"গতদিন ঘটে গেল আগুনে ধান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা"
নমস্কার
গতদিন ঘটে গেল আগুনে ধান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা:
এখন চলছে অগ্রহায়ণ মাস।মাঠে এখন প্রচুর পরিমাণে ধান,কোনো ধান পেকে নুয়ে পড়েছে উত্তরের হাওয়াতে দোল খেতে খেতে।তো কোনো পাকা ধান আবার হাতে কেটে বেঁধে রাখা হয়েছে মাঠে গাদা দিয়ে।আবার অনেকে মেশিনে কেটে ধান বাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছে অথচ মাঠে তার খড় বা কুটি পড়ে আছে।আমাদের ঘরের পিছনে বিস্তৃত ধানের মাঠ।যতদূর চোখ যায় শুধুই ধানের ফসলের মাঠ দেখা যায়।পৌষ মাসের মাঝামাঝি অব্দি এই ধান ঘরে নেওয়া চলবে।তবে অনেকেই ইতিমধ্যে গরমের ধানের চাতর করা, ধানের বীজ ফেলা শুরু করে দিয়েছে জলসেচ দিয়ে।তো আমাদের ঘরের পিছনে কিংবা সামনে ক্যানেল পার হলেই আরেকটি মাঠ।
বর্ধমান জেলায় প্রচুর পরিমাণে ধানের চাষ করা হয় বলে বর্ধমান জেলাকে ধানের ভান্ডার বলা হয়।যাইহোক মাঠে এত এত খড় থাকে এই সময়ে যে কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যায় গরুকে খেতে দেওয়ার জন্য কিংবা রান্নার জন্য আবার কেউ কেউ জড়ো করে রেখে দেয় পরে নেবে বলে।আমাদের আশেপাশের ধান মেশিনে প্রায় কেটে নেওয়া হয়ে গিয়েছে।ধারে একটি দুটি মাত্র ধানক্ষেত পড়ে রয়েছে আর রয়েছে হাতে কেটে রাখা কয়েকটি ধানের গাদা।তবে আমাদের ঘরের পিছনে প্রচুর পরিমাণ খড় রয়েছে যেগুলো বেশিরভাগ জড়ো করে রাখা আর অল্প কিছু ছড়ানো ছিটানো।এইবছর আমাদের প্রচুর কাজ পড়ে গিয়েছিল যেমন--বাঁশের ঘেরা দেওয়া,ফসল কেটে বাড়ি আনা, ক্ষেতের কাজ করা আবার খড়ের গাদা পরিষ্কার করা।এককথায় দম ছাড়ার সময়-ই নেই আমাদের, তাই খড় জড়ো করাও হয়নি নানান কাজে।
গতদিন মা,বাবা ও দাদা মিলে আমাদের বাড়ির পুরোনো খড়ের গাদা ভেঙে ঠিক করছিলো যাতে বাড়ি থেকে একটু দূর থেকে কিছু ভালো খড় নিয়ে আসা যায়।আমাদের বাড়ির আশেপাশের ভালো খড়গুলি ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীরা জড়ো করে রেখেছে আর নিয়েও এসেছে কিছুটা।তাই দূর থেকে নিতে হবে আমাদের খড়গুলি, কিন্তু সেই ভাবনায় হিংসা করে জল ঢেলে দিলো একজন----
এখানে মাঠে এত পরিমাণ খড় থাকে যে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ফসল ওঠার পর।আমি আগেই একটি পোষ্টে জানিয়েছিলাম এখানের মানুষ একটু হিংসুটে স্বভাবের।বলতে গেলে ধারের সেই খড় বা কুটিতে ইচ্ছেকৃতভাবে একজন গতদিন দুপুরে আগুন ধরিয়ে দেয়।খড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া বড় কথা নয়,কিন্তু পাশেই ছিল এক ক্ষেত কালো রঙের দামি ধানের ফসল আর দুটি ধানের গাদা।তার উপরে প্রচুর বাতাস বইছিল সঙ্গে রোদের তীব্রতা।খড় জ্বলতে জ্বলতে ওই ধানের গাদায় এসে লাগলো দুমদুম করে।যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে তাকে দুইএকজন উৎসাহও দিয়েছে এটা করার জন্য।তবে কি আর করার!আমার পরিবার তো বাড়ির কাজে ব্যস্ত তারা অতটা বুঝতে পারিনি কিন্তু যারা উৎসাহ দিয়েছে তারা তো দিব্যি দেখে হাসছে।আমি হঠাৎ ঘরের পিছনে গিয়ে দেখি এমন অবস্থা তারপর বাবাকে গিয়ে বললাম---যে ধানের গাদা পুড়ছে আগুনে, ধীরে ধীরে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে হাওয়াই আর আরেকটি গাদায় আগুন লাগলো তারপর চোখের সামনে আরেকটি ধান ক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে গেল।ওখানের একজন লোক ধানের চাতর করবে বলে জলসেচ দিচ্ছিলো কিন্তু সে তো খড়ে আগুন লাগানোর উৎসাহকারীর মধ্যে একজন ছিল তাই আর দেখেও যেন দেখলো না শুধুই হাসাহাসি করলো।
মাঠের পাশে আমাদের বাড়ি,তাও আবার হাতে গনা কয়েকটি।তাই সমস্যা তো আমাদের, আগুনে পুড়ে যাওয়া ছাই উড়ে চলে আসছে বাড়ির দিকে।ধানের ক্ষেত পোড়া শেষ করে খড়ের শিরা ধরে আমাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে আগুন।দ্রুত আমরা সবাই ঘরের পিছনের খড় জড়ো করতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম তারপর খড়ের নারা কেটে পরিষ্কার করে দিলাম কিছুটা করে।কেউ তাদের ঘরের পিছনে আবার জল ঢাললো, আর কেউ জড়ো করে রাখা কুটির এক দুই ঝাপ বাড়ি নিয়ে গেল বয়ে।আমাদের ঘরের পাশে তাই চিন্তার শেষ নেই আগুন এদিকে আসতে দেখে আমার বাবা ও দাদা তাতে কয়েক বালতি জল ঢেলে আসলো যাতে নিভে যায়।কিন্তু ওইখানের আগুন নিভে গেলেও অন্যপাশে আগুন ধরে উঠলো।প্রতিবেশীদের বললাম কিন্তু তারা অতটা জল দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো না।
