশি কাজ করে যে সে এটা করে ভালো ফল পাইছে তার মানে আমিও এটা করবো। এই ধারণাটা অনেক বেশি খারাপ।
একদম তাই আপু, অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পড়ে আপনার মন্তব্য ভাগ করে নেয়ার জন্য।
ভাইয়া সত্যিই, আপনার দক্ষতার কোন তুলনা হয় না, আমি শুরু থেকেই আপনাকে দেখে আসছি আপনি আপনার জ্ঞান বুদ্ধি এবং দক্ষতা দিয়ে সবকিছু যাচাই করে আসছেন। আপনার প্রতিটি পোস্টের মধ্যে এমন কিছু জিনিস আপনি তুলে ধরেন যা আমাদের প্রতিটি মানুষের জন্য জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে কাজে লাগবে।
কথাগুলো একদম সত্যি ছিল,,, আমরা অন্যের কাছ থেকে কিছু দেখে না , অন্যের কাছ থেকে দেখে সফলতা কখনোই অর্জন করতে পারব না , নিজের অভিজ্ঞতা নিজের জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে সবকিছু যাচাই করে সামনে এগিয়ে যাব । আর এতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। অনেক সুন্দর কিছু কথা বলেছেন ভাইয়া আমার খুবই ভালো লেগেছে আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক ধন্যবাদ আপু, আসলে বাস্তব জীবন আমাদের নানাভাবে নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরী করে দেয়, আমরা যদি সে বিষয়গুলো স্মরণে রেখে কাজ করার চেষ্টা করতে পারি। তাহলে সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো হবে।
এই প্রতিযোগিতার যুগে কেন জানি আমরা নিজের ব্যক্তিত্বকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।আমরা নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের চাকচিক্য ও ব্যক্তিত্বের প্রতি আকর্ষিত হচ্ছি। এই মনোবল আমাদের ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠেছে। অন্যকে অনুকরণ করার অভ্যাস আমাদের সবসময়ই ছিল।তবে আমরা যদি আমাদের ভিতরের প্রতিভাকে বিকশিত করে সকলের মাঝে উপস্থাপন করে নিজের মধ্যে থাকা লুকানো গুণগুলো প্রকাশ করতে পারি তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও নিজেদের আলাদা ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠবে। আপনার পোষ্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। এই সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বরাবরের মতোই অনেক শিক্ষনীয় পোষ্ট এটি।আপনি একদম সঠিক বলেছেন ভাইয়া,নিজের উপর আত্মবিশ্বাস।এই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে রাখতে হবে সর্বদা এবং ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যেতে হবে।আমি কমিউনিটিতে কাজ করার পর থেকে আমার নিজের যেটি মন চায় ভালোবেসে করতে আমি সেটাই করি,আর সেটা করতে আমার বেশ ভালো লাগে।তাছাড়া আমার মন যেটা চায় তা করতে আমি বেশ উৎসাহ ,আনন্দ ও ভিন্ন ধরনের শক্তি পাই মনে।ধন্যবাদ ভাইয়া।