নব্বই দশকের পুরনো মানুষের ঐতিহ্য হুক্কার ধূমপান!!!
আজ - ২৯ ই, পৌষ ১৪২৯ , বঙ্গাব্দ | শীতকাল |
নমস্কার - আদাব। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতা পাওয়ার প্রায় ৫৩ টি বছর কেটে গেল৷ সেই আগের দেশ আর বর্তমানে বাংলাদেশে যেন অনেক তারতম্য ৷ এখন অনেক. টাই ডিজিটাল ডিজিটাল মাধ্যমকে এনে দিয়েছে প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব নিজস্ব দর্গরায় ৷
আমার বাবার বাবা অর্থাৎ আমার ঠাকুর দাদা তাদের মুখে এখনো সেই আগের দিনের কাটানোর কথাগুলো গল্পের মাঝে শুনতে পেতাম৷ যখন তাদের খাবার ভাত ছিল না৷ ছিল না কোন শাকসবজি খাওয়ার মত টাকা পয়সা বা কড়ি৷ তখন তারা সবজি অর্থাৎ কচু আরো নানান ধরনের রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন ধরনের কচুগুলোকে ৷ আর তারপর ধীরে ধীরে এলো চাষ পদ্ধতির আবিষ্কার ৷ লাঙ্গল গরুর গাড়ি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ধীরে ধীরে তৈরি হল এক পরিবেশবান্ধব বা পরিবেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন পদ্ধতি৷
সেই ভোর সকালবেলা লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে গরুকে মাঠে নিয়ে জমি চাষ করা ৷ এরপর সেই জমি কাদাঁ করে চারা রোপণ করা ৷ যদিও আগে সারা বছরের একটি সময়ে শুধু বরো ধানের চাষ করেছিল৷ অর্থাৎ বর্ষার সময় ৷ আর এখন তো আমরা বছরে প্রায় দুই থেকে তিন বার জমিতে আউশ, আমন, বরো চাষ করছে ৷
ঠিক তখন আমার ঠাকুর দাদাই লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করতে যেতো৷ আর আমার বাবা হুুক্কা নিয়ে যেত তার বাবার জন্য ৷ ঠিক তখনকার ধূমপান ছিল এটাই হুক্কা যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী করে ৷
আর এখন ধূমপানের মধ্যে এসে গেছে নানান ধরনের বিষাক্ত কিছু ধূমপান৷ যাদের মধ্যে বিড়ি থেকে শুরু করে তামাক ,সিগারেট, এছাড়াও আবার মদ গাঁজা নানা কিছু যা পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে ৷
তো যাই হোক আজকে আমি সেই ৯০ দশকের পুরনো ধূমপান পদ্ধতির এক নাম যার নাম হলো হুুক্কা ৷ এ বিষয় নিয়েই আপনাদের মাঝে একটি ব্লগ উপস্থাপন করবো৷
এখন এই হুক্কা-প্রচলন না চললেও গ্রামের কিছু কিছু পুরনো ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো এই হুক্কার প্রচলন আছে৷ বিশেষ করে আগের পুরনো মানুষদের মধ্যে৷ আর এই পুরনো মানুষের মধ্যে আমার ঠাকুর দাদা ৷ যিনি এখনো অবসর সময়ে হুক্কা খেয়ে থাকে৷ অনেক আবার হোকা বলে ৷
এখানে তেমন কোন জিনিস নেই ৷ আপনারা ছবিতে হয়তো ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছেন ৷ তবুও আমি বলছি এই হুক্কাতে তিনটি জিনিস রয়েছে৷ প্রথমটি হলো একটি নারকেল, আমরা সচরাচর দেখে থাকি৷ আপনারা হয়তো লক্ষ্য করবেন৷ প্রতিটি নারিকেলের জল বের করার জন্য উপরের বেশ বড় একটা ফুটো থাকে ৷ সেই ফুটো করেই নারকেলের ভিতরে সমস্ত জলটাকে বের করে নিতে হয় ৷ এবং কি নারকেলের বেশ সাইডে বা নিচে আরেকটি ফুটো রয়েছে। ঠিক সেই ফুটো দিয়েই ধূমপানটা গ্রহণ করা হয় ৷ অর্থাৎ ফুটো টা দিয়ে শ্বাস টানতে হয়৷
আর এই ছবিটা কে দেখুন এটা হলো ছিলিম ৷ অর্থাৎ এটি মাটির তৈরি মূলত এটাতেই তামাক এবং কি আগুন এর সমন্বয়ে পোড়ানো হয়৷ এবং কি তার নিচে একটা কাঠের তৈরি পাইপ বানানো হয়৷ যে পাইপের দুই অংশে নিচের অংশে থাকে নারিকেলের যে ডাব সেটা ৷ এবং উপরের অংশে থাকে সিলিম অর্থাৎ যেখানে আগুন পোড়ানো হয় ৷ আর নারকেলের যে ফুটো আছে৷ সেটা দিয়ে শ্বাস টানতে হয় ৷ আর তখন এ থেকে ধোয়া বের হবে ৷
মাঝে মধ্যে আমি এগুলো নিয়েই ভাবি৷ যে আসলে আগের দিনের মানুষের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং কি তখনকার জীবনা আচরণ খাদ্য বাসস্থান এবং কি তখনকার সেই পুরনো দিনের দিনগুলো কেমন ছিল ৷