সাময়িক সময়ের জন্য ঘরে আসলাম কিন্তু কিছুক্ষণ পর এইবার আবার জল ও লাঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি এখন সবাই জল নিয়ে গেল আগুন নিভানোর জন্য।কারন ওই আগুন ধরতে ধরতে একজনের জড়ো করে রাখা চার ঝাপ খড় পুড়ে ছাই হচ্ছে, তার কিছুটা পাশেই রয়েছে আরো বড় বড় চার গাদা ধান।যেগুলো হাতে কেটে রাখা,সবাই মিলে জল ঢেলে এইবার আগুন নেভানো সম্ভব হলো আর ওই চার গাদা ধান বাঁচানো সম্ভব হলো।কিন্তু অন্যদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বহুদূর কারন চারিদিকে খড়ে ঠাসা।যদি ওই আগুন নেভানো সম্ভব না হতো তাহলে চারটি ধানের গাদা পুড়ে যেত,তারপর আমাদের ঘরের পিছনে লোকের জড়ো করা খড়ের গাদায় আগুন লাগলে আমাদের ঘরের জন্য বেশ রিক্স হয়ে যেত।গতদিন সারাটা দিন আমাদের এভাবে আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়েছে।কতটা জ্ঞানের অভাব বা দূরদর্শিতার অভাব থাকলে এমন কাজ করা যায় ভাবুন বন্ধুরা!তার উপরে সাময়িক সময়ের আনন্দ নিতে গিয়ে হিংসা করে খড়ে আগুন ধরিয়ে অন্যের ধান পুড়িয়ে ক্ষতি করা কখনোই উচিত নয়।আমার পরিবার আগুন ধরানোর পক্ষপাতী কখনোই করে না কারণ আগুন কখনো আটকে রাখা যায় না।এর ভয়াবহতা কতটা তীব্র হতে পারে সেই সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আমার পরিবারের রয়েছে পূর্বেই।আমাদের এক প্রতিবেশীও বাড়িতে শুধুই আগুন দিয়ে এটা পোড়াতে ওটা পোড়াতে খুবই ভালোবাসে,আমার বাবা কতবার নিষেধ করে ভালো পরামর্শ দিলেও তারা হেসে উড়িয়ে দিয়ে মজা নেয়।আবার ভালো উপদেশকে দোষের বলে গন্য করে ,ভাবুন মানুষ কতটা জ্ঞান অভাবী।যাইহোক সেই ধানের গাদা দুটি তো সন্ধ্যা অব্দি পুড়তে থাকলো আর ধোঁয়ার কুন্ডলি আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে গেল----।।
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 এবং redmi note 10 pro max |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
টাস্ক প্রুফ:
টুইটার লিংক
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এরকম বিকৃত মনমানসিকতা মানুষ। বেশ খারাপ লাগলো আপনার পোস্টে আগুন লাগানোর ঘটনাটি পড়ে।গত কয়েকদিন আগে নিউজ দেখলাম টিভিতে কেউ একজন কৃষকের ধানসহ কেটে রাখা ধানের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কতো বিকৃত মানসিকতা হলে একজনকে ধংস করার জন্য এরকম নোংরামি করতে পারে।আপনার পোস্টে আগুন লাগানোর ঘটনাটি পড়ে বেশ খারাপ লাগলো।ধন্যবাা আপনাকে সুন্দর পোস্ট টি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
আসলে সমস্ত জায়গায় এমন মানুষ এর বসবাস সমাজে দুই একটা লেগেই থাকবে।এরা ভালো কিছু ভাবতেই পারে না, যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হিংসা করে আগুন লাগিয়ে দিলো তো সবকিছু তছনছ করে। একের সাথে সব চলে গেল। এত কষ্টের ফলন কার ছিল, সবকিছুই পুড়ে গেল। বাকি আপনারা সবাই মিলে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়েছেন। না হলে হয়তো বাড়িঘর সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যেত। আর ধানের গাদা যেহেতু পুড়েছে তাহলে সব দিকে তো খুব ভয়ংকর একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়ে গেছে।
আসলেই ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যাইহোক সে ধানের মালিকদের এখন ক্ষতিপূরণ দেবে বলেছে শুনছি।কতটা সত্যি সেটা বলতে পারছি না, ধন্যবাদ আপু।
একজনের ক্ষতি হয়ে যায় আর অন্যজন হাসাহাসি করে। এটা সত্যিই অনেক খারাপ কাজ। তবে বড় ধরনের বিপদ হঠাৎ করেই ঘটে যায় আপু। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে অনেক বেশি।
ঠিক বলেছেন আপু,সাবধানে থাকতে হবে।ধন্যবাদ আপনাকে।