ডায়াবেটিস আক্রান্ত এক রুগীর গল্প
হ্যালো! আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভাল আছেন। আমার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম। হাজির হলাম চেম্বার কথনের আরেকটা পোস্ট নিয়ে। আজকে আমরা শুনবো ডায়াবেটিস আক্রান্ত এক রুগীর গল্প!
কায়িক পরিশ্রম করা কোন ব্যক্তিকে যখন জিজ্ঞেস করি ডায়াবেটিস আছে কিনা, তখন বেশীর ভাগ রুগীই চোখ কপালে তুলে বলে, “যে রকম হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করি, তাতে ডায়াবেটিস কিভাবে হবে?” তাদের এই ধারনা সঠিক নয় পুরোপুরি। শারারিক পরিশ্রম অবশ্যই ডায়াবেটিস না হওয়ার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখে কিন্তু ডায়াবেটিস না হওয়ার কোন গ্যারান্টি দেয় না। সে রকমই এক রুগী এসেছিলেন আমার কাছে গতকাল।
মধ্যবয়স্ক একজন রুগী। বিগত দুই বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ওষুধও খাচ্ছেন। সাথে আছে উচ্চ রক্ত চাপ। মেসনের কাজ (রাজমিস্ত্রী) কাজ করেন, মানে হচ্ছে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম যাকে বলে! আমার কাছে আসার জন্যে উনার মুল সমস্যা ছিল ওজন কমে যাচ্ছে এবং দুর্বল লাগে, সাথে প্রশ্রাবও বেশী হয়।
শুরুতেই glucometer মেশিন দিয়ে ডায়াবেটিস মাপলাম। রেজাল্ট আসল Hi. মানে অনেক বেশী ছিল রক্তের সুগার। তাই ল্যাবে রক্ত পাঠালাম ডায়াবেটিস চেক করার জন্যে। সাথে লিপিড প্রফাইলের দুইটা টেস্ট। ওজন পাওয়া গেল ৫৯ কেজি। তিন মাস আগেও নাকি ছিল ৭০ কেজির উপরে। প্রেশার ছিল ঠিকঠাক।
রিপোর্ট আসলে দেখা গেল যে উনার রক্তের সুগার ৬৯৮ মিলিগ্রাম/ডেলি (৩৮.৭৭ মিলিমোল/লি)। অনেক অনেক বেশী। উনার দরকার ছিল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ইনসুলিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেয়া এবং পরবর্তীতে নিয়মিত ইনসুলিন নেয়া। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। উনি ওষুধেই আস্থা রাখতে চাইলেন। সাথে পাওয়া গেল রক্তের ট্রাইগ্লিসারইড নামক লিপিড অনেক বেশী। ডায়াবেটিসের হাই পাওয়ার এর ওষুধ এবং চর্বি ভাঙ্গার একটা ওষুধ লিখে দিলাম।
তবে কথা বলে জানতে পারলাম যে উনি খাবার দাবার একেবারেই কন্ট্রোল করেন না। মিষ্টি খাচ্ছে সমানে। মিষ্টি ফলমুলও খাচ্ছেন পেট ভরে। সাথে পেট ভরে ভাত। মানে হচ্ছে, যদিও উনি ওষুধ খাচ্ছেন, কিন্তু খাওয়ার বিষয়টা অবহেলা করছেন। কি খাবেন, কি খাবেন না, সে বিষয়ে কড়াকড়ি নির্দেশনাও দিলাম। ১ সপ্তাহ পর ফলো আপে আসতে বলে বিদায় দিলাম উনাকে।
আজকে এ পর্যন্তই। কেমন লাগলো আজকে লেখাটি তা অবশ্যই জানাবেন কমেন্টের মাধ্যমে। ভাল থাকুন সবাই।
ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা নিরন্তর
ডা হাফিজ
ওমান
১৮ ই অক্টোবর,, ২০২৪
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর মিষ্টির প্রতি ঝোক বেশিই থাকে সম্ভবত। উনি যদি অনুধাবন করতে পারতো কোন পর্যায়ে আছে, তবে মনেহয় না ইনসুলিনে মানা করত। যাইহোক, এটা উনার বিষয়।
হুম। অনেক বেশি থাকে মিষ্টির প্রতি ঝোক।
দেখা যাক ফলো আপে ডায়াবেটিস কতটুকু উন্নতি হয়। না হলে আরো ভাল ডেমো দেয়া লাগবে।
ধন্যবাদ আপনাকে।