আর বর্তমান সময়ে দিনগুলো কেমন কাটছে পুরোই আলাদা ৷ আমার দাদার মুখে আমি আরো অনেক অনেক কিছু গল্প শুনেছি৷ যেগুলো তাদের সেই পুরনো সময়ে ছিল৷ আজকে হঠাৎ করে কেন যেন ৷ সেই পুরনো দিনের বা পুরনো মানুষ গুলোর জীবন ভঙ্গি বা তখনকার তাদের জীবনাচরন নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছিল ৷ একটুখানি মনে পড়ল বাড়তে থাকা সেই পুরনো দিনের হুক্কা ধুমপানের জিনিস টা ৷
যদিও দাদার ঠিক তেমন আগের মতো আর খায় না ৷ তবে মাঝে মধ্যে এখনো এই হুক্কার গড়গড় শব্দে ধোমায় যেন মাতাল হয়ে পড়ে৷
মাঝে মাঝে একদিন একটি ভিডিও নিয়ে আসব এই হুক্কা খাবার মুহূর্তে ঠিক কেমন অনুভূতি হয়৷
জানি না আপনাদের কতটা ভালো লেগেছে ৷ তবে আমি এই হুক্কা এর মাধ্যমেই পুরোনো দিনের মানুষের জীবন আচরণ বা তখনকার সময়ে জীবন জীবিকার তাগিদ বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি ৷ এমনকি যা আমি আমার ঠাকুর দাদার মুখে শুনেছি ৷
আজকে আপনাদের কাছে এখানে বিদায় নিচ্ছি ৷ আবার নতুন কোন ইউনিক ব্লগ নিয়ে হাজির হবো৷ এমন প্রত্যাশা আশা আকাঙ্ক্ষা রেখে এখানেই শেষ করছি৷
ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন৷
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @gopiray |
| ডিভাইস | realme 12 |
https://twitter.com/gopiray36436827/status/1613929154302603266?t=kQHZ2AnQFYlwgVQfHCYJrA&s=19
@tipu curate
Good job 👌
Upvoted 👌 (Mana: 4/6) Get profit votes with @tipU :)
হুক্কার ধূমপান কখনো দেখিনি। তবে পুরনো মানুষদের কাছে গল্প শুনেছি। আসলে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সবকিছুর উন্নতি হয়েছে। সেই সাথে বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। আসলে সময়ের সাথে সাথে সবকিছুর যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি পুরনো জিনিসগুলো হারিয়ে গেছে। ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো ভাইয়া।
আমার চোখে প্রথম দেখা হুক্কা ধূমপান। আমি আগে কখনো এটি দেখিনি। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল অনেক বছর আগের এরকম জিনিস গুলো দেখার। এখন তো হুক্কা একেবারেই দেখা যায় না বলতে গেলে। আজ প্রথমবার দেখলাম দেখে বেশ ভালোই লাগলো। আমাদের দেশে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। এরকম পুরনো জিনিসপত্র গুলো এখন তো দেখাই যায় না। যাইহোক ভালো লাগলো কিন্তু।
হুক্কা আমি কখনো সরাসরি দেখি নি । বিভিন্ন ছবিতে এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখেছি। এবার আপনার পোস্টটি মাধ্যমে দেখে ভালো লাগলো। আম্মুর কাছে শুনেছি হুক্কা দিয়ে সিগারেট খাওয়ান নাকি ঐতিহ্য ছিলো। পুরাতন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জিনিস গুলো বর্তমানে তেমন একটা দেখা যায় না। যতদিন যাচ্ছে ততো আধুনিকতা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার কারণে দিন দিন ঐতিহ্যবাহী জিনিস গুলো আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়ের অনেকে এই জিনিসগুলোর নামে জানে না। আপনার পোস্টটি দেখে অনেক অনেক ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলছেন বর্তমান যুগ আর আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথা বলেন অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।আগের মানুষ খাওয়া দাওয়া নিয়ে অনেক কষ্ট পেয়েছেন কিন্তু এখনকার মানুষ খাওয়া দাওয়া নিয়ে তেমন কষ্ট পাইনা অনেক বিলাসিতায় আছেন।আমিও দেখেছি পুরনো দিনের সেই হুক্কা আমাদের গ্রামে।তবে আপনি বেশ সুন্দর করে হুক্কা নিয়ে আমাদের সাথে অনেক কিছু কথা শেয়ার করেছেন ভালো লেগেছে।
হুক্কা আমি দেখেছি এবং আমার বাসাতে একটা খেলনা হুক্কা রয়েছে, অনেক ছোটবেলা শখ করে কিনেছিলাম মেলা থেকে এখন তো আর মেলাও হয় না। তবে এটা শুনে খুব আশ্চর্য হলাম হুক্কা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ছিল? এটা আমার জানা ছিল না আমি তো ভাবতাম সিগারেটের মতো এটাও ক্ষতিকর এটা জিনিস।