ক্রিয়েটিভ রাইটিং-"পরীর গল্প"

in আমার বাংলা ব্লগlast year (edited)

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালোই আছি,আর তাই চলে আসলাম আজ একটি বাস্তব গল্প নিয়ে।

ক্রিয়েটিভ রাইটিং-"পরীর গল্প"

pexels-olenkabohovyk-9886935.jpg

সোর্স

আজ আমি এমন একটি গল্প বলবো যেটি আসলে বাস্তবে ঘটে যাওয়া।তবে এটি আমার নিজের চোখে দেখা নয় আমার মায়ের মুখ থেকে শোনা।আসলে এই ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার মায়ের সেজো মাসীর সঙ্গে।অর্থাৎ সম্পর্কে আমার সেজো দিদিমা,আমার মায়ের মা হচ্ছেন বড়।অর্থাৎ আমার দিদিমার বোনের সঙ্গে ঘটেছিলো এই ঘটনাটি।তো চলুন শুরু করা যাক---

ভূত-প্রেত এবং জ্বীন-পরী,ডাইনি ও পিশাচ অনেকেই এদেরকে বিশ্বাস করেন না।আধুনিক যুগে এগুলোকে বিশ্বাস না করাই স্বাভাবিক।কারন উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক চিন্তাভাবনা ওগুলোকে এখন শুধুই কল্পনার জগত বলে বিবেচনা করে।তাই ওগুলোকে কুসংস্কার হিসেবে ধরা হয়।কিন্তু যখন কয়েক বছর আগে এই উন্নত ব্যবস্থা ছিল না,আধুনিকতার আলো বিস্তৃত হয়নি সবখানে তখন সমস্ত গ্রাম্য জায়গাগুলোতে এই অশুভ শক্তিগুলির বসবাস আছে বলে ধরা হতো।

এমনকি এদেরকে তাড়ানোর জন্য ঝাড়-ফুক করার গুনীনও ছিল।যাকে আবার গুণমানও বলা হয়।যারা অনেকগুলো মন্ত্র দ্বারা এই অশুভ শক্তিগুলিকে আটকে ফেলতে পারতো খারাপ কাজগুলো থেকে।তেমনি একজন বড় গুণমান ছিলেন আমার মায়ের দাদু অর্থাৎ দিদিমাদের বাবা।অনেক ভূতে ধরা অসুস্থ ব্যক্তিকে তিনি ভালো করে দিয়েছেন।আমি এই ভূত-প্রেতের বিষয়টাকে অধিকতর বিশ্বাস না করলেও কিছুটা করি।কারন আমার মনে হয়---কিছুর মধ্যে তো কিছু অবশ্যই আছে।

যাইহোক তো আমার সেই দিদিমা যখন একেবারেই ছোট ছিলেন অর্থাৎ সবে হাঁটতে শিখেছিলেন তখনকার ঘটনা এটি।সেই সময় গ্রামের বাড়িতে অনেক মানুষ যৌথ বাস করতো তাই অনেকেই খোলা বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়তো পরিবারসহ।অনেক বাচ্চারা বাবা-মায়ের মাঝে থাকতো।তেমনি আমাদের ওই দিদিমাও ছিল, কিন্তু হঠাৎ এক পরী এসে দিদিমা অর্থাৎ ওই ছোট্ট বাচ্চাকে তুলে নিয়ে চলে গেল।তারপর এক গাছতলায় নিয়ে বসিয়ে রাখলো।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন বাড়ির লোক দেখে তাদের বাচ্চা পাশে নেই তখন তো খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেয়।এত ছোট্ট বাচ্চা যাবে কোথায়?তারপর এক গাছতলায় পেয়ে তারা গুনীন ডাকে।তখন গুনীন জানায় যে ,পরী ভর করেছে বাচ্চাটির উপর।এরপর অনেক মন্ত্রতন্ত্র পড়ে বাচ্চাকে নিয়ে আসা হলো।সেই বাচ্চা বড় হয়ে বিয়ে হলো,বাচ্চাকাচ্চা হলো।তার বাচ্চাদের আবার বড় বিয়ে হলো,তাদের সন্তান হয়ে তাদেরও কারো কারোর বিয়ে হয়ে গিয়েছে।কিন্তু ওই দিদিমা একটু বেশিই কথা বলে আর মাছ ধরার প্রতি কেন জানি বেশিই নেশা রাত-বিরাতে।।


আশা করি আমার আজকের লেখা গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীক্রিয়েটিভ রাইটিং-গল্প
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

ভূত বলে কিছু আছে আমার জানা নেই। তবে জ্বীন আছে এটা স্বাভাবিক। আর এমন জ্বীন অনেক সময় মানুষের ভালো করে আবার অনেক সময় ক্ষতি করে। আর জ্বীনে ধরা লোকজন এর ভাব একটু অন্য রকম থাকে। ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

ধন্যবাদ আপু, সুন্দর মতামতের জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.085
BTC 60680.17
ETH 1603.99
USDT 1.00
SBD 0.42